21/08/2022
#চৈতি_হাওয়া উপন্যাসটির সবগুলো পর্বের লিংক এখানে পাবেন।নতুন পর্ব এলে পোস্টটি আপডেট করে দেওয়া হবে।
পর্বঃ১
https://www.facebook.com/100052064555500/posts/501242531621228/?app=fbl
পর্বঃ২
https://www.facebook.com/100052064555500/posts/501902678221880/?app=fbl
পর্বঃ৩
https://www.facebook.com/100052064555500/posts/502516494827165/?app=fbl
পর্বঃ৪
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=504429857969162&id=100052064555500
পর্বঃ৫
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=505733201172161&id=100052064555500
পর্বঃ৬
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=508283517583796&id=100052064555500
পর্বঃ৭
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=510220697390078&id=100052064555500
পর্বঃ৮
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=515374980207983&id=100052064555500
পর্বঃ৯
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=517330990012382&id=100052064555500
পর্বঃ১০
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=520744299671051&id=100052064555500
পর্বঃ১১
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=553362279742586&id=100052064555500
পর্বঃ১২
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=556292389449575&id=100052064555500
পর্বঃ১৩
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=566370081775139&id=100052064555500
পর্বঃ১৪
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=571486687930145&id=100052064555500
পর্বঃ১৫
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=572860947792719&id=100052064555500
পর্বঃ১৬
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=574317727647041&id=100052064555500
পর্বঃ১৭
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=576587747420039&id=100052064555500
পর্বঃ১৮
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=578643207214493&id=100052064555500
পর্বঃ১৯
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=602713878140759&id=100052064555500
পর্বঃ২০
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=605336081211872&id=100052064555500
পর্বঃ২১
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=609373624141451&id=100052064555500
(১)
আমার থেকে নাকী তার প্রেমিকা বেশী সুন্দর এবং যোগ্যতাসম্পন্ন।বাক্যটি যার থেকে শুনেছি সে আমার হবু স্বামী।হয়তো কয়েকদিন পর তার সাথে সারাজীবনের অটুট এক বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।অথচ লোকটার অন্তঃকরণে তিল পরিমাণ স্থানেও জেবা নামক মেয়েটির স্থান নেই।তাহলে মিছিমিছি কর্পূরের পিছনে ছুটে চলেছি আমি?হ্যাঁ সবটাই তো নিছক স্বপ্ন।উহু,স্বপ্ন নয়।এগুলো দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি।বাবার প্রতি দায়িত্ব আর মায়ের কাছে প্রতিশ্রুতি।
