RSP Panihati

RSP Panihati সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ

"কমিউনিস্ট পার্টির ম্যানিফেস্টো"র বাংলা পরিভাষা নিয়ে কয়েকটি কথা--------------------------------------------------------অ...
16/02/2026

"কমিউনিস্ট পার্টির ম্যানিফেস্টো"র
বাংলা পরিভাষা নিয়ে কয়েকটি কথা----------------------------------
----------------------অতনু হুই

বিদ্যাজাগতিক কর্মীদের বাংলাভাষায় সাম্যবাদী চর্চা, এবং তার মতাদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে - প্রথম সময় থেকেই পরিভাষা চর্চাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হয়েছিলো। আজ যখন "লাল মলাটের বই" প্রকাশ দিনের ১৭৫ বছর পেরিয়ে গেছি, তখন বিষয়টির গুরুত্ব আরো বেশি বেশি করে সামনে আসছে।

( ২১ ফেব্রুয়ারী, ১৮৪৮, রেড বুক ডে, "কমিউনিস্ট পার্টির ম্যানিফেস্টো" র ২৩ পাতার জার্মান সংস্করনের প্রথম প্রকাশ।)

আজকের দিনে মার্কসবাদ বিষয়ে চর্চার অন্যতম মূল সমস্যা হলো বাংলা ভাষায় ঐ বিষয়কে বোধগম্য ভাবে প্রকাশ করা। এখনো এই বাংলায় বিদ্যাজাগতিক ক্ষেত্রে সাম্যবাদী চর্চা আঞ্চলিক ভাষায় সেভাবে বিকশিত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট পরিভাষা গড়ে তোলার কাজ অনেকাংশে অধরা থেকে গেছে। সে কারনে "কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো"র বাংলা ভাষায় অনুবাদে আড়ষ্টতা ও কাঠিন্য দু'ই থেকে গেছে। এ রকম হলে যে কোনো মৌলিক রচনা ও তার অনুবাদ কখনো সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে না। বরং তা হয়ে ওঠে আরো দুর্বোধ্য। যা অনুবাদ পাঠে মানুষকে মোটেই আগ্রহী করে তোলেনা।

বাংলাভাষায় সাম্যবাদী চর্চা ও পরিভাষা প্রনয়নে অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন- সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরবর্তীকালে নরেন্দ্রনাথ রায়, চারুচন্দ্র সান্যাল, রেবতী বর্মন, এবং আরো পরে, কাকাবাবু, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, সুধী প্রধান, ও আরো অনেকে এ কাজে আগ্রহের সঙ্গে এগিয়ে আসেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'সাম্য' প্রবন্ধে -কমিউনিস্ট, কমিউনিজম কথাগুলি পরিভাষা ছাড়া সরাসরি ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালে রুশবিপ্লব বাঙালির- মননে, চিন্তনে, ভাবজগতে যে আলোড়নস্রোতের সৃষ্টি করে, তাতে সাম্যবাদী চর্চার মাত্রা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি শুরু হয় বিভিন্ন পরিভাষার অনুসন্ধান। এই সময়-'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা'থেকে, 'ভারতবর্ষ', 'বিশ্বভারতী' আরো অনেক পত্রিকায় পরিভাষা চয়নের নতুন বহুমাত্রিক আবহাওয়া সৃষ্টি হয়।

এই সময় সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর - "সাধারণ সত্ত্ববাদীর ইস্তাহার"নাম দিয়ে ১৯২৯ খ্রীঃ "কমিউনিস্ট পার্টির ম্যানিফেস্টো"র বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন। এটি বাংলাভাষায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম অনুবাদ কি না এ প্রশ্নে পন্ডিতমহলে দ্বিমত আছে। অনেকে দাবী করেন ১৮৭৬ খ্রীঃ জনৈক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি প্রথম সেই কাজটি করেছিলেন। সে কথা ভিন্ন।

সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ইস্তাহারের অনুবাদ প্রকাশক করেছিলেন - "ওয়ার্কাস অ্যান্ড পেজেন্টস্ পার্টি"র বঙ্গীয় প্রাদেশিক শাখার পক্ষে-আবদুল হালিম।

এখানে সেই অনুবাদের কয়েকটি পরিভাষা উল্লেখ করা হল-----
১)কমিউনিস্ট---সাধারণ সত্ত্ববাদী।
২)বুর্জোয়া---পরশ্রম ভোগী।
৩)প্রলেটারিয়েট---আত্মোৎপন্ন বঞ্চিত সম্প্রদায়।
৪)ক্লাস---সম্প্রদায়।
বলা চলে কমিউনিস্ট অর্থে -"সাধারণ সত্ত্ববাদী" কথাটির প্রয়োগ ছিলো একেবারেই নতুন।

