শিবপুর উপজেলার পটুভূমি নরসিংদী জেলাধীন শিবপুর থানা ১৯১৮ সালের ১২ জানুয়ারি ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে ১টি গ-শ্রেণীর পৌরসভা সম্পৃক্ত হয়েছে। এ উপজেলা ২১৭.৭১ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার দক্ষিণে রায়পুরা, নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলা, পূর্বে বেলাব ও রায়পুরা উপজেলা, উত্তরে মনোহরদী উপজেলা এবং পশ্চিমে পলাশ ও গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা অবস্থিত।
এ এলাকায় খড়গ রাজাদের শাসন আমল ছিল ৬০০-৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। খড়গ রাজাদের ৫ জন রাজা ছিলেন। তাদের নাম: (১) রাজা খড়োগাদ্যাম, (২) মহারাজা জাতখড়গ, (৩) মহারাজা দেব খড়গ, (৪) রাজা রাজভ্রট্ট ও (৫) রাজা বলভ্রট্ট। এ বংশের প্রথম তিন রাজা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং পরবর্তী দুই রাজা ছিলেন শৈব হিন্দু। এই শৈব শব্দ থেকে শিব শব্দের উৎপত্তি এবং তা থেকে জায়গাটির নাম শিবপুর নামকরণ করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। পূর্বে এলাকাটি হিন্দু দেবতা শিব পুজার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাই ধারনা করা হয় হিন্দু দেবতা শিব এর নামানুসারে জায়গাটির নাম শিবপুর নামকরণ করা হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থান নরসিংদী জেলাধীন শিবপুর উপজেলা ২৩.৫৬ হতে ২৪.০৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষরেখা এবং ৯০.৩৮ ডিগ্রী হতে ৯০.৫০ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত। শিবপুর উপজেলা ২০৬.৮৯ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার দক্ষিণে রায়পুরা, নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলা, পূর্বে বেলাব ও রায়পুরা উপজেলা, উত্তরে মনোহরদী উপজেলা এবং পশ্চিমে পলাশ ও গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা অবস্থিত।
ইউনিয়নের নাম: ১. জয়নগর ২. যোশর ৩. বাঘাব ৪. আয়ুবপুর ৫. চক্রধা ৬. মাছিমপুর ৭. পুটিয়া ৮. সাধারচর ৯. দুলালপুর
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ইতিহাস ও ঐতিহ্য নরসিংদী জেলাধীন শিবপুর উপজেলা ১টি পৌরসভা এবং দুলালপুর, সাধারচর, পুটিয়া, মাছিমপুর, চক্রধা, জয়নগর, যোশর, বাঘাব ও আয়ুবপুর এ ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলায় অবস্থিত এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে দক্ষিণে রায়পুরা, নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলা, পূর্বে বেলাব ও রায়পুরা উপজেলা, উত্তরে মনোহরদী উপজেলা এবং পশ্চিমে পলাশ ও গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলাসমূহ। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। শিবপুর উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষার অনেকটা মিল খুজেঁ পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন শীতলক্ষা, আড়িয়াল খা, পাহাড়িয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর বিধৌত প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্য লালিত এবং বাঘাব, জয়নগর ও যোশর ইউনিয়নের লালমাটির উচু নিচু, সমতল, ছোট বড় টিলা, টেক ও পাহাড়ের নয়নাভিরাম অরণ্য আবরণে আবৃতে গড়া শিবপুর উপজেলার মানুষের খাদ্যাভাস, আচার-আচরণ ভাষা ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
