মল্লভূম বিষ্ণুপুর

মল্লভূম বিষ্ণুপুর Mallabhum is Traditional old name of Bishnupur kingdom.

বিষ্ণুপুর মেলা, -একসময় ছিল শিল্প, সুর ও জীবনের মেলা। এখন হয়েছে –পর্যটন সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প উৎসব। একসময় বিষ্ণুপুর মেলার ...
21/12/2025

বিষ্ণুপুর মেলা, -একসময় ছিল শিল্প, সুর ও জীবনের মেলা। এখন হয়েছে –পর্যটন সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প উৎসব। একসময় বিষ্ণুপুর মেলার পরিচয় ছিল তার নামেই, বিষ্ণুপুর মেলা মানেই ছিল বাউল-ফকিরের গান, ছৌ-নাচ, কিংবা উচ্চাঙ্গ সংগীতের মায়াবী আসর। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মেলার সেই চিরাচরিত রূপটি ক্রমশ ধূসর হয়ে আসছিল। গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছিল, লোকসংস্কৃতির সেই ধ্রুপদী গাম্ভীর্যকে সরিয়ে দিয়ে মেলার মঞ্চ দখল করে নিয়েছিল চটুল নাচ-গান আর সস্তা বিনোদনের হুজুগ। সংস্কৃতির এই অবক্ষয় যখন অনেককেই ব্যথিত করছিল, ঠিক তখনই এ বছর মেলার প্রাঙ্গণে দেখা গেল এক অন্যরকম আবহাওয়া। দীর্ঘদিনের সেই হাহাকার মুছে দিয়ে এ বছরের বিষ্ণুপুর মেলা আবার ফিরেছে তার আদি ও অকৃত্রিম রূপে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের আলাপ থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার লোকগানের শিকড় ছোঁয়া সুর—সব মিলিয়ে এ বছর যেন কেবল উৎসব নয়, বরং বাংলার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক পবিত্র অঙ্গীকার।

অনেক কিছুর মধ্যে এই সব বিশেষ লোকশিল্পের আয়োজনও থাকছে এবারের বিষ্ণুপুর মেলায়-

• • নাটুয়া নাচ (23rd Dec, 2025)
পুরুলিয়া মানেই রুক্ষ লাল মাটি, পলাশ ফুল আর মাদলের শব্দ। এই মাটির সোঁদা গন্ধে মিশে আছে এমন এক আদিম নৃত্যধারা, যা দেখলে আজও শিহরণ জাগে। সেই নাচটি হলো নাটুয়া। 'নাটুয়া' শব্দটি এসেছে 'নাট্য' থেকে। তবে এটি প্রচলিত নাটকের মতো নয়। মনে করা হয়, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলের মল্লবীর বা যোদ্ধারা যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য যে শারীরিক ব্যায়াম ও কসরত করতেন, তা-ই কালক্রমে নৃত্যের রূপ পেয়েছে। এটি মূলত একটি পুরুষপ্রধান নাচ। নৃত্যশিল্পীদের বলা হয় 'নাটুয়া'।
নাটুয়া নাচের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্রুত লয় এবং বীরত্বপূর্ণ ভঙ্গি। নাচের সময় শিল্পীরা এমনভাবে হাত-পা সঞ্চালন করেন, যা দেখে মনে হয় তাঁরা সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়েছেন। নাটুয়া নাচের সাজসজ্জা বেশ বৈচিত্র্যময় এবং আকর্ষণীয়:
• সারা শরীরে সাদা খড়িমাটি বা রঙের প্রলেপ দিয়ে বিভিন্ন নকশা আঁকা হয় (যাকে স্থানীয় ভাষায় 'তিলক' বলা হয়)।
• মাথায় পাগড়ি এবং কোমরে রঙিন কাপড় বা ঘুনসি বাঁধা থাকে।
• পায়ে থাকে ভারী নূপুর বা ঘুঙুর, যা প্রতিটি পদক্ষেপে বীরত্বব্যঞ্জক শব্দ তৈরি করে।
• অনেক সময় হাতে লাঠি বা ঢাল-তলোয়ারের প্রতীকী সরঞ্জাম থাকে।
নাটুয়া নাচের প্রাণ হলো তার বাদ্য। ধামসা, মাদল, শানাই আর করতালের গগনবিদারী শব্দে যখন আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়, তখন শিল্পীদের মধ্যে এক অদ্ভুত উন্মাদনা কাজ করে। বাদ্যের তালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচের গতি বাড়ে, যা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। ছৌ নাচের প্রবল জনপ্রিয়তার আড়ালে নাটুয়া অনেক সময় ঢাকা পড়ে গেলেও, এর মৌলিকত্ব এবং আদিম বুনো সৌন্দর্য একে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।


• • রাভা নৃত্য (24th dec, 2025)