পরবর্তীকালে এই পরিভাষা ও তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্নমহলে সংশয় তৈরী হয়। অবশেষে ১৯৩২ খ্রীঃ আবদুল হালিম "গণশক্তি পাবলিশিং হাউস" থেকে হুবহু "কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো"নাম দিয়ে পৃথক অনুবাদ বাংলাভাষায় প্রকাশ করেন। সেই সময় ১২ আনা দামে বইটি পাওয়া গেলেও এখন বহু মূল্য দিয়েও তা বড় দুর্লভ। বইটি পাওয়া গেলে আবদুল হালিম ও সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই পরিভাষা সংক্রান্ত মিল অমিলগুলি চিহ্নিত করতে পাঠক মহলের অনেক সুবিধা হতো।

এরপরে "বর্মণ পাবলিশিং হাউস" থেকে "কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো"র আরেকটি বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়। অনুবাদক- শ্রী কৃষ্ণ গোস্বামী। নাম--"সাম্যবাদীদের ফতোয়া"।ম্যানিফেস্টোর তর্জমা হিসাবে "ফতোয়া" কথাটি সে সময় মোটেই গ্রহণীয় হয়নি।

অপরদিকে সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিভাষা চয়নের সঙ্গে সহমত ছিলেন না চারুচন্দ্র সান্যাল। তিনি ১৯৩৩ খ্রীঃ জলপাইগুড়ি থেকে ম্যানিফেস্টোর অপর এক অনুবাদ প্রকাশ করেন। নাম দেন--"সাম্যবাদীদের আদর্শ"। তিনি পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'কমিউনিজম'-অর্থে সাম্যবাদ, 'বুর্জোয়া'- অর্থে বণিক, এবং 'প্রলেটারিয়েট' অর্থে শ্রমিক কথাটি ব্যবহার করেন।

১৯৩১ খ্রীঃ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে ('প্রলেটারিয়েট' অর্থে)'সর্বহারা' নামে একটি পত্রিকা। তাছাড়া তারও পূর্বে 'গণবাণী'পত্রিকায় "সর্বহারার দাবী" শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তবু চারুচন্দ্র কেন যে 'প্রলেটারিয়েট' অর্থে 'শ্রমিক' কথাটি ব্যবহার করেছিলেন,'সর্বহারা' কথাটি বাদ দিয়ে তা অজানা থেকে গেছে।

অবশ্য পরবর্তীকালে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর সামগ্রিক ভাবে গ্রহণীয় পরিভাষাগুলিকেই তাঁর লেখাগুলিতে স্হান করে দেন।যেমন-কমিউনিস্ট, সর্বহারা, শ্রেণী, বুর্জোয়া ইত্যাদি।

এই প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। রেবতী বর্মণ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯৩২ খ্রীঃ এক পত্রে মার্কসীয় বিভিন্ন শব্দের পরিভাষা নিয়ে তাঁর সংশয় ও জিজ্ঞাসার কথা উল্লেখ করেন। এবং এ প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধির পরিভাষাগুলির যৌক্তিকতা কতটা তা জানতে চান।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর উত্তরে বলেন-- নেশন, ন্যাশানাল কথাগুলি ইংরাজীতেই শ্রেয়। যেমন- অক্সিজেন,হাইড্রোজেন। তিনি বিদ্যানিধির নেশন অর্থে "রাষ্ট্রজন"শব্দটি অপেক্ষা "রাষ্ট্রজাতি" শব্দটি অধিক সহজ বলে বিবেচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি উত্তরপত্রে রেবতী বর্মণকে দেওয়া পরিভাষাগুলি নিম্নরুপ-
১)caste-- জাতি।
২)nation--- রাষ্ট্রজাতি।
৩)race--- জাতি।
৪)people-- জনসমূহ।
৫)population--- প্রজন।

সর্বশেষে বলা প্রয়োজন, পরিভাষা না খুঁজে মুজফ্ফর আহমদ ই সর্বপ্রথম "প্রলেটারিয়েট" ও "বুর্জোয়াজি" শব্দের তাৎপর্য পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন---
"শোষণের দ্বারা সম্পত্তিহীন হয়ে যারা আপনাদিগকে ভাড়া খাটতে বাধ্য হয় তাদেরকেই 'প্রলেটারিয়েট' বলা হয়।
কিম্বা আধুনিক ধনিকগণ, যারা দিন মজুরকে কোনো প্রকারে বেঁচে থাকার মতো মজুরি দিয়ে যে কোনো কাজে খাটিয়ে থাকে তাদেরকেই 'বুর্জোয়াজি' বলা হয়।

তবু আজও বাংলাভাষায় পরিভাষা চর্চা নিয়ে সমস্যা কিন্তু পিছু ছাড়েনি। বরং তা থেকেই গেছে। মার্কসবাদ আন্তর্জাতিকতায় পরিপুষ্ট এক মতবাদ হলেও রাষ্ট্র, সমাজ,জাতি ইত্যাদির প্রশ্নে সময়ের কালভেদে পৃথক থেকে যাওয়ায় - তার ভাব ও ভাষার পার্থক্য থেকেই গেছে। কাজেই আজ বুঝি ভাষা বোধেরও সাম্য আর আন্তর্জাতিকতা জরুরী।তাই বিদ্যাজাগতিক কর্মীদের এ নিয়ে আরো চর্চা জরুরি।
---------------------------------------
' রেড বুক ডে'- লাল মলাটের বই দিবসকে সামনে রেখে বাংলা ভাষার মর্যাদাকে মনে রেখে।

ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসকে অনেকে শুধু “মার্ক্সের বন্ধু” বলে পাশ কাটিয়ে যায়। কিন্তু সত্যটা হলো—মার্ক্সবাদী দর্শনের ভিত গড়ার কাজে ...
28/01/2026

ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসকে অনেকে শুধু “মার্ক্সের বন্ধু” বলে পাশ কাটিয়ে যায়। কিন্তু সত্যটা হলো—মার্ক্সবাদী দর্শনের ভিত গড়ার কাজে এঙ্গেলস ছিলেন সহ-স্থপতি, আর অনেক সময় প্রকল্পের অক্সিজেন। তত্ত্ব লিখেছে দুইজন, কিন্তু তত্ত্বকে বাস্তবের সাথে লাগিয়ে দেখার যে সাহস—সেখানে এঙ্গেলসের ভূমিকা বিশাল।

এঙ্গেলসের জন্ম ২৮ নভেম্বর ১৮২০, জার্মানির বার্মেন—মৃত্যু ৫ আগস্ট ১৮৯৫, লন্ডন। ধনী শিল্পপতির ঘরে জন্ম, কিন্তু চোখ ছিল শ্রমিকের দিকে। এটাই তাকে আলাদা করেছে—তিনি ‘বইয়ের বাম’ ছিলেন না, তিনি ছিলেন কারখানার ধোঁয়া আর মানুষের ঘাম দেখানো বিশ্লেষক।

শ্রমিকের জীবনের “ভেতরের রিপোর্ট”—এঙ্গেলসের বড় অস্ত্র

এঙ্গেলস যখন ম্যানচেস্টারে শিল্পাঞ্চলে কাজ করেছেন, তখন তিনি শুধু ব্যবসার খাতা দেখেননি—তিনি দেখেছেন বস্তি, রোগ, ক্ষুধা, শ্রমের নিষ্ঠুর সময়সূচি, শিশু শ্রম, আর পুঁজির ঠান্ডা হিসাব। এখান থেকেই আসে তার বিখ্যাত কাজ—শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব জীবনকে নথিভুক্ত করা।

মার্ক্সবাদকে অনেকে ভুল করে শুধু স্লোগান ভাবে। এঙ্গেলস দেখিয়েছিলেন—এটা সমাজ বিশ্লেষণের যন্ত্র। কে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, কে শ্রম দেয়, লাভ কার পকেটে যায়, আর মানুষ কীভাবে “সিস্টেমে” আটকে পড়ে—এই প্রশ্নগুলো তিনি মাটিতে নামিয়ে এনে ধরেছেন।

মার্ক্সবাদ মানে শুধু রাগ না—এটা “কাঠামো” বোঝার পদ্ধতি

এঙ্গেলসের সবচেয়ে বড় অবদান হলো—তিনি বুঝিয়েছেন সমাজ বদলায় “ইচ্ছে” দিয়ে নয়, বদলায় অর্থনৈতিক কাঠামো বদলালে। মানুষের মতাদর্শ, রাজনীতি, আইন, নৈতিকতা—সবকিছুর পেছনে থাকে উৎপাদনব্যবস্থা আর মালিকানার ধরন।
এটা শোনার মতো নয়—এটা হজম করার মতো কথা। কারণ এতে আপনার আবেগের আরাম কমে, কিন্তু বাস্তব বোঝার শক্তি বাড়ে।

পরিবার, নারী, সম্পত্তি—এঙ্গেলস যে জায়গায় সবাইকে অস্বস্তিতে ফেলেন

এঙ্গেলস শুধু কারখানা না—ঘরের ভেতরও দেখেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন: পরিবারের যে কাঠামোকে আমরা “চিরকালীন” ভাবি, সেটা কি আসলেই চিরকালীন
না কি সম্পত্তি, উত্তরাধিকার আর মালিকানার নিয়ম থেকে গড়া সামাজিক বন্দোবস্ত

এই প্রশ্ন অনেককে রাগায়, অনেককে ভাবায়। কিন্তু এঙ্গেলসের কাজই ছিল—যেটাকে আমরা স্বাভাবিক ভেবে মেনে নিয়েছি, সেটাকে টেবিলে তুলে ভেঙে দেখা।

“ডায়ালেকটিকস” আর বাস্তববাদ—তার তত্ত্বের তাপ

এঙ্গেলস দ্বন্দ্বমূলক চিন্তাকে শুধু দর্শনের ভাষা করেননি—তিনি দেখাতে চেয়েছেন প্রকৃতি, সমাজ, ইতিহাস—সব জায়গায় পরিবর্তন আসে সংঘর্ষ ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ ইতিহাস জমাট নয়, ইতিহাস প্রবাহমান। আর ক্ষমতা-সম্পদ-শ্রমের দ্বন্দ্ব সেই প্রবাহকে ধাক্কা দেয়।

