11/02/2025
স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রথম আদিবাসী বীর বাবা তিলকা মাঝি (মুর্মু) ইংরেজ শাসন শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছিলেন, তার বীরত্বপূর্ণ লড়াই সংগ্রামের স্মরণ করে আজ ১১ ই ফেব্রুয়ারি বাবা তিলকা মাঝির জন্ম দিবস পালন করছি।জন্ম ১৭৫০ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারি সুলতানগঞ্জ বিহার অধুনা ঝাড়খন্ডে। বাবা সুন্দরা মুর্মু ও মাতা পান মুর্মু । ব্রিটিশের মানদন্ড দেখা দিল রাজদণ্ড রূপে। সুবে বাংলায়, বিহার বেঙ্গল উড়িষ্যা সাম্রাজ্য বিস্তার করতে লাগলো। প্রথম আদিবাসী নেতা এবং বিপ্লবী, যিনি ভারতের ব্রিটিশ উপনিবেশিক নিপীড়নের এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিলেন। ছোট নাগ পুর পাহাড়ের আদিবাসী নেতা। পাহাড়িয়া সর্দারদের নিয়ে কোম্পানি সামন্ত জমিদার এবং মহাজনদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।১৭৭৮ সালে সরদার আদিবাসীদের নিয়ে ব্রিটিশদের দখলে থাকার রামগড় ক্যাম্প মুক্ত করেছিলেন। ১৭৮৪ সালে ভাগলপুরের কালেক্টর অগাস্টাস ক্লিবল্যান্ডকে বাঁটুল দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছিলেন। পরে তার মৃ* হয়। ভাগলপুর জেলে বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধা বাবা তিলকা মাঝিকে ফাঁ* দেওয়া হয় ১৭৮৫ সালের ১৩ ই জানুয়ারি। তার আগে বাবা তিলকা মাঝিকে ধরার পর ঘোড়ার পিছনে ভাগলপুর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্মমভাবে অ*চার করা হয়। তার এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই আজ ও প্রাসঙ্গিক। এই লড়াইকে অনেকেই খেরোয়াল বিদ্রোহ নামে উল্লেখ করেন। এই বিদ্রোহের পরবর্তীকালে ১৮৫৫-৫৬সালে সিধু, কানু ,চাঁদ ভৈরব এবং ফুলো ,ঝানো সাঁওতাল বিদ্রোহ ইংরেজদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সংগঠিত হয়েছিল। এবং সর্বশেষ ১৯০০ সালে ধারতি আবা বীর বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে বৃটিশ দের বিরুদ্ধে সংগ্রাম জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফলস্বরূপ আদিবাসী মানুষ সান্তাল পরগনা টেনেন্সীএক্ট ও ছোটনাগপুর টেনেন্সী এক্ট পেয়েছি। স্বাধীন ভারতে ও সংবিধানে অরন্য এবং জমির অধিকার সুরক্ষিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানের লক্ষ্য করছি কেন্দ্রের সরকার ও রাজ্য সরকার আদিবাসীদের জল জঙ্গল জমিনের অধিকার হরণ করে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করার প্রয়াস গ্রহণ করেছে পুঁজিপতি কর্পোরেটদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি উত্তরবঙ্গের চা বাগানের জমি কিভাবে রাজ্য সরকার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ কর্পোরেটদের হাতে হস্তান্তর করছে। ফলে চা বাগানের আদিবাসীদের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এবং বীরভূমের দেওচা-পাচামিতে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে খোলা মুখ কয়লা খনি স্থাপন করতে। সহজ সরল আদিবাসী মানুষ জানে না কি ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে। অভিজ্ঞতা রয়েছে পাশ্ববর্তী জেলায় ও রাজ্যে। আদিবাসী দের এ লড়াই জারি থাকবে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় ধ্বংস করার বিরুদ্ধে আদিবাসী সহ অন্যান্য অংশের মানুষের লড়াই জারি থাকবে সরকারের বিরুদ্ধে। তেমনি বর্গাদার, পাট্টাদার আদিবাসী দের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াই লড়তে হবে। আজকের দিনে আদিবাসী দের স্বার্থে র পরিপন্থী রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আবার বাবা তিলকা মাঝি, ফুলো,ঝানো দের ফিরে আসতে হবে। লড়াই এ জিতবো আমরাই ।
..বাবা তিলকা মাঝি হুলসাই জহার।..