বেশ দৌড়েই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে জেবা।ওদিকে আকাশ যেনো দুঃখভরা অভিমানে টইটম্বুর হয়ে আছে।যেকোনো সময় অজস্র অশ্রুকণা দিয়ে পৃথিবীর আনাচকানাচে সিক্ত করে তুলবে।পদচারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেবার মস্তিস্কে বিভিন্ন প্রশ্নও চলছে।নিজের সহিত নানা কথা বলছে সে।দুপুরে কোনোমতন বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে।এমনকি ঘরের জুতোজোড়া অবধি পরিবর্তন করেনি।ওসময় অবশ্য এতোকিছু খেয়াল ছিলনা তার।উমাইর বিয়ের জন্য সকলের সামনে ওভাবে না করায় জেবার শরীরে যেনো আ'গুন লেগে গিয়েছিলো।ত্বকে কী তীব্র এক যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল।তার উপর মায়ের সেই বিদঘুটে চাহনি।রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়েই জেবা হতাশামূলক একটি শব্দ বের করলো মুখ দিয়ে।হাতে তার সাধারণ মান্ধাতা আমলের একটি ঘড়ি।সে যখন ক্লাস ফাইভে ছিল তখন তার দাদা কিনে দিয়েছিলো।আশ্চর্যভাবে যন্ত্রণটা এখনও পূর্বের মতো সঠিক সময় বলে দেয়।জেবা তখন দশ বছরের ছোট্ট মেয়ে ছিল।এখন চব্বিশ বছরের যুবতী।আধুনিক কালের নানা চাকচিক্যময়েও এই ঘড়িটাকে পরা বাদ দিতে পারেনা সে।হাতটা উল্টো করে সময় দেখে নিলো।এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা।সকাল থেকে না খেয়ে আছে সে।নিজের পার্সটা সঙ্গে করে নিয়ে না আসার জন্য বড় আফসোস হলো তার।
এলাকার এদিকটায় পরিচিত এক রেস্ট্রুরেন্ট রয়েছে জেবার।নাম হলো "তিব্বতি চা"।অথচ এখানে চা বাদে আর সব পাওয়া যায়।জায়গাটির এহেন নাম সকলের কাছে যেনো এক ধাঁধা।বৃষ্টি নামায় রেস্ট্রুরেন্টের ভেতরে ঢুকে পড়লো জেবা।একটু আধটু ভিজে গিয়েছে সে।একটা বেঞ্চের উপর বসলো গিয়ে।আশেপাশে বেশ ভীর।এখানকার কলিজার সিঙারাগুলো খেতে ভালোই আছে।কামড় দিলে জিহবার মধ্যে যেনো ফ্লেভারগুলো জোরে জোরে আঘাত করতে থাকে।এসব অদ্ভূত উপমাগুলো জেবা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে।পাছে কেউ এসব শুনে হেসে ফেলে।এমন সময় কমলাকান্তের দপ্তরের সেই মার্জার সুন্দরীর দৃশ্যের মতোন পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো ম্যাও।চট করে পাশে তাঁকালো জেবা।একটা ক্যালিকো ক্যাট তার পাশে বসে আছে।একটু জোরেই জেবা বলে ফেললো,
" এটা তো সেই বেয়াদব বিড়ালটা।"
বিড়ালের মালিক তাসবীর কাছেপিঠেই ছিল।খুব সম্ভবত সিঙারা আনতে গিয়েছিলো।জেবার কণ্ঠস্বর শুনে তার দিকে ভয়ংকর এক দৃষ্টিতে তাঁকালো।অবশ্য কিছু বলল না।চুপচাপ বেঞ্চের একপাশে বসে বিড়ালের উদ্দেশ্যে বলল,
"জাম্বু ধর তোর জন্য লেগ পিস।"
বিড়ালের সামনে লেগ পিসটা রেখে নিজে সিঙারা খেতে লাগলো তাসবীর।জেবা ছেলেটার দিকে পিটপিট করে চেয়ে আছে।গলাটা একটু পরিষ্কার করে শুধালো,
"আপনারা চলে এসেছেন বাসা থেকে?"
"তো আসবো না?এতো কৃপণ তোমরা।দুপুরে কী খেতে দিলে পেটই ভরেনি আমাদের।"
কথাটি সর্বপ্রথম জেবার বোধগম্য হলো না দেখে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,
"মানে?"
তাসবীর জবাব দিলো না।আপনমনে নিজের খাওয়া শেষ করতে লাগলো।পাশে বসে ছোট্ট জাম্বু নামক বিড়ালটাও কতো তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে।সাধারণ ফর্মালিটি করেও জেবাকে একটুও সাধলো না তাসবীর।রাগ করে মেয়েটা চুপচাপ বসে রইলো।তাসবীরকে সে বড় ভাইয়া বলে ডাকে উমাইয়ের সুবাধে।তার হবু বর উমাইয়ের আপন চাচাতো ভাই হচ্ছে তাসবীর।আজকে জেবার বাসায় তাদের সকলের পরিবারসহ দাওয়াত ছিল।মূল উদ্দেশ্য ছিল উমাইর ও জেবার বিয়ে নিয়ে আলোচনা করা।কিন্তু সবটা কেমন নষ্ট হলো উমাইয়ের কথায়।সে হঠাৎ জেবার সঙ্গে তার প্রেমিকার তুলনা করে বসলো।জিনিসটা খুব অপমানজনক ছিল মেয়েটার জন্য।তাইতো কোনোকিছু না ভেবে তৎক্ষনাৎ বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে।আচমকা জেবা বলল,
"জানেন আমাদের বাসায় আজ কতোকিছু রান্না হয়েছিল?সেসব খেয়েও কীভাবে আপনি এখন এতো খাবার খাচ্ছেন?"
