Samhati Foundation

Samhati Foundation Samhati Foundation is to further strengthen the bond of brotherhood among Hindus.

Our aim is to be able to research, study, analyze, communicate and create an enlightened group of citizens in the field of Hindustan, Hindutva and Hindu civilization

"No realist can be blind to the probability that the extraterritorial designs and the secret urge goading on the Moslems...
11/10/2021

"No realist can be blind to the probability that the extraterritorial designs and the secret urge goading on the Moslems to transform India into a Moslem state may at any time confront the Hindustani state even under self government either with a Civil War or treacherous overtures to alien invaders by the Moslems."
Dr. B R Ambedkar
'Pakistan or the Partition of India'

 #দলিত_মুসলিম_ঐক্য
09/10/2021

#দলিত_মুসলিম_ঐক্য

09/10/2021
ইসলাম শাসিত ভারতবর্ষে হিন্দুদের, বিশেষত বাঙ্গালীদের করুণ পরিস্থিতির বর্ণনা রাজা রামমোহন রায়ের কলমে। "The greater part o...
01/10/2021

ইসলাম শাসিত ভারতবর্ষে হিন্দুদের, বিশেষত বাঙ্গালীদের করুণ পরিস্থিতির বর্ণনা রাজা রামমোহন রায়ের কলমে।
"The greater part of Hindustan having been for several centuries subject to Muhammadan Rule, the Civil and religious rights of its original inhabitants were constantly trampled upon, and from the habitual oppression of the conquerors, a great body of their subjects in the southern peninsula (Dukhin), afterwards called Marhattahs and another body in the western parts now styled Sikhs, were at last driven to revolt; and when Mussulman power became feeble, they ultimately succeeded in establishing their independence; but the Natives of Bengal wanting vigor of body, and adverse to active exertion, remain during the whole period of the Muhammadan conquest, faithful to the existing Government, although their property was often plundered, their religion insulted, and their blood wantonly shed".

বিপ্লবী নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, যিনি এম এন রায় বা মানবেন্দ্রনাথ রায় নামে প্রখ্যাত। ইনিই সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দে ১৯২০...
29/09/2021

বিপ্লবী নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, যিনি এম এন রায় বা মানবেন্দ্রনাথ রায় নামে প্রখ্যাত। ইনিই সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দে ১৯২০ সালের ১৭ই অক্টোবর 'ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯২২ সালে 'কমিউনিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল' এর সভাপতি নিযুক্ত হন। লেনিন, স্টালিনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা এই আন্তর্জাতিক কমিউনিষ্ট নেতার উপলব্ধি।

DECEPTION = আল তাকিয়া = ছলনা?
28/09/2021

DECEPTION = আল তাকিয়া = ছলনা?

12/06/2021

অথ ঘট কথা

ঘট কিসের প্রতীক? যে কোন পুজোয় কেনই বা ঘট অপরিহার্য? আসুন বিস্তারিত জানা যাক।

ঘট হল আমাদের দেহের প্রতিরূপ। পুজোর সময় পঞ্চগুড়ি দিয়ে পিঠ তৈরী করা হয়। এই পঞ্চগুড়ি হল পঞ্চমহাভূত অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম এর প্রতীক।

এই পঞ্চমহাভূতের উপর মৃত্তিকা দিয়ে পিঠ করা হয়। মৃত্তিকা বেদীর উপর পঞ্চশষ্য দেওয়া হয়। পঞ্চশষ্য হল আমাদের কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ও মাৎসর্য্য এই পঞ্চবৃত্তির প্রতীক। এর উপর ঘট স্থাপন করা হয়।

ঘট আমাদের দেহের প্রতীক। আধ্যাত্মিক ভাষায় দেহকে দেহ ঘট বলা হয়। ঘটের ভেতর পঞ্চরত্ন দেওয়া হয়। আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয় যথা- চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা ও ত্বক হলো পঞ্চরত্ন।

এরপর ঘটে জল ঢেলে পূর্ণ করা হয়। জল হলো দেহরস অর্থাৎ রক্ত। ঘটে এবার পঞ্চ পল্লব দেওয়া হয়, যা আমাদের গ্রীবা বা গলার রূপ। আমাদের গ্রীবায় পঞ্চবায়ু অর্থাৎ পান, অপান, উদান, সমান ও ব্যান থাকে। এই পঞ্চবায়ুই পঞ্চ পল্লবের প্রতীক।

এর উপরে ডাব বা নারকেল দেওয়া হয়। আমাদের মুখের মতোই ডাব বা নারকেলেরও চোখ, মুখ, নাক দেখা যায়। সেই কারণেই ডাব হল আমাদের মুখ মন্ডলের প্রতিরূপ।

এবার মস্তক থাকলে তাতে আচ্ছাদন দিতে হয়, আর সেই কারণে ডাবের উপর গামছা বা বস্ত্র দেওয়া হয়। এইবার সম্পূর্ণ হলো আমাদের দেহের প্রতিরুপ। আর কান্ডকাঠী চার বেদের প্রতীক। তাই ঘটকে এককথায় বলা হয় মহাতীর্থক্ষেত্র।