কিন্তু সবচেয়ে কম বলা সত্যটা কী

এঙ্গেলস শুধু লেখেননি—তিনি “টিকিয়ে” রেখেছিলেন।
মার্ক্সের জীবদ্দশায় ও পরে—অর্থনৈতিক সহায়তা, সম্পাদনা, তর্ক-বিতর্ক, সংগঠনী কাজ—এগুলো ছাড়া মার্ক্সবাদ হয়তো এত দূর যেত না। এঙ্গেলস ছিলেন সেই মানুষ, যে আলোচনার সামনে থাকে না, কিন্তু ভিত্তি শক্ত করে।

এঙ্গেলসকে পড়া মানে কোনো দলের পোস্টার পড়া নয়।
এঙ্গেলসকে পড়া মানে সমাজকে জিজ্ঞেস করা—কার শ্রমে কার প্রাসাদ
কার ঘামে কার মুনাফা
আর “স্বাভাবিক” বলে যেটা মানি—সেটা আসলে কার স্বার্থে স্বাভাবিক

যদি আপনি বাস্তব বুঝতে চান, তাহলে এঙ্গেলস আপনাকে একটাই জিনিস শেখায়—
ঘটনা নয়, কাঠামো দেখো।
কারণ কাঠামো না বদলালে, মুখ বদলায়—শোষণ বদলায় না।

অনন্ত লোকের স্পর্শ

#শ্রমিকশ্রেণি #সমাজবিশ্লেষণ #অনন্তলোকেরস্পর্শ

উমর খলিদ, শারজিল ইমামরা আসলে কাদের বিরুদ্ধে লড়ছেন? কীসের বিরুদ্ধে? কোন পক্ষে? এই কথাটা বোঝার জন্য খানিক আইনের দিকে তাকান...
07/01/2026

উমর খলিদ, শারজিল ইমামরা আসলে কাদের বিরুদ্ধে লড়ছেন? কীসের বিরুদ্ধে? কোন পক্ষে? এই কথাটা বোঝার জন্য খানিক আইনের দিকে তাকানো উচিত আমাদের। গণতন্ত্রে আইন ও বিচার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তো।

ওঁরা বন্দী আছেন বিচারাধীন অবস্থায় (যা এখনো শুরু হয়নি, আদৌ কবে হবে কেউ জানে না) আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস প্রিভেনশন অ্যাক্ট বা সংক্ষেপে ইউএপিএ-তে। অস্বাভাবিক ক্ষমতা এই আইনের। পুলিশ তার নিজের সূত্রের ভিত্তিতে কোনো আইনী ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা ছাড়াই সার্চ, সিজার এবং গ্রেপ্তার করতে পারে। অর্থাৎ, এসব করা আদৌ দরকার কিনা তা বিচারবিভাগকে জানানোর দরকার নেই। ইচ্ছে হলেই এসব করতে পারে পুলিশ বা কারোর আদেশ থাকলেই করতে পারে। পুলিশ মনে করলেই যে কোনো অপরাধকে 'কগনিজেবল' করতে পারে। এটা এতটাই যাচ্ছেতাই ক্ষমতা যে আপনার চা-খাওয়াকেও পুলিশ এখানে কগনিজেবল বলে মনে করতে পারে এবং আপনাকে এই আইনে গ্রেপ্তার করতে পারে। সচরাচর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করতে হয়। এখানে ইচ্ছেমতো সেই সময় বাড়ানো চলে। আদালত বিচারের সময় অভিযুক্তকে উপস্থিত করার দাবীও করতে পারবে না। আগে থেকে এমন হতে পারে অনুমান করে আপনি বেল চাইতেও পারবেন না, এই আইনে তা গ্রাহ্য হয় না। বেল দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বাধ্যতা (জেল নয়, বেলই স্বাভাবিক বিচারের নিয়ম) তাকে সম্পূর্ণভাবে খর্ব করে এই আইন। অভিযুক্তকে, প্রমাণের আগেই অপরাধী বলে ধরা হয়, সে অপরাধ করেছে কিনা প্রমাণের দায় তার, যা স্বাভাবিক বিচারের পরিপন্থী। খোলা আদালতে নয়, বদ্ধ জায়গায় বিচার হবে, সেখানে সাক্ষী কে তা জানার কোনো উপার অভিযুক্তের বা তার উকিলের নেই। নেই জেরা করার সামান্য সুযোগও। এই যেমন উমরদের ক্ষেত্রে কারা সাক্ষী দিচ্ছে, তারা সত্যি না মিথ্যে বলছে, জানার রাস্তা নেই। অথচ নাকি বিচার হবে। এবং তা ন্যায়বিচার। সোজা কথায় প্রশাসনের ক্ষমতা এখানে আদালতের চেয়ে অনেক অনেক বেশী। আর এনআইএ বা তদন্তকারী সংস্থা যে চার্জশিট দেবে, তার বাইরে বেলের আবেদনের জন্যও, অভিযুক্তপক্ষ আলাদা কোনো নথি দিতে পারবে না। মানে আমি আপনাকে চোর বললাম, স্বপক্ষে আমার যা ইচ্ছে বললাম, আপনাকে বলার বা অন্যথা প্রমাণের কোনো সুযোগও দিলাম না, কিন্তু আপনাকে আদালত সেই চার্জশিট দেখে বেল দেবে না। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এমন চলবে। কিচ্ছু করার নেই।

