05/09/2026
একজন শিক্ষক আর তার বিখ্যাত ছাত্র।
শিক্ষক দিবসের জন্য একটি বিশেষ উপস্থাপনা-------
লন্ডনের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে একটা জুতা আঁকা শিশুর ছবি ইতিহাস হয়ে আছে।
কিন্তু তার জীবনের ইতিহাস? খুব কম মানুষ জানে…
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ সময়।
লন্ডনের প্রতিটি অলিগলি যেন ধ্বংসস্তূপ—বাড়িঘর ভেঙে চুরমার, চারদিকে ধোঁয়া, বোমার শব্দ, আতঙ্কিত মানুষের কান্না।একটি স্কুল ধসে গিয়েছিল সেই বোমায়।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিল ছোট্ট এক ছেলে। বয়স বড়জোর আট-নয়।
তিনদিন পর উদ্ধারকারী দল যখন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একে একে মৃতদেহ খুঁজে বের করছিল, হঠাৎ তারা আবিষ্কার করলো—এক কোণে একটি শিশু বসে আছে পাথরের নিচে চুপচাপ।
তার চোখে পানি নেই, কান্না নেই, দেহে রক্ত, কিন্তু মুখে অসম্ভব শান্ত এক চাহনি।
আর আশ্চর্যজনক বিষয়—সে এক হাতে রক্ত//মাখা কয়লা দিয়ে পাশের একটা ইটের গায়ে কিছু একটা লিখে চলেছে।ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসেসে এঁকে যাচ্ছিল একটি জুতা।
ডান পায়ের জুতা।
উদ্ধারকর্মীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,“তুমি এটা আঁকছো কেন?”
শিশুটি তখন শুধু বললো,“মা বলতো, যেদিন আমি আবার স্কুলে যাবো, সেদিন আমার জন্য নতুন একজোড়া জুতা আনবেন।
কিন্তু মা তো আর নেই ।ওটা তাঁর জন্য রাখছি…”
শব্দ থেমে গেল চারদিকে।
উদ্ধারকারীরা চোখ মুছলো। সে ছেলেটিকে নিয়ে গেল অনাথ আশ্রমে।
পরের অধ্যায়টা আরও গভীর…
শুরু হলো নতুন এক যুদ্ধ—জীবনের সঙ্গে।আশ্রমে কেউ তাকে বুঝতে পারতো না। সে কথা কম বলতো, কারও চোখে চোখ রাখতো না।তার সাথী ছিল শুধু একটা পুরনো কাগজে আঁকা জুতা আর ধুলোমাখা কয়লা টুকরো।
তার বয়সী শিশুরা খেলত, হাসতো।
আর সে বসে বসে শুধু নতুন জুতা আঁকতো—কখনো ছেঁড়া কাগজে, কখনো দেয়ালে।
শিক্ষকরা বিরক্ত হয়ে বলতো, “এ তো পাগল ছেলে!”
কিন্তু তখন একজন প্রবীণ শিক্ষক, মিস্টার বার্নার্ড, আশ্রমে নতুন দায়িত্বে যোগ দিলেন।
একদিন চুপিচুপি সেই ছেলেটির পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন।
দেখলেন, একটানা জুতা আঁকছে।
তিনি শুধু বললেন,
“জুতার ভিতর কি কারও স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে, বলো?”
ছেলেটি প্রথমবার তাকালেন তাঁর চোখে।
কাঁপা গলায় বললো,
“আমার মায়ের হাতের গন্ধ ছিল সেই জুতায়।”
সেদিন থেকে মিস্টার বার্নার্ড তার পাশে বসতে শুরু করলেন।পাঠ্যবইয়ের চেয়ে বেশি আঁকাআকিতে উৎসাহ দিলেন।বললেন, “তুই যা আঁকিস, তা শুধু ছবি না— একটা গল্প।”
ধীরে ধীরে ছেলেটি বদলাতে থাকল।
একদিন সে বলল, “স্যার, আমি একদিন এমন জুতা বানাবো যেটা শুধু পায়ে নয়—মনে জায়গা করে নিবে …”
অনেক বছর পেরিয়ে যায়।
সে ছেলেটি আর কেউ নয়—মিস্টার জনাথন ব্রুকস—
যিনি পরে লন্ডনের বিখ্যাত শিশু-জুতা ডিজাইনার হন।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য আরামদায়ক ও মানসিক সহায়ক ডিজাইন তৈরি করে যিনি ইতিহাস গড়েন।
তার প্রথম ব্র্যান্ডেড জুতার নাম ছিল—
“MOTHER’S TOUCH”
সেই জুতার নিচে লেখা থাকত—
“A boy once waited for a mother’s return. Now, he walks every child home.”(একদিন এক ছেলে অপেক্ষা করেছিল মায়ের ফেরার জন্য।
আজ সে প্রতিটি শিশুকে হাঁটিয়ে নেয় ঘরে…)
পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে জনাথন বলেন—
“আমার আজ যা কিছু, তা শুরু হয়েছিল এক শিক্ষক আর একটি কয়লা টুকরোর হাত ধরে।”
তিনি তাঁর প্রথম পুরস্কারটি নিয়ে গিয়ে দেন সেই বৃদ্ধ শিক্ষক বার্নার্ডকে।
তারপর যখন শিক্ষক মরণোত্তর সম্মাননা পান, জনাথন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন,
“যুদ্ধ আমার মা কে কেড়ে নিয়েছিল।
কিন্তু একজন শিক্ষক আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন,,, আমি আমার মধ্যে নিজেকে চিনেছি ।”
মঞ্চে তখন কান্না থামাতে পারেনি কেউ।
আর দর্শক সারিতে বসে থাকা একজন বৃদ্ধা ফিসফিস করে বলেছিলেন—
“আলো কখনো নিভে যায় না,শুধু কখনো কখনো পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকে…
তথ্যসূত্র সৌজন্যে- বাংলা উইকিপিডিয়া।
ছবিটি গুগল প্রাপ্ত।। সু ঘো।