16/07/2026
বাওয়ালীর লোকসংস্কৃতি উৎসব ও রথযাত্রা
(ভারতবর্ষের অন্যতম বৃহত্তম রথযাত্রা ছিল বাওয়ালীর রথযাত্রা )
বাওয়ালি
যাতায়াতঃ কলকাতা বা বজবজ থেকে বাসে যাওয়া যায়।
মেলা ও মেলার তারিখঃ মন্দিরগুলিতে ফাগুন মাসে দোল ও ফুল দোল উপলক্ষ্যে মেলা বসে। টালিগঞ্জের ফাঁড়র কাছে সেতুর ওপরে শিবমন্দিরের পিছনে কয়েক দশক আগেও রাসের মেলা বসত। আজ সেটি ইতিহাস।
এছাড়াও বাওয়ালির উল্লেখযোগ্য উতসব মাণিক মন্ডলের রথ। আগে রথ টানার জন্য রথের গায়ে লোহার শেকল লাগানো থাকত। রথ তলায় বড় বড় রথের চাকা অতীত সমৃদ্ধির সাক্ষী। যদিও সেই গৌরব অস্তমিত হয়েছে বহুকাল, তবুও স্থানীয় অঞ্চলে এটি একট বড় অনুষ্ঠান।
প্রাসঙ্গিকীঃ বাওয়ালি জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা মন্ডল পরিবার।বংশের আদি পুরুষ বাসুদেব রায় মোগল প্রশাসনের আআমলা ছিলেন। এঁরই উত্তরপুরুষ প্যারীলাল মন্ডল টালিগঞ্জে গঙ্গার পাড়ে হরিধামমন্দির তৈরি করেন। এখন মন্ডল টেম্পল রোড রয়েছে টালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে। এই জমিতে প্রায় ভেঙে পড়া দ্বাদশ শিবমন্দির রয়েছে। আটচালা রীতিতে গঠিত। এর সামান্য দক্ষিণে রাধামোহন জিউর মন্দিরটি উদয়নারায়ণ মন্ডল এবং এরি সংলগ্ন আটচালা দ্বাদশ শিবমন্দির মাণিকলাল মণ্ডলের তৈরি। মন্ডল টেম্পল রোডে নবরত্ন মন্দিরটিও মন্ডলদের কীর্তি। এ ধরণের বড় নবরত্ন মন্দিরটি বাংলায় খুব কম আছে।
বাওয়ালীতে রাধাবল্লভ জিউর মন্দিরটি আটচালা, দক্ষিণমুখী, মন্দিরের চালার আলিশায় সুন্দর ফুলের নকশাকাটা, আর চুন বালি দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া দেখতে পাওয়া যায়। চূড়ায় তিনটি করে দুটি সারিতে দুটি করে ছয়টি ঘট রয়েছে।
এর পূর্বে রাধাকান্ত জিউর মন্দির রয়েছে। এর বেশ জীর্ণ অবস্থা। এটি ১৬৯৩ শকে স্থাপিত। এর ধারে পাশে বেশ কিছু ভেঙে পড়া মন্দিরের ধ্বংসস্তুপ দেখতে পাওয়া যায়। হতভাগ্য মন্দিরগুলি হয়ত পড়ন্ত জমিদারদের আর জমিদারির অসযোগিতায় ভূমিশয্যা ধারণ করেছে।