উত্তরবঙ্গের সবুজ বনানী আর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বসবাসকারী রাভা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার রাভা জনজাতির জীবনচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী রাভা নৃত্য। এই নৃত্য কেবল বিনোদন নয়, বরং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষি এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক শৈল্পিক মাধ্যম। রাভারা মূলত প্রকৃতি উপাসক। তাদের প্রতিটি নাচের পেছনে থাকে কোনো না কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় কারণ। রাভা নৃত্য সাধারণত দলবদ্ধভাবে পরিবেশিত হয়। নারী ও পুরুষ উভয়েই এতে অংশগ্রহণ করেন। এই নৃত্যের চলন অত্যন্ত সাবলীল এবং প্রকৃতির ছন্দ—যেমন বাতাসের দোল বা নদীর বয়ে চলা—এর মুদ্রার মধ্যে ফুটে ওঠে।
রাভা নৃত্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• খোকচি নৃত্য: এটি রাভাদের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় নৃত্য। সাধারণত ফসল কাটার উৎসবের সময় এই নাচ পরিবেশিত হয়। ভালো ফলন হওয়ার আনন্দে দেবতাকে ধন্যবাদ জানাতে এই নাচের আয়োজন করা হয়।
• ফারকান্তি নৃত্য: এটি মূলত একটি বীরত্বব্যঞ্জক এবং শোক পালনের নৃত্য। রাভাদের কোনো বীর যোদ্ধার মৃত্যু হলে তার সম্মানার্থে এবং শোকাতুর পরিবারের মনোবল বাড়াতে এই নাচ করা হয়। হাতে তলোয়ার ও ঢাল নিয়ে পুরুষরা এই নাচে অংশ নেন।
• হামজার নৃত্য: কৃষিভিত্তিক এই নাচে ঝুম চাষের বিভিন্ন পর্যায়—যেমন জমি পরিষ্কার করা, বীজ বোনা এবং ফসল তোলার ভঙ্গিগুলো নাচের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।
রাভা নৃত্যশিল্পীরা সাধারণত নিজেদের তাঁতে বোনা পোশাক পরেন। রাভা নৃত্য প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে তাদের নিজস্ব বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায়। নাচের তালের সাথে সংগতি রেখে বাজানো হয়:
• হেম (ঢোল সদৃশ বাদ্যযন্ত্র)
• শিঙা (মহিষের শিং দিয়ে তৈরি)
• বাঁশি (বাঁশের তৈরি)
• খাম এবং বাদুংডুপ্পা (এক ধরণের তন্তুজ বাদ্যযন্ত্র)
এই নাচ শুধু রাভা সমাজের পরিচয় বহন করে না, বরং এটি পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতির একটি অমূল্য সম্পদ। প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের এক চমৎকার প্রতিফলন এই রাভা নৃত্য।



• • ভাটিয়ালি গান (24th dec, 2025)
বাঙালির প্রাণের সুর ভাটিয়ালি। মূলত মাঝিমাল্লাদের কণ্ঠেই এই গানের জন্ম। যখন মাঝি নদীর ভাটির দিকে নৌকা ছেড়ে দেন, তখন কায়িক শ্রমের প্রয়োজন খুব একটা থাকে না। অলস মুহূর্তে নৌকার গলুইতে বসে উদাস মনে যখন মাঝি আপন মনে গান ধরেন, তখনই সৃষ্টি হয় ভাটিয়ালি। বাংলার লোকসংগীতের এক অমূল্য সম্পদ হলো ভাটিয়ালি গান। নদীমাতৃক এই বাংলায় নদীর কলতান আর মাঝিদের জীবনের সুখ-দুঃখের মিশেলে গড়ে উঠেছে এই বিশেষ সংগীত ধারা। 'ভাটিয়ালি' শব্দটি এসেছে 'ভাটি' থেকে। নদী যখন সমুদ্রের দিকে বয়ে যায়, তখন তাকে বলা হয় ভাটি। ভাটির টানে নৌকা চালানোর সময় যে সুরের লহরী তৈরি হয়, তাই ভাটিয়ালি। ভাটিয়ালি গান শুধু মাঝির পেশাগত গান নয়, এটি জীবনের এক গভীর দর্শনও বটে।
দূর দেশে থাকা প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা এবং একাকীত্বের আকুতি। মানব জীবনকে একটি নৌকার সাথে এবং সংসারকে অগাধ সমুদ্রের সাথে তুলনার মধ্য দিয়ে "মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে, আমি আর বাইতে পারলাম না"—সুরে মুহূর্তেই বাঙালির মন এক আদিম ও অকৃত্রিম শান্তিতে ভরে যায়। ভাটিয়ালি কেবল একটি লোকসঙ্গীত নয়, এটি বাংলার জনপদের এক অখণ্ড ইতিহাস।