তথ্যঃ সংগৃহীত

15/04/2021

অখণ্ড ভারতবর্ষ ও ভূদেব মুখোপাধ্যায়

ভূদেব মুখোপাধ্যায়ই প্রথম বাঙালি লেখক যার গল্পে, প্রবন্ধে ও আখ্যায়িকায় ভারত-চিন্তার উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটেছে।তাঁর "ঐতিহাসিক উপন্যাসে" দুটি কাহিনী -সফল স্বপ্ন ও অঙ্গুরীর বিনিময়।অঙ্গুরীয় বিনিময়ে গল্পরস আছে।শিবাজীর প্রতি আওরঙ্গজেব-দুহিতা রোশিনারার আকর্ষণ এই কাহিনীর প্রধান উপজীব্য।

আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে এক অভিযানের সময় শিবাজী কৌশলে রোশিনারাকে বন্দি করে নিজের দুর্গে নিয়ে এলেন।শিবাজীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় পেয়ে কিছুদিনের মধ্যেই রোশিনারা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন।এদিকে শিবাজীর অধীনস্থ এক সেনাপতি রোশিনারাকে ভালবেসেছে।শিবাজী তার অন্যায় ব্যবহারের জন্য তাঁকে সাজা দিলেন।একটু সুস্থ হয়ে সেই সৈনিক গেলেন মোঘল শিবিরে।দুর্গম
পার্বত্য পথ দেখিয়ে সে মোঘল সৈন্য প্রবেশ করালো শিবাজীর দুর্গে।শিবাজী পালিয়ে সেবারের মতো প্রাণরক্ষা করলেন।কিছুদিন পরে নতুন সৈন্য সংগ্রহ করে শিবাজী হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করলেন।বিশ্বাসঘাতক সেনাপতিকে দেবী ভবানী স্বয়ং স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বললেনঃ" রে নরাধম।তুই আমার বরপুত্র শিবাজীর অপকারে প্রবৃত্ত হইয়াছিস,তুই নিজ জন্মভূমির প্রতিও স্নেহবিবর্জিত হইয়া তাহা বিধর্মী শত্রুর হস্তগত করিলি-জানিস না,গর্ভধারিণী মাতা,আর পয়স্বিনী গো এবং সর্বদ্রব্য প্রসবা জন্মভূমি -এই তিনই সমান।যে জন্মভূমির অপকার করিতে পারে,সে গো-বধ এবং মাতৃহত্যাও করিতে পারে।"

ভূদেব সর্বপ্রথম সুস্পষ্টরূপে জন্মভূমিকে মা'র সঙ্গে অভিন্ন করে দেখেছেন।প্রথমে দেশের মাতৃকল্পনা,তারপর ঐক্যবোধ সহজে আসে।শিবাজীর আরাধ্যা দেবী ভবানী ভারতমাতারই একটি রূপ।

ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের রূপক আখ্যায়িকা " পুষ্পাঞ্জলির" প্রকাশ ১৮৭৬ সালে।এখানেও অখণ্ড ভারতের সংহত রূপ ফুটে উঠেছে।ব্যাসদেব ভারতের মূর্তি দেখে প্রশ্ন করলেন,ইনি কোন দেবী?মার্কণ্ডেয় মুনি এ কথার উত্তর না দিয়ে ব্যাসদেবকে নিয়ে তীর্থে বেরিয়ে পড়লেন।ঘুরে ঘুরে ভারতের উত্তরে, পশ্চিমে ও দক্ষিণের পীঠস্থান দর্শন করে এসে উপস্থিত হলেন কামাখ্যা।মার্কণ্ডেয় মুনি এবার বললেন,"এক্ষণে তোমার ধ্যানপ্রাপ্ত দেবীমূর্তির দর্শনপ্রাপ্ত হইলে।" অর্থাৎ ভারত-ভূমিকে দেবীমূর্তি হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে।

পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধে শিবাজীর বংশধর রামচন্দ্র জয়লাভ করলে সমগ্র ভারতেকে এক অখণ্ড সাম্রাজ্যে পরিণত করা সম্ভব ছিল বলে ভূদেব মুখোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন তাঁর "স্বপ্নলব্ধ ভারতবর্ষের ইতিহাস(১৮৯৫)" নামক গ্রন্থে।

ভারতবোধ জাগ্রত করবার সহায়ক বলে ভূদেব মুখোপাধ্যায় হিন্দি প্রচারের সমর্থন করেছেন।তিনি বলেছেন,"............ভারতবাসীর চলিত ভাষাগুলির মধ্যে হিন্দী-হিন্দুস্থানীই প্রধান এবং মুসলমানদিগের কল্যাণে উহা সমস্ত মহাদেশব্যাপক।অতএব অনুমান করা যাইতে পারে যে,উহাকে অবলম্বন করিয়াই কোন দূরবর্তী ভবিষ্যকালে সমস্ত ভারতবর্ষের ভাষা সম্মিলিত থাকিবে।........ভারতবর্ষের অধিকাংশ লোকেই হিন্দী ভাষায় কথোপকথন করিতে সমর্থ। অতএব শুদ্ধ ভারতবাসীর বৈঠকে ইংরাজির ব্যবহার না করিয়া হিন্দীতে কথোপকথন করাই ভাল।"

ভূদেব মুখোপাধ্যায় প্রথম দেশের ভৌগোলিক ও জাতিগত সংহতির কথা বলেছিলেন;মাতৃভূমিকে দেবীরূপে এবং মাতৃরূপে তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন। "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী"-এই সংস্কৃত বাণীকে বাংলায় আরও অন্তরঙ্গ করে তোলবার কৃতিত্ব ভূদেব মুখোপাধ্যা'য়ের।

সন্দীপ মুখোপাধ্যায়।

গ্রন্থসূত্র-বঙ্গ প্রসঙ্গ

17/01/2021

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
(শ্রী অমিতাভ প্রামানিকের লেখা থেকে উদ্ধৃত)

আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগের কথা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তাঁকে লোক চিনেছে ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখুজ্জে হিসাবে। কে এই বাংলার বাঘ? অধুনা রাজনৈতিক কারণে তাঁর পুত্রের নাম কর্ণগোচর হয় মাঝেমধ্যে। পিতাটির মাহাত্ম্য তাহলে কোথায়?

