20/02/2026
দল পরিবর্তন : মতাদর্শ : প্রতিকুর..................................................................
প্রশ্ন গুলি জানা. উত্তর গুলি না পাওয়া. আমি নিজের কথা বলছি না. কিন্তু আমার মা নুর নাহার বেগমের কথা বলব..
১৯৭০- ৭৭ কিশোরী আনার কলি ওরফে নুর নাহার আহ্লাদ পুরের জনগনের প্রতিরোধের প্রকৃত অগ্নিকন্যা ছিলেন.
রায়না খন্ডগোসের মাটি নিয়ে তৈরী কমিউনিষ্ট পার্টির দক্ষিন দামোদর জোনাল কমিটির সদস্যা. এবং জনপ্রিয় কৃষক নেত্রী.
১৯৭৭ সালের পর যুক্ত হয়েছিলেন মহিলা সংগঠনে. প্রশাসনে ছিলেন. অবিভক্ত বর্ধমান জেলার জেলা পরিষদের সদস্যা.
তিনি দুটি সংগঠন কৃষক সভা ও মহিলা সমিতির সর্বভারতীয় কমিটির সদস্যা ছিলেন.
কিন্তু গনসংগঠন, পার্টি সংগঠন ও প্রশাসনে বহু প্রতিঘাত সহ্য করেছেন তিনি. এমন কি ব্যাক্তিগত ভাবে আক্রমনের শিকার হয়েছিলেন পার্টির উচ্চ নেতৃত্বের দ্বারা.
আবার মদন ঘোষের মত পার্টির উচ্চ নেতৃত্ব স্রেফ সামসুল আলম ও নুর নাহার বেগমকে নিরাপত্তা দিতে পহলানপুরের বাড়িতে রাতের পর রাত. কাটিয়েছেন.
২০০৬ এর বিধান সভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার নামের প্রস্তাবে নুর নাহার বেগমের নাম উঠে এলে বর্ধমান জেলার নেতৃত্বের একাংশ পহলানপুরের বাড়িতে আক্রমন সংগঠিত করেন.. এবং জনরোষের দোহাই দিয়ে পার্টির সর্বভারতীয় সম্পাদকে ভুল বুঝিয়ে রায়না কেন্দ্র থেকে নুর নাহার বেগম কে বাদ দিয়ে খন্ডগোস থেকে এক মহিলা কে প্রার্থী করা হল. বছর দুই পর তিনি বিধান সভা থেকে পদত্যাগ. করলেন. অর্থাত নুর নাহার বেগমকে আটকাতে ওনাকে ব্যাবহার করলেন বর্ধমানের নেতৃত্ব.
শুধু তাই নয় জেলা পরিষদের সুদক্ষ জনপ্রতিনিধি হওয়া র কারনে নেতৃত্বের একাংশ বিভিন্ন অপবাদ দিতে থাকলেন. তবুও জনপ্রিয়তা কাড়তে পারে নি তাঁর অপছন্দের গব্বর সিং নেতৃত্ব.
২০১১ সালে তীব্র অত্যাচারেও গ্রাম ছাড়েন নি. ছাড়েন নি মহিলা সমিতি ও কৃষক সভার কাজ. অনৈতিক জেলা নেতৃত্বের তাঁবেদার জোনাল নেতৃত্ব যখন নিজেদের পকেট থেকে অর্থ দিয়ে মহিলা সমিতি ও কৃষক সভার ভুয়ো সদস্য জমা দিচ্ছেন তখন নুর নাহার বেগম রায়নার প্রতিটি গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সংগঠনের কর্মীদের সক্রিয় করছেন.
কিন্তু কোনও কারন ছাড়াই পার্টির নেতৃত্ব দুই সংগঠনের সমস্ত কমিটি থেকে বাদ দিলেন..
জনগনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ছিল.... ... কিন্তু নুরনাহার বেগমের বক্তব্য ছিল ' এটাও শ্রেনি সংগ্রাম...... মেহনতি মানুষের পিছিয়ে যাওয়া " সেটা প্রমান হল যখন পার্টির জেলা নেতৃত্ব ভয়ে গ্রাম ছাড়লেন, জরিমানা দিলেন. সন্ত্রাসের মুখমুখি না হয়ে সন্ত্রাসিদের দলে নাম লেখালেন.........
আমি গর্বিত সন্তান নুরনাহার বেগমের যিনি পার্টি নেতৃত্বের কাছে অবাঞ্ছিত হয়েও পহলান পুরের মেহনতি মানুষের মাঝে থেকে গেলেন আমৃত্যু....
কিন্তু প্রতিবাদ করেছিলেন পার্টির নেতৃত্বের কাছে এক অভিমানি চিঠি লিখে.
তাঁর জবাব দেবার প্রয়োজন বোধ করেন নি পার্টির কেন্দ্রীয়, রাজ্য নেতৃত্ব... তবুও নিরবে থেকে গেলেন.
২০১১ র পর আমাদের গ্রামের বাড়িতে প্রায় ১০ বার সন্ত্রাসি বোমাবাজি হয়েছে... রাজ্য জেলা কোনো নেতৃত্ব খোঁজ নেননি.
আজকে প্রতিকুর যাঁকে আক্রমন করছে সেই সেলিমদা, মহম্মদ সেলিম, আভাসদা ও রবিনদা , আমাকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন নুর নাহার বেগম ও সামসুল আলমের.
মায়ের মৃত্যুর পর রাজ্যের এক পার্টি নেতা বর্ধমানের এক প্রাক সম্পাদককে ফোন করতে বলেন.. যাঁকে আমি মামা বলে ডাকি এখনও... তিনি ফোন ধরলেনই না.
এমনকি মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় দুই সংগঠনের মহিলা সমিতি ও কৃষক সভার লোকাল, জোনাল, জেলা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন হল. বহু তরুন তরুনি কৃষকের, দলিতের ও মাহিলাদের সংগ্রামের হাল ধরলেন...
কিন্তু নুর নাহার বেগম বিস্মৃত থেকে গেলেন...... ভবিষ্যত বাংলা পুরানো "একসাথে" পত্রিকার ময়লা পাতা একদিন ঘাঁটবে এবং নুরনাহার বেগমকে জানবে...... এবং অবশ্যই এসময়ের কমিউনিষ্ট নেতৃত্বের অমানবিক রুপ নিয়ে প্রশ্ন করবে আবার এটাও জানবে দলের মধ্যে সাচ্চা কমিউনিস্ট দের লড়াই...
কিন্তু ফুটো নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নয়, ফুটো নৌকা সারিয়ে.........
........ নুর আলম