• • মারুনি নাচ (25th dec, 2025)
উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মানুষেরা আজও মারুনি নাচের ঐতিহ্য সগৌরবে টিকিয়ে রেখেছেন। রঙিন পোশাক, মাদলের গুমগুম শব্দ আর ধাতুরের হাস্যরস—সব মিলিয়ে মারুনি নাচ হিমালয়ের কোলের এক অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ। নেপালি সংস্কৃতির এক অনন্য ও প্রাণবন্ত লোকনৃত্য হলো মারুনি নাচ। এটি প্রধানত নেপালি সম্প্রদায়ের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যগুলোর মধ্যে একটি, যা দার্জিলিং, সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের পার্বত্য অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মারুনি নাচ কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি ভক্তি, সংস্কৃতি এবং আনন্দ উদযাপনের এক চমৎকার সমন্বয়।
মারুনি নাচের উৎপত্তি কয়েক শতাব্দী আগে। প্রচলিত আছে যে, এই নাচের শুরু হয়েছিল মালসিংহ রাজার আমল থেকে। ধর্মীয়ভাবে এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়গান গাওয়ার প্রতীক। মকর সংক্রান্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও এই নাচের প্রচলন রয়েছে। মারুনি নাচের মূল আকর্ষণ হলো এর পরিবেশনা শৈলী। এই নাচে সাধারণত পুরুষরাই অংশগ্রহণ করে, তবে মূল নৃত্যশিল্পীরা নারীদের পোশাকে সজ্জিত হন। এদের বলা হয় 'মারুনি'।
• মারুনি: রঙ-বেরঙের শাড়ি, গয়না এবং মাথায় ফুল পরে পুরুষরা নারী সেজে নৃত্য করেন।
• ধাতুরে: এই নাচের অন্যতম মজার চরিত্র হলো 'ধাতুরে'। সে মূলত একজন বিদূষক বা সং হিসেবে কাজ করে। ধাতুরে মাস্ক বা মুখোশ পরে দর্শকদের বিনোদন দেয় এবং নাচের তালে তালে রসিকতা করে।
মারুনি নাচের প্রাণ হলো এর সংগীত। কোনো যান্ত্রিক বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং মাটির টানে তৈরি বাদ্যযন্ত্রই এখানে ব্যবহৃত হয়।
• মাদল: এটি এই নাচের প্রধান বাদ্যযন্ত্র। মাদলের ছন্দেই নাচের গতি নির্ধারিত হয়।
• খৈঞ্জরি ও মুজুরা: তালের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ছোট বাদ্যযন্ত্রগুলো ব্যবহৃত হয়।
• বাঁশি: পাহাড়ি সুরের আমেজ তৈরি করতে বাঁশির ভূমিকা অনবদ্য।

• • পুতুলনাচ
বাংলার পুতুল নাচের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। মধ্যযুগীয় কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যে পুতুল নাচের উল্লেখ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, নাটকের আদি রূপটিই ছিল পুতুল নাচ। সাধারণ মানুষের কাছে পৌরাণিক কাহিনী বা সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এটিই ছিল সবথেকে সহজ ও আকর্ষণীয় উপায়। বাংলার পুতুল নাচ কেবল কাঠ বা মাটির পুতুলের নড়াচড়া নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ প্রাণের স্পন্দন। এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব।

• • বনবিবির পালা (29th dec, 2025)
সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে যেখানে বাঘ আর নোনা জলের কুমিরের সাথে মানুষের নিত্য বসবাস, সেখানে মানুষের একমাত্র ভরসার নাম 'বনবিবি'। বনবিবির পালগান বা জহুরনামা মূলত এই অঞ্চলের মানুষের বিশ্বাস ও জীবনসংগ্রামের কাহিনী।
বনবিবির পালার সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশ হলো দুখে নামের এক অনাথ ছেলের কাহিনী।
• সংকট: ধনা ও মনা নামক দুই সওদাগর সাতটি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যায়। তারা দক্ষিণ রায়ের কাছে দুখেকে উৎসর্গ করার বিনিময়ে প্রচুর মধু ও মোম লাভ করে।
• উদ্ধার: বাঘ-রূপী দক্ষিণ রায় যখন দুখেকে খেতে উদ্যত হয়, তখন দুখে তার মা’র শিখিয়ে দেওয়া বনবিবির মন্ত্র পড়ে ডাক দেয়। বনবিবি তাঁর ভাই শাহ জঙ্গলীকে নিয়ে এসে দুখেকে উদ্ধার করেন।
• শান্তি স্থাপন: এরপর বনবিবির হাতে দক্ষিণ রায় পরাজিত হয় এবং শেষে তাদের মধ্যে একটি আপস হয় যে, দক্ষিণ রায় আর কখনো কোনো মানুষকে আক্রমণ করবে না, যদি মানুষ লোভ ত্যাগ করে বনে প্রবেশ করে।
বনবিবির পালা কেবল একটি অতিপ্রাকৃত গল্প নয়, এর পেছনে গভীর পরিবেশগত বার্তা রয়েছে:
• প্রকৃতি ও মানুষের ভারসাম্য: এই পালা শিখিয়ে দেয় যে, বন থেকে কেবল ততটুকুই নেওয়া উচিত যতটুকু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন। লোভ করলে দক্ষিণ রায় (প্রকৃতি) রুষ্ট হয়।
• সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: সুন্দরবনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই বনবিবির পূজা দেয় বা শিরনি চড়ায়। এটি বাংলার লোকায়ত ধর্মের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যেখানে জাতপাত বা ধর্মের বিভেদ ম্লান হয়ে যায়।
বনবিবির পালা আসলে সুন্দরবনের আদিম ভয় আর সেই ভয়কে জয় করার এক সাংস্কৃতিক হাতিয়ার। আজ আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও যখন দক্ষিণ রায়ের বাঘের আতঙ্ক কমেনি, তখন বনবিবি আজও সুন্দরবনের মানুষের কাছে সাহস আর বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে টিকে আছেন।