এর উত্তর স্বল্প পরিসরে দেওয়া সম্ভব নয়, এ নিয়ে প্রমাণ দৈর্ঘ্যের প্রবন্ধ লেখা দরকার। আমি এখানে সামান্য কয়েকটা ঘটনা অল্পকথায় বলে রাখি, যা আপনাদের কারও কারও নাও জানা থাকতে পারে।

স্যার আশুতোষ বয়সে রবীন্দ্রনাথ বা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের চেয়ে বছর তিনেকের আর বিবেকানন্দের চেয়ে বছর দেড়েকের ছোট। পনেরো বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় সেকেন্ড হন। সতেরো বছর বয়সে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ এ (ফার্স্ট আর্টস, এখনকার বারো ক্লাশ) পরীক্ষায় থার্ড, কুড়ি বছরে বি এ পরীক্ষায় ফার্স্ট, একুশ বছর বয়সে গণিতে এম এ পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে হরিশচন্দ্র পুরস্কার পান, বাইশ বছর বয়সে ফের ন্যাচারাল সায়েন্সে এম এ পরীক্ষা দিয়ে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ স্কলারশিপ লাভ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম ডবল মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন ও এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্যে রয়াল সোসাইটি অভ এডিনবরার ফেলো পদে সম্মানিত হন।

ভাবছেন তো, এবার পড়াশুনা শেষ? আরে দাঁড়ান। চব্বিশ বছর বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন এবং ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অভ সায়েন্সে গণিতের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। পরের বছর পাব্লিক ইনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টে চাকরির অফার ছেড়ে দেন, কেননা তাঁর মায়ের ইচ্ছে ছেলে উকিল হবে। সুতরাং গণিতে অধ্যাপনার পাশাপাশি সে বছরই তিনি আইনের পরীক্ষা দেন ও পাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের উকিল হয়ে যান। এই সামান্য আইনের পড়াশুনায় তিনি সন্তুষ্ট হননি, তাই গণিতে অধ্যাপনা ও হাইকোর্টের উকিলগিরি করার পাশাপাশি তিনি আইন নিয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে যান এবং তিরিশ বছর বয়সে আইনে থিসিস লিখে ডক্টরেট অভ ল’ডিগ্রি লাভ করেন। তার আগেই পঁচিশ বছর বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী ষোল বছর সেনেট ও সিন্ডিকেটের উচ্চপদে আসীন ছিলেন। এর মধ্যে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেগোর প্রফেসর অফ ল’(দ্বারকানাথ ঠাকুরের নামে) ও পরে হাইকোর্টের চিফ জাস্টিসও হয়েছেন।

আরে দাঁড়ান, লোকে তাঁকে আইনজ্ঞ হিসাবে ভাবছে বটে, কিন্তু তার আগে তিনি কিঞ্চিৎ অঙ্কও কষেছেন। কতটা? কলেজে ফার্স্ট ইয়ার পড়তে পড়তেই ষোড়শবর্ষীয় আশুতোষ মেসেঞ্জার অভ ম্যাথমেটিক্স নামে গণিতের আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর প্রথম গবেষণাপত্রটি ছাপিয়ে ফেলেছেন, বিষয় – ইউক্লিডের পঁচিশ নম্বর উপপাদ্যের আর একটি প্রমাণ। উনিশ বছর বয়সে তাঁর দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটিও ছাপা হয় ঐ একই জার্নালে। ডবল এম এ পাশ করার কিছুদিন পরে তাঁর বিয়ে হয় যোগমায়া দেবীর সঙ্গে এবং তার কিছুদিন পরেই তিনি তাঁর তিন নম্বর গবেষণাপত্রও ছাপিয়ে ফেলেন, এবার জার্নাল অভ পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্সে, বিষয় এলিপটিক ফাংশন।

তেইশ থেকে আঠাশ বছরের মধ্যে তিনি যখন জোরদার আইন নিয়ে পড়াশুনা ও গবেষণা করছেন এবং পাশাপাশি করছেন সেনেট ও সিন্ডিকেটের কাজ, তখন তিনি ষোলোখানা গণিতের গবেষণা-প্রবন্ধ ছাপিয়েছেন – সব তাঁর একার গবেষণা। শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ তাঁর ছত্রিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে ফ্রান্স, পালেরমো, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, আমেরিকা ইত্যাদি বিশ্বের তাবড় দেশের ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়। তিনি নিজে ইন্ডিয়ান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি স্থাপন করেন এবং যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

