06/21/2026
-- যদি হেফাজতের আমীর জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেয়; তাহলে এই ডাকে সাড়া দিতে শতভাগ প্রস্তুত আছে আওয়ামী লীগ নেতারা, শাহবাগীরা, নাস্তিক গ্রুপ, সেকুলাররা এবং বাম দলগুলো। এর রহস্য কি এটা এই প্রচলিত কওমী সনদ পদ্ধতির সকল আলেমদেরকে বুঝতে হবে।
-- জামাত-শিবিরকে পুরোপুরি নির্মূল করার জন্য এদেশের কওমী সনদ পদ্ধতির সকল আলেমকে নতুন করে আবারও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করার নির্দেশনা দিচ্ছে আ'লীগ নেতারা, নাস্তিকরা, শাহাবাগী গ্রুপ এবং বামপন্থীরা!
-- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এই চেষ্টা তারা বহুবার করেছিল এবং তারা এতে কিছুটা সফলতাও পেয়েছিল।
-- এদেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর বোঝা উচিত; জামাত শিবিরকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ, সেক্যুলার, নাস্তিক এবং বামপন্থীরা কম চেষ্টা করে নাই।
-- আলেমদের জন্য এই প্রশ্নটি অত্যন্ত কষ্টের এবং লজ্জার! আর তাহলোঃ আওয়ামী পন্থী আলেমরা বেশি ভালো ? নাকি বিএনপি পন্থী আলেমরা বেশি ভালো ? উলামা লীগ ভালো ? নাকি ওলামা দল ভালো ? আলেম কাকে বলে ? বর্তমানের প্রচলিত সনদ পদ্ধতির আলেমদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য আলেমের হার কত হবে ?
-- এছাড়াও আলেমদের কাছে প্রশ্নঃ জামাত শিবিরের বিরোধিতা তো এদেশে সবচাইতে বেশি করে বামপন্থীরা, সেক্যুলাররা, আওয়ামী লীগ এবং নাস্তিকরা। এটার কারণ কি বলেন ?
-- অন্যদিকে কিছু আলেমের জন্মই হয়েছে শুধুমাত্র জামাত-শিবির নিয়ে গবেষণা করার জন্য আর সমালোচনা করার জন্য।
-- বর্তমানে প্রচলিত এই কওমী সনদ পদ্ধতির কোন আলেম বিএনপিতে যোগ দিলে সমস্যা নেই। আওয়ামী লীগে যোগ দিলে সমস্যা নেই। এই পদ্ধতির আলেমরা উলামা লীগে যোগ দিতে পারবে; উলামা দলে যোগ দিতে পারবে; কিন্তু জামাতে ইসলামে যোগ দিলেই উদের হিংসা আর ফতোয়া শুরু হয় কেনো ?
-- বহু আলেম আমাকে প্রশ্ন করেছে: মৌদূদীর তাফসীরে তো ভুল আছে। আমি আশ্চর্য হয়ে বললামঃ আমি তো জানি শুধু কুরআনে ভুল নেই। আপনি কি এমন কোন তাফসীর বা কিতাবের নাম বলতে পারবেন যার মধ্যে কোন ভুল নেই !?
-- অন্যদিকে এদেশের ইসলামী দলগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৮টি বিভিন্ন আকীদা পন্থী গ্রুপ আছে। এক আকীদা পন্থী গ্রুপের দৃষ্টিতে অন্য আকীদা পন্থী গ্রুপগুলো সঠিক নয়।
-- আলেমদের মর্যাদা, সম্মান যেমন আপনার জানতে হবে, বুঝতে হবে; ঠিক তেমনি প্রচলিত সনদ পদ্ধতির আলেমদের মধ্যে হিংসুক, সুবিধাবাদী মুনাফিক আলেমদের বিষয়ে কুরআনের আলোচনাগুলোও আপনার জানা থাকতে হবে; মুখস্ত রাখতে হবে। অর্থাৎ কুরআনের সূরা মুমিন কিংবা সূরা মু'মিনূন এর আলোচনাগুলো যেমন পড়তে হবে, জানতে হবে। ঠিক তেমনি সূরা মুনাফিকূনের কথাগুলোও জানতে হবে, বুঝতে হবে।
-- কোনো আলেমকে আপনি হয়তো আপনার জ্ঞান অনুযায়ী বড় আলেম ভাবছেন; বড় বুজুর্গ ভাবছেন। কিন্তু দেশে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ ইসলামের প্র্যাকটিক্যাল বা বাস্তব জগতে দেখবেন তার ভূমিকা শূন্য%!
-- মূলত দাজ্জাল আমাদের চিন্তাশক্তি নষ্ট করে ফেলেছে। ফলে আমরা এখন আর সঠিক ভাবে চিন্তা করতে পারছি না।
-- এখন আমরা প্রচলিত অলি বুজুর্গদের প্রচলিত কেচ্ছা কাহিনী আর কেরামতির ওয়াজ শুনি। আর এসব ওয়াজ শুনেই সুবহানাল্লাহ: সুবহানাল্লাহ: সুবহানাল্লাহ বলতে থাকি! কিন্তু আমরা চিন্তা করতে পারিনা যে নবীদের এবং সাহাবাদের জীবন ইতিহাস কেন এত বাস্তব কঠিন ছিল ? কেন তাদেরকে এত রক্ত দিতে হলো; যুদ্ধ করতে হলো; এত জুলুম আর অবিচারের স্বীকার হতে হলো !?
