27/07/2026
"সাংবাদিক নিগ্রহ মানছি না মানবো না।"
সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ অবশ্যই সমর্থন যোগ্য নয়। তাই আজকে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেছে।
কিন্তু এরপরও কি কিছু প্রশ্ন থেকে যায় না...?
গণমাধ্যম নাকি গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাহলে এই সংবাদ মাধ্যমের নিরপেক্ষ খবর পরিবেশন করা উচিত নাকি শাসকদলের বা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের দালালি করা?
দিনের পর দিন যখন আমরা দেখতে পাই শাসক দল নানা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এবং নাগরিকের ভোট পেয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার সেই নাগরিকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখে। তারপরও কিছু দালাল সংবাদ মাধ্যম যেগুলোকে "গোদি মিডিয়া" বলা হয় সেইসব সংবাদ মাধ্যম ভয়ে শাসক দলকে বা সরকারকে একটিও প্রশ্ন করতে পারেনা।
যখন দিনের পর দিন মানুষের উপর অত্যাচার ও অন্যায় বাড়তে থাকে; তখন সাধারণ মানুষ শাসকের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথে নামে, আন্দোলন করে, প্রতিবাদ করে, তখন আবার এই দালাল সংবাদ মাধ্যম গুলো আন্দোলনকারী মানুষদের দেশদ্রোহী, বিদেশী শক্তির মদত ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে এদের নামেই মিথ্যা প্রচারণা চালায় এবং শাসক দলকে ডিফেন্ড করতে থাকে। তাহলে মানুষের মনে এইরকম সংবাদ মাধ্যমের প্রতি, মূলত মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এবং এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ দালাল সংবাদ মাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ নেমে আসছে। (আবারও বলছি এটা সমর্থনযোগ্য নয়)।
যখন মূলধারার গণমাধ্যম সব জেনে বুঝেও ইচ্ছে করেই ফেক নিউজ পরিবেশন করে, মিথ্যে খবর ছড়ায়, ভুয়ো খবর ছড়ায় তখন কি এইসব মিডিয়াকে বয়কট করা উচিত নয়?
সবগুলো মূলধারার গণমাধ্যম যে শাসকের দালালি করে বা কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের দালালি করে সেটাও বলছি না। কিছু নিরপেক্ষ গণমাধ্যম ও সাংবাদিক আছেন যারা সত্য খবর প্রকাশ করে, ঠিক কে ঠিক, ভুলকে ভুল বলার ক্ষমতা রাখে, শাসক কে প্রশ্ন করতে ভয় পায় না, শাসকের ভুল ধরিয়ে দিতে ভয় পায় না, সাধারণ নাগরিক ও অত্যাচারিত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে খবর পরিবেশন করে। এদেরকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। কিন্তু এই সত্য খবর প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সময় এই সমস্ত নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের উপর শাসকের কালো হাত আঘাত হেনেছে।
আমরা দেখেছি অতীতে এরকম অনেক নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক কর্মীর উপর শাসক দল বিভিন্ন রকম ভাবে ইডি, সিবিআই ও ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট ইত্যাদির রেড পড়েছে অন্যায় ভাবে, এদের উপর আক্রমণ নেমে এসেছে শাসকের দুর্নীতি তুলে ধরার জন্য, এমনকি এদের পরিবারও শাসক দলের রোষানলে পড়তে হয়েছে। এছাড়াও শাসকদলের নেতা কর্মীদের হেনস্থার স্বীকার হতে হয়েছে। অনেক সাংবাদিককে জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করতে হয়েছে। ঠিক এই সময়ে এই সমস্ত প্রতিবাদী সাংবাদিকরা কোথায় ছিল? তখন কি এই সাংবাদিকদের উপর হওয়া অন্যায় ও শাসকের অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করেনি?
সত্য ও নিরপেক্ষ খবর করতে গিয়ে যখন কোনো সাংবাদিক শাসকদলের দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন যদি তোমরা একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়ে শাসকের দ্বারা আক্রান্ত সহকর্মীটির পাশে না দাঁড়াও; তাহলে আজকে যখন তোমাদের দালালির জন্যই তোমাদের ওপর ক্রুদ্ধ জনগণের আঘাত নেমে আসছে তাহলে এখন তোমাদেরও পাশে আর কেউ দাঁড়াবে না। এর প্রমাণ আমরা কমেন্ট সেকশন খুললেই দেখতে পাচ্ছি। শাসকদলের দালাল রা ছাড়া এই দালাল মিডিয়ার প্রতি কারো সহানুভূতি নেই।
তাই এখন দেশের বেশিরভাগ মানুষ এইসব দালাল "গোদি মিডিয়াকে" বয়কট করতে শুরু করেছে। এখন আর মূলধারার গণমাধ্যম বেশিরভাগ মানুষই দেখে না। এদের থেকে বেশি নিরপেক্ষ ও সত্য খবর এখন সোশ্যাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে (যদিও একইসাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরও ছড়ায়)। ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিকেটর বা ইউটিউব -এ নিরপেক্ষ ভাবে খবর পরিবেশন করা সৎ ও সাহসী সাংবাদিকরা এখন বেশি গ্রহণযোগ্য মানুষের কাছে।
অতএব মূলধারার গণমাধ্যম গুলো যদি শুধরে যায় তো ভালো, নচেৎ যত দিন যাবে মানুষ মেইনস্ট্রিম মিডিয়াকে বর্জন করতে থাকবে। এবং এর জায়গা সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাংবাদিকরা দখল করবে; যেটা ইতিমধ্যে হতে শুরু করেছে। এবং এই সমস্ত দালাল গণমাধ্যম বয়কটের ডাক আরো বৃদ্ধি পাবে।
পরিশেষে একটা কথাই বলবো, যদি কোন দালাল গণমাধ্যম কর্মী জনরোষের শিকার হয়ে আক্রান্ত হয় তাহলে সেটাকে সমর্থন না করলেও অন্তত দালাল গণমাধ্যম বা গোদি মিডিয়ার প্রতি কোন রকম সহানুভূতি থাকবে না।