কিন্তু এই সব তাঁর প্রকৃত পরিচয় নয়। অন্যসব বাদ দিয়ে শুধু অঙ্ক কষে গেলে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা গণিতবিদ হিসাবে নাম করতেন, কিন্তু তাঁর বিচিত্র উৎসাহ তাঁকে নিয়ে গেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে। এবং জহুরীর চোখ দিয়ে তিনি একে একে তুলে আনলেন এক একটা জহর। সে ব্যাপারে যত বিরোধিতা এসেছে, সেগুলো তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্বের কাছে দাঁড়াতে পারেনি। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটাফট যোগ করেছেন নতুন নতুন ডিপার্টমেন্ট – কম্প্যারেটিভ লিটারেচর, অ্যানথ্রোপলজি, অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিস্ট্রি, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামি সংস্কৃতি, ইত্যাদি। খুঁজে খুঁজে ধরে এনেছেন সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের মত দক্ষিণীকে অধ্যাপক হিসাবে।

তাঁর যাবতীয় কৃতিত্বের ক্যাটালগ পেশ করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। একটা সামান্য ঘটনা পেশ করি।

সবাই জানেন মেঘনাদ সাহা আর সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন সহপাঠী। দুজনেই প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিত অনার্স নিয়ে ব্যাচেলর্স আর মিক্সড ম্যাথমেটিক্স নিয়ে মাস্টার্স পাশ করেছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ দুটোতেই ফার্স্ট হয়েছিলেন, মেঘনাদ সেকেন্ড। দুজনকেই স্যার আশুতোষ তুলে নিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসাবে। এদিকে তখন গণিত ডিপার্টমেন্টের হেড প্রফেসর গণেশ প্রসাদ তে-এঁটে ধরনের। তার সঙ্গে দুজনেরই ঝামেলা শুরু হল। বসু আর সাহা দুজনেই তরুণ, প্রবীণ অধ্যাপকের ব্যবহারে তাঁরা তিতিবিরক্ত হয়ে গেল।

টের পেয়ে স্যার আশুতোষ যেটা করলেন, সে এক অত্যাশ্চর্য দাবার চাল ছাড়া কিছু না। তিনি দুজনকেই ট্রান্সফার করে দিলেন ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে। মনে রাখতে হবে এঁরা দুজনেই ফিজিক্স পড়েছেন ব্যাচেলর্সের পাশ কোর্স অবধি মাত্র, তার পরে আর নয়। আচার্য জগদীশচন্দ্রের ভাইপো দেবেন্দ্রমোহন বসু তখন ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের ঘোষ প্রফেসর, কিন্তু তিনি তখন জার্মানিতে। ফলে মেঘনাদ-সত্যেন ছাত্রজীবনের মতই একত্রে উচ্চতর ফিজিক্স পড়তে ও পড়াতে শুরু করলেন। পরের বছর কাল্টিভেশনের সি ভি রামনকেও স্যার আশুতোষ ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের পালিত প্রফেসরের পদে বহাল করলেন।

যে বছর এঁরা তিনজন ফিজিক্সে অধ্যাপনা শুরু করলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স কলেজে, তার মাত্র তিন বছর পরে মেঘনাদ সাহা আবিষ্কার করলেন তাঁর বিখ্যাত থার্মাল আয়োনাইজেশন থিওরি যা প্রয়োগ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের তারামণ্ডলের এলিমেন্টাল কম্পোজিশন জানা গেল, তার পাঁচ বছর পরে সত্যেন্দ্রনাথ বসু তাঁর আইনস্টাইনের চিত্তজয়ী বোস স্ট্যাটিসটিক্স পেশ করলেন এবং তার তিন বছর পরে রামন প্রকাশ করলেন তাঁর নোবেলজয়ী রামন এফেক্ট!

এবং তিনজনই স্যার আশুতোষ মুখার্জির একান্ত গুণমুগ্ধ ছিলেন।

* * *

স্যার আশুতোষ মুখার্জিকে নিয়ে আগে যে ছোট্ট লেখাটা লিখলাম, তাতে তাঁর জহুরীর চোখ জহর তুলে আনার উদাহরণ হিসাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যে ক’জনের নাম দিলাম, তার মধ্যে সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের নাম নিয়ে পরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সে ব্যাপারটা নিয়ে অন্যত্র লিখেছি, এখানে তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। রাধাকৃষ্ণাণ যে পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সেই চাঁদে কলঙ্কের পরিমাণটাও কম নয়, তবে তাতে স্যার আশুতোষের কোনো ভূমিকা ছিল না। একইভাবে আর একজনের নামও এ ক্ষেত্রে বলে ফেলা যায়, তিনি চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন – ভারতবর্ষের একমাত্র ভারতীয় নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী। অবিভক্ত ভারতবর্ষে জন্মে একাধিক জন পরে অভারতীয় হিসাবে বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অবশ্য।

বিজ্ঞানী হিসাবে রামনের প্রতিভা ও বিজ্ঞানে তাঁর অবদান নিয়ে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাও নেহাৎ ক্ষুদ্র নয়। রামন এফেক্টের গবেষণায় তিনি তাঁর সহকর্মী কে এস কৃষ্ণাণের ভূমিকাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেননি। নোবেল পুরস্কার পেয়ে তাঁর পায়াভারি হয়েছিল, তিনি ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের মুখের-রক্ত-তোলা স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি কাল্টিভেশন অভ সায়েন্স-এর নাম বদলে রামন রিসার্চ ইনস্টিট্যুট করতে চেয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরে প্রথম ভারতীয় ডিরেক্টর হিসাবে ইন্ডিয়ান ইনস্টিট্যুট অভ সায়েন্সের পদে অধিষ্ঠান হন, সেখানে ডিরেক্টর থাকাকালীন একইভাবে রাজনীতি করতে গিয়ে সেই প্রেস্টিজিয়াস পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

