07/10/2026
চায়ের কাপে তখন শেষ চুমুকটা সবে পড়েছে, কিন্তু আড্ডার ওম তখনও বাতাসে ভাসছে। ক্যাফে ভর্তি মানুষ, আর সামনে একঝাঁক উজ্জ্বল, কৌতূহলী চোখ—এমন আসর পেলে কোনো সাহিত্যিকের পক্ষেই কি আর চুপ করে থাকা যায়?
কথার পিঠে কথা বাড়ছিল। কেউ জানতে চাইলেন শব্দের বুনোট নিয়ে, কারও কৌতূহল চরিত্রের ভেতরের টানাপোড়েন কিংবা সাহিত্যের বাঁকবদল নিয়ে। সাহিত্যিকও অকপটে মেলে ধরছিলেন তাঁর এতগুলো বছরের দেখা জীবন, চড়াই-উতরাই আর লেখার নেপথ্যের নানা টুকরো স্মৃতি। সাহিত্য তো নিছক কাগজ আর কালির বোঝাপড়া নয়; এক অন্তহীন যাপন—যার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে বেঁচে থাকার আলো আর আঁধার।
সৃষ্টি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা নিভৃত ঘর ছেড়ে পাঠকের আঙিনায় গিয়ে পৌঁছায়। আর তাঁর এই দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রায় 'অরিত্র প্রকাশনী' কেবল এক প্রকাশক নয়, হয়ে উঠেছে পরম এক সহযাত্রী। তাদের হাত ধরেই তাঁর এক-একটি পাণ্ডুলিপি জীবন্ত বইয়ের রূপ পেয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা প্রান্তে। আড্ডার ফাঁকে যখন তাঁর সেই প্রকাশিত বইগুলোর প্রসঙ্গ উঠল, তখন অজান্তেই এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল পরিবেশ।
লেখালেখি হয়তো নির্জন একাকী এক সাধনা, কিন্তু এমন প্রাণবন্ত আড্ডার উষ্ণতায় এসে বারবার মনে হয়—শব্দই তো মানুষকে একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রাখার আসল সেতু।