19/02/2026
আমাদের খড়দহের হাসির রাজা উত্তম দাস 🙏
ছোটবেলার ক্যাসেটে লাগাতার এপিঠ বিপিঠ করে নিজের পেটে স্বেচ্ছায় খিল ধরাতাম, চোয়াল ব্যাথা করত হাসতে হাসতে।
তাঁর উৎপল দত্তের কন্ঠে জগদীপ'কে বলা সেই-
'৯ নম্বর টা আসার ছিলো ১৫ নম্বর টা যাবার ছিলো... দুটো ধাক্কা লেগে বন্ধ হয়ে গেছে'
কম করে পনেরোশো বার শুনেছি।
গ্রাম শহরের মঞ্চ জলসায় এনাউন্সার বলতে তখন একটাই নাম - উত্তম দাস।
পরে শাকিল আনসারি সাহেবের সাথে ওনার একটা কাল্পনিক রাইভ্যালরি তৈরি করে টক্কর লাগিয়েছিলাম আমরাই, আনন্দ ও নিতাম আমরাই, ওনাদের কিছুই আসে যায়নি হয়তো বা।
আমার খড়দা'র যেন মহানায়ক ছিলেন উত্তম দাস । গরীব ঘর থেকে ইয়াব্বড়লোক হয়ে ওঠার রুপকথা'র গল্প কিম্বা সাক্ষাৎ সিনেমা যেন উত্তম দাস৷
কত গল্প শুনতাম। খড়দার চায়ের দোকান গুলোয়, রকে ঠেকে, পরিচারিকা গিন্নী তে শুধু উত্তমেরই গপ্প, তাঁর প্রেম, বিয়ে ইত্যাদি মুখে মুখে ফিরেছে একটা সময়ে। নিজে সাক্ষী।
অবাকও হতাম কত এলি তেলি এলাকার লোক, প্রতিবেশী'ও উত্তম দাস কে চেনেন বলে গল্প দিয়ে রেলা নিয়ে চলে যেত আর আমরা সেয়ানা বন্ধুরা সে চলে যাবার পর পেছনে বলতাম 'তরে পোঁছেও না উত্তম দাস'।
খড়দহের মানুষ হলেও কোনোদিন আলাপ হয়নি, মীরাক্কেলে গেস্ট হয়ে গেছিলেন, আমার সেদিন পারফরম্যান্স ছিলোনা বলে দু:খ পেয়েছি।
এই বছর আড়াই আগে একদিন চলে গিয়েছিলাম তাঁর বাড়ি। একা ছিলেন। আমাকে চেনেন বললেন। ২৫ মিনিট মতো কথা হল৷ আর ঢিব করে প্রণামটা সেরে নিয়েছিলাম। ওইটার জন্যই গেছিলাম।
এই ঘন্টা খানেক আগে দু:সংবাদ টা পেলাম। মনে হচ্ছে ছোটোবেলার আমিগুলো হাউহাউ করে হৃদয় ফাটিয়ে কাঁদছে আমার বুকের ভেতর জুড়ে।
তার অনুষ্ঠানে বা ক্যাসেটের শেষে থাকা একটা গান কানে বাজছে, বেজে চলেছে
কভি অলবিদা না কহেনা 🙏🙏
কলমে Palash Adhikary
#উত্তমদাস