অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ

  • Home
  • India
  • Medinipur
  • অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ

অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য  ও সংস্কৃতি  সংসদ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ, Landmark & historical place, Medinipur.

নিউ দীঘাতে অস্তিত্বের খোঁজে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ ৷ বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান।ট্রাস্টের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান৷
01/04/2026

নিউ দীঘাতে অস্তিত্বের খোঁজে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ ৷ বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান।ট্রাস্টের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান৷

নিউ দীঘা : হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনাল : বঙ্গীয় ঈদ মিলন উৎসব : অস্তিত্বের খোঁজে পত্রিকা প্রকাশ৷তারিখ: 28/03/26, শনিবার
01/04/2026

নিউ দীঘা : হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনাল : বঙ্গীয় ঈদ মিলন উৎসব : অস্তিত্বের খোঁজে পত্রিকা প্রকাশ৷

তারিখ: 28/03/26, শনিবার

দীঘায় ঈদ সংখ্যা " অস্তিত্বের খোঁজে " পত্রিকা প্রকাশ:গত ২৮ মার্চ (২০২৬) শনিবার নিউ দীঘার হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনালে ব...
01/04/2026

দীঘায় ঈদ সংখ্যা " অস্তিত্বের খোঁজে " পত্রিকা প্রকাশ:

গত ২৮ মার্চ (২০২৬) শনিবার নিউ দীঘার হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনালে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট্রের" ঈদ মিলন উৎসব" অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হল অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ-এর চতুর্থ বর্ষের ,চতুর্থ ঈদ সংখ্যা পত্রিকা" অস্তিত্বের খোঁজে'৷উক্ত অনুষ্ঠানে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সম্পাদক এম রহুল আমীন ও সভাপতি রমজান আলি বরণ করা হল৷ এছাড়া অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সহ সম্পাদক ওয়াহেদ মির্জা( বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কনভেনার) ও লেখক তাবারক আলী , কবি মোহাম্মদ সামসের খান ,কবি সেক রউফুর রহমান ,লেখক সেক ফিরোজ হোসেন ,কবি সেক আসাদ আহমেদ ও সেক সাদেক আলির উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল৷ সঞ্চালন করেন গল্পকার শামিমা মল্লিক মহাশয়া৷ এছাড়া অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সম্পাদক সেক আবুল ও সভাপতি আলিম উদ্দিন মল্লিক অনুষ্ঠানে না থাকতে পেরেও সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷

দৈনিক নতুন পয়গাম
তারিখ: 01.04.26 ( প্রকাশিত খবর)

05/03/2026

বাঙালি সংস্কৃতিতে " শবে বরাত " ও হালুয়া ও রুটির ঐতিহ্য৷
--- ওয়াহেদ মির্জা

ফারসি শব্দ 'শবে বরাত' (ভাগ্যের রাত) হলেও আরবিতে একে 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' (মধ্য-শাবানের রাত) বলা হয় ৷আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি পবিত্র শবে বরাত। সে হিসেবে এবার বাংলা ২০ মাঘ ও ইংরেজি ৩ ফেব্রুয়ারি এই শবে বরাত। স্থানভেদে এই উৎসব আবার ভিন্ননামেও পরিচিত। যেমন, আফগানিস্তানে নিম শাবান, তুরস্কে বিরাত কান্দিলি, ভারতীয় উপমহাদেশে শবে বরাত বা নিফসু শাবান।
এরপর মূলত পবিত্র মাহে রমজানের দিনগণনা শুরু হয়। তাই রমজান মাসের আগমনের বার্তা এবং প্রস্তুতির প্রেরণা নিয়ে আসে এই রাত। এটি ইসলামি বিশ্বাসে পাপ থেকে মুক্তি ও ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসেবে পালিত হয় । হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকেই এই রাতে নফল ইবাদত ও কবরস্থান জিয়ারতের প্রচলন রয়েছে, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষভাবে উৎসবের রূপ নেয়৷ এই রাতটি কেবল ইবাদত নয়, বরং বিশেষ হালুয়া-রুটি তৈরি , কবরস্থান জিয়ারত এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে উৎসবের রূপ নিয়েছে৷ সবে বরাতের ব্যাপক প্রসার ও প্রথা শুরু হয় মূলত হিজরি ৪৪৮ (খ্রিস্টীয় ১১শ শতক) থেকে ৷ইতিহাসে, ৪৪৮ হিজরিতে ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের ইবনে আবিল হামরা নামক এক ব্যক্তি প্রথম বাইতুল মুকাদ্দাসে এই রাতে জামাতে নামাজ পড়ার প্রথা চালু করেন, যা পরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে৷শিয়া মতবাদে এই রাতটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি তাদের দ্বাদশ ইমাম, ইমাম মাহদী (আ.)-এর জন্মরাত হিসেবেও উদযাপিত হয়, যা শিয়াদের জন্য একটি আনন্দ ও খুশির মুহূর্ত৷ভারতে শবে বরাত পালনের প্রচলন মূলত দিল্লি সুলতানি ও মোঘল আমলে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছিল, যেখানে সুলতান ও বাদশাহরা এ রাতে মসজিদ ও প্রাসাদ আলোকসজ্জা করতেন। এছাড়া, উনিশ শতকের শেষদিকে ঢাকার নবাবরাও জাঁকজমকের সাথে শবে বরাত পালন করতেন।ভারতীয় উপমহাদেশে ইবাদত-বন্দেগি রাত হিসেবে সুফি ও দরবেশ অনেক আগে থেকেই পালন করে আসছেন৷
অনেকে এই রাতে মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য প্রার্থনা করেন এবং কবরস্থান জিয়ারত করেন ৷ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ৷তখন ঢাকার নবাবরা বেশ ঘটা করেই শব-ই-বরাত পালন করতেন৷ তিনি বলেন, সে সময়ে ঢাকার নবাবরা শব-ই-বরাতের সময় আলোকসজ্জা করতো । এরপর পাশপাশি মিষ্টি বিতরণ করতো। এই দিনে উপমহাদেশে সরকারি ছুটি এবং বিশেষ খাদ্য সংস্কৃতি ও ইবাদতের সংমিশ্রণে একটি প্রধান মুসলিম সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ৷ আমাদের বাংলায় শবে বরাত পালনে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে৷ শবে বরাত এমনই একটি উৎসব। যাতে বাঙালিরা তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে, ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থান আলোকিত করে এবং সারা রাত ধরে প্রার্থনা করে। কবরস্থান পরিস্কার করা হয় ও মসজিদ ও মাঝায়ে আলোকসজ্জা থেকে ফুল ও রঙ্গিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়৷ এছাড়া এই সময় ২ দিন রোজাও রাখার রীতি প্রচলন রয়েছে৷ আমাদের ছোট বেলায় সেই রকম আতসবাজির ব‍্যবহার দেখতাম না ৷ তবে কবস্থানে গিয়ে মোমবাতি ও আগবাতি জ্বালানো রীতি রয়েছে৷ এখন আতসবাজি ব‍্যবহার হচ্ছে এই নিয়ে হাইকোর্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা করেছে ৷ হাইকোর্ট সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ কারন এই পবিত্র রাত বলতে আলোকসজ্জা ও ইবাদতের রাত ৷ আমাদের গ্ৰামগঞ্জে সে রকম আতসবাজি দেখিনা তবে শব্দবাজি হয় না ৷ শহরে হতে পারে হয়তো৷ এই গুলো আমাদের দীপাবলী সংস্কৃতি প্রভাব পড়ছে তা বোঝ যাচ্ছে৷ দিন বদলাবে সংস্কৃতির ধরনও বদলাবে ,কারন সংস্কৃতি গতিশীল ৷ ধর্মীয় নিয়ম ও রীতি স্থিতিশীল৷ সেই রকম বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ ও ঐতিহ্য হালুয়া রুটি৷ সন্ধ‍্যায় হালু রুটি তৈরি হয় ,তার নিয়াজ ফাতেহা দেওয়ার পর খাওয়া হয় ৷ চালের রুটির সঙ্গে হালুয়া এবং বাঙালির ঐতিহ‍্যেবাহী কষা মাংস রেসিপি দিয়ে খাওয়াদাওয়ার চল রয়েছে৷ অনেক জায়গায় কোরআন শরীফ তেলাওয়াত হয় ও মহফিল কিছু ওয়াজ মহফিল হয়ে থাকে৷ আমরা ছোট বেলায় কলাগাছের ভেলা বানিয়ে পুকুরে ছাড়তাম আলোকসজ্জা করে অনেক সময় আগুন লাগাতাম ভেলায় ,মানে সেই সৃজনশীলতার আরেক স্তর বলতে পারেন কারন তখন গ্ৰামের দিকে বিদ‍্যুৎ আসেনি ,ফলে আলোকিত করার উপায় মাত্র ছিল ভেলা নির্ভর৷