ভাষা ও সংস্কৃতি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে শিবপুর উপজেলার অবদানও অনস্বীকার্য।উপজেলার‘জয়মঙ্গল’ নামে পাহাড়ী গ্রামে আবিস্কৃত হয়েছে গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা।আশ্রাফপুরে আবিস্কৃত হয়েছে সপ্তম শতাব্দীর মহারাজাদেব খড়গের তাম্রলিপি এবং অষ্টধাতুর নির্মিত বৌদ্ধ নিবেদন স্ত্তপ।এই আশ্রাফপুরেই আবিস্কৃত হয়েছে গৌড়ের স্বাধীন নরপতি আলাউদ্দিন হোসেন শাহেরপুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহের রাজত্বকালে নির্মিত একটি অতিপ্রাচীন মসজিদ (আশ্রাফপুর গায়েভী জামে মসজিদ)।
প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনসমূহ
ধুপিরটেক বৌদ্ধ পদ্ম মন্দির:
প্রত্নতাত্বিক পরিমন্ডলে শিবপুর উপজেলার অবদান অনস্বীকার্য। উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কামরাবর ধুপিরটেক গ্রামে বৌদ্ধ পদ্ম মন্দির আবিস্কার করা হয়েছে। আবিষ্কৃত এই বৌদ্ধ পদ্ম মন্দিরটির স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট দেব খড়গের স্বাক্ষর অনুযায়ী প্রাথমিক ভাবে ৭ম দশকের বলে অনুমতি হয়। ধারনা করা হয় প্রায় ২৫০০ বছর আগে এই জায়গায় বৌদ্ধদের পদ্ম নামে একটি মন্দির ছিল। কারণ এখানে যা পাওয়া গিয়াছে তার মধ্যে ৭০ সেঃ মিঃ দৈর্ঘ্য ও ৭০ সেঃ মিঃ প্রস্থ ইটের দেওয়াল পাওয়া গেছে এবং ওয়ালের পূর্ব দিকে ৩ ফুট দূরে বারান্দার মত আরেকটি ওয়াল পাওয়া গেছে এবং দুই দিকে দুইটি দরজার মত পাওয়া যায় এতে করে ধারনা করা যায় মন্দিরে পুজা করতে এসে এক দরজা দিয়ে ঢোকে অন্য দরজা দিয়ে বের হতো। এই জায়গাটি খননের জন্য বাংলা মাপে প্রায় ৫ গন্ডা জমি ক্রয় করে খনন কার্যক্রম চালাচ্ছে।যোশর ইউনিয়নের টঙ্গিরটেক নামক স্থানে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বের প্রত্নতাত্বিক প্রচুর নিদর্শন আবিস্কারের পর্যায়ে খনন কাজ চলছে। জানখারটেক এলাকায় প্রত্নতাত্বিক প্রাচীন নিদর্শন আবিস্কারের পর্যায়ে রয়েছে। জয়মঙ্গল পাহাড়ী গ্রামে আবিস্কৃত হয়েছে গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা। আশ্যাফপুরে আবিস্কৃত সপ্তম শতাব্দীর মহারাজাদের খড়গদের তাম্রলিপি এবং অষ্টধাতুর নির্মিত বৌদ্ধ নিবেদন স্তুপ। কুমরাদী গ্রামে লালমাটি এবং প্রাচীন পুরাকীর্তির নমুনা বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্য শৈলীর এক উজ্জল নিদর্শন। প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী হাড়িদোয়ার পশ্চিম তীরে অবস্থিত কুমারটেক এলাকার প্রায় ১০/১২ হাত মাটির নিচ থেকে প্রাচীন মৃৎপাত্র, ভগ্নটুকরা এবং মাটির তৈরি ছোট ছোট গোলা পাওয়া গেছে। কতিথ আছে এগুলো খ্রিস্টপূর্ব হাজার হাজার অব্দের সময়কালের মৃৎপাত্র এবং শিকারীদের ব্যবহার উপযোগী গোলা।
টুঙ্গিরটেক প্রত্নতাত্বিক নির্দশন: যোশর ইউনিয়নের টুঙ্গিরটেক নামক স্থানে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বের প্রত্নতাত্বিক নির্দশন আবিস্কারের পর্যায়ে রয়েছে। উয়ারী-বটেশ্বর মূল স্থাপনা থেকে ১৪ কি.মি. দূরে শিবপুর উপজেলার টুঙ্গিরটেক গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারনা করছে এই মন্দিরটি ১৫০০ বছরের পুরান হতে পারে। সাধারনত বৌদ্ধ মন্দির গুলো বিহার কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখনও চেস্টা করছে মন্দির সংলগ্ন বিহারটি আবিষ্কার করার জন্য। এটি খুজে পাওয়া গেলে এই অঞ্চলে বৌদ্ধ সভ্যতার এক্টি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে |
টুঙ্গিরটেক প্রত্নতাত্বিক নির্দশন
