12/07/2026
শুরু হলো শিল্পে বিনিয়োগ, সিঙ্গুরের অদূরে ডানকুনিতে লাক্স কোজির নতুন কারখানা।
ডানকুনিতে প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠছে 'লাক্স কোজি'-র দ্বিতীয় তথা নতুন উৎপাদন ইউনিট।
শনিবার এই নতুন প্ল্যান্টের শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যে শিল্পায়নের এক নতুন যুগের বার্তা দিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy)।
৬০০ কোটি টাকার এই বিপুল বিনিয়োগের হাত ধরে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ২০ কোটি পিস থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াবে ৩৫ কোটিতে,
যা থেকে প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে,
যা সমসংখ্যক পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলার শিল্পের মুকুটে এই নতুন পালক যুক্ত হল বলে দাবি করেন শিল্পমন্ত্রী।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাসক দলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সমীক ভট্টাচার্য, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, পরিবহন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং শিল্প দফতরের প্রধান সচিব বন্দনা যাদব।
লাক্স গ্রুপের অশোক টোডি ও সাকেত টোডির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তাপস রায় জানান,
কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এখানে একটি ২ মেগাওয়াট (2 MW) ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।
পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পে একটি আধুনিক গোশালাও রয়েছে,
যেখানে ৫০টি গো-মাতা রয়েছেন এবং যা ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্পমন্ত্রী আরও একটি বড় খবর দিয়ে জানান,
আগামী দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে এই রকম আরও ৫টি বড় শিল্প প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে।
অতীতে রাজনৈতিক অশান্তি বা প্রশাসনিক অপমানে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া টাটা এবং আদিত্য বিড়লা গ্রুপের পাশাপাশি ৬,৬৮৮টি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে শিল্পমন্ত্রী বলেন,
'বাংলার স্বার্থে, এ রাজ্যের নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যতের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী যদি আমাকে নির্দেশ দেন,
তবে আমি রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া সেই সমস্ত শিল্পপতিদের দোরগোড়ায় যাব।
প্রয়োজনে তাঁদের হাত-পা ধরে,
অনুরোধ-উপরোধ করে পুনরায় এই বাংলায় ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করব।'