শবে বরাতের দিনে এই হালুয়া–রুটির অবশ্য ধর্মীয় কোনো তৎপর্য নেই। এটি নেহায়েত সামাজিক রেওয়াজ। তবে সকালে অনেক গরীব মানুষ হালুয়া রুটি নিতে আসতেন ,এখন আর দেখা যায় না ৷ হালুয়া রুটি বেশি হলে রোদে শুকিয়ে দেওয়া হয় ৷ পরে রুটি পুড়িয়ে খাওয়া আলাদা মজা লাগে৷
ইতিহাসবিদদের অনেকে মনে করেন, আমাদের দেশে এই রেওয়াজ চালু হয়েছিল উনিশ শতকে। সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ নিবিড় করে তুলতে এই বিশেষ ধরনের খাদ্য বিতরণের একটি ভূমিকা আছে। সে যাই হোক, শবে বরাতের হালুয়া এখন যে এক সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সারা দেশ তথা বাংলায় এর চল রয়েছে। তবে ঘরে ঘরে নিজেদের জন্য এই সুস্বাদু পদটি রান্নার আয়োজন করতে কোনো বাধা নেই।

সুজি, বুট, গাজর, ডিম, বাদাম, পেঁপে, চালকুমড়া, নেসেস্তাসহ হরেক রকমের উপকরণ দিয়েই বৈচিত্র্যময় স্বাদের হালুয়া তৈরি করা যায়।। তবে হালুয়া নামের এই মিষ্টির উৎপত্তি কবে কোথায়, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আসলে বাঙালির মিষ্টান্নের কোনো লিখিত ইতিহাসই পাওয়া যায় না। আগের কালের মিষ্টান্নের বর্ণনা পাওয়া যায় মূলত মধ্যযুগের সাহিত্য ও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে। এ ক্ষেত্রে অন্নদা মঙ্গলসহ বিভিন্ন মঙ্গলকাব্যই খাদ্যাদির সন্ধান লাভের প্রধান উৎস। সেখানে মিষ্টান্নের ভেতরে পাওয়া যায় নাড়ু, মুড়কি, ক্ষীরখণ্ড, সরগুটি, পিষ্টক, খাজা, গজা, সন্দেশ, দই, ক্ষীরসা প্রভৃতি।

হালুয়া " আজকে বাঙালি ঐতিহ‍্যবাহী খাবার৷ আমাদের বাংলায় ছোলার হালুয়া ,সুজি ,গাজরের হালুয়ার জনপ্রিয়তা রয়েছে৷ হালুয়া ও রুটি এই সময়ে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীকে পাঠানোর রীতিনীতি রয়েছে ৷ বিকেল থেকেই শুরু হয় প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে হরেক রকম হালুয়া–রুটি বিতরণের পর্ব। তবে কারুর বাড়িতে কেউ ইন্তেকাল করলে শবে বরাত আসার আগে " নতুন সবে রবাত " করার রীতি রয়েছে৷ এখানে হালুয়া - রুটি নিয়াজ দিয়ে সিন্নি হিসেবে বিতরণ হয়৷

05/03/2026

আধুনিক ভারত মুসলিম গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে
++++++++++++++++++++++++++++++
----ওয়াহেদ মির্জা

অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন গণহত্যা নিয়ে চর্চা, গবেষণা ও আশঙ্কা নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে গড়ে তোলেন ‘জেনোসাইড ওয়াচ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান ভারতের সামগ্রিক সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক-রাজনৈতিক দিকগুলোকে বিশ্লেষণ করে আগামী দু’বছরের মধ্যে এই দেশে ‘জেনোসাইড’ বা ‘গণহত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের অনুসারী সঙ্ঘপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই দেশের বর্তমান শাসক দল নাৎসি পার্টির সিলেবাস দাঁড়ি-কমা-সেমিকোলনসহ অনুসরণ করে চলেছে।
অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে গণহত্যার আটটি পূর্বলক্ষণসহ দশটি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন।

গণহত্যার প্রথম ধাপ হল " বিভাজন" ৷মানুষকে ‘ওরা’ এবং ‘আমরা’ এই দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া। সেই বিভাজন হতে পারে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে, ভাষার ভিত্তিতে, প্রাদেশিকতার ভিত্তিতে, গাত্রবর্ণের ভিত্তিতে, মতাদর্শের কারণে কিংবা অন্য যে কোনো বিষয়কে ভিত্তি করেই।সাম্প্রতিক ভারতে আমরা দেখছি পোশাক আইডেন্টিটি ও বাংলা ভাষা বলার জন্য অত‍্যাচার ও হত্যা করা হচ্ছে৷

দ্বিতীয় ধাপ হল "প্রতীকীকরণ"৷কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেওয়া। সাম্প্রতিক ভারতে আমরা দেখছি কিছু শব্দ বন্দনীর মাধ্যমে অপর নির্মাণ করা যেমন কাটুয়া ,হিজাব ,লুঙ্গি ,জেহাদি ,মাদ্রাসা ছাপ ইত‍্যাদির মাধ্যমে পুরো কমিউনিটিকে নির্দিষ্ট ধাঁচে ফেলা৷ ইসলামোফোবিয়া হিসেবে সমাজকে কোণঠাসা ও মানসিক আক্রমণ করতে কোরআন শরীফ ও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা: নামে কটূক্তি করা ৷

তৃতীয় ধাপ হল " বৈষম্য" ৷সমাজের মধ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক চিহ্নিত ‘ওদের’ জন্য প্রতি পদক্ষেপে থাকবে বৈষম্যমূলক নানা ব্যবস্থা। ধর্মাচরণ, সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ, মতপ্রকাশ, নাগরিক অধিকার সব ক্ষেত্রেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে ‘তোমরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক৷ সাম্প্রতিক আমরা বৈষ্ণবমাতা মেডিকেল কলেজে মুসলমান ছেলে মেয়েরা বেশি ভর্তি হওয়ার জন্য মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা এছাড়া মাওলানা আজাদ গ্ৰান্ড সহ বন্ধ বিভিন্ন স্কলারশিপ বন্ধ করা , বাজেটে মাদ্রাসা এডুকেশনের জন্য ১ লক্ষ টাকা বাজেট করা পুরো ভারতে৷ এছাড়া বাংলায় SIR এ মুসলিম নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে ৷ ভারতের নাগরিকত্বহীন করে ডিটেইনশন ক‍্যাম্পে বন্দি করা ,যেমন আমরা আসামে দেখেছি৷দোকনে কেনা কাটার জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করা ৷ এছাড়া হিন্দু দোকানে গেরুয়া ঝান্ডা লাগিয়ে পৃথকীকরণ করা ৷ দোকানদারের নাম লেখা নির্দেশ জারি করা ৷এই বৈষম্যের তালিকা লিখে শেষ করা যাবে না৷