আপনিও সপরিবারে ও সবান্ধবে আসুন, প্লাবিত হোন বাংলার লোকশিল্পের এই ধারায়, অনুভব করুন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অপার্থিব জগত; আমাদের 'মল্লভূম বিষ্ণুপুর' পেজের পক্ষ থেকে রইল নিমন্ত্রণ।

হু-হু শীতের চাদর মুড়ি দিয়ে, ক-দিন পরেই বিষ্ণুপুর মেলা; লোকশিল্পীদের প্রাধান্য এবার চোখে পড়ার মতো... আমরা থাকছি সাতদিনই, ...
01/12/2025

হু-হু শীতের চাদর মুড়ি দিয়ে, ক-দিন পরেই বিষ্ণুপুর মেলা; লোকশিল্পীদের প্রাধান্য এবার চোখে পড়ার মতো...
আমরা থাকছি সাতদিনই, আপনারা আসছেন কবে? দেখা হবে মেলা মাঠে...

#বিষ্ণুপুর_মেলা

হঃ, আমাদেরই মেলা বটে... #বিষ্ণুপুর  #মেলা        #মল্লভূম
19/12/2023

হঃ, আমাদেরই মেলা বটে...

#বিষ্ণুপুর #মেলা #মল্লভূম

Bishnupur Mela Theme Song 2023 by Fakira feat. SilajitPlanning & Concept: Shri Prasenjit Ghosh, SDO, Bishnupur &Shri Anjan Guha, DFO, Panchet Division.Lyrics...

মল্লভূম বিষ্ণুপুর এর কিছু পুজো মণ্ডপ ও প্রতিমার ছবি।থাকল গুগল লোকেশনও-🧭📍 শালবাগান সর্বজনীন -https://maps.app.goo.gl/k76k...
02/10/2022

মল্লভূম বিষ্ণুপুর এর কিছু পুজো মণ্ডপ ও প্রতিমার ছবি।

থাকল গুগল লোকেশনও-

🧭📍 শালবাগান সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/k76kQDcwb9PYKDM68

🧭📍 ময়রাপুকুর সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/RzAuFRYtc675SJxc8

🧭📍 রসিকগঞ্জ সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/fT6NF17UupF6vy2a6

🧭📍 আঁইশবাজার সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/AUk1zqtAWYGLjGag6

🧭📍 নূতনবাজার সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/nL3WLp9MRWFZMJneA

🧭📍 হাইস্কুল মোড় (৩ নং ওয়ার্ড) সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/k294L3Fyg18FWqP67

🧭📍 তিলবাড়ী সর্বজনীন -
https://maps.app.goo.gl/9RsV8CTPSJaZ5PESA

🧭📍 দলমাদল সর্বজনীন
https://maps.app.goo.gl/xNwvjvBzHtjxmvet5

28/06/2020
★কালের চাকার ধূলোয় রাজকীয় জাঁকজমকও একদিন ম্লান হয় , গুঁড়ো হয়ে উড়ে যায় দরবারি বৈভব। শুধু পরিচিত ঘ্রাণের মতো হৃদয়ের অনুভব ...
27/01/2020

★কালের চাকার ধূলোয় রাজকীয় জাঁকজমকও একদিন ম্লান হয় , গুঁড়ো হয়ে উড়ে যায় দরবারি বৈভব। শুধু পরিচিত ঘ্রাণের মতো হৃদয়ের অনুভব উত্তরপুরুষ থেকে উত্তরপুরুষে সঞ্চারিত হয়। রীতিনীতি সরিয়ে রাজকীয় মেজাজের আড়ালে ইতিহাস লিখে রেখে যায়; সুর। সুর, বেঁধে দেয় জীবনের রূপ, তার আঙ্গিক। যেমন বিষ্ণুপুরের পরিচিতির অন্যতম নির্দেশক তার ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিষ্ণুপুরী ঘরাণা। সারা বাংলার একমাত্র সঙ্গীত ঘরাণা। সেই ঘরাণার মুকুটে একের পর এক পালক যোগ করেছেন সঙ্গীতাচার্য রামশঙ্কর ভট্টাচার্য, পণ্ডিত রামকেশব ভট্টাচার্য, ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী, যদুনাথ ভট্টাচার্য, রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী, গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, পদ্মশ্রী সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ গোস্বামী, অমিয়রঞ্জন বন্দ্যপাধায়, মিতা নাগ, শান্তনু বন্দ্যপাধায়(১৯৬০-) প্রমুখ সুরসাধকেরা।
শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত মনিলাল নাগ এঁদেরই একজন।

