28/03/2024
একবার ভেবে দেখুন
রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা বা মাঝারি মাপের নেতারা যখন দল পরিবর্তন করে, তখন তারা সলিড একটা জয়েনিং বোনাস পায় সেটা অর্থ বা পদ বা দুটোই হতে পারে ;এটা সেই নেতার নিগোশিয়েশন স্কিল বা দরাদরির দক্ষতার ওপর নির্ভর করে, তিনি জয়েনিং বোনাস হিসাবে কি পেতে পারেন!
একটি টিভি চ্যানেলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একটা MP র বাজারমূল্য ন্যূনতম কুড়ি কোটি । এবার পাটিগণিতের হিসাব করে কাউন্সিলর বা গ্রাম প্রধান বিভিন্ন পদের জন্যে কি জয়েনিং বোনাস হতে পারে তা আমরা একটা আন্দাজ করতে পারি !
এই পর্যন্ত তো ঠিক আছে...
কিন্তু আমায় চিন্তিত করছে সেই মানুষগুলো যারা দেয়াল লেখে ,যারা ফেস্টুন ,পোস্টার লাগায় ! যারা সেই নেতা দাদা বা দিদির জন্যে মিটিংয়ে ,rally তে প্রচার করে;
যারা শুধু এতেই খুশি হয়ে দাদা আমায় খুব ভালোবাসে -কারণ দাদা মাঝে মাঝে একটু হাতে টাকা ধরায় বা মদের বোতল বা বাইকের পেট্রল বা একটু পাড়ায় দাদাগিরি করার লাইসেন্স দিয়ে দেয়; ওকে পাড়ার ঝন্টু-মন্টু বা পল্টু বানিয়ে দেয় ! এরা দাদার এক কথায়, রাস্তায় নেমে পরে...মারপিট করে...রক্ত ঝরায় ..জেলে যায়।
প্রশ্ন হল -যাদের জন্যে দাদা নিজের জয়নিং বোনাস নিগোশিয়েট করে...তারা জীবনে কি পায় !
আমার চিন্তা তাদের থেকেও বেশি তাদের পরিবার কে নিয়ে ? তার সন্তান সন্তানিরা নিজের বাবার কর্ম পরিচয় কি ভাবে দেয় সমাজে -স্কুলে -কলেজে ? আমার বাবা ওই দলের অমুক নেতার দেয়াল লেখে বা পোস্টার লাগায় !
ভেবে দেখুন একটু কোটি কোটি রাজনৈতিক কর্মী দেশ জুড়ে রয়েছে, কত জনের কপালে পদ বা অর্থ শিকে ছেঁড়ে বলুন তো!
আমি এবার একটু তথ্য দি ,আপনাদের কাছে বিষয় টা আরো পরিষ্কার হবে -ইলেকশন কমিশনর তথ্য অনুযায়ী ,৯৬.৮ কোটি ভোটার ভোট দেবে এই ২০২৪ এর নির্বাচনে ।
আর ও একটি তথ্য দিই, দেশের সব থেকে বড় তিনটি রাষ্ট্রীয় দলের মেম্বার্স সংখ্যা :
বিজেপি-১৮ কোটি (২০১৯ র তথ্য অনুযাই) ,
কংগ্রেস: ৫.৫ কোটি (২০২৩) ,
আপ-১ কোটি (২০১৪)
অর্থাৎ মোট ২৪.৫ কোটি ;
দেশের আরও ৬০ টি জাতীয় ও আঞ্চলিক পার্টি নিয়ে এই সংখ্যা ৩০-৩২ কোটি হবে যা দেশের মোট ভোটারের প্রায় ১/৩ অংশ ।
এখন বিষয় টা হল আমাদের সবার কাছেই এইরকম ভুঁড়ি ভুঁড়ি উদাহরণ হবে এই নিচু স্তরের কর্মীদের যাদের আমরা দেখেছি সময়ের সাথে সাথে হতাশা তাদের গ্রাস করেছে। তারা আফসোশ করে ; কেউ তাদের দেখলো না, পার্টি তার জন্যে কিছু করে দিলো না ইত্যাদি ইত্যাদি !
আর এই হতাশার হাত থেকে বাঁচার জন্যে তাই বর্তমানে কিছু নিচু স্তরের ক্ষমতাশীল দলের কর্মীরা একটা ট্রিকস নিয়েছে -ওই নেতা দাদার মত, সাদা জামা -সাদা প্যান্ট- সাদা জুতো পরে আর সামর্থ অনুযায়ী বাইক বা চার চাকা একটা জোগাড় করে প্রোমোটারি, ল্যান্ড ব্রোকিং ,ছোট হোটেল বা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি করে নিজে কে সেটিং করে নেয়ার প্রানপন চেষ্টা করছে আর অনেকে তাতে সফল হচ্ছে ..
কিন্তু সেই সংখ্যাটাও অত্যন্ত সীমিত !
আর যারা বিরোধী দলে রয়েছে তারা যখন দেখছে ক্ষমতাশীল দলের ভোম্বল-এখন ভোম্বলদা হয়ে গেছে।..
তখন সে ভাবছে যেন-তেন ভাবে আমার টার্ন এলে আমিও ওর মত সেট হয়ে যাবো; আর তাই এই সেটিং এর চক্কর করতে করতে ভারত জোড়া বিভিন্ন কেলেঙ্কারি আমরা দেখতে পাচ্ছি ।
তথ্য বলছে, ২০১৯ এর নির্বাচন বিশ্বের সব থেকে ব্যায়বহুল নির্বাচন- ৫৫হাজার কোটি টাকার অধিক খরচা হয়েছে ।
আর আজ ভারতীয় রাজনীতি বিশ্বের মধ্যে সব থেকে আয় বহুল দেশসেবা কাজও বটে ..
SBI এর দেওয়া ইলেক্টোরাল বন্ডের তথ্য অনুযায়ী বারো হাজার কোটি টাকার অধিক টপ ৫টা রাজনৈতিক দলের কাছে মিলিয়ে আছে।
তাহলে আমার প্রশ্ন - কেন নিচু তোলার সব কর্মীদের একটা ঘন্টা-ভিত্তিক বৈধভাবে honorarium বা পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না ????!
কেন রাজনৈতিক দলগুলো নিচু স্তরের কর্মীদের কথা ভেবে কিছু করছে না ?? !
একটু পাটিগনিতটা দেখুন , আগেই বললাম প্রায় ৩০-৩২ কোটি রাজনৈতিক কর্মী আছে;তার ১.৫-২% ও যদি দলের সক্রিয়কর্মী হয়ে; তাহলে সংখ্যা টা হয়ে ৫০ লক্ষের অধিক ;এর অর্থ দেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের কর্ম সসংস্থান হয়ে যাবে !
কেন রাজনীতি নিচু স্তরের কর্মীদের কাছে ফ্রি-সার্ভিস থাকবে???!
যদি ওদের কিছু রোজগার এর ব্যবস্থা করা হয়ে ,এতে বহু মানুষের একটা বৈধ কর্ম সংস্থান হবে!
আর বহু সমস্যার নিবারণ হবে!
এতে রাজনৈতিক দলের নেতারা যে বিশেষ উদ্যোগ নেবে না সেটা তো জানি ।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট কি ইলেকশন কমিশনার মাধ্যমে এই ধরণের জনস্বার্থে উদ্যোগ নিতে পারে!
আপনার কি মতামত জানবেন!
শুভঙ্কর ব্যানার্জী