16/05/2026
তিলজলার বাড়িটি বুলডোজার নিয়ে ভাঙা হচ্ছিল বেআইনী পদ্ধতিতে। তখন আমি পৌঁছে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ক্ষোভকে প্রশমন করে, যাদের বাড়ি ভাঙা হচ্ছিল, তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক এমনকি এলাকার কাউন্সিলর, তিনিও ঐ দলের, কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। তারা এখন দাবি করছেন, তাদের আন্দোলনের ফলে স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে। কোন মুখে তারা এই লম্বা-চওড়া কথা বলছেন? তাদের নেত্রী গতপরশু হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন কি বিষয়ে, সেটি কি তারা জানেন? সাহস থাকলে বলুন। তিনি এই বিষয়ে সওয়াল করেননি। সুতরাং মিথ্যাচার করে কোন লাভ নেই।
এটা বোঝা যাচ্ছিল, সরকার যেটা করছে সেটা আইন সম্মত নয়। সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের রায়ের সরাসরি লঙ্ঘন হচ্ছে। আমি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় হাইকোর্টে এসে দেখা করি সিনিয়র আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে।আলাপ-আলোচনা হয়। যাদের বাড়ি তাদের হয়ে পিটিশন দাখিল হয়। গতকাল আদালতে হয়েছে। বিকাশ বাবু সওয়াল করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাজির আহমেদ, শামিম আহমেদ ও অন্যান্যরা। শুনানির পর মাননীয় বিচারপতি এই কার্যকলাপের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
যখন বুলডোজার চালানো হচ্ছিল, তখন কোন রাজনৈতিক দল ওখানে গিয়ে প্রতিবাদ করেনি। সিপিএম-এর সমর্থনে ভাঙড় থেকে আমি পুনরায় জনাদেশ পেয়েছি। আমি এই ঘটনা দেখে স্থির থাকতে পারেনি। পোঁছে গেছি ঘটনাস্থলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি।
এদিকে, ৮০ জন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ। আইএসএফ তার ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে, সংবিধানের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে লড়বে। এই প্রশ্নে আমরা আপসহীন। রাজ্য চলবে সংবিধানকে সামনে রেখে। কে ক্ষমতায় এলো আর গেলো, সেটা বড় কথা নয়।
নওসাদ সিদ্দিকী
বিধায়ক ,ভাঙড় বিধানসভা
চেয়ারম্যান, অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট
Nawsad Siddique