★ভারতীয় সেতার বাদন সম্পর্কে ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ একবার বলেছিলেন, "ভারতবর্ষের সেতার ঘরানার একমাত্র পরিবার হল নাগ পরিবার।" এমনই পরিবারে ১৬ আগস্ট ১৯৩৯ খ্রীস্টাব্দে বাঁকুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন পন্ডিত মনিলাল নাগ। তাঁর বাবা গোকুল নাগও ছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী। শোনা যায় পন্ডিত গোকুল নাগের সঙ্গীত শুনে, প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্কর তার দলে সঙ্গীত রচয়িতা হিসাবে, গোকুল নাগকে যোগদান করার অনুরোধ করেছিলেন। এমন পিতার সুযোগ্য সন্তান মনিলাল নাগের সেতারে হাতেখড়ি পিতার হাত ধরেই। আর তার প্রতিভার প্রথম বিচ্ছুরন শুরু হয় ১৯৫৩ সালের সর্বভারতীয় সংগীত সম্মেলনে। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে, এবং ১৯৭৯ সালে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের ১৫০ তম বার্ষিকী অনুষ্ঠান ভারত মহাসাগর আর্ট ফেস্টিভ্যালে তিনি ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসাবে সঙ্গীতানুষ্ঠান করেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আইটিসি সংগীত গবেষণা একাডেমির ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক বিভাগের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

★ধ্রুপদী সঙ্গীতে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য এই শিল্পী সারা জীবনভর অজস্র পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০১ এ পেয়েছেন সঙ্গীত-নাটক একাডেমি পুরষ্কার, ২০০৫ এ ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের ফেলোশিপ, ২০০৮ এ কোলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে সাম্মানিক স্বর্ণপদক, ২০১২ তে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া আলাউদ্দিন পুরষ্কার, ২০১৫ তে 'বঙ্গবিভূষণ' ও সঙ্গীত মহাসম্মান পুরষ্কার। এছাড়াও তার মুকুটের পালকে আছে আইটিসি সংগীত সম্মান, ডোভারলেন সংগীত সম্মান, চণ্ডীগড়ের প্রচার কলা কেন্দ্রের কোসার পুরস্কার, মুম্বাইয়ের সংগীত রত্ন পুরষ্কার এবং নয়াদিল্লির ভিস্তাস পুরষ্কার ও আরও অন্যান্য পুরষ্কার।

★ভারতীয় সঙ্গীতে তার অবদানের জন্য পন্ডিত মনিলাল নাগ ২০২০ তে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান- পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হয়ে বিষ্ণুপুর ঘরাণার তথা বিষ্ণুপুরের নাম আরও উজ্জ্বলতায় মন্ডিত করতে চলেছেন।

*তথ্যসূত্র-
সুরের সাধনায় বিষ্ণুপুর- মণীন্দ্রনাথ সান্যাল
উইকিপিডিয়া
এবং,
অন্তর্জাল

রাজরাজড়ার দুন্দুভি নিনাদ যেখানে পৌঁছায় না, দরবারি সংস্কৃতি থেকে স্বতন্ত্র ধারায় লোকসমাজে গুন গুন গানের মতোই বয়ে চলে লোকে...
15/01/2020

রাজরাজড়ার দুন্দুভি নিনাদ যেখানে পৌঁছায় না, দরবারি সংস্কৃতি থেকে স্বতন্ত্র ধারায় লোকসমাজে গুন গুন গানের মতোই বয়ে চলে লোকেদের সংস্কৃতির ধারা। এই ধারাই আসলে একটা লোকজীবনের আত্মা, একটা জাতির চালিকাশক্তি, তার প্রাণ।
পৌষ মাসের শেষতম দিনে বা সংক্রান্তিতে টুসু বা তুষু উৎসবও এই বহমান প্রাণেরই একটা অংশ। পৌষ সংক্রান্তিতে সারা রাত জেগে হয় জাগরণ ও তুষু গান সাথে চলে পিঠা তৈরী, ভোরবেলা জিলিপি, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা ইত্যাদি নানান ঘরোয়া উপাচার সহ ভেলা ভাসিয়ে কাঁপতে কাঁপতে অবগাহন স্নানের পর, নতুন পোষাক পরে বাড়ি ফেরা, বাড়ি ফিরে পিঠে খাওয়ার উৎসব। ডঃ জীবেশ নায়ক সহ বহু লোকসংস্কৃতি গবেষকের মতে টুসু গান টুসু উৎসব বা তুষুর উৎসভূমি বাঁকুড়া। আর সমস্ত বাঁকুড়া তো বটেই এমনকি তুষুর বর্তমান অস্তিত্ব যে পরিধিতে সেই পুরুলিয়া, মেদিনীপুরেরও বেশিরভাগ অংশই ছিল মল্লভূম রাজ্যের অংশ।