উয়ারী ও বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নরসিংদীর শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় অবস্থিত উয়ারী ও বটেশ্বর নামীয় দুটি গ্রামব্যাপী একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান । ধারণা করা হয় এটি মাটির নিচে অবস্থিত একটি দুর্গ-নগরী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো | তবে, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কৃত কিছু প্রত্ন নিদর্শনের কার্বন-১৪ পরীক্ষার প্রেক্ষিতে উয়ারীর বসতিকে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ উয়ারী-বটেশ্বরে উত্খননকাজ চলমান রেখেছে। সর্বশেষ ২ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে উয়ারীতে উৎখনন কালে বেশ কিছু প্রত্ননিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এর মতে , উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি সমৃদ্ধ , সুপরিকল্পিত, প্রাচীন গঞ্জ (একটি বাণিজ্যিক শহর) "সৌনাগড়া " যা গ্রিক ভূগোলবিদ, টলেমী তার বই " জিওগ্রাফিয়াতে" উল্লেখ করেছিলেন |
মুক্তিযুদ্ধে শিবপুর
মহান মুক্তিযুদ্ধেও গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টিতেও নরসিংদীর শিবপুরের ঐতিহ্য রয়েছে। যাঁর বুকের তাজা রক্ত মুক্তি পাগল জনতার মিছিলকে বেগবান করে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে এগিয়ে নিয়েছিল সেই উনসত্তরের গণ আন্দোলনের শহীদ ‘আসাদ’ জন্মেছিলেন উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ধানুয়া গ্রামের এক সম্ভান্ত পরিবারে। বারার মৌলভী আবু তাহের। মাতা মতিজান খাদিজা খাতুন। নরসিংদী জেলাধীন শিবপুরে ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে উঠে এক বিশাল মুক্তিবাহিনী। মুক্তিবাহিনীর বেশি ভাগ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল শিবপুরের পাহাড়ি এলাকা জয়নগর ও বাঘাব ইউনিয়নে। ঐ সময় এসব পাহাড়ি এলাকা দ্বিতীয় আগরতলা হিসেবে পরিচিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই শিবপুরে চলতে থাকে একের পর এক অপারেশন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুটিয়া ও চন্দনদিয়া অপারেশন। ১১ আগষ্ট হানাদার বাহিনী নরসিংদী থেকে পুটিয়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকলে মজনু মৃধার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পুটিয়া ব্রীজের কাছে তাদের গতি রোধ করে দেয়। প্রবল যুদ্ধের পর ক্যাপ্টেনসহ কয়েকজন হানাদার খতম হয়। শহীদ হন ফজলু। ২৬ সেপ্টেম্বর সংঘটিত চন্দনদিয়ার যুদ্ধে শহীদ হন মোতালেব ও ইদ্রিস। নিহত হন ৩জন পাক সেনা। স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসে খন্ড যুদ্ধ ও সংঘঠিত অপারেশনে শিবপুরে ১৪জন বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
কৃষি পণ্য
লটকন,কাঁকরোল,কাঁঠাল, শশা, সিম,বেগুন,জিঙ্গা, ধান ও লাউ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য শিবপুর বাংলাদেশের একটি অন্যতম কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। শিবপুর উপজেলা থেকে কলম্বো লেবু ও বিভিন্ন সবজি বিদেশে সুনামের সহিত রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে। সেই সাথে পোল্ট্রি ও বেত শিল্পের জন্যও বিখ্যাত। One-District-One Productহিসাবে ক্ষেত শিবপুর উপজেলার জয়নগর, বাঘাব ও যোশর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার বিখ্যাত টক মিষ্টি স্বাদের ছোট গোলাকৃতির রসালো ফল লটকন। লটকন শিবপুর উপজেলার একটি অন্যতম বিখ্যাত অর্থকারী ফসল। তাছাড়া
