28/07/2022
#পতিতা_মা
#প্রাপ্তমনস্কদের_জন্য
©শ্রাবন্তী_মিস্ত্রী
"মা এই মাসেই এক্সাম ফিস টা দিতে হবে, তোমাকে তো কালকেই বললাম কই এখনো দিলে না তো?" -রোহন বললো।
"কাল বললেই কি আজ হয় বাবা? তবে দু একদিনের মধ্যেই আমি জোগাড় করে দেবো।"
"মা আমার একটা ল্যাপটপ লাগবে কতোদিন ধরে বলছি মা"-মেয়ে চুমকি বলে ওঠে।
সব হবে মা। ছেলে মেয়ে দুজনকেই আশ্বস্ত করে কনক, এই দুজনের জন্যই তো তার বেঁচে থাকা। কতো স্বপ্ন তার দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে,যে তারা একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে, ওদের জন্য ওর গর্ব হবে। ভাতের ফ্যান টা গালিয়ে তাড়াতাড়ি তরকারি বসায় কনক, সেরে ফেলে রাতের রান্না। খেয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা।
গরিবের মেয়ে কনক,তিন দাদার পর একমাত্র বোন সে। তাই হতদরিদ্র পরিবারের হলেও কনকের বাবা রামদুলাল বাবু সাধ্য মতো একটু সচ্ছল পরিবারে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, মা হারা মেয়েটাকে। গোপালের সাথে সম্বন্ধ হয় কনকের। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে,বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। মোটামুটি ভালো ভাবেই সংসার চলে যায় ওদের। কনকের বাবার শান্ত স্বভাবের গোপালকে বেশ পছন্দ হয়,তাই একটা ভালো দিন দেখে গোপালের সাথে বিয়ে দেন মেয়ে কনকের।
বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি এলো কনক। শাশুড়ির মাতৃস্নেহে আর স্বামীর সোহাগে ভালোই কাটছিল কনকের দিনগুলো। অসুস্থ শ্বশুরের দেখভালের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিল সে। পাকা গৃহিণীর মতো সংসার পাতলো সে স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি নিয়ে।গোপাল খুবই ভদ্র স্বভাবের ছেলে। আস্তে কথা বলে,সবাইকে সম্মান করে, কারো সাথে তার বিবাদ নেই। পাড়ার সবাই ভালোবাসে গোপালকে। গোপাল সারাদিন খেটে সবসময় চেষ্টা করে তার পরিবার কে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে। কনকও সাধ্যমতো চেষ্টা করে গোপালকে আর তার পরিবারের সবার খেয়াল রাখতে।
বছর ঘুরলো কনকের কোল জুড়ে এক চাঁদপনা ছেলে এলো,আদর করে গোপাল নাম রাখলো রোহন।গোপালের মা তো নাতিকে পেয়ে খুব খুশি। কোল থেকে নামায় না তাকে একদম। রোহন বড়ো হতে থাকলো। দু'বছর পরে কনকের কোল জুড়ে চুমকি এলো। গোপাল নিজে অভাবের জন্য বেশি লেখাপড়া করতে পারেনি তাই গোপালের স্বপ্ন তার ছেলে মেয়েকে সে অনেক লেখাপড়া শেখাবে,দশের একজন করবে। এক বুক স্বপ্ন ভরা ছিল গোপালের বুকে।কনকও সাথ দিতো ওর। ওদের দুজনের স্বপ্ন তাদের ছেলেমেয়ে তাদের না পারা গুলো পারুক না জানা গুলো জানুক।
পাঁচ বছর বয়স রোহনের, ভর্তি করেছে মফস্বলের এক ন