তুষু একদিক দিয়ে বিষ্ণুর ঘরনী লক্ষীর একান্ত ঘরোয়া রূপও, মা লক্ষীর দৈবী ভাব একেবারে অন্তর্হিত হয়ে সে যেন ঘরেরই এক কিশোরী অঙ্গনা। তাই তার প্রাণের দাবী একদম অন্তপুর পর্যন্ত, ঘরোয়া খাবারেই তার পরিপূর্তি।

বছরের পর বছর তুষুর গানে এসেছে নানা পরিমার্জন, লোক আঙ্গিক ছেড়ে গানের মধ্যে ঢুকে পড়েছে নানান রকম আধুনিকতর সামাজিক, রাজনৈতিক সমস্যা এমনকি কূটকচালিও। আর লোকায়তের মধ্যে আচার বা নিয়মের রাশ না থাকায় তুষুর মূল আবেদন ক্ষীণ হতে হতে এখন যেন মৃতপ্রায়। সামান্য কয়েক বছর আগেও মকর পর্ব্বনের আগের রাতে শোনা যেত তুষুর সুর। এখন সেসব অতীত প্রায়, এখন তুষুর সুরের জন্য কান পাতা তো দূরের কথা কানে একরকম আছড়েই পড়ে ডি জে দানব। আগামীকে হয়তো আমরা শুধু সংস্কৃতির গল্পই উপহার দিতে পারব। তবু তুষু আমাদের, আমাদেরই, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের সমগ্র রাঢ়ের প্রাণের অংশ।

মল্লভূম বিষ্ণুপুর পেজের পক্ষ থেকে সক্কলকে জানাই মকর উৎসবের শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন।

গ্রন্থঋণ-
রাঢ়ের সংস্কৃতি ও ধর্মঠাকুর - অমলেন্দু মিত্র
বাংলার লোকসংস্কৃতি- বিনয় ঘোষ
লোকসংস্কৃতিবিদ্যা ও লোকসাহিত্য - ডঃ জীবেশ নায়ক
মল্লভূম বিষ্ণুপুর- মনোরঞ্জন চন্দ্র

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধ, সেনিয়া ঘরানার সঙ্গীতজ্ঞ উস্তাদ বাহাদুর খান উত্তর ভারতের কোথাও আর টিকতে পারলেন না। এতদিন ধরে তার...
11/01/2020