কিন্তু বাঙালিরা এর চেয়েও বেশি যে কারণে রামনের ওপর ক্ষুব্ধ, তা হচ্ছে তিনি সজ্ঞানে তাঁর সহকর্মী দুই অতি যোগ্য বাঙালি বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কারে মনোনয়নের উপযুক্তও মনে করেননি। রামনের নামে শোনা যায় তিনি নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে স্টকহোমের (সেখানে যোগদানের জন্যে জাহাজের টিকিট তিনি নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগেই নাকি কেটে রেখেছিলেন!) হলঘরে তাঁর নাম ডাকার পর ইউনিয়ন জ্যাক দেখে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেছিলেন এইজন্যে, যে তিনি এক পরাধীন দেশের অধিবাসী, যার নিজস্ব পতাকাও নেই। রামন সংক্রান্ত একাধিক ডকুমেন্টারিতে এর উল্লেখ আছে, যেটা হয়ত একটা গল্পই!

যদিও রামন তাঁর কেরিয়ারের শুরুতে ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন এবং সেই সংক্রান্ত পেপারে প্রায় লিখে ফেলেছিলেন – ভারতীয় মৃদঙ্গের আওয়াজ ‘মিউজিক’ আর ইওরোপিয়ান ড্রামের আওয়াজ ‘নয়েজ’! কিন্তু কিছুকাল পরেই অনুভব করেছিলেন, বিদেশী বিজ্ঞানীদের ভজনা ছাড়া গতি নেই। বস্তুত তাঁর রামন এফেক্টের নোবেল নমিনেশনের জন্যে তিনি সে কালের সমস্ত নামজাদা বিজ্ঞানীদের চিঠি দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। রামন এফেক্টের গবেষণার ফল যাতে তড়িঘড়ি প্রকাশ পায়, সে জন্যে রাতারাতি তাঁর প্রতিষ্ঠান আইএসিএসেরই জার্নাল ইন্ডিয়ান জার্নাল অভ ফিজিক্সের এক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে তার প্রাথমিক ফল ছাপা হয়। সেই পেপার তিনি পরের দিনই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বিদেশী বিজ্ঞানীদের কাছে। সঙ্গে অনুরোধ, আমাকে নমিনেট করুন। ১৯২৮ সালের রামন এফেক্ট আবিষ্কার পরের বছরই এ কারণে তাঁর নাম নোবেল পুরস্কারের জন্যে নমিনেট করেছিলন দুজন – ফ্রান্সের চার্লস ফ্যাব্রি ও ডেনমার্কের নিল্‌স্‌ বোর। সে বার পুরস্কার পাননি। সেটা আসে পরের বছর, নমিনেট করেছিলেন দশজন, যাঁদের মধ্যে নিল্‌স্‌ বোরও ছিলেন। সম্ভবত রামনের পত্রাঘাতে তিনি সত্যিই বোর হয়ে গেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, ১৯২৯ সালে বোর রামনকে যেমন নমিনেট করেছিলেন, তেমনি করেছিলেন আরও তিনজনকে, অর্থাৎ রামনের ওপর তাঁর ভরসা নিরঙ্কুশ ছিল না। সেই তিনজন হলেন ওয়েন রিচার্ডসন, আরভিং ল্যাংমুইর এবং রবার্ট উড। ১৯৩০ সালেও তিনি শুধু রামনকে নয়, তাঁর সঙ্গে নমিনেট করেছিলেন রবার্ট উডকেও। উড নোবেল পুরস্কার পাননি। ওয়েন রিচার্ডসন ১৯২৮ সালেই ফিজিক্সে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরের বছরও নোমিনেটেড হয়েছিলেন, ফিজিক্সেই, করেছিলেন শুধু বোরই নয়, আরও তিনজন, যাঁদের মধ্যে রাদারফোর্ডও ছিলেন। ল্যাংমুইরকে ১৯২৯ সালে বোর ফিজিক্সের জন্যে নোমিনেট করলেও লাভ হয়নি, তিনি পরে ১৯৩২ সালে কেমিস্ট্রিতে নোবেল পুরস্কার পান।

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার এই একটাই উপায় – নোমিনেশন। যে-কেউ নোমিনেট করতে পারে না, তার শর্ত আছে। প্রতিষ্ঠিত দেশীয় বিজ্ঞান-সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিরা ছাড়া পূর্ববর্তী নোবেল লরিয়েটরা নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন করতে পারেন। রামন ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বেঁচে ছিলেন আরও চল্লিশ বছর। এই চল্লিশ বছরে তিনি মনোনয়ন করেছিলেন মাত্র পাঁচ জনকে। এবং যতই তিনি ইউনিয়ন জ্যাক দেখে কেঁদে ফেলুন না কেন, এই পাঁচ জনের চারজন বিদেশী তার মধ্যে একজনকে তিনি দু-বার নোমিনেট করেছিলেন এবং একজন তাঁর নিজের ভাইপো হওয়া সত্ত্বেও বিদেশী। একমাত্র একজনই পাক্কা দিশি, তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিট্যুট অভ সায়েন্সের জি এন রামচন্দ্রন, যাঁর রামচন্দ্রন প্লট প্রোটিন বায়োকেমিস্ট্রিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, যার কিঞ্চিৎ উল্লেখ করেছি আমার নিজের পাতায় ডাল-সংক্রান্ত অন্য এক পোস্টে।