কেন নেই? সেইটা জানার জন্য এই আইনটির ঐতিহাসিক বিবর্তনও খানিক জানা দরকার। ব্রিটিশ শাসকেরা তাদের শাসনের বিরুদ্ধমতকে বা আন্দোলনকে দমন করতে অনেক আইন এনেছিল। ১৯০৮-এ তারা প্রথম ভারতীয় জাতীয় আন্দোলকে অপরাধ ঘোষণা করার জন্য 'আনলফুল অ্যাসোসিয়েশন' শব্দবন্ধকে ব্যবহার করে। আশ্চর্য যে স্বাধীন ভারতেও বিরুদ্ধমতকে দমন করতে ইউএপিএ এসেছে। ঐ সময়ের আরেকটা ভয়ঙ্কর আইন ছিলো প্রিভেনশন অফ সিডিশাস মিটিং অ্যাক্ট, ১৯১১-র। যা পরে ১৯৭১-এ মিসা বা মেইনটেনেন্স অব ইন্টার্নাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে ব্যবহৃত হবে স্বাধীন ভারতে। জরুরী অবস্থায় মিসা-র ব্যবহার তো আমাদের ভোলার কথাই নয়। ১৯৮০-তে আসবে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, তারপরে ১৯৮৫-তে টাডা, টেররিস্ট এন্ড ডিসরাপ্টিভ অ্যাক্টিভিটি (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট। ২০০২-তে আসবে পোটা। প্রিভেনশন অব টেররিজম অ্যাক্ট। এবং ইউএপিএ কিন্তু জন্মেছিল ১৯৬৭-তেই।

মিসা, এসমা, নাসা এসব সমালোচনার ফলে বন্ধ হয়। আইনের দুর্ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার জেরে টাডা, পোটাও একসময় পেছনে চলে যায়। তখন এই ৬৭-র ইউএপিএ-তে সব ধারালো দাঁতগুলোকে একে একে যুক্ত করা হয় ২০০৪, ২০০৮, ২০১২ এবং ২০১৯-এর অ্যামেন্ডমেন্ট বা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। মতপ্রকাশ, জনসংযোগ এবং জমায়েতের যে মৌলিক সংবিধানস্বীকৃত অধিকার এই সব সংশোধনীর ফলে আস্তে আস্তে শূন্য হয়ে যায়। এবং মনে রাখবেন ১৯১৯-এর নৈরাজ্যবাদী ও বিপ্লববাদী অপরাধকে (মানে ব্রিটিশদের মতে যেগুলো এমন) থামাতে ব্রিটিশ শাসকেরা যে রাওলাট আইন এনেছিল তার বিরাট ছায়া আছে এই ইউএপিএ-তে। এই আইন কালে কালে ব্রিটিশদের আমলের 'দেশদ্রোহ' থেকে আজকের 'বিক্ষুব্ধ' মতকেও গিলে ফেলেছে। অবশ্যই বিরোধী মতকেও।

এবং যে কথাটা সোচ্চারে বলা দরকার যে এই সব আইনের পর আইন, এনেছে এবং ব্যবহার করেছে সব দল, সব সরকার। আজ বিজেপি তার সুবিধে নিচ্ছে। আজ যারা দাঙ্গা থেকে জাতিবিদ্বেষ, বর্ণ ও ধর্মবিদ্বেষে উস্কানি দেয়, ছড়ায় এবং করে তারা জেলের বাইরে নেতা-মন্ত্রী হয়, যারা সামাজিক আন্দোলন করে, কথা বলে এসবের বিরুদ্ধে তাদের জেলে পোড়া হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন সরকার সামাজিক কার্যকলাপে, তা শাসকের বিরোধী হলেও, জ্বলেপুড়ে মরছে, প্রতিশোধ নিচ্ছে উন্মত্তের মতো। সুপ্রিম কোর্টও তো বলছে যে এগুলোই গণতান্ত্রিক বহিঃপ্রকাশ। দিনে দিনে আমাদের সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা এবং সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত সমস্যা বাড়ছে। কিন্তু রাষ্ট্রশাসকরা এগুলো সমাধান করতে পারছে না। তারা পুঁজির যে দালালি করছে তাতে করে সম্ভবও নয়। আমাদের দুরবস্থা এবং হতাশার মোকাবিলা করে আমাদের বা নাগরিকদের সহায়তা করার বদলে তারা আরো আরো দমনমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনের পর আইনের সাহায্যে।

কিন্তু বিরোধীদেরও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন নেই কি? তারা যখন যখন ক্ষমতায় থেকেছে বা থাকছে তখন কি তারাও এই সব আইনকে বাতিল করছে? বিচার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে স্বচ্ছতা এনেছে বা আনছে? তারাও কি তাদের বিরোধীদের এগুলোর সাহায্যেই দমন করেনি বা করছে না? গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরো উন্নত করতে চেষ্টা করছে?

