27/08/2026
ত্রয়োদশ বিধানসভার ১০ম অধিবেশন ও জবাবদিহিতার বিপরীতে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে বিরোধী দলকে 'দেশদ্রোহী' তকমা -- সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিপন্ন।
দেশপ্রেমের কোনও একক রাজনৈতিক মালিকানা নেই।
অতএব, কোনও রাজনৈতিক দলকে “দেশদ্রোহী” বলার পরিবর্তে শাসকদলের উচিত নির্দিষ্ট বক্তব্য, নির্দিষ্ট কাজ এবং নির্দিষ্ট আইনি বিধান দেখিয়ে অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা। শুধু ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবর্ষ পালনকে ভিত্তি করে এমন তকমা দেওয়া সাংবিধানিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়, অত্যন্ত নিন্দনীয়।
ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, ইতিহাস, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মত প্রকাশ এই স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিধানসভা গণতান্ত্রিক ভাবে বিতর্কের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে যতই রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য থাকুকনা কেন।এখানে সরকার পক্ষ জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি জ্বলন্ত ইস্যুতে জবাবদিহি করবেন এবং জনস্বার্থে শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য থাকবেন। এখানে বিরোধীরা জনস্বার্থে প্রতিটি জ্বলন্ত বিষয়ে সরকারকে প্রশ্ন বিদ্ধ করবে।গঠনমূলক সমালোচনা করবে। জবাবদিহিতা চাইবে।এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কথা। ডিজিপি -র রহস্য মৃত্যুর সত্যতা উন্মোচনে পুলিশী তদন্তের স্ট্যাটাস ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কেন গঠন করা হবে না? অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের সাথে বিভিন্ন অবৈধ চার্জ বৃদ্ধি সম্পর্কে শুল্কের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অভিযোগের জনশুনানি এবং বিতর্কিত স্মার্ট মিটার ও বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণ নীতির জ্বলন্ত বিষয়ে, রেশনে চাল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া, যখন খাদ্য সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি,তীব্র বেকারত্ব ও কর্মহীনতা, নিম্ন বেতন কাঠামো ,কম মজুরি,সরকারি শূণ্য পদের অবলুপ্তি ও স্থায়ী নিয়োগ না করা, অনিয়মিত ও স্কিম ওয়ার্কারদের প্রশ্ন, নিয়োগে পি.আর.টি.সি -র বাধ্যবাধকতা শিথিল করা ইত্যাদি জরুরি বিষয়ে জবাবদিহিতাকে আড়াল করার জন্যই সরকার পক্ষ প্রধান বিরোধী দলকে দেশদ্রোহী বলে আক্রমণ করছে। যা গণতন্ত্রে কোনভাবেই কাম্য নয়। সরকারের কাছে জনগণ জবাবদিহিতা চায়, স্বচ্ছতা চায়। কোনো চতুরতা নয়।