14/09/2026
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরতেন না, রোজা রাখতেন না এবং কখনো হজেও যান নাই। ঈদের নামাজ ছাড়া তাকে কখনো মসজিদে দেখা যেতো না। এমনকি শুক্রবারেও না।
তিনি ছিলেন ব্রিটিশ অধ্যুষিত ভারতের একজন নামকরা উকিল। ড্যাম ম্মার্ট চিরকাল ক্লিন শেভড- এই লোকটার জীবন ছিল পুরোপুরি ইউরোপীয় স্টাইলে, কারণ বড় লোকের এই পুত্রটি বড় হয়েছেন ব্রিটিশ পরিসরে। ফ্যাশনের অংশ হিসেবে তিনি ছিলেন একজন চেইন স্মোকার। সারাক্ষণ চুরুট ঝুলে থাকতো তার ঠোঁটে।
বিয়ে করেছিলেন মুম্বাইয়ের পার্সি এক ধনী পরিবারের মেয়েকে, যার নাম রতন বাঈ। গোটা দেশের উচ্চ সমাজে হইচই পড়ে গিয়েছিল তখন। তাদের ঘরে একমাত্র মেয়ে ছিল, দিনা ওয়াদিয়া। ধর্মান্ধ পাকিস্তানে থাকতে অস্বীকার করেছিলেন দিনা। থাকতেন মুম্বাই, ইংল্যান্ড ও আমেরিকায়। দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন, ২০১৭ সালে মারা গেছেন।
বিখ্যাত জীবনীকার স্ট্যানলি ওলপার্ট লিখেছেন, জিন্নাহর পছন্দের পানীয় ছিল হুইস্কি। এমন সব পশ্চিমা খাবার তার তালিকায় ছিল, যেগুলো মুসলমানদের জন্য হারাম।
জন্ম নিয়েছিলেন শিয়া পরিবারে, যদিও তিনি পরবর্তীতে, নিজেকে কোনো মাজহাবে না রেখে ’সাধারণ মুসলমান’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।
অথচ ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র 'পাকিস্তান' প্রতিষ্ঠার রূপকার এই মানুষটা। যেখান থেকে ভারত বর্ষে রক্তের গঙ্গা বয়ে গেছিল। সে সময়, ৪৭ সালে ১০ লাখ মানুষ একে অপরকে কচুকাটা করেছে। সে সময় জিন্নাহর ভূমিকা কি ছিল, সেটা জানার জন্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ’ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’ বইটাই যথেষ্ট। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, কংগ্রেসের এই নেতাকে শিক্ষামন্ত্রী করেছিল ভারত। আজকের ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এই মানুষটার মস্তিষ্কপ্রসূত। ভারতের শিক্ষা দিবসও এই ”মুসলমান” নেতার জন্মদিনে।
তবে জিন্নাহ দাবি করেছেন তিনি এসব চাননি। চাননি কোনো উগ্র বা অন্ধ ধর্মীয় রাষ্ট্র।
১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে দেওয়া তার ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে একটু বলি। "রাষ্ট্রের চোখে সবাই সমান। আপনারা স্বাধীন, আপনাদের যার যার মন্দিরে, মসজিদে বা অন্য কোনো উপাসনালয়ে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে কোনো ধর্মের আলাদা রাজনৈতিক অগ্রাধিকার থাকবে না।"
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এলাহীকে বলেছিলেন:
'দেখ ডাক্তার, আমি জীবনে দুটি ভুল করেছি তাও পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে। প্রথম ভুল করেছি লাহোর প্রস্তাবকে বিকৃত করে, যা দেশের একজন নেতা হিসেবে আমার পক্ষে আদৌ উচিত হয় নি। আমি দিব্য চক্ষে দেখতে পাচ্ছি পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্ব মানবে না। তারা নিশ্চয়ই স্বাধীন হয়ে যাবে। আর এর অন্যতম কারন হচ্ছে, ওদের ওপর বিমাতাসুলভ আচরণ। পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে ওদের ত্যাগের জন্যই এসেছে, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা ওদের প্রতি অবিচার করছে।…আমার দ্বিতীয় ভুল, আমি ঢাকায় গিয়ে করেছি। গভর্ণর জেনারেল হিসেবে ভাষা সমস্যা নিয়ে কথা বলা আমার উচিত হয়নি।'
এখন তোমরা, জামাত, শিবির ও ইনকিলাব মঞ্চ, জিন্নাহর জীবনাচার, চালচলন, আদর্শ - কোনটার সাথে একমত? কোনটা কোনটা তোমরা চর্চা করতে চাও বা কর?
একটাও না। কিন্তু তোমরা জিন্নাহর মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন করো ঢাকায়। কারণ তোমাদের প্যায়ারের পাকিস্তানের জনক তিনি।
আর যে লোকের জীবনাচার ছিল এক টিপিক্যাল মুসলমানের, গোলামির জিঞ্জির ভেঙ্গে, শোষণের হাত থেকে যে তোকে উদ্ধার করল, সেই শেখ মুজিবকে তোমরা দিনরাত গালিগালাজ করো।
কেনো করো আমরা জানিনা? কারণ, মুজিব তোমাদের প্রাণের পাকিস্তান ভাঙছে।