রামনের এই পাঁচবার নোমিনেশন ছিল এই রকম –
১৯৩৪ – অটো স্টার্ন। তিনি ১৯৪৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
১৯৩৮ – এনরিকো ফার্মি ও আর্নেস্ট লরেন্স। ফার্মি ১৯৩৮ সালে ও লরেন্স ১৯৩৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
১৯৩৯ – আর্নেস্ট লরেন্স। রামন এঁকে আগের বছরও নোমিনেট করেছিলেন। সেবার তিনি পুরস্কার পাননি বলে পরের বছর আবার করেন, এবার তিনি নোবেল পুরস্কার পান।
১৯৫৭ –সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখর। ইনি রামনের দাদার ছেলে। পুরস্কার পেয়েছিলেন অনেক বছর পরে, ১৯৮৩ সালে। তখন তিনি আমেরিকান।
১৯৬৪ – জি এন রামচন্দ্রন। ইনি রামনের আই আই এস সি-র সহকর্মী ছিলেন। ইনিই একমাত্র যাঁকে রামন নোমিনেট করেছিলেন অথচ যিনি নোবেল পুরস্কার পাননি।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, রামনের নোমিনেশনের হিট-রেট খারাপ ছিল না। যে পাঁচজনকে তিনি নোমিনেট করেছিলেন, তাঁদের চারজনই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। দু-জন পেয়েছিলেন সেই বছরই।

অথচ সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও মেঘনাদ সাহাকে তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য বলে মনে করেননি। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এই পুরস্কার নিয়ে ইওরোপীয় বিজ্ঞানীদের এক বিপুল উৎসাহ ছিল। একে অন্যকে বছরের পর বছর নোমিনেট করে যেতেন। ফিজিক্সের লোককে কেমিস্ট্রিতেও। এমনকি একবার পুরস্কার পাওয়ার পরও। এক্স নোমিনেট করছেন ওয়াইকে, ওয়াই জেডকে, জেড এক্সকে।

এর মানে এই নয় যে সত্যেন্দ্রনাথ বা মেঘনাদ একবারও নোমিনেটেড হননি। সাহা ছ-বার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৩০ সালে আচার্য জগদীশচন্দ্রের ভাইপো দেবেন্দ্রনাথ বসু ও শিশির মিত্র তাঁকে নোমিনেট করেছিলেন, ১৯৩৭ সালে আর্থার কম্পটন, ১৯৩৯ সালে শিশির মিত্র, ১৯৪০ সালে আর্থার কম্পটন আবার এবং ১৯৫১ ও ১৯৫৫ সালে আবারও শিশির মিত্র। আর্থার কম্পটন আমেরিকান, তিনি ১৯২৭ সালে ফিজিক্সে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তেমনি সত্যেন্দ্রনাথ বসু মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনবার। দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁর প্রিয় অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁকে মনোনীত করেননি। করেছিলেন ১৯৫৬ সালে কেদারেশ্বর ব্যানার্জি, ১৯৫৯ সালে দৌলত সিং কোঠারি, ১৯৬২ সালে সুবোধনাথ বাগচি এবং এ কে দত্ত।

দুর্ভাগ্যক্রমে যাঁদের স্বদেশীয় পুরস্কৃত বিজ্ঞানীই তাঁদের তুলে ধরার চেষ্টা করেননি, তাঁদের পুরস্কার পাওয়া এক রকম অসম্ভব ছিল। রামনের পক্ষে এ কথা বলা যেতে পারে যে তিনি হয়তো সত্যেন বোসের স্ট্যাটিসটিক্সের গুরুত্ব - যে ব্রহ্মাণ্ডের অর্ধেক 'পার্টিকল' এই বোসন তথা বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান মেনে চলে - নিজে অনুধাবন করেননি, কাজেই মনোনয়ন করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। আফটার অল, বোস তাঁর অঙ্ক নিজে বোর্ডে কষে দেখাতে পারতেন, শোনা যায় নিল্‌স্‌ বোর কলকাতায় ভাষণ দিতে এলে সত্যেন বোস সেই ভাষণের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বোরের অনুরোধে তিনি নিজে বোর্ডে কিছু ডিডাকশন কষে দেখিয়েছিলেন। রামনের সহকর্মী কৃষ্ণাণের মত কাউকে প্রয়োজন হয়নি তাঁর।

তার মানে এই নয় যে রামন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ছিলেন না। অমিত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন এবং তাঁর রামন এফেক্টের ব্যবহারিক তাৎপর্য অসীম। সে নিয়ে কোনও সন্দেহই থাকার কথা নয়।

এবং তার সঙ্গে ছিল তাঁর প্রবল একগুঁয়েমি যে জন্যে সে সময় তাঁর বিশেষ বন্ধু-টন্ধু ছিল না। তার কিছু কিছু কথা পরে বলা যাবে এক সময়।

