07/09/2026
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের অধীনেই রাখতে হবে : হাকিকুল ইসলাম
ভারতের ইতিহাসে মুসলিম সমাজ দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার মূলধারা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্বাধীনতার পরও শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার বাস্তবতা বিভিন্ন সরকারি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট মুসলিম সমাজের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়ার যে চিত্র তুলে ধরেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
এই ঐতিহাসিক বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষ শিক্ষাগত উদ্যোগের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সেই প্রয়োজনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উত্তর—যার ঐতিহাসিক শিকড় ১৭৮০ সালের কলকাতা মাদ্রাসায় এবং যার বর্তমান মর্যাদা ২০০৭ সালের আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।
তাই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীন থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে স্থানান্তরের যে উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মুসলিম সমাজকে কোণঠাসা করার অংশ। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের নামে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজের উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতির জন্য গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ চরিত্রকে দুর্বল করে।
একদিকে রাজ্য বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু সমাজের শিক্ষাগত অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং অন্যদিকে আরএসএস-এর পরিচালনায় একাধিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণার মতো পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে যা সমাজে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ও শিক্ষাব্যবস্থার চরিত্র নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনও সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনই শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাব বিস্তারও কাম্য নয়।
এসডিপিআই দাবি জানাচ্ছে— আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনেই রাখতে হবে এবং এর সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য ও শিক্ষাগত উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
মুসলিম সমাজসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত অগ্রগতি নিশ্চিত করা সাংবিধানিক সমতার বাস্তবায়নের অংশ। রাজ্য সরকার যদি আইন পরিবর্তন করে তা ধ্বংস করতে চাই— রাজ্যের মানুষকে তা রুখে দাঁড়াতে হবে। একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে— আপনি আজ যদি রুখে না দাঁড়ান আগামীতে মানুষ হিসেবে আপনার মানবিক অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেবে বিজেপি আরএসএস।
হাকিকুল ইসলাম
রাজ্য সভাপতি
এসডিপিআই