তাসবীর তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
"সেসব খাবার তো তোমরা সিন্দুকে তুলে রেখেছিলে।বিশ্বাস করো ফর্মালিটি করে না বলার পর যে দ্বিতীয়বার তাকে সাধতে নেই এই প্রথম আমি জানলাম।টেবিলে এতো খাবার থাকা স্বত্ত্বেও আমার প্লেটে চড়ুইপাখির দানা ছিল।"
জেবা হা হয়ে গেলো।সে দেখেছিলো দুপুরবেলা তাসবীরের প্লেটে তার ছোট বোন তহুরা একের পর এক খাবার তুলে দিচ্ছে।এরপরেও এমন অভিযোগ কীভাবে করলো ছেলেটা?
"আপনি এতো মিথ্যাবাদী?কতোগুলো খাবার খেলেন।"
তাসবীর চোখ তুলে তাঁকালো জেবার পানে।ছেলেটা কঠিন চেহারার অধিকারী।সাধারণ কোনো মেয়ের ক্ষেত্রে এহেন দৃঢ়তা সহ্য করা কঠিন।
"তুমি আমার খাওয়া গুণছিলে?"
"হ্যাঁ।"
"কী খারাপ মেয়ে তুমি?এজন্যই জাম্বু দেখতে পারেনা।"
"এই গোলআলু মার্কা বিড়াল আমাকে না দেখতে পারলে কিছুই যায় আসেনা আমার।"
তাসবীরের মনে হচ্ছিলো খু'ন করে ফেলবে জেবাকে।পরবর্তীতে নিজেকে শান্ত করে বলল,
"উমাইর তোমাকে বিয়ে করতে চায়না।"
"জানি।"
"তবে চাচা মানছেনা।সেও তোমাকে বাড়ীর বউ বানিয়ে ছাড়বে।"
জেবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"এটাও জানি।আমার মা নিজেও বিয়েটা শেষ অবধি দিয়েই ছাড়বে।"
"এখন কী করবে?"
"এটা জানিনা।"
তাসবীর নিজের খাবার শেষ করে বলল,
"বাসায় যাও জেবা।সন্ধ্যা হচ্ছে।"
"বৃষ্টিও তো নেমেছে।কমলে চলে যাবো।"
"ভিজে গেলে ম'রে যাবেনা।"
পাশ থেকে জাম্বুকে ছোট্ট একটা রেনকোট পরিয়ে দিলো তাসবীর।বিড়ালটি তার সবসময়ের সঙ্গী।এবং তার খুব ভক্তও।নিজেও একটা রেনকোট পরে নিলো।জেবা হুট করে বলে ফেললো,
"আপনার রেনকোটটা দেওয়া যাবে?"