03/12/2020

“...পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুদের প্রতি একধরণের পাথুরে উদাসীনতা ছিল নেহরুর। কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ উদ্বাস্তুদের যে নগণ্য সাহায্য করেছিল, তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডঃ (বিধানচন্দ্র) রায় নেহরুকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তার উত্তরে নেহরু যে চিঠি লেখেন তাতে উদ্বাস্তুদের প্রতি তার চরম অবজ্ঞাই প্রকাশ পায়। ১৯৪৯-এর শেষদিকে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাড়িয়েছিল ১৬ লক্ষ। ডঃ রায় প্রায় ভিক্ষাপাত্র হাতে নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তখন কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণে তাঁর মনে হয়েছিল পশ্চিম-পাকিস্তানের উদ্বাস্তুরাই প্রকৃত উদ্বাস্তু। পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তরা উদ্বান্তই নয়। ১৯৪৯-এর ১ ডিসেম্বর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নেহরুকে একটি চিঠি লিখেছিলেন :

“...আপনার এই ধারণা হয়েছে যে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আপনার সরকার আমাদের বিপুল আর্থিক অনুদান দিয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার সরকারের কাছ থেকে ১৯৪৮-৪৯ এবং ১৯৫০-৫১ এই দুবছরে যে অনুদান আমরা পেয়েছি তা তিন কোটি টাকার কিছু বেশি। অবশিষ্ট পাঁচ কোটি টাকা পেয়েছি ঋণ হিসেবে। আপনার কি মনে হচ্ছে না যে পশ্চিম-পাকিস্তানের উদ্ধান্তদের তুলনায় এই টাকাটা একেবারেই নগণ্য? আমি তুলনা করতে চাই না। তাতে তিক্ততার সৃষ্টি হতে পারে। আমি শুধু বলতে চাই যে দুবছরে ২৬ লক্ষ উদ্বাস্তুকে অনুদান হিশেবে যে টাকাটা দেওয়া হয়েছে তাতে প্রত্যেক উদ্বাস্তু পায় অকিঞ্চিৎকর বিশটি টাকা। এই টাকাটাকে কি আপনি বিশাল অনুদান বলবেন? উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হিন্দুরা সর্বস্বান্ত হয়ে ক্ষুধায় ও উপবাসে ক্লিষ্ট হয়ে এদেশে এসেছে জীবিকার আশায়। অনেক মাস কেটে যাওয়ার পরও পূর্ব-পাকিস্তানি উদ্বাস্তুদের কেন্দ্রীয় সরকার কোনাে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তাদের কোনাে দায়দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তাদের জনা রাজ্য সরকার সাধ্যমতাে সব করেছে। আর এই উদ্বাস্তুদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দুবছরে বিপুল অর্থ—মাথাপিছু বিশটি টাকা বরাদ্দ করেছে।..”

উত্তরে নেহেরু লিখেছেন,

“পূর্ব-পাকিস্তান থেকে যারা এসেছে, তাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য কত খরচ হয়েছে, আমি জানি না। আপনি হয়তাে ঠিকই বলেছেন তাদের জন্য পশ্চিম-পাকিস্তানি উদ্বাস্তুদের চেয়ে অনেক কম ব্যয় করা হয়েছে। … আপনার ও আমাদের উভয়েরই নীতি হল এই যে এ ব্যাপারে এমন কোনাে নীতি গ্রহণ করা উচিত হবে না যাতে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে সব হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। তাতে ভয়াবহ দুর্দশার সৃষ্টি হবে যার মােকাবিলা করা কোনাে সরকারের পক্ষেই সম্ভব হবে না।…”

অর্থাৎ অদ্ভুতভাবে লাজলজ্জা জলাঞ্জলি দিয়ে 'প্রধানমন্ত্রী' বললেন তিনি জানেন না উদ্বাস্তুদের পেছনে কত খরচ হয়েছে!!

১৯৫০-এর দাঙ্গায় একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠল। কেন্দ্রীয় সরকারের কথায় চিড়ে ভিজবে না। উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু না করলেই নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পুনর্বাসনমন্ত্রী মােহনলাল সকসেনা কলকাতায় বৈঠক ডাকলেন। এতে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ওড়িশার প্রতিনিধি ও মেঘনাদ সাহার মতাে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানাে হল।

বৈঠকে আলােচনার বিশেষ কিছু ছিল না। বৈঠকে আহত ব্যক্তিদের সকসেনা জানিয়ে দিলেন যে নবাগত উদ্বাস্তুদের কেন্দ্রীয় সরকার ত্রাণ দেবে, পুনর্বাসন নয়, কেননা পূর্ববঙ্গে দাঙ্গাহাঙ্গামা বন্ধ হলেই আবার উদ্বাস্তুরা স্বদেশে ফিরে যাবে। অতএব পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কোনাে যুক্তি নেই। স্পষ্টতই কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির মােকাবিলা করতে চাইছিলেন না। সকসেনার কথা শুনে বােঝা গেল সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকতেই চাইছে।