চতুর্থ ধাপ হল "মানবেতর হিসাবে দেখা" ৷সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মানুষ হিসাবে গণ্য না করে ভয়ঙ্কর কিংবা হীন ও ঘৃণ্য জনগোষ্ঠী হিসাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি রাষ্ট্র পরিকল্পিত ভাবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অধিকাংশের মধ্যে চারিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সমস্ত মাধ্যমকে ব্যবহার করে চলতে শুরু করে প্রচার ‘ওরা নোংরা’, ‘ ওরা হিংস্র’, ‘ওরা ধর্ষক’, ‘ওদের বিশ্বাস করা যায় না’, ‘ওদের ঘরে ঘরে ক্রিমিনাল’! আগের তুলনায় এখন এই প্রচার খুব দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে৷ আমরা ২০১৪ সাল থেকে দেখে আসছি ভারতে গরুর থেকে ভাষার জন্য মুসলমান হত্যা - মব লিঞ্চিং কি ভাবে ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে৷ এছাড়া উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলোতে মেধাবী মুসলমান ছাত্রদের বেছে বেছে টার্গেট করে হত্যা করা ৷
তার সঙ্গে প্রপাগান্ডা মূলক সাহিত্য ও মুভি তো আছে৷ যেমন কাশ্মীর ফাইলস থেকে কেরালা স্টোরি ,প্রতিদিন ইসলামোফোবিয়া ছড়ানোর শাসক ফান্ডিংও করছে৷

পঞ্চমধাপ হচ্ছে "সামরিক সাংগঠনিক প্রস্তুতি"৷সরকার নিজের সংখ্যালঘু বিরোধী পরিকল্পনা রূপায়নে তৈরি করে নির্দিষ্ট বাহিনী৷ সাম্প্রতিক ভারতে আমরা জানি RSS ও বজরং দল ,বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ,হিন্দু সংহতি ,হিন্দু মহাসভা সহ সংঘের সাহিত্যিক ,বৈজ্ঞানিক ,মজদুর সংঘ ,ইতিহাস সংসদ নিয়ে ৪০০০ হাজার হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এরা দেশের সেনাবাহিনী থেকে বিচার ব‍্যবস্থায় ,রাজনৈতিক পার্টি থেকে প্রসাশনিক আমলা পর্যন্ত গুপ্ত সমিতির মতো কত বাহিনী যে তৈরি করেছে জানলে অবাক হবেন৷ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে৷এদের নেটওয়ার্ক আমেরিকা ,কানাডা ,অস্ট্রেলিয়া সহ পুরো দক্ষিণ ছড়িয়ে আছে৷

ষষ্ঠধাপ হল "মেরুকরণ" ৷নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ সরকারের নিরন্তর করে চলা। দেশের মানুষের অন্য সমস্ত পরিচিতিকে গৌণ করে দিয়ে নির্দিষ্ট দু’টি মেরুর পরিচিতিকেই মুখ্য হিসাবে তুলে ধরা, যা পারস্পরিক বিরোধ আরও তীব্র করে তোলে। ভারতে যেভাবে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘুর বিভাজন তীব্র মেরুকরণ করা হয়েছে পরিকল্পনা করেই। সব কিছু সাম্প্রতিক আমরা দেখতে পাচ্ছি৷যেরকম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি টাকায় মন্দির করলেও প্রতিবাদ নেই ,কিন্তু হুমায়ুন কবীর নিজের টাকায় মসজিদ করলে সংঘ সহ বিজেপি বিভিন্ন ভাবে উস্কানি দিয়ে সমাজে মেরুকরণ করছে য়৷ ভোট প্রচারে দেওয়ালে লেখা হচ্ছে " জন্ম যখন হিন্দু কুলে ,ভোট দেবো পদ্ম ফুলে ৷ এছাড়া জেলায় জেলায় হিন্দু সম্মেলন ও গীতা পাঠের আসর করে অস্ত্র রাখার নিদান দেওয়া হচ্ছে এবং এই ভোট সনাতনদের শেষ ভোট হিসেবে প্রচার করছে৷

সপ্তম ধাপ হল "প্রস্তুতি শুরু করা"৷ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষকে নতুন করে চিহ্নিত করা, তাঁদের দীর্ঘদিনের বসতি থেকে উৎখাত করে অন্যত্র থাকতে বাধ্য করা।আমরা দেখছি আসাম ,গুজরাট ,মুম্বাই ,মধ‍্যপ্রদেশ ,উত্তপ্রদেশে ,উড়িশায় কিভাবে বুলডোজার চালিয়ে হাজার হাজার ঘর ভাঙা হয়েছে ৷ অনেক সময় রাম মন্দিরে ও জগন্নাথ মন্দির বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ফোন দিয়ে সমাজে সন্ত্রাসের আতঙ্ক তৈরি করে একটি সমাজকে দাঁড় করানো হচ্ছে৷ আন্দোলন করলে ঘরে বুলডোজার চালিয়ে ছাদহীন করা হচ্ছে৷ আর্থিক ভাবে পঙ্গু করা হচ্ছে৷

অষ্টম ধাপ হল "নিপীড়নের শুরু"৷কখনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর, কখনও বিরোধী মতাবলম্বী গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর, কখনও উদারনৈতিক প্রতিবাদী মানুষের ওপর সংঘবদ্ধ ভাবে গণপ্রহারের মাধ্যমে বা চোরাগোপ্তা আক্রমণের মাধ্যমে হত্যা করা, ঘরবাড়িতে লুঠ চালানো বা আগুন ধরিয়ে দেওয়া। কখনও ছোট আকারে দাঙ্গা বা গণহত্যা ঘটানো। আমরা সাম্প্রতিক মসজিদ ও মাজারে আগুন লাগানো থেকে মাজার ভাঙা খবর দেখছি৷ মসজিদের মিনারে গেরুয়া পতাকা টাঙানো বা হোলির সময় মসজিদ ঢেকে দেওয়া৷ নামাজ পড়ার জন্য গ্ৰেপ্তার করা হচ্ছে৷স্কুলের মালিক মুসলিম হলে অজুহাতে স্কুল ভেঙেও দেওয়া হচ্ছে৷আজানের বিরুদ্ধে হুনুমান চালিশা পাঠ করা হচ্ছে মাইক লাগিয়ে৷

নবম ধাপ হল "নির্মূলকরণ" ৷পৃথিবীতে সংঘটিত বেশিরভাগ জেনোসাইড বা গণহত্যার ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য থাকে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষকে নির্মূল করা, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামের নওগাঁও জেলার নেলীতে দিনের আলোয় গরীব বাঙালি মুসলমান জনগোষ্ঠীর প্রায় দশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। যা আজও বিচার হয়নি ৷ সাম্প্রতিক কালে দিল্লি দাঙ্গা দেখেছি৷NRC -CAA আন্দোলনের জন্য হত্যাও করা হয়েছে৷২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সহিংসতা বেড়ে চলেছে৷এনসিআরবি (NCRB) ডাটা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রায় ১,২২৭টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে৷ পরবর্তী বছরগুলোতে দাঙ্গার সংখ্যা ওঠানামা করেছে, যেমন—২০১৬ সালে ৮৬৯টি, ২০১৮ সালে ৫১২টি এবং ২০২০ সালে ৮৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল৷

