09/08/2026
ভিকারুননিসার ছাত্রীর মৃ/ত্যু, অভিভাবকদের সাক্ষাৎ ও অধ্যক্ষের বক্তব্য।
দৈনিক শিক্ষাডটকম প্রতিবেদক
স্কুল ০৭/০৯/২০২৬ ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ
অভিভাবক ইফতেখার মোমিন বলেন, কোচিংয়ে না পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণে পার্থক্য তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে এবং বুলিং বা হয়রানির ঘটনাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবক নিউ বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আজ সোমবার। এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেছেন, কয়েকজন অভিভাবক এসেছিলেন, তারা কয়েকটি বিষয়ে কথা বলেছেন। সেখানে কোনো সাংবাদিক ছিলেন না।
অপরদিকে, বেলা তিনটার দিকে অভিভাবকরা কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণ এবং ক্যাম্পাসে বুলিংয়ের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। ছাত্রী আরিশার মৃত্যুর পেছনে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
কোচিং বাণিজ্য নিয়েও অভিযোগ তোলেন অভিভাবকেরা। অভিভাবক ইফতেখার মোমিন বলেন, কোচিংয়ে না পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণে পার্থক্য তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে এবং বুলিং বা হয়রানির ঘটনাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোচিংবাণিজ্য বন্ধ চাই। সরকার যে কোচিংবাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে, আমরা তার সঙ্গে একমত।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা কোচিংয়ের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ বাচ্চাদের কোচিংয়ের পেছনে চলে যায়। স্কুলে পড়ার পরও যদি একই শিক্ষকের কাছে কোচিং করতে হয়, তাহলে স্কুলের প্রয়োজন কী?’
হেড গার্ল নির্বাচন নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ পদকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও তদবিরের সুযোগ তৈরি হয়। এমনকি বিভিন্ন সময়ে হেড গার্ল ও তার প্যানেলকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতে কি বিষয়ে কথা হয়েছে জানতে চাইলে ইফতেখার মোমিন আরো বলেন, ‘অধ্যক্ষ প্রথমে আমাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দেখা হয়েছে। দেখা করার পর উনি বলেছেন, বিষয়গুলো তিনি দেখছেন এবং সঠিক বিচার করবেন। আমরা তাকে বলেছি, যে বাচ্চাটি মারা গেল, তার বিষয়ে সঠিক তদন্ত করতে হবে। যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুলিংয়ের অভিযোগ আছে, তার বিরুদ্ধেও পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্ত নিরপেক্ষ না হলে আমরা পরবর্তী সময়ে অভিভাবকেরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’
তবে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো ছাত্রীর মৃত্যু বা অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ে কথা হওয়ার কথা বলার কথা বলেননি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘অভিভাবকদের সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো ইস্যু নিয়ে কথা হয়নি। তারা স্বাভাবিকভাবে এসেছিলেন। আমাদের সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে কথা হয়েছে।’
বসুন্ধরা শাখার একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা এবং এর পেছনে কোনো শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজেদা বেগম বলেন, ‘বসুন্ধরায় যে মেয়েটা আত্মহত্যা করেছিল, ওই মেয়েটার কোনো অভিযোগ ছিল না। এ বিষয়ে পত্রিকায়ও খবর হয়েছিল। তাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা মনে করছি, মেয়েটার আত্মহত্যার বিষয়ে কিছু করা উচিত। এ ব্যাপারে অনেকটা তদন্ত আছে, আমরা তদন্ত করেছি।’