30/05/2026
|| কলেজ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত প্রোগ্রামে রাজনৈতিক দখলদারির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হও ||
গতকাল কলকাতা মেডিকেল কলেজের জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘Artificial Intelligence in Healthcare’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, সেমিনারের নির্ধারিত প্রোগ্রাম সিডিউলে উল্লিখিত বক্তাদের বাইরে হঠাৎ করেই RSS-পরিচালিত চিকিৎসক সংগঠন NMO-র এক নেতা উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন। একথা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্টতই রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি তাঁর বক্তব্যে NMO-র বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক এজেন্ডা ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেন এবং কার্যত আন্দোলন করলে জেলে যেতে হতে পারে বলেও হুমকির সুরে মন্তব্য করেন।
শুধু তাই নয়, সেমিনারে উপস্থিত আরও কয়েকজন বক্তাও নিজেদের বক্তব্যে পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিভিন্ন নীতিকে নগ্নভাবে প্রশংসা করেন, যা এই ধরনের একটি সেমিনারের পরিবেশের পরিপন্থী।
সরকারিভাবে আয়োজিত একটি শিক্ষামূলক সেমিনারে ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করে। সেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এহেন রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করা এবং পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্যের সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা তীব্র ধিক্কার জানাই। বিগত দিনের আরজিকর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে থ্রেট কালচারের নগ্ন রূপ উন্মোচিত হয়েছিল এবং যার বিরুদ্ধে আমাদের মেডিকেল কলেজসহ রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন, সেই থ্রেট কালচারকে কি আমরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব? কলেজের মধ্যে দিনের আলোয় আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের জেলে পাঠানোর হুমকি— এই ধরনের ভয় প্রদর্শন ও দমনমূলক আচরণ কি আমরা মেনে নেব? আমাদের উত্তর স্পষ্ট: না। শিক্ষাঙ্গনে ভয়, সন্ত্রাস ও হুমকির কোনো স্থান হতে পারে না।
তাই সকল গণতন্ত্রপ্রিয় ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমাদের আবেদন— কলেজের মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ রক্ষা করতে এবং থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে AIDSO-র চলমান আন্দোলনে সামিল হও।
আমাদের দাবি:
১. কলেজ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা চলবে না।
২. গত ২৯ মে জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগ আয়োজিত সেমিনার কি করে একটি রাজনৈতিক প্রচার সভাতে পরিণত হল অবিলম্বে তার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং রিপোর্ট ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।