22/02/2026
*লড়াইয়ের ময়দানে কোনো আপস নেই: লাল পতাকাই আমাদের শেষ কথা*
যারা ভাবেন লাল ঝাণ্ডার লড়াই কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তারা ইতিহাস জানেন না। বামপন্থা কোনো সুবিধাবাদের নাম নয়, বামপন্থা হলো আদর্শের প্রতি অবিচল এক অঙ্গীকার। যে হাত আমার কমরেডদের রক্তে রাঙানো, যে শক্তি বাংলার মেহনতি মানুষের কান্না আর হাহাকারের কারিগর—সেই তৃণমূলের সাথে হাত মেলানো আর যাই হোক, বামপন্থা হতে পারে না। কমিউনিস্ট হওয়া তো অনেক দূরের আকাশকুসুম কল্পনা।
শহীদের রক্ত কোনোদিন বেইমানি ক্ষমা করে না। সুদীপ্ত, আনিস খান থেকে মইদুল ইসলাম মিদ্যা—যাদের রক্তে এই বাংলার মাটি ভিজেছে, তাদের আত্মত্যাগকে পদদলিত করে যারা ঘাতকের শিবিরে আশ্রয় নেয়, ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে।
কেন আমরা লড়ছি?
আজ যখন একদিকে তৃণমূলের অপশাসন, তোলাবাজি আর দুর্নীতির পাহাড়ে বাংলা পিষ্ট, আর অন্যদিকে বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে টুকরো টুকরো করতে চাইছে, তখন হাজার হাজার তরুণ কমরেড বুক চিতিয়ে লড়াই করছেন। তারা কোনো পদের লোভে নয়, বরং এক নতুন বাংলা গড়ার স্বপ্নে রাস্তায় আছেন।
আমাদের লড়াইটা নীতির, কোনো গদির নয়। সাম্প্রদায়িকতা এবং স্বৈরাচার—এই দুইয়ের যাঁতাকল থেকে বাংলাকে মুক্ত করাই সি.পি.আই(এম) এর লক্ষ্য।
লাঠির ঘা আর জেল-জুলুম সহ্য করেও যারা এখনো ময়দান ছাড়েননি, তারাই আগামীর দিশারী।
যারা মাঝপথে রণে ভঙ্গ দিয়ে শত্রুর শিবিরে নাম লেখালো, তারা প্রমাণ করল তাদের মেরুদণ্ড আদর্শের ভার সইতে পারেনি। কিন্তু মনে রাখবেন, মাঠ ফাঁকা হয় না। পুরোনো আবর্জনা সরে গেলে নতুনের জোয়ার আসে। বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে আজ যে তরুণ প্রজন্ম নতুন করে লাল ঝাণ্ডা কাঁধে তুলে নিচ্ছে, তারাই শেষ হাসি হাসবে।