07/08/2026
দিল্লির জামে মসজিদ থেকে ইমামুল হিন্দ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের পাকিস্তান-গামী মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক ভাষণ:
"তোমাদের কি মনে আছে? আমি তোমাদের ডেকেছিলাম, আর তোমরা আমার জিহ্বা কেটে ফেলেছিলে। আমি কলম ধরেছিলাম, আর তোমরা আমার হাত কেটে দিয়েছিলে। আমি হাঁটতে চেয়েছিলাম, আর তোমরা আমার পা কেটে ফেলেছিলে। আমি যখনই পাশ ফিরতে চেয়েছি, তোমরা আমার পিঠ ভেঙে দিয়েছ।
এই যে পলায়নপর জীবন তোমরা বেছে নিয়েছ, একে হিজরত (পবিত্র উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ)-এর পবিত্র নামে অভিহিত করা মোটেও সমীচীন নয়। এটা নিয়ে ভাবো, নিজেদের মনকে শক্ত করো এবং এই পবিত্র নামের অপব্যবহার বন্ধ করো।"
পৃষ্ঠা ১৬০
তোমাদের মস্তিষ্ককে একটু চিন্তা করার অভ্যেস করাও, আর তারপর দেখ তোমাদের এই সিদ্ধান্তগুলো কতটা তাড়াহুড়ো করে নেওয়া। শেষমেশ তোমরা কোথায় যাচ্ছ, আর কেন যাচ্ছ?
এই দেখো! মসজিদের উঁচু মিনারগুলো তোমাদের দিকে ঝুঁকে প্রশ্ন করছে। নিজেদের দৃষ্টি তুলে দেখো! শাহজাহানের তৈরি জামে মসজিদের গম্বুজগুলো তোমাদের কাছে প্রশ্ন করছে তোমরা তোমাদের ইতিহাসের পাতাগুলো কোথায় হারিয়ে ফেললে? তোমাদের পূর্বপুরুষদের এই পবিত্র স্থানগুলো থেকে আজ প্রশ্ন উঠছে তোমরা এগুলোকে কার ভরসায় ফেলে চলে যাচ্ছ? এই যে মসজিদগুলো থেকে প্রতিধ্বনিত হওয়া আল্লাহু আকবার-এর আওয়াজ, তা তোমাদের জিজ্ঞেস করছে তোমরা এদের কার দয়া ও করুণার ওপর ছেড়ে যাচ্ছ?
এই তো সেদিনের কথা, যমুনার তীরে তোমাদের কাফেলাগুলো ওজু করেছিল। আর আজ তোমরা এখানে থাকতে ভয় পাচ্ছ! অথচ দিল্লি তোমাদেরই রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে। আজ তোমরা ভূমিকম্পের ভয়ে কাঁপছ, অথচ একদিন তোমরা নিজেরাই ছিলে এক একটি ভূমিকম্প। আজ তোমরা অন্ধকার দেখে ভয়ে কাঁপছ, তোমাদের কি মনে নেই যে তোমাদের অস্তিত্বই ছিল একটা আলো?
এই মেঘগুলো তো সামান্য নোংরা জল বর্ষণ করেছে, আর তোমরা ভিজে যাওয়ার ভয়ে তোমাদের পায়জামা গুটিয়ে নিলে! তারা তো তোমাদেরই পূর্বপুরুষ ছিল, যারা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, পাহাড়ের বুক তছনছ করে দিয়েছিল; বিজলী চমকালে তারা হাসত, মেঘের গর্জনকে অট্টহাসি দিয়ে জবাব দিত, আর ঝড় উঠলে তার গতিপথ ঘুরিয়ে দিত। ঝোড়ো হাওয়া যখন ধেয়ে আসত, তখন তারা বুক চিতিয়ে বলত এটা তোমার পথ নয়।
আজ ঈমানের এই দশা যে, যারা একদিন শাহেনশাহদের কলার ধরে টানত, তারা আজ নিজেদের কলার নিয়েই টানাটানি করছে! আর আল্লাহর প্রতি তোমরা এতটাই উদাসীন হয়ে গেছ যে, মনে হচ্ছে যেন তাঁর ওপর তোমাদের কোনোদিন বিশ্বাসই ছিল না।
প্রিয় বন্ধুরা! আমার কাছে তোমাদের জন্য নতুন কোনো প্রেসক্রিপশন (সমাধান) নেই। সেই পুরনো ব্যবস্থাপনাই রয়েছে, যা বহু বছর আগের। সেই সমাধান, যা মানবজাতির সবচেয়ে মহান ব্যক্তিত্ব (মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:) নিয়ে এসেছিলেন। সেই সমাধান
পৃষ্ঠা ১৬১
পবিত্র কুরআনের ঘোষণা এই যে:
وَ لَا تَہِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَ اَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
"তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না; তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন (বিশ্বাসী) হও।" (সূরা আল-ইমরান, সূরা নম্বর: ৩, আয়াত: ১৩৯)
আজকের মজলিস শেষ হলো। আমি সংক্ষেপে যা বলার ছিল তা বলে দিয়েছি। আমি আবারও বলছি এবং বারবার বলছি, নিজের ইন্দ্রিয় ও অনুভূতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন এবং নিজের চারপাশে নিজের জীবন গড়ে তুলুন।এটি কোনো বাজারের সওদা বা জিনিস নয় যে আমি আপনাদের কিনে এনে দেব। এটি তো মনের দোকান থেকেই সৎ কর্মের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। (ইউটিউবে (YouTube) মওলানা আজাদের এই মৌখিক ভাষণটি শোনা যেতে পারে)
হতে পারে এই ভাষণটি কোনো পাকিস্তানি বা কোনো বাংলাদেশির কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে আমরা ভারতীয় মুসলমানদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।