02/10/2026
আজ ২রা অক্টোবর। রাষ্ট্র যখন মেকি আনুষ্ঠানিকতায় গান্ধীর ছবি সাজাতে ব্যস্ত, তখন বরং স্মরণ করা যাক নোয়াখালী আর কলকাতার দাঙ্গা-বিধ্বস্ত পথে একা হেঁটে যাওয়া সেই রক্তমাংসের মানুষটিকে। গান্ধী কোনো নির্বিষ প্রতিমা নন; গান্ধী হলেন সেই দুর্ভেদ্য নৈতিক জেদ, যা উন্মত্ত সংখ্যাগুরুর দাপটের সামনে দাঁড়িয়ে একচুলও নতি স্বীকার করেন নি। দেশভাগের রক্তাক্ত উন্মাদনায় যখন ধর্মই হয়ে উঠেছিল হিংসার একমাত্র ব্যাকরণ, তখন নিজের শরীরটাকে সম্প্রীতির শেষ পরিখা বানিয়ে তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সেই আপসহীন ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে, ফ্যাসিবাদের বিষে অন্ধ নাথুরাম গডসেকে নিজের পিস্তল উঁচিয়ে ধরতে হয়েছিল। স্বাধীন ভারতে প্রথম উগ্র দক্ষিণপন্থী হিংসার শিকার হয়েও গান্ধী কিন্তু হেরে যাননি; তাঁর বুকের রক্তে লিখিত হয়েছিল এই ভূখণ্ডের অখণ্ড বহুত্ববাদের শপথ!
আজকের এই অন্ধকার সময়ে গান্ধীর সেই নৈতিক সাহসই আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। যখন রাষ্ট্রযন্ত্র গডসীয় হিংসা আর বিদ্বেষের ভাষাকে বৈধতা দিতে চায়, পাঠ্যবই থেকে সত্যকে নির্বাসনে পাঠায়, তখন গান্ধীর অহিংসার প্রকৃত অর্থ হয়ে ওঠে এক তীব্র ও আপসহীন দ্রোহ,অন্যায়কে না মানার চূড়ান্ত স্পর্ধা। গডসে ছিল সংকীর্ণ ঘৃণার এক প্রতিচ্ছবি, আর গান্ধী ধারণ করেছিলেন কোটি কোটি দলিত, পীড়িত, প্রান্তিক মানুষের এক উন্মুক্ত আকাশের স্বপ্ন। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে এসএফআই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটি তাঁকে কোনো নিঃশব্দ বেদিতে নয়, রাজপথের নিরন্তর সংগ্রামে স্মরণ করে। আজ তাঁর জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য কোনো পুষ্পস্তবক নয়, বরং ফ্যাসিবাদের চোখে চোখ রেখে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার এক আপসহীন অঙ্গীকার। খুনির উপাসনার এই যুগে গান্ধীর সত্য ও সাহসের আলোতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ আর রাজপথের লড়াই পথ খুঁজে নেবে।