18/03/2026
একসময় আমাদের বাংলায় ইসলাম ধর্ম পালনে একটা উৎসবের আমেজ ছিল। আমাদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের সাথে মিশে গিয়েছিল ইসলাম। এরপর ওহাবীরা এসে অনেক কিছুকে শেরেক কুফুরি বেদাত গোমরাহি আখ্যা দিয়ে সেই আমেজ নষ্ট করে দেয়। ইসলামকে বানিয়ে ফেলে কাঠখোট্টা আচারসর্বস্ব একটা মরুভূমি।
আবহমান কাল ধরে রমজান (ওহাবীদের মতে রমাদ্বান) মাসে আমাদের ঐতিহ্য ছিল হরেক পদের ইফতারি। সেখানে থাকবে ভাজাপোড়া, মিষ্টান্ন আর শরবত। বাঙালি ললনারা দুপুর থেকে আজানের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত গলদঘর্ম হয়ে সেগুলো তৈরি করত৷ খেয়ে শেষ করতে পারি আর না পারি, টেবিল ভর্তি করে নানা আইটেম রাখা থাকত। দেখতে কী সুন্দর লাগত।
ওহাবীরা এসে বলল অল্প খেলেও নাকি ইফতারি হয়ে যায়! পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি, আর এক-তৃতীয়াংশ খালি। এত অংক কষে পেট মাপামাপি করে খাওয়া আবার কোন দেশি সংস্কৃতি?
আরব বেদুইনরা অভাবে থাকত বলে অল্প রান্না করত। আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের সংস্কৃতি সেটা না। অপচয়কারী নাকি শয়তানের ভাই। আপনারাই বলেন, বাপ-দাদা চৌদ্দ গুষ্টিতে কেউ এইসব হাদিস শুনেছেন?
রান্নাবান্নার পিছনে এত সময় ব্যয় না করে নাকি সারাদিন ঢুলে ঢুলে কোরান তেলাওয়াত, নফল নামাজ (ওহাবীদের ভাষায় সালাত) আর জিকির করা উচিত। শালা শালী ননদ ভাসুর সহ পরিবারের সবাই অথবা বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে (বাসায় বা রেস্টুরেন্টে) ইফতার করার যেই মজা আর ঐতিহ্য, ওহাবীদের ইসলামে সেটা নেই।
ইফতারের পর সবচেয়ে মজার কাজ ছিল শপিং। এটা ছাড়া রমজানের রাতগুলো তো জমেই না। ওহাবীরা এসে বলল তারাবির নামাজ পড়তে হবে। একদল বলে ৮ রাকাত আরেকদল বলে ২০ রাকাত, নিজেরাই একমত না৷ অথচ শপিংয়ের ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। আচ্ছা তারাবি তো আমাদের বাপ-দাদারাও পড়তেন। কিন্তু ওহাবীরা নতুন নতুন কী সব নামাজের নাম বলে, তাহাজ্জত, কেয়ামতে লাইল না কী যেন।
আজীবন শুনলাম সাতাইশার রাত্রে শবে কদর। ওহাবীরা এখানেও নানারকম কথা বলে। শেষের ৫টা বেজোড় রাত, শেষ দশকের প্রত্যেক রাত, রমজানের যেকোনো রাত, এমনকি বছরের যেকোনো রাত, একেক বছরের একেক রাত নাকি সম্ভাব্য শবে কদর। তাহলে কি এখন প্রতি রাতেই হালুয়া রুটি রান্না করতে হবে? অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।
পীর-দরবেশ-সুফির সহজিয়া ইসলামের বাংলায় এই ওহাবীদের আগ্রাসনকে কঠিনভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।