-- যদি আপনি ওয়াজ করতে মঞ্চে বসেন, তাহলে আপনি কুরআন থেকে বেশি বেশি কথা বলুন। কিন্তু কুরআন থেকে কথা বলার মাঝে যদি আপনি কোন আনন্দ বা মজাই খুঁজে না পান; তাহলে ওয়াজ করার পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিন।
-- আমি আগে প্রচলিত অলি বুজুর্গদের বহু কেরামতি আর কিচ্চা কাহিনীর ওয়াজ শুনতাম। কিন্তু কুরআনের কথাগুলো পড়তে গিয়ে দেখলাম নবীরা এবং সাহাবারা বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। রক্ত দিতে হয়েছে; যুদ্ধ করতে হয়েছে; জুলুম এবং অবিচারের স্বীকার হতে হয়েছে!
-- আসলে আকিদার উপর ভিত্তি করে এদেশের ইসলামপন্থীরা কখনোই ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না। বরং ঐক্যবদ্ধ হতে গেলে ঈমান এবং ইসলামের স্তম্ভ গুলোর উপর ভিত্তি করেই ঐক্য হতে হবে।
-- অর্থাৎ সূরা ইমরানের ৬৪ নং আয়াতের দিকনির্দেশনার উপর ভিত্তি করে ঐক্য হতে হবে। এছাড়া কখনোই সম্ভব হবে না।
-- জামাত শিবিরের আকিদা কি ? তাদের আকিদা হচ্ছে 1.আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, 2.ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস, 3.কিতাবের প্রতি বিশ্বাস, 4.রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস, 5.পরকালের প্রতি বিশ্বাস এবং 6.তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস রাখা। আর এই আকিদার উপরে থাকতে আল্লাহ্ কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন।
-- আপনার আকিদাগত বুঝ-জ্ঞান নিয়ে যদি আপনি জান্নাতে যেতে পারেন তাহলে আমি তো আর আল্লাহর কাছ থেকে আপনাকে আটকাতে পারবো না! আর আমার আকিদাগত বুঝ-জ্ঞান দিয়ে যদি আমি জান্নাতে যেতে পারি তাহলে আপনিও তো আল্লাহর কাছ থেকে আমাকে আটকাতে পারবেন না!
-- কিন্তু আপনার আকিদাগত বুঝ-জ্ঞান দিয়ে যদি অন্যের আকিদাকে ভুল মনে হয়; আর সেটা যদি ঈমানের স্তম্ভ এবং ইসলামের স্তম্ভের উপরে না পড়ে অর্থাৎ ইসলামের মৌলিক বিষয় সংক্রান্ত না হয়; তাহলে সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি মূলক কথা বলতে আপনাকে কে বলেছে ?
-- রাসূল (সাঃ) ইহুদি খ্রিস্টানদের সাথে গিয়ে সন্ধি চুক্তি করতে পারলেন। ইহুদি খ্রিস্টানদের সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলতে পারলেন। সুন্দর আচরণ করতেন। পাশে বসিয়ে পরামর্শ দিতেন! আর আমাদের দেশের ইসলামপন্থী গ্রুপগুলো এবং প্রচলিত সনদ পদ্ধতির আলেমরা নিজেরা কিভাবে জান্নাতি আর অন্যরা কিভাবে জাহান্নামী সেটা প্রমাণ করার গবেষণায় ব্যাস্ত থাকে।
-- কুরআনে বর্ণিত আলোচনা থেকেঃ
-- আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
--সূরা তাওবা-34,
-- ধর্মীয় পন্ডিতরা ( আলেম-উলামারা ) এবং সংসার বিরাগীদের অনেকেই ( ধর্মকে ব্যবহার করে ) মানুষের ধন সম্পদ অন্যায় ভাবে ভোগ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে ( অর্থাৎ ধর্মের সঠিক জ্ঞান থেকে ) লোকদেরকে দূরে সরিয়ে রাখে।
--সূরা তওবা-31,
-- আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের আলেম-উলামা, ধর্মীয় গুরু ও দরবেবেশদেরকে নিজেদের অভিভাবক ( চূড়ান্ত দিক-নির্দেশনা দাতা ) বানিয়ে নিয়েছে।
-- সূরা মায়েদা-104
--104. আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের দিকনির্দেশনার দিকে এসো; তখন তারা বলে আমাদের জন্য সেই পথই যথেষ্ট, যে পথে আমরা আমাদের বাপ-দাদা ও অভিভাবকদেরকে পেয়েছি ( অর্থাৎ আমাদের অভিভাবক, মুরুব্বী, আলেম-উলামা, ধর্মীয়গুরু এবং বাপ-দাদাদেরকে যে পথে পেয়েছি )। তবে কি তারা তাদেরকেই অনুসরণ করবে; যারা নিজেরাও সঠিক পথের উপর ছিল না ?
-- সূরা সাফ্ফাত-69-71
-- এরাই হলো সেই সব লোক যারা তাদের বাপ-দাদাদেরকে ( অভিভাবকদেরকে ) পথভ্রস্ত অবস্থায় পেয়েছিল। আবার তারা ওদেরকেই অনুসরণ করে চলছিল। অথচ তাদের পূর্বপুরুষরা পথভ্রষ্টই ছিল!
-- বিঃদ্রঃ - লেখাটি কপি পোস্ট করার অনুরোধ রইল।