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধ, সেনিয়া ঘরানার সঙ্গীতজ্ঞ উস্তাদ বাহাদুর খান উত্তর ভারতের কোথাও আর টিকতে পারলেন না। এতদিন ধরে তার নিজের গানের জগতে বীণা, রবাব সুরশৃঙ্গার নিয়েই মেতে ছিলেন, কোন অসুবিধা হয়নি। কিন্তু বর্তমান কট্টরপন্থী সম্রাট ঔরঙ্গজেবের কঠোর নিষেধ, সাম্রাজ্যের মধ্যে নাচ, গান, নাটক চলবে না, লঙ্ঘনে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত। কিন্তু বাহাদুর খান গান গাওয়া ছাড়বেন কি করে, সুর-সম্রাট তানসেনের রক্ত তার শিরায় শিরায়। অতএব গানের বদলে দেশ ছাড়লেন তিনি।
ভারতের উত্তর অংশ ছেড়ে ঘুরতে ঘুরতে হাজির হলেন বঙ্গদেশে, মল্ল-রাজত্বে। তখন মল্লভূমের সিংহাসনে রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ দেব। শিল্প ও শিল্পীর যথোচিত সম্মান ও মুল্য দিলেন তিনি। সভাগায়ক হিসাবে নিযুক্ত করলেন উস্তাদ বাহাদুর খানকে, শুধু তাই নয় বিনামুল্যে যাতে শিল্পীরা উস্তাদ বাহাদুর খানের কাছে তালিম নিতে পারে তার ব্যবস্থাও করলেন তিনি। খুব তাড়াতাড়ি জুটেও গেল বহু ছাত্র, তাদের মধ্যে অন্যতম গদাধর চক্রবর্তী, যার ছাত্র পণ্ডিত রামশঙ্কর ভট্টাচার্যের হাত ধরে শুরু হল সঙ্গীতের এক নতুন ঘরানা –বিষ্ণুপুরি ঘরানা।
সাহিত্য, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সংগীতে বিষ্ণুপুর তখন পূর্বভারতের কেন্দ্র স্বরূপ। ১৫শ শতাব্দীর শেষের দিক থেকেই বাংলায় ব্রজের বৈষ্ণবধারার বিকাশ ঘটতে থাকে। চৈতন্য কেন্দ্রিক আন্দলেনের প্রথমদিকে জাতি-লিঙ্গ-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত কীর্তন জনপ্রিয়তা লাভ করে। সমবেত সঙ্গীত এর ধারা বোদ্ধ প্রভৃতি ধর্মে থাকলেও, প্রকাশ্যে জাতি-লিঙ্গ-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত কীর্তন সেই প্রথম চালু হয়। বিষ্ণুপুরি ঘরানার ওপর এই সংকীর্তন এর প্রভাবও অস্বীকার করতে পারেননি ঐতিহাসিকেরা। খেতুরি মহাসম্মেলনে সহজাত গায়ক শ্যামানন্দ ধ্রুপদ গায়কীর এক নতুন আঙ্গিকের প্রচলন করেন। খেতুরির মহাসম্মেলনের (১৫৮৩) পর থেকেই বৈষ্ণব ভাব বঙ্গে বিশেষ প্রাধান্য লাভ করতে থাকে, বিষ্ণুপুর তার ব্যতিক্রম থাকেনি। মল্লরাজা বীরহাম্বীর দেবের আমলে(১৫৮৬-১৬২০) পণ্ডিত শ্রীনিবাস আচার্য বিষ্ণুপুরে আসেন। তার প্রভাবে রাজা হাম্বীর মল্ল দেব গ্রহণ করলেন বৈষ্ণব ধর্ম। রাজা হাম্বীর মল্ল দেবের (বীর হাম্বীর) পৃষ্ঠপোষকতায় বিষ্ণুপুর হয়ে উঠল বৈষ্ণব রসসাধনার নতুন ক্ষেত্র, বিষ্ণুপুর হয়ে উঠল ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’। ষোড়শ শতকের শেষ দিক থেকেই বিষ্ণুপুরের রাধা-কৃষ্ণের মন্দির গুলিতে ধ্রুপদ গাওয়া হত। এই সময় বৃন্দাবনের বৈষ্ণবদের সাথে বিষ্ণুপুরের বৈষ্ণবদের সঙ্গীত কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ প্রবল হয়। বিষ্ণুপুরের রাজারা পদকর্তাদের দিয়ে বহু ধ্রুপদ রচনা করিয়ে নেন, নিজেরাও কিছু রচনা করেন, এই বিষ্ণুপুর কেন্দ্রিক রচনাক্রম চলেছিল প্রায় দুশো বছর ধরে। এই সময়কার ধ্রুপদগুলিতে ব্রজবুলি ও বাংলা দুই ভাষাই পাওয়া যেতে থাকে।
অন্যদিকে উস্তাদ বাহাদুর খানের সেনিয়া ঘরানার প্রভাবে বিষ্ণুপুরি ধ্রুপদ সঙ্গীতে মুঘল প্রভাবও ছিল যথেষ্ট। বিষ্ণুপুর ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ এ রাখা শাহেনশাহ জাহাঙ্গীর সহ অন্যান্য আমীর-ওমরাহদের প্রশস্তিমূলক গান গুলি তাই প্রমাণ করে। অষ্টাদশ শতকের প্রথম থেকেই বিষ্ণুপুরি ঘরানার ওপর গোয়ালিয়র ঘরানা সহ অন্যান্য মধ্য ও উত্তর ভারতীয় ঘরানার প্রভাব পড়তে থাকে। অবশ্য ‘ঘরানা’ কথাটি এসেছে ‘ঘর’ থেকে যা সাধারনভাবে গুরুগৃহ বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়। কোন নির্দিষ্ট ঘরানা আসলে কোন শিল্পকর্মের বিশেষ আঙ্গিককেই নির্দেশ করে। গুরু-শিষ্য পরম্পরা কেন্দ্রিক এই ঘরানা রীতিতে গুরুর প্রভাব শিষ্যের ওপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তাই বিষ্ণুপুরি ঘরানায় মুঘল দরবারি প্রভাব এসে পড়ে স্বাভাবিক ভাবেই।
মুঘল প্রভাব, বৈষ্ণব প্রভাব ছাড়াও বিষ্ণুপুরি ঘরানাতে এর নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্থাপত্য-শিল্প-সাহিত্যের প্রভাবও অনস্বীকার্য। সাহিত্য, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সংগীতে বিষ্ণুপুর তখন পূর্বভারতের কেন্দ্র স্বরূপ হওয়াই রাঢ় সহ বঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগও বাড়ছিল স্বাভাবিক ভাবেই। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ সহ অন্যান্য নিজস্ব কাব্য, অনুবাদ এবং শঙ্খ-রেশম-বালুচরি সহ অন্যান্য শিল্পের ইতিবাচক প্রভাব বিষ্ণুপুরী ঘরানার সঙ্গীতকে করে তুলেছে আরও সমৃদ্ধ। সমসাময়িক ঢাকা, কৃষ্ণনগর, বর্ধমান সহ সঙ্গীতের আরও অনেক কেন্দ্র থাকলেও মুঘল, বৈষ্ণব, সাংস্কৃতিক প্রভাব ও সর্বোপরি মল্লরাজাদের প্রতক্ষ্য পৃষ্ঠপোষকতা বিষ্ণুপুরের সঙ্গীতচর্চাকে করে তোলে অনন্য ও এক স্বতন্ত্র ঘরানার রূপ দেয়। সমগ্র পূর্ব ভারতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একমাত্র ঘরানা হল বিষ্ণুপুরী ঘরানা। বিষ্ণুপুরী ঘরানাকে আরও সমৃদ্ধিশালী করে তোলার জন্য সারস্বত সাধকেরা অনবরত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেন, তারই ফলশ্রুতি হিসাবে ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে দেশিকোত্তম ডঃ গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বিষ্ণুপুরে গড়ে তুলেন প্রথম সঙ্গীত বিদ্যালয়, যা ১৯৯৭ এ রামশরন সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ে পরিনত হয়। এই সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ই দেশের প্রথম সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়। বাংলা ‘তরজা গান’এর উৎপত্তিও এই বিষ্ণুপুরি ঘরানা থেকেই।
এই বিষ্ণুপুরি ঘরানার শুরুটা হয়েছিল পণ্ডিত রামশঙ্কর ভট্টাচার্যের(১৭৬১-১৮৫৩)(প্রথম বাংলা খেয়াল প্রবর্তন করেন) হাতেই। এর পর এই ধারা কে এগিয়ে নিয়ে যান এনারই সুযোগ্য পুত্র পণ্ডিত রামকেশব ভট্টাচার্য(১৮০৯-১৮৫০)(বিষ্ণুপুরি ঘরানায় এস্রাজের প্রবর্তক), ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী, যদুনাথ ভট্টাচার্য(১৮৪০-১৮৩০)(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুপ্রেরক, বিষ্ণুপুরি ঘরানাকে অন্য মাত্রা এনে দেন), রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী(১৮৬৩-১৯২৪), গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৭৮-১৯৬৩)(বিশ্বভারতী থেকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি পান), পদ্মশ্রী সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৮৬-১৯৭২), জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ গোস্বামী(১৯০২-১৯৪৫)(প্রখ্যাত আকাশবাণী শিল্পী) প্রমুখরা। যাদের যোগ্য বর্তমান উত্তরসূরিরা হলেন অমিয়রঞ্জন বন্দ্যপাধায়(১৯২৭-)( রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বিভাগীয় প্রধান), মনিলাল নাগ(১৯৩৯-), মিতা নাগ, শান্তনু বন্দ্যপাধায়(১৯৬০-) প্রমুখ সুরসাধকেরা

