16/05/2020
কাহিনী : #বাংলা_অভিযান
সিংহলে বাংলাভাষার আন্দোলনে সহযোগিতার জন্য সেখানকার প্রতিনিধিরা আমার অংশগ্রহণ প্রার্থনা করল। যেহেতু আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বিদ্বান বাংলাভাষী, তাই আমি না গেলে ওখানকার আন্দোলন আড়ম্বরপূর্ণ হবেনা। সুতরাং চোরা পথে সিংহল যাওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে। চোরাপথে কেন যাব সেই বিষয়টি জানানো আবশ্যক, নইলে আমার আত্মসংযমের অবিসংবাদী সত্যতা ব্যার্থতার চোরাবালিতে নিভৃতে পর্যবসিত হবে।
আজ থেকে প্রায় ২ বছর পূর্বে দিল্লিতে বাংলা ভাষা আন্দোলনের রূপরেখা কি হবে সেই বিষয়ে পরিকল্পনা পেশ করতে যাচ্ছি। সঙ্গে আছে #রাজু ও #প্রত্যয়। আমরা একটা নির্দিষ্ট নিয়ম পালন করতাম সেটা হল
১)আমরা বাংলা ভাষা ছাড়া কথা বলব না, কোন আলোচনাও করব না।
২)কেউ অন্য ভাষায় কিছু জিগ্যেস করলেও কোন উত্তর দেব না।
৩)আগ্রাসী হিন্দী ভাষায় কেউ প্রশ্ন করলে মেঠো বাংলা ভাষায় তাকে খিস্তি দেব।
৪) যেহেতু উর্দূ আবেগ প্রবন শৈল্পিক ভাষা, তাই উর্দুতে কেউ প্রশ্ন করলে তবেই উত্তর পাবে।
যাইহোক এই মর্মেই আমরা দিল্লি এয়ারপোর্টে নামলাম। ভ্রমণ চলাকালীন আমরা ঘুমানোর ভান করলাম, তাই কথোপকথন থেকে নিস্কৃতি পেলাম।
এয়ারপোর্টে নামার পর আধিকারিকরা ইংরাজীতে কিছু প্রশ্ন করল যেগুলোর উত্তর সবিনয়ে প্রত্যখ্যান করলাম। তারা আমাদের মুর্খ মনে করে হিন্দীতে প্রশ্ন শুরু করল,, ব্যাস!
প্রচন্ড তোড়ে আমরা তাদের মা-বাপ তুলে খিস্তি শুরু করলাম এবং উর্দুতে প্রশ্ন করার হুকুম দিলাম।
তারপর সেখানকার ঘটনা আর মনে নেই।
জ্ঞান হয়ে দেখলাম আমার সর্বাঙ্গে ব্যাথ্যা এবং চোখের নিচে অস্থায়ী কালো চশমা, প্রত্যয় এবং রাজুও একই রকম চশমা পরে বসে আছে! -বুঝলাম ব্যাটারা পরিপুষ্ট হাত দুয়ে চোখে ঘুষি মেরেছে। তারপর থেকে এই অবশ্যম্ভাবী ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই আমরা চোরাপথ অবলম্বন করি।হয়ত সেটা অন্যায়, কিন্তু বাংলা ভাষার স্বার্থে সেইটুকু মেনে নিয়েই চলতে হয়।।
কলমে : অতনু বিশ্বাস