06/10/2026
কি বলব পড়শীর কথা,
হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা নাই-রে
বর্তমানে ভারতবর্ষে ফ্যাসিবাদী শাসন চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছেছে। পুঁজিপতিরা সমগ্র ব্যবস্থা জুড়ে দাসত্বের চাষ করছে। ক্রমাগত এই পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার দাস হয়ে উঠছে ছাত্র ছাত্রীরা। পুঁথিগত পড়াশোনার প্রতিযোগিতা ও সাফল্যের পেছনে ছুটে চলেছে তারা। ব্যর্থতার মাধ্যমে তাদের গ্রাস করছে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও দুর্দশা। সাফল্যের সংজ্ঞা যেন ক্রমশ অন্যের সঙ্গে তুলনায় নির্ধারিত হচ্ছে। এই পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে সফলতা তুলনায় পরিণত হয়েছে, সেই হিসেবের ভিড়ে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে মানুষ নিজেই।
এই অবিরাম প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা, প্রত্যাশার চাপ, ব্যর্থতার ভয় কিংবা একাকিত্ব—সবকিছু মিলিয়ে আমাদের মনের ভিতরেও তৈরি হচ্ছে অদৃশ্য ক্ষত। কিন্তু সেই ক্ষতের কথা বলার জায়গা কোথায়?
অনেক সময় হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্লান্তি। ‘ভালো আছি’ বলার অভ্যাসে চাপা পড়ে যায় ‘ভালো নেই’-এর গল্প। সাহায্যের প্রয়োজন থাকলেও হাত বাড়াতে সংকোচ বোধ করে মানুষে। কারণ এখনও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য ভুল ধারণা, ভয় এবং সামাজিক স্টিগমা।
আমাদের পাশের বেঞ্চে বসা মানুষটি হয়তো নিঃশব্দে লড়াই করছে। যে বন্ধুটি হঠাৎ আর কথা বলে না, যে সহপাঠী প্রতিদিন হাসে অথচ ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ছে, কিংবা যে মানুষটি নিজের সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারছে না—তাদের দিকে একটু মন দিয়ে তাকানোও কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই খোঁজ থেকেই "আরশিনগর যাত্রা" ।
মনের অন্ধকারকে চেনার খোঁজে, না-বলা কথাগুলোর কাছে পৌঁছনোর খোঁজে, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে বুঝতে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সচেতনতা তৈরি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।
মনের অসুখকে লুকিয়ে নয়, তাকে বুঝে—তার পাশে দাঁড়ানোর আলোকছটা ছড়িয়ে দিতে
"আরশিনগর যাত্রা" — মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস ওয়ার্কশপ।
এসএফআই কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাস ইউনিটের উদ্যোগে — "আরশিনগরে এসো বন্ধু ২.০"
আসছে.....