03/06/2026
আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এবং আমাদের কলকাতা।
🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲🚲
ক) আজ ৩রা জুন---বিশ্ব সাইকেল দিবস।
আজকের দিনেই জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস উদযাপিত হচ্ছে। জাতিসংঘের অন্তর্ভূক্ত প্রায় ১৯৩টি দেশ কর্তৃক ২০১৮ সালের ১২ই এপ্রিলের সাধারণ সভায় ৩রা জুন প্রথম বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাইসাইকেল পরিবেশবান্ধব, জ্বালানীমুক্ত, ভূমি সাশ্রয়ী, সুবিধাজনক বাহনের সাথে সাথেই শারীরিক ব্যায়ামের জন্যও উপকারী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ইংল্যান্ড এর জেমস্ স্টারলিকে
বাইসাইকেলের জনক বলা হয় , যিনি পরে বিভিন্ন গ্ৰীয়ার ও চেন ড্র্যাইভের পরিমার্জিত করেন।
খ) সাইকেল এবং আমাদের কলকাতা।
১৮৮৬ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর কলকাতার ময়দান এলাকা সেদিন জন-অরণ্য। সবাই দেখতে এসেছে টমাস স্টিভেন্সকে যিনি ১৮৮৪ সালের ২২শে এপরিল সকালে আমেরিকার সানফ্রানসিসকো থেকে বিশ্বভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েছিলেন প্রথম বাইসাইকেলে চড়ে।
কলকাতায় প্রথম কবে এই দ্বিচক্র যানের আবির্ভাব তার অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। রাধারমন মিত্রের "কলকাতা দর্পণ" এ অবশ্য উল্লেখ আছে ১৮২৭ সালে স্ট্যান্ড রোডে তখনকার দুটি ভেলোসিপিড সাইকেলের রেসের কথা।
আর শোনা যায় ট্যান্ডেমের কথা। একসাথে অনেকে মিলে চালানো যাওয়া এই ট্যান্ডেম বানিয়েছিলেন সাঁতরাগাছির বাসিন্দা প্রসন্নকুমার ঘোষ। ভারতে তাঁর তৈরি সাইকেলটিই হল প্রথম সাইকেল। শহরের নব্যবিলাসীরা অবশ্য তারও আগে বিলাত থেকে আমদানি করতেন ভেলোসিপিড সাইকেল , যাতে প্যাডেল নেই ,পা দিয়ে ঠেলে নিয়ে যেতে হত। আর একটি সাইকেল সেই সময় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো, যার নাম পেনিফার্দিং। ব্রিটিস পেনি আর ফার্দিং এর মতোই তার চাকাদুটো। সামনের চাকাটি বিশাল বড়ো ও পিছনেরটি একদম ছোটো। ইন্দিরা দেবীর লেখায় কলকাতার রাস্তায় পেনিফার্দিং-এর চলাচলের বর্ণনা মেলে। এরপর শহরবাসী সাইকেল প্রেমে এত বিভোর হয়ে যায় যে ১৮৯৭ সালে বেঙ্গল সাইক্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাইসাইকেল কলকাতায় খুব সম্ভবত প্রথম দেখা যায় ১৮৮৯ সালে সেই সময়ের বিশিষ্ট বাঙালি ব্যবসায়ী হেমেন্দ্রমোহন বোসের পৃষ্ঠপোষকতায়।
কলকাতার বুকে বাঙালির প্রথম সাইকেলের দোকানটি ছিল হ্যারিসন রোড / কলেজ স্ট্রিটে। প্রেসিডেন্সি কলেজের পাশেই ছিল নাকি সেই দোকান। দোকানের মালিক ছিলেন হেমেন্দ্রমোহন বসু। সেই দোকানে আরও নানা জিনিসের সাথে মিলতো সুগন্ধীদ্রব্য, রেকর্ড, টর্চ লাইট প্রভৃতি। সবচেয়ে উল্খেযোগ্য বিষয় হলো রাধারমণ বাবু তাঁর বইতে জানিয়ছেন হেমেন্দ্রমোহন বোস এই সাইকেল চড়া শিখিয়েছিলেন স্যার জগদীশচন্দ্র বসুক, প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং নীলরতন সরকার মহাশয়কে। কর্মোদ্যোগী হরিদাস নন্দী হলেন প্রথম বাঙালি যিনি কলকাতায় সাইকেল এর দোকান দেন। তার দোকান এখনও আছে ওয়েলিংটন স্কোয়ারের দক্ষিণে। আগে বিদেশ থেকে সাইকেল আমদানি করা হলেও বর্তমনে দেশীয় সাইকেল প্রস্তুত ও বিক্রয় হয়।
🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴🛴
তথ্যসূত্র সৌজন্যে --- বাংলা উইকিপিডিয়া।
বঙ্গদর্শন পেজ।
শুভজিৎ দে।
ছবিগুলো নেট থেকে সংগৃহীত। সু ঘো।