19/02/2024
আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি। আজ থেকে ঠিক ১২৭ বছর আগে এমনই এক ১৯ফেব্রুয়ারি বিশ্ব বিজয়ী স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় পদার্পণ করেছিলেন। ১৫ ই ফেব্রুয়ারি মাদ্রাজ থেকে জাহাজে করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ১৮ তারিখ এসে পৌছলেন বন্দরে। সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ায় তৎকালীন নিয়ম অনুসারে জাহাজেই রাত্রি বাস করে ১৯ তারিখ ভোরে বজ বজ থেকে ট্রেনে করে শিয়ালদা স্টেশনে উপস্থিত হলেন।
তাকে স্বাগত জানাতে তৈরি হয় অভ্যর্থনা কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে দুটি তরণ তৈরি করা হয় একটি শিয়ালদায় হ্যারিসন রোডের সংযোগস্থলে আরেকটি রিপন কলেজের সম্মুখে। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে রিপন কলেজ পর্যন্ত পতাকা,ফুল, লতা পাতা দিয়ে সাজানো হয়েছিল।
সেদিন ভোরে শিয়ালদা স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার যুবকের সঙ্গে কুমুদ বন্ধু সেন। তিনি তাঁর স্মৃতিকথায় লিখছেন, " যখন স্বামীজীর সেই স্পেশাল ট্রেন এল তখন মাননীয় আনন্দ চার্লু ভিড়ের ঠেলাঠেলিতে পড়েই গেলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা কোনরকমে তাকে বাইরে নিয়ে গেল। তখন চারুচন্দ্র মিত্র মহাশয় আমাদের আদেশ দিলেন," তোমরা স্বামীজীকে বেস্টন করে আমরা যে রাস্তা দেখাচ্ছি সেই রাস্তা দিয়ে আমাদের অনুসরণ করে নিয়ে যাবে"। আমরা তদনুসারে স্বামীজীর ঘিরে-ঘিরে চললাম। কামরা থেকে যখন স্বামীজি নামেন, তখন প্রণাম করতে বললেন," That's all right."
স্বামীজি পৌঁছানো মাত্রই চারিদিকে স্বামীজীর জয়ধ্বনি উঠতে লাগল। চারুবাবুর নির্দেশ দিলেন কোচম্যানকে ঘোড়া খুলে দিতে এবং আমাদের গাড়ি টেনে নিয়ে যেতে বললেন। স্বামীজি তাতে আপত্তি করলেন, কিন্তু চারু বাবু বললেন," আমরা আপনাকে সংবর্ধনা করছি, আপনার আপত্তি টিকবে না। এরা রিপন কলেজ পর্যন্ত অনায়াসে আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে"।
তখন স্বামীজি ফুলমালা সজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়ে জোড়হাত করে সকলকে প্রণাম করতে লাগলেন। ক্যাপ্টেন সেভিয়ার মিসেস সেভিয়ার গুডউইন সাহেব সিডনে উপবিষ্ট। লিটনের পিছনে স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে ঠাকুর স্বামীজীর জয়ধ্বনী করছেন। যখন আমহাস্ট স্ট্রিটের মোড়ের কাছে বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীর বাসভবনের সম্মুখে লোকের ভিড়ে ফিটন দাঁড়িয়েছিল তখন আমরা দেখি ত্রিতলের বারান্দা থেকে গোঁসাইজী স্বামীজীকে জোড়হস্তে প্রণাম করছেন। স্বামীজী ও তাঁর দিকে তাকিয়ে প্রণাম করলেন।
অতি কষ্টে স্বামীজীকে কোনরকমে পুরাতন রিপন কলেজের সংকীর্ণ প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হল। সামান্য একটি ক্ষুদ্র বারান্দায় টেবিল চেয়ার দিয়ে স্বামীজীকে বসানো হলো। সেখানে বক্তৃতা করা অসম্ভব। স্বামীজীর শুধু দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে বললেন," তোমাদের উৎসাহে এবং সংবর্ধনায় আমি মুগ্ধ হয়েছি, আনন্দিত হয়েছি। এখানে বক্তৃতা করা অসম্ভব। তোমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভা ভঙ্গ হোক"।
আজ সেই ঘটনার স্মরণে বজ বজ থেকে বিশেষ ট্রেনে স্বামীজীর প্রতিকৃতি নিয়ে আসা হবে শিয়ালদা স্টেশনে। ঘোড়ার গাড়িতে করে শোভাযাত্রা সহকারে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে আলমবাজার মঠে। (এখানে উল্লেখ্য কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করে স্বামীজি আলমবাজার মঠে রাত্রি যাপন করেছিলেন।)
[ স্মৃতির আলোয় স্বামীজি।
সম্পাদক - স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ।
পৃষ্ঠা১৯৩-১৯৪ ]