দশম ধাপ হল "অস্বীকার করা"৷খুব স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত গণহত্যার পর শাসক হাত ধুয়ে ফেলতে চায় গণহত্যার যাবতীয় দায় অস্বীকার করে। প্রতিটি গণহত্যার পরে শাসক তথা রাষ্ট্র দায় চাপিয়ে দিতে চায় আক্রান্তদের ওপরেই। গুজরাত গণহত্যার ক্ষেত্রে অভিযুক্তরাই এখন দেশের শাসন ক্ষমতার মসনদে আসীন।সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান(জেনোসাইড ওয়াচ)ভারতের সামগ্রিক সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক-রাজনৈতিক দিকগুলোকে বিশ্লেষণ করে আগামী দু’বছরের মধ্যে এই দেশে ‘জেনোসাইড’ বা ‘গণহত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।ওপরের দশটি লক্ষণের মধ্যে সম্ভাব্য গণহত্যার যে প্রেক্ষাপটের কথা বলা হয়েছে, আমাদের দেশের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রাসঙ্গিক। গত ১৬ জানুয়ারী হরিদ্বারে ধর্ম সংসদে যতি নরসিংহানন্দ, স্বাধ্বী ,অন্নপূর্ণা, স্বামী ধরমদাস প্রমুখ ব্যক্তি প্রকাশ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠীর মানুষ এবং পুলিশকে সশস্ত্র হওয়ার কথা বলেছেন।এই ধর্ম সভা থেকে মুসলিম হত্যার ও ‘সাফাই অভিযান’ শুরুর ডাক দিচ্ছেন। যে ‘সাফাই অভিযান’ আসলে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা ‘গোষ্ঠীগত নির্মূলকরণ’ ছাড়া কিছু নয়! এছাড়া বিভিন্ন ধর্ম সভা ও প্রসাশনিক ,সাংবিধানিক পদে বসে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে প্রকাশ‍্যে হিন্দু রাষ্ট্রের করার ডাক দেওয়া হচ্ছে যা সংবিধান বিরোধী ৷ সাম্প্রতিক রমজান মাসে মুম্বাই তে হিন্দু এক ফল বিক্রেতা খেজুর প‍্যাকেটে ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে৷এছাড়া মুসলমানদের আর্থিক প্রতিবন্ধী করতে মুসলিমদের আর্থিক ক্ষেত্র গুলো কুটির শিল্প সহ ছোট খাটো ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠান ষনের উপর বিভিন্ন আইনি হেনস্থা সহ ট‍্যাক্স বৃদ্ধি করা হচ্ছে৷ সাম্প্রতিক " রুহ আফজা " ফল জুস - শরবতের পানীয় ব্র‍্যান্ড ( মুসলমানরা বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে শরবতে ব‍্যবহার করে) উত্তর প্রদেশ সরকার ১২ শতাংশ ট‍্যাক্স লাগু করে এই নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিমকোর্টে ৪ শতাংশ ধার্য করেছে৷এই রকম মুসলমানরা যে ফিল্ডের উপর ইনকাম করছে যেমন- ডাউনে কাপড় ব‍্যবসা ( দর্জি) থেকে SCRAP MATERIAL ব‍্যবসা ,চামড়া ব‍্যবসা ,গরু ব‍্যবসা , উপর ট‍্যাক্স বাড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে৷ হিন্দু ধর্মীয় স্থান ও হিন্দু মেলায় মুসলিম দোকান নিষিদ্ধ করা হচ্ছে৷মসজিদকে মন্দির দাবী করা হচ্ছে৷ সাম্প্রতিক একটি স্কুলে মুসলিম ছাত্রের জলে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার খবর হয়েছিল৷ সেই রকম মুসলিম মহল্লায় জল সরবরাহের লাইনে বিষ মিশিয়ে দিয়ে বা গরু মাংসতে রাসায়নিক কিছু মিশিয়ে দিয়ে হত্যা করা সহজ ,না হওয়ার কিছু নয় আগামী দিনে৷ করোনা ভাইরাসে মৃত্যুতে এই রকম অভিযোগ তো আছে ৷ এমনি কি ভারতের মুসলমানদের উপর স্বাস্থ্য বৈষম্যের রিপোর্ট দেখে নিতে পারেন৷ এখনকার প্রযুক্তির যুগে রাষ্ট্রীয় দ্বারা গণহত্যা করা খুবই সহজ৷আরও সহজ রাষ্ট্রীয় শাসকগণ মুসলমান গণহত্যাকারী শাসকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ভারতের র‍্যাডিক‍্যাল ও সন্ত্রাসী গ্ৰুপ যখন ট্রেনিং নিতে সেই দেশে পাঠায় , তখন ভেবেই নিতে হবে আধুনিক ভারতে মুসলিম গণহত্যার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমরা৷

05/03/2026

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ: দেশচর্যার সঙ্গে সাহিত্য চর্চা৷
----ওয়াহেদ মির্জা

