18/06/2017
বিএনপি মহাসচিবের গাড়ী বহরে হামলার প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিবৃতি
পাহাড় ধ্বসে রাঙ্গামাটির বিধ্বস্ত জনপদ ও মাটিচাপায় হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে আজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর নেতৃত্বে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় টিম রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়ায় ইসাখালী নামক স্থানে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নেতৃবৃন্দের গাড়ী বহরের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তাঁর সফরসঙ্গী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মেজর জেনারেল (অব:) রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: মীর ফাওয়াজ হোসেন শুভ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকরসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। এধরণের ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলায় ধিক্কার জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আজ রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় বিএনপি মহাসচিবসহ বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দের গাড়ীবহরে হামলা ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করে আহত করার যে নজীর সৃষ্টি করা হলো তা গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলতে সরকারের একটি দুর্বিনীত উদ্যোগ। এই ঘটনা বর্তমান বিনা ভোটের সরকারের আরেকটি হিংসাশ্রয়ী অসুস্থ রাজনীতিরই বহি:প্রকাশ। আওয়ামী লীগ গুন্ডামীকেই আশ্রয় করেছে টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে। তাই শান্তি, স্বস্তি ও জননিরাপত্তাকে বিসর্জন দিয়ে নৈরাজ্যকেই বেছে নিয়েছে। এভাবে ভয়ভীতি, শঙ্কা ও আতঙ্কের পরিবেশ বজায় রেখে গণপ্রতিবাদকে চাপা দিয়ে রাখাটাই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য। সরকার ভক্ষকের ভূমিকা গ্রহণ করার জন্যই বাংলাদেশে মানুষের জীবন-জীবিকা এখন ভয়ংকর নিরাপত্তাহীনতায় বিপন্ন। জনসমর্থনহীন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতেই অপরাধ ও অপরাধীদের সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছে এই সরকার। তাই জনসমাজে সন্ত্রাসীদের শাসনই সর্বত্র বিরাজমান।
চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজারে পাহাড় ধ্বসে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুতে ঐ এলাকাগুলোর বিপন্ন মানুষগুলো এখন শোকে-দু:খে ¤্রয়িমান। হাজার হাজার আহত মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। উপদ্রুত মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা না থাকায় অভুক্ত ও অসুস্থতায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিদ্যূৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে ঐ এলাকাগুলোয় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপদ্রুত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সরকার প্রধান বিদেশ সফরেই সময় কাটিয়েছেন। দুর্গত এলাকার অসহায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন থেকেছেন সরকার প্রধান। বাংলাদেশের জনগণকেই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় দুশমন মনে করে। সেজন্য বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্ভোগে নিপতিত মানুষের পাশে আওয়ামী সরকার কোন সময়ই দাঁড়ায়নি। এরা জনগণের বিপদে ও কষ্টে আনন্দ লাভ করে। তাই বৃহত্তর চট্টগ্রামে যেসব এলাকায় পাহাড় ধ্বসে মানববিধ্বংসী মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে সেসমস্ত এলাকায় দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল-বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সমন্বয়ে গঠিত টিমকে ঢুকতে না দিয়ে নেতৃবৃন্দের গাড়ীবহরে হামলা, উপদ্রুত এলাকায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকারই কৌশল। পাহাড় ধ্বসে উপদ্রুত এলাকায় সরকারের তাচ্ছিল্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যে ধিক্কার উঠেছে সেখান থেকে জনগণের চোখ অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জন্যই বিএনপি মহাসচিব এর গাড়ীবহরে হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী পান্ডাদের দিয়ে বিএনপি’র গাড়ীবহরে আক্রমণ সরকারের পতনের আগে শেষ মরণকামড়। তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সকল অপকর্মের হিসেব নিতে জনগণ অপেক্ষা করছে। আর এই অপেক্ষা বেশী দীর্ঘ হবে না।
আজ বিএনপি মহাসচিব এর গাড়ীবহরে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে নেতৃবৃন্দকে আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। আমি বিএনপি মহাসচিবসহ আহত নেতৃবৃন্দের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
(এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী)
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।