এই মুহূর্তে জেলে থাকা রাজনৈতিক বন্দীদের অবস্থা কী? দারিয়াস রেজালিরা বলছেন, জেলে অত্যাচারের ব্যবস্থাকে উন্নততর করা হচ্ছে উল্টোদিকে। পরিস্কার অত্যাচার বা গুপ্ত অত্যাচার করার নানা কায়দাকানুন এসেছে, যাতে বন্দীর বহিরাঙ্গে দাগ না থাকে। এক ইউএপিএ বন্দী খানিক মজা করেই জানিয়েছিলেন যতিন্দর সিং-কে যে তাঁর অবস্থা সেই ভাঙা বিস্কুটের মতো, যার বাইরের মোড়কটা চমৎকার। মজাই, তবে বড় করুণ মজা।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো গণতন্ত্রকে উন্নত করছে না, অত্যাচারকে উন্নত করছে, এমনই দেখা যাচ্ছে। উমর বা শারজিলের লড়াইটা তাই শুধু বিজেপি-র বিরুদ্ধে নয়, সমস্ত সেই সব রাজনৈতিক শক্তিদের বিরুদ্ধেও যারা এমন গণতন্ত্রকে বজায় রেখে, এমন অনাচার ঘটার রাস্তা পরিস্কার করে রেখেছে। উমর যখন বলেন, 'আ জানা, আব্‌ তো ইয়েহি জিন্দেগি হ্যায়' তখন আঙুল ভারতের সব সংসদীয় দলগুলোর দিকেই ওঠে।

আপনারা আজকের বিরোধীরা ক্ষমতায় থাকাকালে এসব আইনকে বানিয়েছেন, কাজে লাগিয়েছেন। বিজেপি একা বানালে তাকেই একা দোষারোপ করা যেতো। আপনারা বিরোধী? তাহলে আচরণ দিয়ে, কাজ দিয়ে প্রমাণ করুন আপনারা বিজেপি-র মত, তত্ত্ব ও শাসনের স্বৈরতান্ত্রিকতার আসলেই বিরোধী। মুখের কথায় কিছু আসে যায় না। আঙুলটা আপনাদের দিকেও উঠে থাকলো তাই। বিজেপি গণতন্ত্রে এবং সংবিধানে শাসকের অধিকারের সর্বোচ্চ দুর্ব্যবহার করছে আজকে। এই সময় তাদের বিরোধ করার পাশাপাশি নিজেদের নিয়েও ভাববেন এটাই আশা করব বা চাইবো। কারণ উমরেরা লড়ছেন প্রকৃত গণতন্ত্রের পক্ষে, মেকি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

.ইতালির এক বিষাক্ত রাসায়নিক কারখানার      ঠিকানা কেন এবার মহারাষ্ট্রে? এমন            শিল্পায়ন কোন প্রয়োজন নেই।       ...
01/01/2026

.
ইতালির এক বিষাক্ত রাসায়নিক কারখানার
ঠিকানা কেন এবার মহারাষ্ট্রে? এমন
শিল্পায়ন কোন প্রয়োজন নেই।
কেন বিপজ্জনক স্থানান্তর?
প্রশ্ন করছেন স্থানীয়রা।

ইতালিতে যে রাসায়নিক কারখানাটি প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের রক্তে বিষ ছড়ানোর অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেই একই কলকব্জা ও প্রযুক্তি এখন ভারতের মহারাষ্ট্রে ডালপালা মেলছে। উন্নয়নের নামে এই 'বিষবৃক্ষ' রোপণ আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

'ফরএভার কেমিক্যাল' বা PFAS কী?
বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় PFAS (Per- and Polyfluoroalkyl Substances)। এর নাম 'ফরএভার কেমিক্যাল' হওয়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। এর অণুতে থাকা কার্বন ও ফ্লোরিনের বন্ধন এতটাই শক্তিশালী যে, এটি প্রকৃতিতে কখনোই নিজে থেকে নষ্ট হয় না। অর্থাৎ, এটি মাটি, জল বা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তা যুগের পর যুগ অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। আমরা অজান্তেই প্রতিদিন এটি ব্যবহার করছি:-- রান্নার নন-স্টিক প্যান (Teflon) ওয়াটার-প্রুফ বা জল-প্রতিরোধী পোশাক ও রেইনকোট।ফাস্ট ফুডের প্যাকেট বা মোড়ক। বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিবেশগত আইন অত্যন্ত কঠোর। ইতালিতে এই রাসায়নিকের কারণে ব্যাপক জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটায় কোম্পানিটি বিশাল জরিমানার মুখে পড়ে। এই আইনি কড়াকড়ি থেকে বাঁচতে এবং মুনাফা টিকিয়ে রাখতে তারা এমন দেশকে বেছে নিচ্ছে যেখানে পরিবেশগত নজরদারি কিছুটা শিথিল। দুঃখজনকভাবে, ভারত বা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের এই 'বিষাক্ত ব্যবসা' সরানোর সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।