"না।"
"বৃষ্টিতে ভিজলে সমস্যা হয় আমার।"
তাসবীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"ফাইন।ধরো নাও।তবে ফেরত না দিলে দ্বিগুণ দাম দিতে হবে।একটা আঁচড় লাগলে জরিমানা দিতে হবে।"
জেবা তার ছোট্ট দেহে রেনকোটটি জড়িয়ে নিলো।তাসবীরের ওই বিশাল দেহের মতো জিনিসটাও বিশাল।জেবাকে বেশ হাস্যকর লাগছে।তাসবীর জাম্বুকে ইশারায় নিজের পিছন পিছন আসতে বলল।অকস্মাৎ বিড়ালটি জেবার উপর নিজের নখ দিয়ে ভালোবাসা দেখিয়ে দৌড়ে গাড়ীতে উঠে গেলো।সঙ্গে সঙ্গে তাসবীর গাড়ী স্টার্ট করলো।রাগে দুঃখে বেশ জোরেই মেয়েটা বলল,
"কু'ত্তার বাচ্চা বিলাই।"
(২)
বিশ মিনিট পর জেবা বাসায় এলো।তাসবীরের রেনকোট তার কাজে লাগেনি।সে একেবারে ভিজে চুপসে গিয়েছে।জেবাদের বাড়ী দেখে তাদের আহামরি ধনীই বলা চলে।অর্থ সম্পদের কোনো অভাব নেই।তার বাবা সজীব শেখ ও মা জুঁই দুজনেই ব্যবসায়ী।সারাজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্থের পাহাড় গড়েছেন।তাদের সবই আছে শুধু একটি পুত্রসন্তান বাদে।এ নিয়ে জুঁইয়ের যেনো আফসোস এর শেষ নেই।
জেবার তখন চলে যাওয়ায় বেশ রেগে আছে ভদ্রমহিলা।আর সে রাগলে রবীন্দ্রনাথ সঙ্গীত শোনে।বাড়ীতে ঢুকেই গান শুনতে পেলো জেবা।
"জেবা দাঁড়াও ওখানে।"
জুঁইয়ের মুখখানা দেখেই নিজের অর্ধেক জীবনীশক্তি হারিয়ে ফেললো জেবা।শুকনো একটা ঢোক গিললো।মায়ের মতো এতো সুন্দর না সে।যদি সুন্দরী বলে কাওকে জানে সকলে তবে সে হলো জেবার বোন তহুরা।মেয়েটা তাসবীরের মতো ভয়ংকর সুন্দর।তাদের নামও কেমন ত এর মিল আছে।এমনকি তাসবীর যখুনি বাসায় আসে তখন ঘন্টার পর ঘন্টা তহুরার সঙ্গে বসে আলাপ করে।নিশ্চয় মেয়েটাকে পছন্দ করে সে।জিনিসটা ভাবতেই জেবার মনে ঈষৎ হিংসার রেখা উদয় হলো।তার ভাবনায় আঘাত হানলো জুঁই।মহিলার চোখ দুটো রাগে রক্তিম হয়ে আছে।
"আজকে তখন ওভাবে চলে গেলে কেনো?"
জেবা আস্তে করে বলল,
"কথাগুলো শুনে খারাপ লাগছিলো আমার।"
"অন্যরুমে চলে যেতে তাহলে।এর বদলে বাসা থেকেই চলে গেলো?হাত দাও।"
"মা।"
"হাত দাও বলছি।"
জেবা ভয়ে ভয়ে হাত এগিয়ে দিলো।জুঁইয়ের এক হাতে ছোট বাঁশের কঞ্চি ছিল।সেটা দিয়ে কষিয়ে আঘাত করলো জেবার হাতে।দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"না আছে চেহারা, না আছে গুণ।তবে অহংকার একদম বাবার মতো।আজকে সকলের সামনে অপমান করার সাহস আজীবনের নামে মিটিয়ে দিচ্ছি।"
জুঁই ইচ্ছামতো আ'ঘাত করলো জেবার হাতে।কাজের লোকেরা নিজেদের হাতের কাজ ফেলে বিষয়টি দেখতে লাগলো।ওদিকে চুপ করে সব আঘাত সহ্য করে নিচ্ছে জেবা।সামান্য টু শব্দটিও করছেনা মুখ দিয়ে।
চলবে।।
#চৈতি_হাওয়া
#পর্বঃ১
লেখাঃসামিয়া খান প্রিয়া
বিঃদ্রঃপরবর্তী পর্ব পরশু পাবেন।সকল পাঠককে রেসপন্স করার অনুরোধ করা হলো। #সুদূরিকা নিয়ে আমি কয়েকদিন পর পোস্ট করবো।সে অবধি অপেক্ষা করেন।
photo copy : ঋজু