১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল৷ফলে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বাংলার পরাধীনতা চলে৷ব্রিটিশ সাম্রাজ‍্যবাদী তাদের শাসন ও শোষণের ব‍্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার জন্য জমিদার ,মজুতদার ও মহাজন শ্রেনী সৃষ্টি করে৷ব্রিটিশদের স্বার্থরক্ষায় সৃষ্ট নব‍্য জমিদার শ্রেণী নবজাগরণের আলোকপ্রাপ্ত " বাবু" সমাজ ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের শক্তির প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায়৷ ফলে রাজনৈতিক কারণে মুসলমানরা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বারা শোষণ ও আরও বেশি বৈষম‍্যের শিকার হয়েছিল৷ স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরও নতুন ভারতে মুসলমানরা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রে শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে৷যেমন ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসের (Lord Cornwallis) আমলে "চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা" কীভাবে বাংলা সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছিল ,তা ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ‍্যায় ৷ এতে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলার মুসলিম সমাজ ৷আজকে ২০২৫ সালে নরেন্দ্র মোদি আমলে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে মুসলমানদের জমি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্ৰহণ করা হয়েছে৷পলাশী যুদ্ধ (১৭৫৭) ও সিপাহী বিদ্রোহের (১৮৫৭) মধ্যে ব্যবধান ঠিক ১০০ বছর ৷১৮১৭ সালের আগে ইংরেজের মাধ্যমে সরকারি উদ‍্যেগে কলকাতায় একটি বিদ‍্যালয় স্থাপিত হয় নি৷ ১৮১৬ সালে স্বনামধন্য ব‍্যাপিস্ট মিশনারিএয় -কেরী ,মার্শমান ও ওয়ার্ড - যখন কলকাতা থেকে পনের মাইল দূরে গঙ্গার তীরে শ্রীরামপুরে একটি কলেজ স্থাপন করেন তখন থেকেই নবীন বাংলার ইনটেলেকচুয়াল জীবনের প্রকৃত সূচনা৷ এর পর উল্লেখযোগ্য প্রয়াস ছিল স্কচ পাদ্রী ডক্টর ডাফের ; তিনি ১৮৩০ সালে নিমতলায় স্থাপন করেন " ফ্রী চার্চ ইনস্টিটিউশন যা পরবর্তীকালে জেনারেল এ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউটসনের সঙ্গে মিলিত হয়েছিল৷ যেমন বাংলার নবজাগরনের মালমশলার অনেকখানি এখান থেকেই তৈরি হয়েছিল৷তেমনি ইংরেজদের সাথে ব্যবসা, প্রশাসনিক সহায়তা এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুকরণ করে শহরে বিলাসিতা ও বাবুয়ানি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল৷
একদিকে শাসক ও শাসিতের মধ্যে এই সংঘর্ষ ,অবিশ্বাস ও বর্ণ- বিদ্বেষ এবং অন‍্যদিকে নবজাগ্ৰত জাতীয় আত্মবোধ ,বুদ্ধির উৎকর্ষ এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তার পরিবেশের মধ্যেই চিত্তরঞ্জন দাশ (Chittaranjan Das) ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন৷ভুবনমোহন দাশ ও নিস্তারিণী দেবী ছিলেন চিত্তরঞ্জনের পিতামাতা৷ ভুবনমোহন হাইকোর্টে ওকালতি করতেন৷ ভুবনমোহন ব্রাম্মসমাজের প্রধানের মধ্যে একজন ছিলেন৷ ব্রাম্মসমাজের মূখপত্র " দি ব্রাম্ম পাবলিক ওপিনিয়ন" এর সম্পাদক ছিলেন ভুবনমোহন দাশ৷ ভুবনমোহন এই পত্রিকায় অত‍্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করতেন৷ কিন্তু কালক্রমে ব্রাম্মসমাজের অনেকেই সমাজের মুখপত্রে রাজনৈতিক আলোচনা আধিক্য পছন্দ করতেন না ৷ সম্ভবত : এই কারনে একাদিক্রমে পাঁচবছর (১৮৭৮-৮৩) সম্পাদনা করার পর ভুবনমোহন সম্পাদকের পদে ইস্তফা দিয়ে " বেঙ্গল পাবলিক ওপিনিয়ন" নামে নিজস্ব একটি কাগজ করেন৷পিতার রাজনীতি প্রবণতা পুত্র চিত্তরঞ্জনের মধ‍্যেও বিশেষভাবে সংক্রামিত হয়ে গিয়েছিল৷ভুবনমোহন ব্রাম্ম সমাজে সর্বদা হিন্দু আচার প্রণালী প্রবর্তনের বিশেষ পক্ষপাতী ছিলেন ৷ তাঁর নিজের পরিবারে বিবাহাদি অনুষ্ঠানে ভুবনমোহন হিন্দু আচার অনুসরণ করতেন৷ চিত্তরঞ্জনও তাঁর পিতার কাছ থেকে এই গুণটি পেয়ে থাকবেন, কারন তাঁর জীবনে আমরা দেখতে পাই যে ,ব্রাম্ম পিতামাতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক আচার আচরণে চিত্তরঞ্জন হিন্দুভাবাপন্ন ছিলেন অথবা হিন্দুই ছিলেন বলা যায়৷ চিত্তরঞ্জনের মায়ের সংরক্ষণশীল মানসিকতা চিত্তরঞ্জনকে তাঁর পরিণত বয়সে অনেকখানি হিন্দুভাবাপন্ন করে তুলতে সহায়তা করেছিল৷
চিত্তরঞ্জনের প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভ হয় ভবানীপুর লন্ডন মিশনারি স্কুলে৷ এর প্রকৃত নাম ছিল লন্ডন মিশনারি সোসাইটিজ ইনস্টিটিউশন৷ প্রথম বার প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ১৮৮৬ সালে তিনি এখান থেকে পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন৷ চিত্তরঞ্জনের বয়স যখন ষোল বছর তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে এলেন৷ ১৮৯০ সালে এখান থেকে বি এ পাস করেন৷এই সময় সুরেন্দ্রনাথ ও আনন্দমোহন বসু দুজন মিলে ১৮৭৫ সালে ছাত্রসভা স্থাপন করেন৷ চিত্তরঞ্জনের রাজনৈতিক প্রতিভার উম্মেষ সাধনে এই ছাত্রসভার সঙ্গে তাঁর কলেজ জীবন থেকেই সংযোগটা যে বিশেষভাবেই সহায়ক হয়েছিল৷কলেজের অধ‍্যায়নকালেই তিনি সাহিত্য ও বাগ্মিতায় তাঁর অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়ে সহপাঠী ও অধ‍্যাপকদের বিস্মিত করে তোলেন৷ বি এ পাস করার অল্প কয়েকমাস পরেই চিত্তরঞ্জন গেলেন বিলাতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে৷ ইংল্যান্ড-এ আই ,সি এস পরীক্ষায় (১৮৯২) অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি আইসিএস-এর পরিবর্তে আইন পেশা বেছে নেন এবং এই সময় লেখাপড়ার চেয়ে রাজনীতির চর্চা করেছিলেন একটু বেশি মাত্রায়৷ যে সময় পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হোন সেই সময়ে পরীক্ষার কিছু আগে জেমস ম‍্যাকলিন নামক
এক সভ‍্য পার্লামেন্টে একটি প্রকাশ‍্য বক্তৃতায় ভারতীয় মুসলমানদিগকে দাস আর ভারতীয় হিন্দুদিগকে চুক্তিবদ্ধ দাস বলে অভিহিত করেন৷চিত্তরঞ্জন স্বাদেশিকতা এই আক্রমণ সহ‍্য করতে পারলেন না৷ তিনি অবিলম্বে লন্ডনস্থ ভারতীয়গণকে সম্মিলিত করে লন্ডনের এক্সেটর হলে এক সভা করেন এবং সেই সভায় তিনি ম‍্যাকলিনের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তির তীব্র প্রতিবাদ করেন৷ এই প্রতিবাদের ফল হয়েছিল ৷ বিলাতের বড় বড় কাগজে তাঁকে সমর্থন করে একাধিক সম্পাদকীয় মন্তব্য প্রকাশিত হয় ৷সেই সময় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন গ্লাডষ্টোন৷লিবারেল নেতৃবৃন্দ ওল্ডহ্যাম গ্লাডষ্টোনের সভাপতিত্বে একটা সভা আহ্বান করলেন৷ তরুণ চিত্তরঞ্জন এই সভায় বিশেষভাবে নিমন্ত্রিত হয়ে ম‍্যাকলিনের কাজের তীব্র সমালোচনা করেন৷
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বিলেত থেকে ভারতে প্রত‍্যাবর্তন করেন হাইকোর্টের একজন ব‍্যারিস্টার হিসেবে যোগদান করেন৷ এইবার আরম্ভ হলো তাঁর কর্মজীবন - সংগ্ৰামপূর্ণ কর্মজীবন৷ চিত্তরঞ্জন যখন হাইকোর্ট প‍্যাকটিস করতে এলেন তখন তাঁর বয়স মাত্র তেইশ বছর৷হাইকোর্টে চিত্তরঞ্জন কিছুতেই সুবিধা করতে পারেননি ,কারণটা ছিল তাঁর তৎকালীন সামাজিক দুরবস্থা৷ পিতৃঋণ পরিশোধের মতো আয় তাঁর তখনো পর্যন্ত হয় নি৷চিত্তরঞ্জনের সংগ্ৰামপূর্ণ জীবনের আশা ও নৈরাশ‍্যের এই চিত্র আমাদের সামনে রেখে আমরা এই সিদ্ধান্ত ক‍রতে পারি যে ,প্রতিকূল অদৃষ্টের কাছে তিনি নতি স্বীকার করেননি ,স্বীয় পুরুষকারের উপর নির্ভর করেই তিনি সংকট আবর্তের মধ্যে দিয়ে তাঁর জীবনের জয়রথ চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন৷

