11/09/2023
৯১ এর বৃদ্ধা, প্রত্যহ নদী পেরিয়ে পূর্বমেদিনীপুরে রুগিদের পৌছেদেন ডাক্তারের কাছে। লোকে বলেন তিনি ডাক্তার মাসি।
বয়স ৯১,মাথায় চুল নেই,পরনে সাদা শাড়ি,চোখেও খুব একটা ভালো দেখেন না। তবুও প্রতিদিন তমলুকের হাসপাতাল নার্সিংহোম গুলিতে বিভিন্ন রোগে জর্জরিত রোগীদের সাথে দেখা যায় এই বৃদ্ধাকে। কে এই বৃদ্ধা??যে বয়সে অন্যদের সাহায্যে ডাক্তার মুখে হওয়ার কথা বৃদ্ধার নিজের , সেই বয়সেই তিনি অন্যদেরকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে ছুটছেন রুপনারায়ন নদী পেরিয়ে। রোগিরা বলছেন আপদে বিপদে ওই বৃদ্ধাই তাদের একমাত্র সঙ্গী। নাম গৌড়ি বেরা, হাওড়া জেলার শ্যামপুর এলাকায় তার বাড়ি। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে রূপনারায়ন নদীর ওপারে হাওড়া জেলা থেকে প্রায় 10 থেকে 15 টি গ্রামের মানুষ নদী পেরিয়ে চিকিৎসার জন্য তমলুকে আসেন। তাদের প্রতিনিয়ত ডাক্তারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই গ্রামগুলির মানুষের কাছে মাসিই একমাত্র ভরসা। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে এক ফোনেই পৌঁছে যান বৃদ্ধা। পরে সেই রোগীকে সাথে নিয়ে নদী পেরিয়ে সোজা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় । সেখানে তমলুক হাসপাতাল সহ রোগির প্রয়োজনিয় ডাক্তার বাবুদের কাছে পৌঁছে দেন রোগিদের । পরে শুরু হয় রোগীর চিকিৎসা। বৃদ্ধা বলছেন এভাবেই দীর্ঘ 45 বছর ধরে নদী পেরিয়ে এক জেলা থেকে অপর জেলায় রুগীদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরিবারের বাধ্যকতা থাকলেও মানুষের সেবা তার কাছে বয়সের ঊর্ধ্বে। তাই শুধু ৯১ এ নয়, বেঁচে থাকার বাকি দিনগুলো এই ভাবেই গ্রামের মানুষকে সেবা দিতে চায় তিনি।এই মাসিকে সহজেই হাতের কাছে পেয়ে বেজয় চিন্তামুক্ত থাকেন অসুস্থ হওয়া ওই গ্রাম গুলির মানুষেরা।