15/06/2020
মুসলিম সমাজের দুরবস্থার মৌলিক কারণ ????,, واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا , অর্থাৎ হে মুমিনগণ তোমরা আল্লাহর রসি, অর্থাৎ আল্লাহর বলে দেওয়া রাস্তার উপর মজবুতি র সহিত একত্রিত থাকো, ভিন্ন রাস্তা অবলম্বন করবে না, (আল কুরআন), যত মত তত পথ , তাতেই ঝগড়ার সৃষ্টি হয়,যার ফলে একটি জাতি তার মৌলিক ঐক্যশক্তি কে হারিয়ে ফেলে, যার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য জাতিরা ওই জাতির উপর বলবান হয়ে নির্যাতন করতে সক্ষম হয়, এবং ঐক্য শক্তি হারিয়ে ফেলা জাতি সরাসরিভাবে নির্যাতিত হয়ে যায়,আজ যদি মুসলিম জাতির মধ্যে দেখা যায় তাহলে স্পষ্ট ভাবে আমরা দেখতে পাই যে মুসলিম জাতির কিছু পন্ডিত সকলে নিজের মত পোষণ করে কোরআন এবং হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে আল্লাহর বলে দেওয়া একটি রাস্তার মধ্যে অনেক রাস্তাগুলোর জনম দিয়েছে ,যার ফলে আজ মুসলমানেরা শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে নয় বরং এবাদত এর মধ্যেও অনেক রাস্তা অবলম্বন করে সমস্ত জাতিকে এমন দুর্বল করেছে যার দৃষ্টান্ত প্রকাশ্য রয়েছে কোন উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন নয়,, আমাদের আসাম ততা বরাক বেলি নিয়ে যদি বিবেচনা করা হয়, তাহলে আমরা সরাসরি ভাবে দেখতে পাই , জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ , উত্তর পূর্ব ভারত নদুয়া , উত্তর পূর্ব ভারত আহলে-সুন্নাত-ওয়াল-জামাত, বিশেষ করে ওই তিনটি সংগঠন মুসলিমদের স্বার্থে কাজকর্ম করে যাচ্ছে, তবে কথা হলো এই তিনটি সংগঠন যদি মুসলিমদের স্বার্থে কাজ করে তাহলে ওরা এমন কিছু মন্তব্য কেন করে যার ফলে মুসলিম জাতি সামাজিক এবং এবাদতের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধতা হারিয়ে ফেলে,
যেমন বিয়া সদির বেলায় , ওদের সাথে সম্পর্ক করব না, ওরা মজারে চলে যায়, ওরাতো কিয়াম করে, বা ওরা তো মজারে যায় না, দাঁড়িয়ে কিয়াম করেনা, ইত্যাদি আপনারা বুঝতে পারছেন,
আর এবাদত এর বেলায় ত কখনো কখনো একে অপরকে জাহান্নামের বাসিন্দা বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দে, এখন প্রশ্ন হল যদি প্রত্যেকটি সংগঠন দাবি করে আমরা মুসলিম সমাজের স্বার্থে কাজকর্ম করিতেছি তাহলে এই সমস্ত বিষয়বস্তু দিয়ে মুসলিম সমাজকে কেন এত দুর্বল করা হচ্ছে, এবং কেন ওদের ঐক্য শক্তিকে ধ্বংস করে একে অপরের দুশমন হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সবচাইতে বড় কথা টা হল জান্নাত এবং জাহান্নামের ফয়সালা করার অধিকার টা আপনাকে কে দিল ? একে অপরকে যদি জাহান্নামী বলতে থাকে তাহলে জন্নতে কাহারা যাবে ?
শরীয়তের কিছু মাসলা মাসায়েল নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করাটা কোন নতুন বস্তু নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে তার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়,
কিন্তু এমন কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়নি যে বিভিন্ন মত থাকার কারনে সামাজিক বা এবাদত এর মধ্যে কোন অসুবিধা ঘটেছে, বা একে অপরকে জাহান্নামী বলে ডেকেছে,
সুতরাং যদি আমরা আমাদের মুসলিম জাতির ভবিষ্যতের সুচিন্তক হই, তাহলে আমরা আমাদের এই সমস্ত ছোট ছোট মদ গুলোকে এক সাইডে রেখে আমাদেরকে সর্বক্ষণ চিন্তা করতে হবে, আমাদের কোরআ এক, নবী এক, সুতরাং ঝগড়া করার কোন প্রয়োজন নেই, আমাদেরকে সর্বক্ষণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে,
সব মতবাদকে ভুলে আমাদেরকে এক কাতারে দাঁড়াইতে হবে, একে অপরকে মুসলিম হিসাবে দেখতে হবে , একে অপরকে কাফের বা জাহান্নামী বলবো না, এটার ফায়সালা তো আল্লাহ করবে,
যদি আমরা আপস এর মধ্যে ভাই ভাইয়ের সম্পর্ক ভালোভাবে মজবুত করতে পারি, যেমন আল্লাহ বলছেন, انما المسلمون اخوه অর্থাৎ মুসলমান সকলএকজন অপরজনের ভাই, তাহলে অবশ্য ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের জাতিকে হেফাজত করতে পারব , এবং জাতির ভবিষ্যৎ ও উজ্জ্বল করতে পারব,, আল্লাহ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার তৌফিক দান করেন,আমিন ,
মাওলানা ইয়াহিয়া হাইলাকান্দি