১৮৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে চিত্তরঞ্জন বাসন্তীদেবীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন৷বাসন্তীদেবী ছিলেন আসামের বিজনী এস্টেটের দেওয়ান বরদানাথ হালদারের জ‍্যেষ্ঠ কন‍্যা৷ ব্রাম্মরীতিতে ১৮৭৩ সালের তিন আইন অনুসারে এই বিবাহ হয়,তবে ব্রাম্মসমাজের সমকালীন বিশিষ্ট ব‍্যক্তিদের কেউই তাঁর বিয়েতে আচার্যের কাজ করতে সম্মত হন নি ,কারণ ত়াঁদের বিবেচনায় চিত্তরঞ্জন ছিলেন একজন নাস্তিক ও জীবনাচরণে একজন পুরোদস্তুর বোহেমিয়ান৷কথিত আছে ,মালঞ্চের " বারবিলাসিনী " কবিতাটিই ব্রাম্মসমাজের নেতৃত্বস্থানীয়দের বিরূপতার অন‍্যতম কারন৷ এমন কি তাঁর পিতৃব‍্য বন্ধু শিবনাথ শাস্ত্রী পর্যায়ে বিবাহ সভায় উপস্থিত থাকতে সম্মত হন নি৷শেষে নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই বিবাহে আচার্যের কাজ করে সমাজে নিন্দাভাজন হন৷ব্রাম্মসমাজের এই সংকীর্ণতায় চিত্তরঞ্জন বিশেষ ক্ষুদ্ধ হন এবং তখন থেকেই ব্রাম্মসমাজের প্রতি তাঁর বিরাগ প্রবলতর হয়ে উঠতে থাকে৷পিতা ভুবনমোহনও যৌবনে ব্রাম্মধর্ম গ্ৰহণ করলেও আচার আচরণে একজন হিন্দুই ছিলেন এবং হিন্দু ধর্মের অদ্বৈতবাদের তিনি বিশেষ পক্ষপাতী ছিলেন৷ চিত্তরঞ্জন ব্রাম্মধর্মে আন্তরিক আস্থাবান হয়ে উঠেছিলেন এবং অনেক ব‍ৎসর ভবানীপুর ব্রাম্মসমাজের সভ‍্য ছিলেন৷ কিন্তু গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকা তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ ছিল৷ শেষজীবনে তাই তিনি বৈষ্ণবধর্ম গ্ৰহণ করেন৷ তিনি স্বয়ং অসমবর্ণ বিয়ে করেছিলেন এবং সন্তানগণেরও অসবর্ণ বিয়ে দিয়েছিলেন৷ তাই দেখা যায় যে ,তাঁর ধর্মমতের পরিবর্তন হয়ে থাকলেও ,সামাজিক বিষয়ে তাঁর মত বরাবর ব্রাম্মসমাজের অনুরূপই ছিল৷ ব‍্যারিস্টার পাশ করার পর তিনি কম বেশি কুড়ি পঁচিশ বছর অর্থোপার্জনে ও সাহিত্যচর্চায় অতিবাহিত করেন৷ তারপর তিনি যখন রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন তখন আইন ব‍্যবসায় চিরদিনের মতো পরিত্যাগ করেন৷ নেতা তিনিই যিনি অনুভব করতে পারেন ইতিহাসের প্রাণস্পন্দন আর যাঁর দৃষ্টি প্রসারিত হয় বর্তমান থেকে ভবিষ‍্যকাল পর্যন্ত৷ দেশবন্ধু এই শ্রেণীর নেতা৷ নেতার আবির্ভাব ঘটে ঐতিহাসিক প্রয়োজনে৷

চিত্তরঞ্জনকে আমরা রাজনীতির আসরে প্রত‍্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে প্রথম দেখতে পাই সেই ১৯০৫ সাল থেকে - বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকেই৷ বাংলায় তখন এক নবজাগরণের সাড়া পড়ে গিয়েছে৷ এই শতকের প্রথম দশকে কার্জনী বিধানকে উপলক্ষ করে বাংলায় যে ঝড় উঠেছিল ,সেদিনের বিদ‍্যুৎ বিদীর্ণ আকাশে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা লাভের জন্য যে নতুন চেতনা উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল ৷এই সময় চরমপন্থীদের (Extremist)সঙ্গে চিত্তরঞ্জনের প্রথম সংযোগের ইতিহাস শুরু হয়৷ ১৯০৫ ,২৪ শে ডিসেম্বর ৷ স্থান -১৪৮,রসা রোড৷ এই দিন এইখানে চরমপন্থীদের একটি সভা হয় ৷ এই সভায় চরমপন্থীদের একটি কার্যকারী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়৷ যা "স্বদেশী মন্ডলী" নামে পরিচিত হয়৷ এই ভাবে দেখা যায় যে ,দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের বাড়িতেই বাংলার স্বদেশী যুগের চরমপন্থীদের দল প্রথম ভূমিষ্ঠ হইল৷ কাশী কংগ্রেসের মাত্র দু- তিন দিন পরের ঘটনা৷ চরমপন্থী নেতারা এই কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন৷কংগ্রেসের সঙ্গে চিত্তরঞ্জনের সেই প্রথম সংযোগ৷ অবশ্য তখনো পর্যন্ত তিনি অন্তরালবর্তী হয়েই ছিলেন - প্রকাশ‍্যে চরমপন্থীদলের নেতা তখন ছিলেন বিপিনচন্দ্র ,অরবিন্দ এর অনেক পরে৷ ১৯০৬ সালে তিলক কলকাতা এসেছিলেন শুধু কংগ্রেস অধিবেশন উপলক্ষেই নয় - বাংলাদেশে শিবাজী উৎসব ও ভবানীপূজার প্রবর্তন করতে৷এর আয়োজন করেছিলেন " স্বদেশী মন্ডলী" অর্থাৎ বাংলার চরমপন্থী নেতৃবৃন্দ৷চিত্তরঞ্জন তিলককে আজীবন গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন৷এই সময় সুরেন্দ্রনাথ প্রমুখ প্রথম যুগের কংগ্রেস নেতৃবরগ কর্তৃক প্রচারিত ও অনুসৃত পাশ্চাত্য জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে ভারতের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের অভ‍্যুদয় ঘটে এই সময়ে৷লোকমান‍্য তিলক ,বিপিনচন্দ্র ,শ‍্যামসুন্দর ও অরবিন্দ ছিলেন এর ধারক ও বাহক৷এঁদের কাছে ধর্ম ও জাতীয়তা ছিল এক ও অভিন্ন এবং এ়ঁরা যে রাজনীতির ধারক ও বাহক ছিলেন তার উৎস ছিল ধর্ম৷বিলেতে ছাত্রাবস্থায় অরবিন্দ কে চিত্তরঞ্জন বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন৷বিপিনচন্দ্র গান্ধীর অসহযোগ আদর্শ বিশ্বাস করতেন না৷ নিউ ইন্ডিয়া ছিল বিপিনচন্দ্রের নিজস্ব কাগজ ,১৯০১ সালে বিলাত থেকে প্রত‍্যাবর্তন করে তিনি এই পত্রিকাখানি প্রকাশ করেছিলেন৷ চিত্তরঞ্জন তখন থেকেই বিপিনচন্দ্রের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন ও তাঁরই কাছে তিনি রাজনীতির প্রথম পাঠ গ্ৰহণ করতে থাকেন৷প্রকৃত কথা ,মানুষটা হিন্দু ,কি ব্রাম্ম ছিলেন ,নাস্তিক কি আস্তিক ছিলেন ,এসব প্রশ্ন নিরর্থক ৷ তাঁর মধ্যে ছিল একটা বিরাট হৃদয় ও সর্বসংস্কারমুক্ত একটা সার্বজনীন ভাব৷ তাই জাতি ,বর্ণ ও ধর্মনির্বিশেষে সকল মানুষই তাঁর কাছে সমান প্রিয় ছিল আর বিশ্বের সকল ধর্মমতই তাঁর কাছে গ্ৰহণযোগ‍্য না হলেও শ্রদ্ধেয় ছিল৷ ১৯০৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে ভাগ‍্যের সঙ্গে সংগ্ৰাম করতে হয়েছে একাকী এবং কি তাঁর সাহিত্য প্রয়াসে ও কি আইন ব‍্যবসায়ে কোনটাতেই তিনি তখনো পর্যন্ত আশানুযায়ী প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন নি৷ ১৯০৬ সালে এলো ভাগ‍্যের সেই নিদারুণ পরিহাস-বৃদ্ধ পিতা ও পুত্রকে নিরুপায় হয়ে একত্রে দেউলিয়া আদালতের আশ্রয় গ্ৰহণ করতে হলেন৷১৯০৭ সাল থেকে চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনে দিক পরিবর্তন সূচিত ৷এই সময় বন্দেমাতরম ,সান্ধ্য ,যুগান্তর পত্রিকা বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়েছেন চিত্তরঞ্জন৷ ১৯০৭-১৯০৮ সালে অগ্নিগর্ভ বাংলায় ব‍্যারিস্টার সি আর দাশের একটি প্রধান ভূমিকা ছিল - রাজনৈতিক কারণে অভিযুক্ত বিপ্লবীদের পক্ষে সমর্থন৷ চিত্তরঞ্জন আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করে যুগপৎ তাঁর প্রতিভা ও ত‍্যাগের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন৷সমস্ত স্বদেশী মকদ্দমার পক্ষ সমর্থন করতেন বিনা পারিশ্রমিকে৷ আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলায় বিজয়ী ছিল চিত্তরঞ্জনের রাজনীতিক্ষেত্রে প্রবেশের প্রথম বিরাট শঙ্খধ্বনি৷ ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলাও লড়েছেন৷চিত্তরঞ্জন অনুশীলন সমিতির কার্যকারী কমিটির প্রথম সদস্য৷অরবিন্দ ছিলেন মুখ‍্যত বঙ্কিমচন্দ্রের ভাবের উত্তরসাধক৷অরবিন্দ বলেছিলেন - আমাদের এই সনাতন ধর্মটাই হলো আসল জাতীয়তা৷বাংলার যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতি বাংলার চরমপন্থী(Extremist) আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকাও ছিল চিত্তরঞ্জনের দাশ -এর৷এই উভয় দলের বিপ্লবীদের অনেকই নাগপুরে কংগ্রেস ডেলিগেট হিসাবে যোগদান করতে এসেছিলেন চিত্তরঞ্জনের ব‍্যক্তিগত অনুরোধে৷ গান্ধীর নেতৃত্বের মধ্যে সংঘর্ষ করার জন‍্য৷নাগপুরের কংগ্রেস অধিবেশনে হাতাহাতি হয়ে গিয়েছিল৷অবশেষে চিত্তরঞ্জন লাজপৎ ও মতিলাল গান্ধীর যুক্তি মেনে নিলেন৷অসহযোগ ও অহিংসার পথে দেশের কাজ আত্মনিয়োগ করা নিয়ে গান্ধী ও চিত্তরঞ্জনের মধ্যে চুক্তি হয় - দেশবন্ধুর দিক থেকে গান্ধীর অহিংস - নীতির প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ,আর গান্ধীর দিক থেকে বলা হয় যে ,এক বছরের মধ্যে তাঁর নির্দেশিত পথে স্বরাজ লাভ না হলে তিনি চিত্তরঞ্জনের নেতৃত্ব মেনে নেবেন৷এর পরে চিত্তরঞ্জন মনকে প্রথম স্পর্শ করেছিল ৷ তখন থেকেই প্রণোদিত সত‍্যোজ্জ্বল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছিলেন৷নাগপুর থেকে ফিরলেন অসহযোগী চিত্তরঞ্জন৷