বিষ্ণুপুর সঙ্গীত ঘরানার সেই গৌরবগাথাকে স্মরণ করে বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির হাট প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে-
আজ দ্বিতীয় দিন।

তথ্যসূত্র -
মল্লভূম বিষ্ণুপুর- মনোরঞ্জন চন্দ
বিষ্ণুপুরের অমর কাহিনী - ফকির নারায়ণ কর্মকার
সুরের সধনায় বিষ্ণুপুর- মণীন্দ্রনাথ সান্যাল

শ্রীনিবাস আচার্য। বিষ্ণুপুরে মল্লরাজাদের শক্তি সাধনার ধারায় যিনি মেলাতে পেরেছিলেন প্রেমের গান। মূলত তার অনুপ্রেরণাতেই বি...
14/11/2019

শ্রীনিবাস আচার্য। বিষ্ণুপুরে মল্লরাজাদের শক্তি সাধনার ধারায় যিনি মেলাতে পেরেছিলেন প্রেমের গান। মূলত তার অনুপ্রেরণাতেই বিষ্ণুপুরে বৈষ্ণব ধর্ম ও চর্চার সূত্রপাত। আর বিষ্ণুপুরে কৃষ্ণপ্রেমের ধারার জোয়ার এসেছিল মল্লরাজ বীর হাম্বিরের হাত ধরে। কৃষ্ণের বৃন্দাবনের রাসলীলার অপার্থিব অনুভূতিকে পার্থিব অনুভবে আস্বাদন করতে ইংরেজি ১৬০০ খ্রীস্টাব্দে তিনি নির্মান করেন রাসমঞ্চ। সেই সময় থেকেই দীর্ঘকাল যাবৎ হেমন্ত কালের রাসপূর্ণিমাতে রাসমঞ্চতেই অনুষ্ঠিত হত রাসোৎসব। বিষ্ণুপুরের শতাধিক রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহকে রাসমঞ্চে নিয়ে এসে সাজিয়ে তুলে, করা হত বৃন্দাবনের অপার্থিব অনুভবের অনুকৃতি। প্রখ্যাত বিষ্ণুপুর গবেষক মানিকলাল সিংহ মনে করেন রাঢ়বাংলায় যাত্রা উৎসব ও প্রথম বাংলা ভাষার অভিনয় বিষ্ণুপুরের রাস উৎসবের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।

এখন নানা কারণে রাসমঞ্চে পালিত না হলেও, হৈমন্তী পূর্ণিমাতে এখনও পালিত হয় বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী রাসোৎসব। রইল তারই কিছু চিত্র।

আমাদের সাথে থাকবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ...
08/10/2019

আমাদের সাথে থাকবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ...

Address

Bishnupur
Vishnupur
722122

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মল্লভূম বিষ্ণুপুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share