20/10/2026
১০০ তম বলা হলেও, আসলে এই বিলটা ছিল *সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬* - এটাকেই মিডিয়া শর্টে অনেক সময় ১০০-র আশেপাশে বলছে কারণ মহিলা সংরক্ষণ আর ডি-লিমিটেশন জড়িত। এই বিল খারিজ হওয়াটা মোদী সরকারের ১২ বছরে প্রথমবার কোনো সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হওয়া।
*বিলটা কী ছিল?*
৩টে বিলের প্যাকেজ ছিল একসাথে:
১. *১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল* - লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে *৮৫০* করা
২. *ডি-লিমিটেশন বিল, ২০২৬*
৩. *কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল*
উদ্দেশ্য ছিল - ২০২৩ সালে পাশ হওয়া *৩৩% মহিলা সংরক্ষণ* আইনটা এখনো চালু হয়নি, কারণ আইনে বলা ছিল আগে জনগণনা (২০২৭ সেন্সাস) হবে, তারপর ডি-লিমিটেশন হবে, তারপর মহিলা সংরক্ষণ চালু হবে। সরকার চাইছিল এটাকে ডিলিঙ্ক করে দিতে - জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সেন্সাসের ভিত্তিতেই আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে।
*খারিজ হল কীভাবে?*
*১৭ই এপ্রিল ২০২৬* লোকসভায় ভোটাভুটি হয়।
সংবিধান সংশোধনের জন্য *দুই-তৃতীয়াংশ (2/3) সংখ্যাগরিষ্ঠতা* লাগে।
- ভোটে উপস্থিত ছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ
- প্রয়োজন ছিল ৩৫২ ভোট
- পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮ টি
- বিপক্ষে ২৩০ টি (২১১ কোথাও রিপোর্টে)
মানে ৫৪ ভোটের জন্য বিল খারিজ। সরকারের কাছে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, কিন্তু ২/৩ নেই।
এরপরই সরকার বাকি দুটো বিলও প্রত্যাহার করে নেয়।
*বিরোধিতা কেন?*
দক্ষিণের রাজ্যগুলো - *DMK, YSRCP, BRS, কংগ্রেস, বাম* - এর আপত্তি ছিল:
- যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে (২০১১ সেন্সাস) আসন ভাগ হয়, তাহলে উত্তর ভারতের আসন অনেক বেড়ে যাবে, দক্ষিণের আসন কমে যাবে বা অনুপাত কমবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করার শাস্তি পাবে দক্ষিণ।
- তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন বলেছিলেন "Tamil Nadu Defeats Delhi!"
অমিত শাহ ভোটের আগে অফার দিয়েছিলেন - "সব রাজ্যের আসন সমান হারে ৫০% বাড়াবো, ১৯৭১ সালের অনুপাত ঠিক থাকবে" - যেমন তামিলনাড়ুর ৩৯ আসন হবে ৫৯, তার মধ্যে ২০ মহিলা সংরক্ষিত। তবুও বিরোধীরা রাজি হয়নি।
*এখন কী অবস্থা - ডি-লিমিটেশনের পথে হোঁচট কেন?*
বিল খারিজ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে গেছে।
১. মহিলা সংরক্ষণ আবার পিছিয়ে গেল।
২. ৮৫০ আসনের নতুন সংসদ ভবনের পরিকল্পনা আটকে গেল।
আর এই নিয়েই এখন নতুন নাটক চলছে - *অক্টোবর ২০২৬* এ:
- কংগ্রেস সভাপতি *মল্লিকার্জুন খাড়গে* ১৬ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে *সর্বদলীয় বৈঠক* ডাকার দাবি করেছেন, এটা নিয়ে ৪ বার চিঠি লিখলেন তিনি।
- সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী *কিরেন রিজিজু* ১৯শে অক্টোবর জবাব দিয়েছেন - "আমরা তো DMK, SP, শিবসেনা (UBT) সবার সাথে আলোচনা করেছি"।
- *জয়রাম রমেশ* আজ (২০শে অক্টোবর) পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন - "সরকারের কি নতুন প্রস্তাব আছে? নাকি পুরনো বিলটাই আবার 'সুপার-টেন্টেড' দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে পাশ করাতে চায়?"
সরকারের সূত্র বলছে, এই মাসের শেষে *বিশেষ অধিবেশন* ডেকে আবার বিল আনতে চায়। কারণ এখন লোকসভায় সরকারের শক্তি বেড়েছে - ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এবং ৬ জন শিবসেনা (UBT) সাংসদ NDA-তে চলে এসেছে বলে খবর। তাই এবার ৩৬০ ভোট জোগাড় করার চেষ্টা চলছে।
মোট কথা, ডি-লিমিটেশন এখন আইনি আর রাজনৈতিক দুটো জটেই আটকে।