শিবপুরে মাল্টা চাষ করে কৃষকরা সাফল্য অর্জন করেছে।
দর্শনীয় স্থান
সোনাইমুড়ি পাহাড়:
শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া বাজারের পাশেই সোনাইমুড়ি পাহাড় অবস্থিত। লাল মাটির পাহাড়ি টিলা এবং পাহাড়ের উপর সমতল ভূমিতে বসতবাড়ী সমৃদ্ধ সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সোনাইমুড়ি এলাকাটি। এখানে রয়েছে একাধিক লাল মাটির টিলা। টিলার বুকচিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অতিক্রম করেছে। লাল মাটির টিলার উপর থেকে এলাকার মনমূগ্ধকর পাহাড়ি ও সমতলের সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো। এখানে নাটক ও সিনেমার সুটিং হয়ে থাকে। এখানে রয়েছে পিকনিক ষ্পট ও পার্ক। প্রতিদিন আগত পর্যটকদের উপস্থিতিতে এলাকা জমজমাট হয়ে থাকে। বিশেষ করে সপ্তাহিক ছুটির দিন গুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
আশ্রাফপুর গায়েভী জামে মসজিদ:
গৌড়ের স্বাধীন নরপতি আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন নসর শাহের রাজত্বকালে ৯৩০ হিজরীতে নির্মিত নরসিংদী জেলাধীন শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর এলাকায় বিরাজমান আছে। মসজিদ সংলগ্ন পাথরে বাধানো ৪টি কবর এখনো বিদ্যমান রয়েছে। মসজিদের উত্তর কোনায় বৃহদাকার একটি দীঘি ছিল, যা কালের প্রবাহে ভরে গেলেও এর অতীত অবস্থানকে সুদৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে আসছে। এটি আশ্রাফপুর এলাকার প্রাচীনতম মসজিদ। এলাকার লোকজন এই প্রাচীনতম মসজিদটিকে গায়েবি মসজিদ বলে চিনেন। কারণ এটি আজ থেকে আনুমানিক কুড়ি বছর আগে জংগল পরিস্কার করে আবিষ্কার করা হয়। বর্তমানে কালের প্রবাহে প্রাচীনতম মসজিদটিকে সংস্কার করা হয়েছে।
কুমরাদী শাহ মনসুরের মসজিদ ও দরগাহ
নরসিংদী জেলার সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম পুরাকীর্তি হলো শিবপুর উপজেলার কুমরাদী গ্রামে অবস্থিত শাহ মনসুরের দরগা। কতিথ আছে এই দরগাটি সুলতানী আমলে নির্মিত। কুমরাদী গ্রামটি প্রাচীনকাল থেকেই ইসলামী পন্ডিত শাহ মনসুর ও তার নির্মিত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র এবং মসজিদের জন্য বিখ্যাত। দরগাটি ছিল এক গম্বুজ বিশিষ্ট চুন সুরকীতে নির্মিত। মসজিদটি ছোট হলেও এর নির্মাণ শৈলীর মাঝে প্রাচীনত্বের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। সুলতানী আমলের কারুকার্যে মসজিদের চার কোণায় ৪টি পিলার নির্মিত। মসজিদটির মেঝে ভূমি থেকে প্রায় ৩ ফুট উঁচুতে নির্মিত। পূর্ব দিকে মসজিদের প্রশস্ত খোলা বারান্দা ও গম্ভুজের শীর্ষে ছোট চূড়া দেখে যায়। এর পূর্বে ও উত্তরে দুটি দরজা রয়েছে। মসজিদের পূর্ব পাশে দরগাটির অবস্থান। ভবনের মধ্য প্রকোষ্ঠে দু’টি সমাধি রয়েছে। সমাধি প্রকোষ্ঠ প্রবেশের দরজার উপরে একটি শিলালিপি স্থাপিত ছিল। কিন্তু এক সময় শিলালিপিটি এখান থেকে চুরি হয়ে যায়। শিলালিপিটি থাকলে হয়তো এই মাজার সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানা যেত। সমাধির মাঝে কালেমা খোদাই করে লেখা রয়েছে। বর্তমানে কালেমা লেখা অধিকাংশই উঠে গেছে। প্রকোষ্ঠের তিন দিকের দেয়ালে ৬টি করে কুলুঙ্গি কাটা রয়েছে। ধারণা করা হয়, এসব কুলুঙ্গিতে বাতি জ্বালিয়ে ধর্মীয় সাধনা কিংবা জ্ঞানার্জন করা হতো। পশ্চিম পাশের বড় কক্ষটি দরগা রক্ষনাবেক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তিদে;র আবাসিক প্রকোষ্ঠ হিসাবে ব্যবহৃত হতো। প্রায় ২০ ফুট ভবনের বাইরের দিকে ছাদের কার্নিশে খচিত অলংকরণ দেখে অনেকে ধারণা করেন এটি সুলতানি আমলে নির্মিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরগাটি শাহ মনসুর ও তার স্ত্রীর এবং দরগা সংলগ্ন মসজিদটি শাহ মনসুর কর্তৃক নির্মিত। মসজিদ ও দরগার পানীয় জলের অভাব মোচনের জন্য এক বিঘা জমিতে একটি পুকুর কাটা হয়েছিল। পুকুরটি বর্তমানে অক্ষত রয়েছে।
