06/09/2026
বাঙ্গালীর দুর্গাপুজোয় এককালে মহাষ্টমীর দিবসে ' বীরাষ্টমী ' পালনের আবশ্যকতা ছিল; বিজয়া দশমীর মহা পুণ্য দিবসে মাতৃপ্রতিমার বিসর্জন যাত্রায় শত শত যুবক অস্ত্র হাতে মিছিলে অংশগ্রহণ করতেন, লাঠি-ড্যাগার-তলোয়ার-বর্শার চালনা ও ক্ষিপ্রতা রাজপথের দুপাশে দন্ডায়মান বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী নির্বিশেষে হিন্দুদের মুগ্ধ করতো । তাঁরা পরিচয় পেতেন ভাবীকালের ক্ষত্রিয়দের যাঁরা ধর্ম, দেশজননীর অবমাননায় রুখে দাঁড়াতেন বারংবার । বাঙ্গালীর দুর্গাপুজোয় আমিষ আহার নিয়ে যাঁরা বিরক্ত তাঁদের কাছ হতে শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার original form বা মূল শাস্ত্রীয় আরাধনায় প্রত্যাবর্তন সম্পৰ্কে একটিও চিন্তা দেখা গেল না । তাঁরা ফরমায়েশি বক্তৃতার মাধ্যমে হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ অনৈক্যকে চির-শত্রুতায় প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় রত ।
আমিষ প্রসঙ্গে -
শ্রী শ্রী দুর্গাপুজায় মহাশক্তির উপাসনায় এই শ্লোকটি পাঠ করা হয় অতীব প্রাচীন কাল হতে । বিশেষত তান্ত্রিক ও শাক্ত উপাসনায় ।
" মদ্য মাংস বলিপ্রিয়া শাক্তাচারঃ প্রসন্নবদনা
বলিগৃহান দেবীং পশুরক্তং সমাংশকং।।
দ্রংষ্টা করাল বদনে শিরোমালা বিভুষনে।
চামুন্ডে মুন্ডমথনে নারায়ণী নমোহস্ততে।।
ওঁ কৃশোদরি মহাচণ্ডী মুক্তকেশিং বলিপ্রিয়ে,
কুলাচারপ্রসন্নাস্যে নমস্তে শঙ্করপ্রিয়ে ।। "
মহাষ্টমীর দিবসে শ্রী শ্রী সন্ধিপূজায় মা চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেন - অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট + নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট = ৪৮ মিনিটের সন্ধিক্ষণকে শ্রী শ্রী সন্ধিপূজার সময় নির্ধারিত করা হয়। প্রচলিত শাক্ত ব্যাখ্যায় এই সময়টি অত্যন্ত পবিত্র ও ভয়াবহ । এর মূল শাস্ত্রীয় প্রেরণা হল মূল শাস্ত্রীয় অনুজ্ঞা হলো দেবীমাহাত্ম্যের চণ্ড-মুণ্ডবধ। দেবী দুর্গার ভ্রূমধ্য থেকে যে উগ্র দেবী আবির্ভূত হয়ে চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন, তিনিই দেবী চামুণ্ডা । ......স্মরণাতীত কাল হতে বঙ্গের দুর্গা আরাধনায় এই ধারা প্রসিদ্ধ । প্রশ্ন এই - ইহা কি শাস্ত্রীয় নির্দ্দেশ না দেশাচার ?
যাঁরা বঙ্গে আমিষাহারের প্রবল বিরোধী তাঁরা কি মনুস্মৃতিকেও অস্বীকার করেন ? মনুস্মৃতিতে যজ্ঞ ও দেব-পিতৃকার্যে মাংস গ্রহণের অনুমতি আছে; যেমন ৫.৩১-এ বলা হয়েছে— यज्ञाय जग्धिर्मांसस्यैष दैवो विधिः स्मृतः।। ..অবশ্য সেই একই মনুস্মৃতির ৫.৪৮–৫২-এ অহিংসার যুক্তিতে মাংস বর্জনের প্রবল প্রশংসা রয়েছে ।....অর্থাৎ শাস্ত্রীয় পরম্পরার মধ্যেই অনুমোদন এবং নিরুৎসাহ দুইই রয়েছে, একইসাথে । ......আপনি কোন পক্ষে রইবেন তা নির্ধারণ করে আপনার সামাজিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক আর্থ-রাজনৈতিক অবস্থান । রাজনীতি এস্থানে স্থূল অর্থে নয় । যার প্রবাহে সমাজের নির্ম্মাণ বা বিনাশ ঘটে তাহাই রাজনীতি/রাষ্ট্রনীতি ।...পূর্ব্ব ও পশ্চিম ভারতের ঘটনাপ্রবাহ, বিবর্তন ভিন্ন ভিন্ন ।....তাই ঐপ্রান্তের আহরিত বিশ্বাস, জ্ঞান এইপ্রান্তে প্রতিষ্ঠিত হবে বা হতেই হবে এই প্রকার বিশ্বাস হিন্দু ধর্মের মূল বিশ্বাসের বিরোধী ।....এর পর নিষেধাজ্ঞা কি শাক্তমতের বিরুদ্ধেই প্রচলন করার চেষ্টা হবে ? ...এর প্রতিবাদে আরও বেশি এগরোলের সেন্টার, ফিশফ্রাইয়ের দোকান খুলতে বাঙ্গালী মনোযোগী হলে, দুর্ব্বল জাতি বলে এ প্রজন্ম যতটা উপহাসের পাত্র হন তার দশগুণ বেশি হবে । দুর্ব্বল, মেরুদণ্ডহীন বলেই বাঙ্গালী মার্ খায় রংপুরে, চট্টগ্রামে, রাঁচিতে বা শিলংয়ে - কোথাও ধর্মবিশ্বাস বা ভাষা বা কোথাও জাতিসত্তার নামে ।....অতএব, ,মহাশক্তির উপাসনায় বাঙ্গালী রজঃগুণের, রক্তের চর্চ্চার উপাসনা করুক । .....সোশ্যাল মিডিয়ায় কলতলার ঝগড়া হতে নিজেকে রক্ষা করে ।.....শেষ কথা, ৪৬র ডাইরেক্ট একশন ডে-র প্রতিবিধান বাঙ্গালী করতে সক্ষম হয়েছিল রক্তের চর্চ্চা তার মধ্যে ছিল বলেই ।
"আমায় বেত মেরে কি মা ভোলাবে,আমি কি মা'র সেই ছেলে?
দেখে রক্তারক্তি বাড়বে শক্তি, কে পালাবে মা ফেলে?
যায় যাবে জীবন চলে॥" - শ্রী কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ ।....