ডঃ মেঘনাদ সাহা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবের তীব্র বিরােধিতা করে বললেন যে, সরকার ভুলে গেছে দেশবিভাগের আগে কংগ্রেস নেতারা পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি পালন না করলে বিশ্বাসভঙ্গ করা হবে। সকসেনা সব শুনলেন। কিন্তু তিনি তাে আলােচনা করে উদ্বাস্তুদের সম্পর্কে কোনাে সিদ্ধান্তে পৌছতে কলকাতা আসেননি। তিনি এসেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ঘটা করে বৈঠক করে জানিয়ে দিতে। কেন্দ্রীয় সরকার একথা বুঝতে চায়নি যে সাম্প্রদায়িক ধর্মের ভিত্তিতে দেশবিভাগ মেনে নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান পুরােপুরি মুsলমানদের দেশ এবং মুsলমান দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সহ্য করা হয় না। তাই পশ্চিম-পাকিস্তান থেকে যেমন সংখ্যালঘুরা বিতাড়িত হয়েছে, তেমনি পূর্ব-পাকিস্তানের সংখ্যালঘুরাও দেশত্যাগ করতে বাধ্য হবে।

নেহরুর বােঝা উচিত ছিল পাঞ্জাবে যেভাবে জনবিনিময় করে উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাঞ্জাবে জনবিনিময় সম্ভব হল, ভারতের ঐশ্বর্য ঢেলে দিয়ে তাদের পুনর্বাসন দেওয়া হল। কিন্তু বাঙালি হিন্দুদের ক্ষেত্রে জনবিনিময় সম্ভব নয়, পূর্ব-পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুরা আসলে উদ্বাস্তুই নয়। তারা ভয় পেয়ে চলে এসেছে। কিন্তু তারা এদেশে থাকবে না। দেশে ফিরে যাবে। কেন দেশে ফিরে যাবে? কারণ নেহরু তাই বিশ্বাস করেন। কিন্তু এই বিশ্বাসের পেছনে কোনাে যুক্তি ছিল না। এদিকে ১৯৫০-এ দুই বঙ্গে দাঙ্গার ফলে হিন্দুরা একতরফাভাবে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসছিল না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলমানরাও পূর্ববঙ্গে চলে যাচ্ছিল। বেসরকারিভাবে সম্পত্তি ও জনবিনিময়ের ফলে উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এই ধরণের বেসরকারি জনবিনিময় ঘটলে নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষতার ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকবে না। অথচ কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য এই বেসরকারি জনবিনিময় চলতে দেওয়া যেতে পারে না। অতএব কাশ্মীরের মুসলমানদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য ভারতের সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং পূর্ব-পাকিস্তানের কয়েক কোটি হিন্দুকে বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে।

১৯৫০-এর ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি সংসদে এ বিষয়ে উত্তপ্ত আলােচনা হয়েছিল। নেহেরু বললেন, জনবিনিময়ের প্রস্তাব ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় আদর্শের পরিপন্থী। এই প্রস্তাবের সঙ্গে আরাে বড় আদর্শ জড়িয়ে আছে। এতে বিশ্বাসভঙ্গ করা হবে।

উত্তরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বলেছিলেন যে, পাঞ্জাবে জনবিনিময়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময় পণ্ডিত নেহরুর বিশ্বাসভঙ্গের ব্যাপারটা হিমঘরে রেখে দিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিশ্বাসভঙ্গের ব্যাপারটা সেভাবেই ঠাণ্ডা ঘরে তুলে রেখে অভিজ্ঞ রাজনীতিজ্ঞের মতাে পরিস্থিতির মােকাবিলা করাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু নেহেরু ইতিপূর্বেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ডঃ মুখার্জির যুক্তিতে তিনি কান দিলেন না। পশ্চিমবঙ্গের মুsলমানরা যাতে পূর্ববঙ্গে চলে না যায়, তার ব্যবস্থা করলেন। বিশ্বের দরবারে তার ভাবমূর্তি অটুট রইল। তিনি সাড়ম্বরে ঘােষণা করলেন, ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদে আছে। কাশ্মীরের ভারতভুক্তি যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য ১৯৫০-এ জনবিনিময়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তু সমস্যার সহজ সমাধানের পথ রােধ করে দাড়ালেন নেহরু। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুsলমানদের রক্ষা করলেন, কিন্তু পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের ঠেলে দিলেন এক শ্বাসরােধকারী অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।"

*******

-প্রান্তিক মানব,প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী

ভাগ্যের পরিহাস এই বাঙ্গালীবিদ্বেষী নেহেরু আজও এখনো বাংলায় পজিটিভলি প্রাসঙ্গিক! বাঙ্গালী আজও স্পেডকে স্পেড আর নেহরুকে বাঙ্গালীবিদ্বেষী বলতে শিখলো না! বাঙ্গালী হিন্দুদের ভোটে রাজনীতি করবো, আবার নেহেরু স্তুতিও করবো এই দ্বিচারিতা এখনই বন্ধ হওয়া দরকার। কাশ্মীরে বাঙ্গালীর সূর্য সন্তান ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে খুনের নেপথ্যে যারা ছিলো, তাদের পিঠ চাপড়ানো বাঙ্গালী কোনদিন মেনে নেবে না।

তথ্যসূত্র:
১) প্রান্তিক মানব, প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী
২) উদ্বাস্তু, হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
৩) অমৃতবাজার পত্রিকা

Address

28/1/1A Jhamapukur Lane , (Opposite Brahmo Boys School)
Kolkata
700009

Opening Hours

Monday 10am - 6pm
Tuesday 10am - 6pm
Wednesday 10am - 6pm
Thursday 10am - 6pm
Friday 10am - 6pm
Saturday 10am - 2pm

Telephone

8777569962

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Samhati Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Samhati Foundation:

Share

Category