শহীদ আসাদের সমাধিস্থলঃ
শহীদ আসাদ ১০ই জুন, ১৯৪২ইং সালে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ধানুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অাসাদ শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক শিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে জগন্নাথ কলেজ (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ও মুরারী চাঁদ মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ১৯৬৬ সালে বি.এ পাশ করেন। এই বৎসরেই আসাদ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এবং কৃষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষাণী'র নির্দেশনায় কৃষক সমিতিকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে শিবপুর, মনোহরদী, রায়পুরা এবং নরসিংদী এলাকায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। ২০ জানুয়ারি, শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিন দিনের শোক পালন শেষে, ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য নানা টালবাহানা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
জমিদার মোহনী মোহন সাহার বাড়ী (উত্তর সাধারচর গারদ বাজার):
জমিদার মোহনী মোহন সাহা বৃটিশ আমল থেকে এলাকার জমিদার হিসেবে পরিচিতি ছিলেন। তিনি তৎকালীন আমলে প্রভাবশালী এবং সম্পদশালীও ছিলেন।
চিনাদী বিল
শিবপুরের ঐতিহ্যবাহী চিনাদী বিলকে ঘিরে তৈরি হয়ে হয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চিনাদী বিল হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। চিনাদী বিলকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো গেলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসন এই স্থানটির নামকরণ করেছে ‘স্বপ্নচিনাদী’। উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে দুলালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি বিলের নাম চিনাদী বিল। মানিকদী, শিমুলিয়া, দুলালপুর, ভিটি চিনাদী ও দরগাহবন্দ, এই পাঁচ গ্রামের মিলনস্থলে অবস্থিত এই বিলের যেমন রয়েছে প্রাকৃতিক রূপ, তেমনি বিলের পানিতে রয়েছে দেশীয় প্রজাতির সু-স্বাদু মৎস্য সম্পদের ছড়াছড়ি। নদী তীরে রয়েছে কৃষককের আবাদ করা নানা রকম শাকসবজির ক্ষেত। প্রায় ৫শ’ ৫০ বিঘা আয়তনের স্বচ্ছ পানির এই বিলজুড়ে যেমন রয়েছে হাজারও মৎস্যজীবীর বিচরণ। তেমনি রয়েছে বক, চিল, মাছরাঙা, পান কৌড়ি, বালিহাঁসসহ বিভিন্ন পাখির বিচরণ ক্ষেত্র।
তেলিয়া হিন্দু মঠ
Telia Hindu Moth is a sacred place for Hindu religious people in Shibpur Upazila,Narsingdi. It is one of the common religious structures in Bangladesh. It was built in 20th century. In several cases, this kind of structures is a complex with the crematorium.Likewise,there is a Crematorium along with the monastery or moth. It’s a complex of two brick made structures situated in very short distance.
তথ্যসূত্রবাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
Other Misce Sources