চিত্তরঞ্জনের রাজনৈতিক গুরু বিপিনচন্দ্র যথার্থ বলেছেন " চিত্তরঞ্জনের দেশচর্যার সঙ্গে তাঁর সাহিত্য চর্চাকে মিলিয়ে দেখতে হবে৷ তিনি যেমন কল্পনাপ্রবণ তেমনি আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁর পক্ষে সাহিত্য থেকে দূরে থাকা সম্ভব ছিল না৷ তাঁর সাহিত্য সাধনা বা কাব‍্য চর্চা দুয়ের কোনটাই একটানা হতে পারে নি ,তাই তাঁর কাব‍্যজীবনের বিকাশ আছে ,বিস্তার আছে ,কিন্তু পরিণতি নেই৷তথাপি একথা সত্য যে ব‍্যারিস্টার সি আর দাশ বাংলার সাহিত্য সমাজে একসময়ের কবি চিত্তরঞ্জন" হিসেবে খ‍্যাতিলাভ করেছিলেন৷ বৈষ্ণব সাহিত্যের সঙ্গে চিত্তরঞ্জনের নিবিড় সংযোগ ছিল৷চিত্তরঞ্জনের কীর্তন প্রীতি প্রসিদ্ধ৷ সাহিত‍্য ও কবিতাকে তিনি জাতির জীবনধর্মের অঙ্গীভূত করতে চেয়েছিলেন৷
দেশবন্ধু সম্পাদিত " নারায়ণ" পত্রিকা পরাধীন ভারতের বিস্তৃত ইতিহাসের এক নির্ভরযোগ্য দলিল৷ ১৯১৪-১৯২১ নারায়ণ পত্রিকা মাত্র আট বছর প্রকাশিত হয়েছে৷ তাঁর কবিতায় নাস্তিকতা - বিষয়ক কবিতাগুলি লক্ষনীয়৷ শেষের দিকে কবিতায় ঈশ্বর প্রেমে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ দেখা গেছিল৷প্রথম প্রকাশিত কাব‍্যগ্ৰন্থ মালঞ্চ (১৮৯৫)৷পরবর্তী কাব‍্যগ্ৰন্থ মালা(।১৯০৪) ,সাগর সঙ্গীত( ১৯১৩) ,অন্তর্যামী(১৯১৪)। চতুর্থ কাব‍্যগ্ৰন্থ৷অন্তিম কাব‍্যগ্ৰন্থ কিশোর -কিশোরী(১৯১৫) ,এখানে বৈষ্ণব আবহ এখানে সুস্পষ্ট৷চিত্তরঞ্জনের কাব‍্যপ্রয়াস সামান্যই ৷ আদালত আর রাজনৈতিক মঞ্চের টানাপোড়েন তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন অতিবাহিত হলেও তাঁর প্রাণের অন্তরলীন " চিন্তক সত্তা" প্রকাশ পেত কবিতায়৷ জনসেবা ,দানধ‍্যান ,রাজনীতি আর কবিতাতেই তাঁর গভীর আদর্শবাদ প্রকাশিত হয়েছে৷ বাংলার সুরের সন্ধানে বৈষ্ণব ভাবাদর্শ তাঁর সহায়ক হয়েছিল৷ সাহিত‍্যে সাধুভাষারই পক্ষপাতী ছিল নারায়ণ৷মৌখিক ভাষাকে সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইতেন না৷ কিশোর কিশোরী তে যেমন তাঁর কবি জীবনের পরিসমাপ্তি ,তেমনি এই পত্রিকাখানি উঠে যাওয়াতে তাঁর সাহিত্য সাধনায় ছেদ পড়ে এবং তখন থেকেই কবি চিত্তরঞ্জন ,সাহিত্যিক চিত্তরঞ্জন ভাবের জগৎ থেকে কর্মের জগতে মুখ ফেরালেন ,সাহিত্য কর্ম বর্জন করে রাজনৈতিক কর্মে ঝাঁপ দিলেন৷ ধর্ম ও জাতীয়তার একত্র সংযোগেই চিত্তরঞ্জনের সাহিত্য৷ এ তিনি পেয়ে ছিলেন নি: সন্দেহে বঙ্কিমচন্দ্রের কাছ থেকে৷ব্রাম্মসমাজের সঙ্গে সামান্য যোগ ছিল ,শেষ জীবনে তাহা একেবারে ছিন্ন করে৷ তাঁহার হিন্দুত্ব এবং স্বরাজ সাধনা ,দুই -ই এক মূল হইতে উৎপন্ন হয়েছিল৷