ভয়াবহ পরিণাম: কী অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য?
১. অপরিবর্তনীয় পরিবেশ দূষণ: এই রাসায়নিক একবার ভূগর্ভস্থ জল বা মাটিতে মিশে গেলে তা পরিষ্কার করার কোনো সহজ প্রযুক্তি আজও মানুষের জানা নেই। ফলে মহারাষ্ট্রের সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি ও পানীয় জল চিরতরে বিষাক্ত হয়ে যেতে পারে।
২. মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি: PFAS সরাসরি মানুষের রক্তে মিশে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো তৈরি করে:---
ক্যান্সার: বিশেষ করে কিডনি, লিভার ও অণ্ডকোষের ক্যান্সার।
হরমোন বিপর্যয়: থাইরয়েড ও প্রজনন ক্ষমতার মারাত্মক ক্ষতি।
শিশুদের ঝুঁকি: গর্ভবতী মায়েদের মাধ্যমে এটি শিশুদের শরীরে প্রবেশ করে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা দেয়। সূত্র... ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। (& bjn Wall)

মুসলিম মাত্রই এদেশকে লুঠ করেছে, RSS খুব দৃঢ় ভাবে এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে একথা ঢুকিয়ে দেবার প্রাণপন চেষ্টা করছে, তা...
24/12/2025

মুসলিম মাত্রই এদেশকে লুঠ করেছে, RSS খুব দৃঢ় ভাবে এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে একথা ঢুকিয়ে দেবার প্রাণপন চেষ্টা করছে, তারা এটাও বলছে যে মুসলমানরা হিন্দু রাজাদের ওপর অত্যাচার করেছে, অর্থাৎ ধর্মীয় বিভাজনের চেষ্টা...
কিন্তু সত্যিই কি তাই...???
হ্যাঁ মোঘলরা এদেশের রাজাদের ওপর আক্রমণ করেছিলো, লুঠপাট চালিয়েছিলো, অত্যাচার করেছিলো, কিন্তু সেটা ধর্মের ভিত্তি তে কবে করেছিলো...???
ধর্মীয় লড়াই তো ছিলো না সেগুলো, সেগুলো তো ছিলো, ক্ষমতা দখলের লড়াই।...
যদি RSS এটাকে ধর্মের ভিত্তি তে লড়াই বলে, তাহলে সম্রাট অশোক যে কলিঙ্গ যুদ্ধ করেছিলেন সেখানে দুই লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন, তাঁরা কারা ছিলেন...???
তাঁরা তো সবাই হিন্দু ছিলেন, তাহলে কি সম্রাট অশোক হিন্দুবিরোধী...!!! তা তো নয়।...
1740 সালে মারাঠারা বাংলায় এসে চার লাখ হিন্দুকে মেরেছিলো ও লুঠ করে চলে গিয়েছিলো, সেই মারাঠারা কি হিন্দু নয়, নাকি তারা হিন্দু বিরোধী...???
সেই লড়াই ছিলো ক্ষমতা ও লুঠের লড়াই, ধর্মের ভিত্তি তে তো নয়, তাহলে শুধু মোঘলদের টা ধর্মের ভিত্তিতে বলে তাজমহলকে অপমান করার মানে কি...???
1791 সালে শ্রিনঙ্গপটনমে মারাঠারা একটি মন্দির লুঠ করেছিলো, ওই মন্দিরের তৎকালীন পুরোহিত শ্রী শংকরাচার্য টিপু সুলতানকে চিঠি লেখেন, টিপু সুলতান তৎক্ষণাৎ তার সৈনবাহিনী পাঠিয়ে সেই মন্দিরকে আবার সাজিয়ে দেন, তাহলে কি আমরা মারাঠাদেরকে মুসলমান আর টিপুকে হিন্দু বলবো...???
টিপুকে RSS হিন্দুবিরোধী বলে প্রচারে সদা সচেষ্ট, সেই টিপুর সেনাপতির নাম ছিলো রঙ্গা, ধর্ম হিন্দু, টিপুর খাজাঞ্চির নাম ছিলো কৃষ্ণ রাও, ধর্ম হিন্দু, তাহলে কোথা থেকে এলো হিন্দু মুসলিম লড়াই...???
শীবাজীকে হিন্দু আইকন বানিয়ে রেখেছে RSS, শিবাজীর সেনাপতির নাম ছিলো ইব্রাহিম খান, পার্সোনাল বর্ডিগার্ডের নাম ছিলো সিদ্দিকি ইব্রাহিম, তাহলে কোথা থেকে এলো হিন্দু মুসলিম লড়াই...???
1576 এর বিখ্যাত হলদিঘাটের যুদ্ধ, রানাপ্রতাপের সাথে আকবরের, রানা প্রতাপের সেনাপতি মীর হাকিম, আকবরের সেনাপতি মান সিংহ, কোথা থেকে এলো হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ...!!!
সবটাই ছিলো রাজপাট দখলের লড়াই... আর মুসলিম শাসকরা শুধুই হিন্দু রাজাদের আক্রমন করেছে...???
তাহলে শেরশাহ, হুমায়ূনের লড়াইটা কি ছিলো...???
(ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে ''ঐতিহাসিক সত্যতা সংগ্রহের চেষ্টা৷)৷
সংগৃহীত

28/11/2025

বরাত পেয়েই বিজেপি'র তহবিলে ৭৫৮ কোটি টাটার 💰🔥

সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প ঘিরে কর্পোরেট অনুদান নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ 🏭➡️🏛️

মোদী সরকারের অনুমোদিত সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের বরাত পাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিজেপির তহবিলে টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে আসে ৭৫৮ কোটি টাকার অনুদান—সম্প্রতি ‘স্ক্রল’-এর তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ‘গণশক্তি’!

