07/06/2024
লোকসভা নির্বাচন ২০২৪শের ফল প্রকাশের আগেই গদি মিডিয়া মোদিকে ৪০০র কাছাকাছি আসন দিয়ে দিলেও আদতে সারা দেশে মোদী বিরোধী ভোট দিয়েছে। আকাশ পাতাল জুড়ে মোদির কোটি কোটি টাকার প্রচার ছিল। রাম মন্দিরের ধর্মীয় জিগির,হিন্দুমুসলমানের সাম্প্রদায়িকতার বিষ, সব কিছু কে ছাপিয়ে বামপন্থীদের ইস্তেহারে প্রাধান্য দেওয়া রুটি রুজির লড়াই,কর্মসংস্থানের দাবি ,মূল্য বৃদ্ধি এই সমস্ত ইস্যু গুলোকেই মানুষ প্রাধান্য দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও তার প্রভাব পড়েছে , পশ্চিম বঙ্গে প্রায় ৩৯% মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে জেতাতে চাইলেও প্রায় ৪৭% মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করে ফেললো। এখন প্রশ্ন হলো দুর্নীতিতে ডুবে থাকা তৃণমূলকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন এতো সমর্থন করলো।
বেশিরভাগ মানুষ বামফ্রন্টকে প্রায় ২০১৪ শাল থেকে আর ভরসা করছেন না মোদী তাদের কাছে নয়নের মনি।
পঞ্চায়েত ভোটেও যে সংখ্যা লঘু অংশ যান কবুল লড়াই করে তৃণমূলের থেকে পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিয়ে ছিল ঠিক ভোটের আগে তারা মনে করলো মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে তৃণমূলকেই সমর্থন করা উচিত।
আর বেশ কিছু লোক প্রায় ২০-২৫% মানুষ ভাতায় আস্থা রাখলো। কারণ পশ্চিম বঙ্গে কর্মসংস্থান শুন্য। পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক মানুষ গুলির কাছে ভাতাই ভরসা আর তৃণমূল না থাকলে এই ভাতা পাওয়া পাওয়া যাবে না এই প্রচারটা আই প্যাক সংস্থাকে দিয়ে তৃণমূল দল সফল ভাবে করে রেখেছে। কারণ কংগ্রেসের ইস্তেহারে তৃণমূলের থেকে ৮গুন ভাতা দেবার কথা বলা সত্যেও মানুষ তাতে ভরসা রাখতে রাজি হয় নি।
কংগ্রেসের হাইকমান্ডের উদাসীনতায় বাম-কংগ্রেস জোট অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে।
ফল যা হবার তাই হয়েছে জোটকে ১টা আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
যার ফল স্বরূপ বাংলার শিক্ষিত সমাজ কে পরিযায়ী হয়ে বাইরেই চাকরির খোঁজে যেতে হবে।
যারা চুরি করে জেলে গেছে বা যাবার কথা ছিল তারা সৎ বলে প্রমাণিত হবে। কারণ রাজনৈতিক কারণে তাদের ফাঁসানো হয়েছিল বলেই প্রচার চালাবে আই প্যাক।
মূল্য বৃদ্ধি হবে, দুর্নীতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
এই সব জানার পরেও যে সমস্ত মানুষ বাম শুন্য বলে উচ্ছাস প্রকাশ করবেন
তাদের জন্যে কিছু কথা বামেদের যে ৯-১০% (৫.৬+কং সিটে বাম )ভোট কিন্তু জীবনে পরিবর্তন হবে না। আগামী দিনে মীনাক্ষী ,দীপশিতা ,সৃজন ,সায়নদের নেতৃত্বে আরো বাড়বে। ব্রিগেড আরো ভরবে। কর্মসংস্থান ,মূল্য বৃদ্ধি ,দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বামফ্রন্টই পথে থাকবে।
যে ১০/১২ জন বিজেপি সাংসদকে পশ্চিম বঙ্গের মানুষ জেতালেন আগামী ৫বছর তাদের আর দেখা যাবে না। ভেবে দেখুন ৩৯% মানুষ ভোট দিলেন বিজেপি কে আর ভোটের পরে ভাঙা হচ্ছে সিপিএম অফিস। কান খুলে শুনে রাখুন রাজ্য থেকে তৃণমূলের অপশাসন বামফ্রন্ট ছাড়া কেউ রুখতে পারবে না।
আগামীদিনে বামেই ভরসা রাখুন।