31/05/2026
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপের কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করার পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে এআইডিএসও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন-
" বিগত সরকারের আমল থেকে আমরা লক্ষ্য করছি শিক্ষকদের শিক্ষা বহির্ভূত একটার পর একটা কাজে জড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরম বিপর্যস্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। মাত্র কয়েকমাস আগে ছাত্র- শিক্ষক- অভিভাবক সহ শিক্ষাপ্রেমী মানুষদের মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে পূর্বতন রাজ্য সরকার বিএলও'র কাজে প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় এবং ইলেকশন কমিশন প্রায় দুমাস ধরে নির্বাচনের সময় শিক্ষকদের কাজে লাগিয়েছে। এমনিতেই দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলগুলিতে শিক্ষক সংকট একটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের শিক্ষা বহির্ভূত কাজে লাগানোর ফলে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থা আরো সংকটের মুখোমুখি হয়েছে । দিনের পর দিন বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ক্লাস না হওয়া এবং উপযুক্ত সময়ে সিলেবাস না শেষ করতে পারা রীতিমতো স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হচ্ছে এবং ফলস্বরূপ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই একটা অংশের অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাধ্য হচ্ছেন, আর বেশিরভাগ অভিভাবককেই বাধ্য হয়ে নির্ভর করতে হচ্ছে চূড়ান্ত অব্যবস্থার মুখোমুখি সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। নবগঠিত রাজ্য সরকার ক্ষমতায় এসেই পূর্বতন সরকারের শিক্ষাস্বার্থ বিরোধী পরিকল্পনা বাতিল করার বদলে ওই একই নীতি গ্রহণ করার নিদান দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন গ্রীষ্মের ছুটি থাকার পর যখন ১ জুন থেকে স্কুল খুলছে তখন বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপের কাজে শিক্ষকদের লাগানোর পরিকল্পনা করছে। আবারো ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছাত্রছাত্রীরা, ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা। এমনকি শোনা যাচ্ছে সেন্সাসের কাজেও শিক্ষকদের লাগানোর পরিকল্পনা হচ্ছে।
শিক্ষা বহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের এভাবে লাগানোর আমরা চূড়ান্ত বিরোধীতা করছি এবং রাজ্য সরকারকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।"