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্র ৩টি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে ২টির বরাত পায় টাটা গ্রুপ, যার অর্ধেক নির্মাণ ব্যয় — ৪৪,২০৩ কোটি টাকা — বহন করে কেন্দ্র। ঠিক এর পরেই ২০২৪ সালের এপ্রিলের প্রথম দিকে টাটার ১৫টি সংস্থা ‘Progressive Electoral Trust’-এ ৯১৫ কোটি টাকা জমা করে। সেখান থেকেই বিজেপি একা পায় ৭৫৮ কোটি, যা মোট অনুদানের ৮২%।

🔸 টাটা গ্রুপই ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সবচেয়ে বড় কর্পোরেট দাতা।
🔸 ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজনৈতিক দলগুলিকে টাটার মোট অনুদান প্রায় ৯১৫ কোটি।
🔸 কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি, যা বিজেপির তুলনায় একেবারে সামান্য।
🔸 আরও ৮টি দল পেয়েছে ১০ কোটি করে।

তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুধু টাটাই নয়—
✔ মুরুগাপ্পা গ্রুপ বরাত পাওয়ার পর দিয়েছে ১২৫ কোটি,
✔ কেয়নেস টেকনোলজির প্রধান রমেশ কনহিকায়ান দিয়েছেন ১২ কোটি, বরাতের বিনিময়ে গুজরাটে সেমিকন্ডাক্টর কারখানার অনুমোদনও পেয়েছেন।

📌 উল্লেখযোগ্য বিষয়—২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টাটার এই ট্রাস্ট কোনও রাজনৈতিক দলকে এক টাকাও দেয়নি, হঠাৎই ২০২৪ সালে বিপুল অঙ্কের অনুদান বিজেপির কাছে পৌঁছায়!

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—
সরকারি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প কি ইলেক্টোরাল বন্ডের মতোই রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহের আরেকটি বৈধ রূপ?
কর্পোরেট বরাত ও রাজনৈতিক অনুদানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশে।

🔥 বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে৷

08/11/2025

ফ্রান্স, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া দিয়ে ঘিরে থাকা সুইৎজ়ারল্যান্ডের নেই কোনও সেনাবাহিনী। কিন্তু তার পরেও দুনিয়ার .....

07/11/2025

একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে কমরেড রোজা লুক্সেমবুর্গ এবং কমরেড লেনিনের মধ্যে ভীষণ বৈরিতামূলক সম্পর্ক কিন্ত এ ধারণা সঠিক নয় কমরেড লেনিন কমরেড রোজার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং কখনও কখনও তিনি কমরেডদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় রোজার বলা কথা উদ্ধৃত করতেন যেমন - লেনিন ২৭শে অক্টোবর ১৯১৪তে শ্লিয়াপ্লনিকভকে লেখা চিঠিতে বলেন, "রোজা লুক্সেমবুর্গ সঠিক ছিলেন যখন তিনি বহুদিন আগেই লিখেছিলেন, যে কাউটস্কির আছে 'তাত্ত্বিকের মত মাথা হেঁট করার অভ্যাস'- আরো সহজ ভাষায় দাসত্ব, পার্টির সংখ্যাগোষ্ঠীর দাসত্ব, সুবিধাবাদের কাছে দাসত্ব।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ওরা ভুলে গেল কীভাবে?
–জানি না। তবে, ওরা যাই করুক আর যে কারণেই করুক না কেন, এ হল আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সরাসরি নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতা।
–আমাদের এখন তাহলে কী করণীয়, কমরেড ইলিচ?
লেনিনের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। তিনি ধীরে ধীরে খুব দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, প্রথমে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সঙ্গে সমস্ত রকমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। যে সমস্ত সোশাল ডেমোক্রেটিক দল এই ঘৃণ্য সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধপ্রয়াসকে সাহায্য ও সহযোগিতা করছে তাদেরকে নিয়ে আর এক সঙ্গে চলা যাবে না। এদের সমালোচনা করে আমাদের প্রিয় কমরেড রোজা যে মন্তব্য করেছিলেন জানেন তো?
–না শুনিনি। কী বলেছেন?
–ওনার মতে, এটা একটি দুর্গন্ধবাহী পচা শব। আমিও তাঁকে সমর্থন করি। মৃতদেহ দিয়ে তো আর কাজ হয় না। সংখ্যায় কম বা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হলেও যারা দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থানকে সমর্থন করতে চাইছে না তাদের আলাদা মঞ্চে সংগঠিত করার চেষ্টা করতে হবে।

28/10/2025

উত্তর ২৪ পরগনার বিধান সভা নির্বাচন ক্ষেত্রের ১০০ থেকে ১২৭ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা দেওয়া হয় নি।

Address

Sodepur

Telephone

+17059725126

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RSP Panihati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share