আমরা দেখলাম ১৯২০ সালের ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রের নাগপুর জেলায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন অসহযোগের মূল প্রস্তাব পাস হয়৷ কংগ্রেসের নবীন ও প্রবীণ সংঘর্ষের পর নাগপুর থেকে ফিরলেন অসহযোগী চিত্তরঞ্জন৷তিনি জীবনের শেষ পাঁচ বছর দেশের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন৷১৯২০ এর দশকে বাংলাতে এক নতুন ধরণের রাজনৈতিক ধারার উদ্ভব হয়েছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের হাত ধরে৷
দেশবন্ধু মাত্র কয়েক বছরের রাজনীতি চর্চায় দল ও মত নির্বিশেষে সমগ্র ভারতের অবিসংবাদী নেতার গৌরব লাভ করে ছিলেন৷
চিত্তরঞ্জন দাশের জন্মের একবছর পর ১৮৭১ সালে হান্টার তার বইতে উল্লেখ করেছেন যে বাংলায় ৬৮১ জন হিন্দু অফিসারের বিপরীতে মাত্র ৯২ জন মুসলমান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন৷ ১৯২৩ সাল পর্যন্ত ,বাঙালি মুসলমানদের অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি৷ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতে ,সি আর দাশ একজন বাস্তববাদী ছিলেন যিনি বুঝতেন যে বাংলায় সাম্প্রদায়িক সমস্যা অর্থনৈতিক ৷চিত্তরঞ্জন দাশের সমসাময়িক নেতা শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন, তিনি বুঝেছিলেন যে বাংলার অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন৷দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ব‍্যবধান কাটিয়ে উঠতে এবং বাঙালি মুসলমানদের আশঙ্কা কাটিয়ে উঠতে , চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৩ সালে
১লা জানুয়ারি কংগ্রেস ত্যাগ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে 'স্বরাজ্য দল' গঠিত হয়।যা চিত্তরঞ্জন দাশ (C.R. Das) এবং মতিলাল নেহেরুর মতো নেতারা মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাজ‍্য দল গঠন করেন।ঐ বছরে চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে বেঙ্গল প্যাক্ট ১৯২৩ সালে পাশ হয়, যা বাংলায় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়েছিল। এছাড়া মর্লে মিন্টো সংস্কারের মধ্য দিয়ে আসা পৃথক ধর্মভিত্তিক নির্বাচন এর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে হিন্দু মহাসভার জন্ম হয়েছিল ১৯০৯ সালে। হিন্দু সমাজের ভেতর থেকে নানা উগ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছিল এবং মর্লে মিন্টো সংস্কারে ধর্মভিত্তিক নির্বাচনের প্রস্তাব এলে তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাঙালি ভদ্রলোক শ্রেণি, যারা ছিল মূলত উচ্চবর্ণ হিন্দু, তারাই বেশি সংখ্যায় সেসময় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ছিলেন। এই ভদ্রলোক শ্রেণি তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয় থেকে কীভাবে অধিকার সংরক্ষণের প্রশ্নে এককাট্টা হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন জয়া চ্যাটার্জী তাঁর বেঙ্গল ডিভাইডেড বইতে।চিত্তরঞ্জন দাশ "বেঙ্গল প‍্যাক্ট "চুক্তির মাধ্যমে আইনসভা ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিলেন৷আজকে যখন আইনসভা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে বা শূন্য করছে তখন চিত্তরঞ্জনের দাশের রাজনৈতিক আদর্শ ভারতীয় গণতন্ত্রকে বাঁচাতে সাহায্য করবে৷বাংলায় কংগ্রেসের অনেক নেতা চুক্তিটির বিরোধিতা করে। এস.এন ব্যানার্জী, বি.সি পাল ও অন্যান্যদের নেতৃত্বে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির হিন্দুরা এটির বিপক্ষে অনমনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের ভয় ছিল যে, চুক্তিটি হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রভাব দুর্বল করে ফেলবে।কিন্তু ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোকনদ সেশনে চুক্তিটি বাতিল করা হয় ৷ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যে অবস্থান নিয়েছিল, চিত্তরঞ্জন দাশ তার সমালোচনা করে ঘোষণা করেন, “তোমরা সভার সিদ্ধান্তসমূহ থেকে বেঙ্গল প্যাক্টকে মুছে ফেলতে পার, কিন্তু ভারতের জাতীয় কংগ্রেস থেকে বাংলাকে বাদ দিতে পারবে না...এ রকম শিষ্টাচারহীন রীতিতে বাংলাকে মুছে ফেলা যাবে না। যারা চিৎকার করে বলে যে ‘বেঙ্গল প্যাক্টকে মুছে ফেল’ তাদের যুক্তি আমি বুঝতে পারি না... বাংলা কি অস্পৃশ্য? এ রকম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করার বাংলার অধিকারকে কি তোমরা অস্বীকার করবে? যদি তোমরা তাই কর, বাংলা তার নিজের ব্যবস্থা নিজেই গ্রহণ করতে পারবে। তোমরা অভিমত ব্যক্ত করার ব্যাপারে বাংলার অধিকারকে প্রত্যাখ্যান করতে পার না”৷ দেখা যাচ্ছে ১৯২২ সালে চৌরিচৌরার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অসহযোগ আন্দোলন গান্ধীজি আকস্মিক প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে ,অচিরেই ব্রিটিশ বিরোধী গণ আন্দোলনে শুরু হয় ভাঁটার পর্ব, হিন্দু মুসলিম ঐক্য ভেঙে পড়ে৷ মাওলানা আজাদ মতামত দিয়েছিলেন যে চুক্তি বাতিলের সাথে সাথে বাঙালি মুসলমানরা কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যায় এবং ভারত বিভাগের প্রথম বীজ বপন করা হয়৷ তবুও বাংলার প্রাদেশিক রাজনীতিতে চিত্তরঞ্জন দাশ সবচেয়ে বেশি জোর দেন হিন্দু - মুসলিম ঐক্যের দিকটির ওপর ৷তিনি বলেন - হিন্দুরা যদি মুসলমানের মনে আস্থা সৃষ্টি করিতে না পারে ,তবে হিন্দু -মুসলিম ঐক্য আসিবে না ৷ হিন্দু - মুসলিম ঐক্য ব‍্যতীত আমাদের স্বরাজের দাবি চিরকাল কল্পনার বস্তুই থাকিয়া যাবে৷" ৷ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এই দুইটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য দেশবন্ধু যে আন্তরিকতা ও আগ্ৰহ প্রদর্শন করেছিলেন, তা স্মরণ করেই তাঁর মৃত্যুর ফরে মাওলানা মহম্মদ আলি তাঁর " কমরেড " পত্রিকায় লিখেছিলেন" দাশ মুসলমানদিগের সহিত যে ব‍্যবহার করিয়াছেন কোন ভদ্র মুসলমান তাহা ভুলিতে পারেন না"

দুর্ভাগ্যবশত ১৯২৫ সালের ১৬ই জুন
তাঁর অকাল মৃত্যুতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি হয়।দেখাযায় ১৯২৬ সালের ২২শে মে তারিখে, বাংলার কংগ্রেসের কৃষ্ণনগর সম্মেলনে চুক্তিটি বাতিল হয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কয়েকজন অনুসারীও চুক্তিটি বর্জন করেন।এর ফলে অনেক বাঙালি মুসলমান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দগণ মর্মাহত হন এবং তাঁরা কংগ্রেস ও স্বরাজ্য উভয় দল থেকেই দূরে সরতে থাকেন। মুসলমানদের দলত্যাগের ফলে প্রদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু মুসলমান নেতা মৌলভী আব্দুল করিম, মওলানা আব্দুর রউফ, খান বাহাদুর আজিজুল হক, আব্দুল্লা হিল বাকি, মৌলভী আশরাফউদ্দীন, ড. এ সুরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক প্রমুখের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি গড়ে ওঠে।দেখাযাচ্ছে হিন্দু -মুসলিম ঐক্য ভেঙে পড়ে ,এই পর্বে ১৯২৫ সালেও জন্ম নেয় আর এস এস ,নতুন করে বিকশিত হয় হিন্দু মহাসভা(জন্ম-১৯০৯)৷ চিত্তরঞ্জন দাশের হিন্দু জাতীয়তাবাদী থেকে অসহযোগী হয়ে ওঠার পর স্বরাজ‍্য দলের গঠন ও তাঁর ঐক‍্যচিন্তা পরিপূর্ণ বিকশিত হতে পারলে শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসই অন্যরকম হতে পারত। বর্তমানে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে বিষবাস্প আমাদের সামনে নতুন ধরনের সংকট নিয়ে এসেছে, আজকের বাস্তবতা অনুযায়ী তার মোকাবিলা করা দরকার। সেই কাজে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের চিন্তা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আমাদের সহায়ক হতে পারে।

তথ্য:
১. দেশবন্ধু - মনি বাগচি
২.সম্প্রীতির সঙ্কট, ঐক্য এবং বঙ্গবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ-সৌভিক ঘোষাল ( প্রবন্ধ) ,সহমন, ৫ নভেম্বর ২০২০

Address

Medinipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share