26/09/2021
শুধু রতন টাটা নয়, প্রতিটি বড় ব্যক্তি সংস্থা কোন মানুষের চিকিৎসা খাতে অনুদান সাহায্য করার সময় সেই অর্থ কখনোই পেশেন্টের পরিবারের হাতে নগদ হিসেবে দেন না। বরং যেখানে চিকিৎসা হচ্ছে সেখানে সরাসরি দান করেন। আমাদের মেধার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে মাননীয় রতন টাটা ২ লক্ষ টাকা তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে কলকাতা টাটা ক্যানসার হাসপাতালে মেধার একাউন্টে জমা করে দেন। সেই টাকা মেধার চিকিৎসার বিল থেকে বাদ দেয়া হয়। এবং মেধার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসার সময়েও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু মেধা আমাদের সেই সময়টুকু দিল না।
এবং এই সামান্য সময়ে অর্থাৎ আমরা যেদিন থেকে অনুদান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তার পর মাত্র ৬০ ঘন্টা মতো সময় পেয়েছিলাম। আমরা বুঝতে পারিনি আমাদের হাতে সময় এতো কম ছিল। এর মধ্যে আমরা আপনাদের কাছ থেকে ৮৩ হাজার টাকা সাহায্য পেয়েছি। মেধা চলে যাবার পরও আপনাদের কাছে থেকে সামান্য কিছু অর্থ এসেছে। সেটা আমরা পরবর্তী ক্যান্সার পেশেন্টের জন্য খরচ করছি।
মেধার জন্য সোনু সুদ সাহায্যের আশ্বাস দিলেও তা একটু দেরি হয়ে গেছিল। যখন তিনি সাহায্যের হাত বাড়ালেন ততক্ষনে মেধা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।
মেধার চিকিৎসার মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। টাটার অনুদান মিলিয়ে আমাদের সংগ্রহ ২ লাখ ৮৩ হাজার বাদ দিয়ে বাকি টাকাটা মিটিয়েছে মেধার পরিবার। তবু এই সামান্য সময়ে, মাত্র ৬০ ঘন্টার মধ্যে যে এতো টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছি তা আপনাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে।
মাননীয় রতন টাটাকে অন্তর থেকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। উনাকে সরাসরি অনুরোধ করার ১৫ ঘন্টার মধ্যে উনি রেসপন্স করেছিলেন। ধন্যবাদ জানাই আপনাদেরও, যারা আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সাধ্যমতো পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এবং আপনারা রেসপন্স করেছিলেন ১০ মিনিটের মধ্যেই। ছোট্ট মেয়েটির জন্য স্নেহ ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মেধাকে আপন করে নিয়েছিলেন।
তবে মেধা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল একটা ক্যানসার পেশেন্টের জন্য লড়াই করতে গেলে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। কারন লড়াইটা অনেক বড় এবং মৃত্যু মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ফলে প্রস্তুতিতে কোন ঘাটতি থাকলে হেরে যাবার সম্ভবনা বেশি থাকবে।
এবার থেকে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। মেধা চলে যাবার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আর একজন মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। মুর্শিদাবাদের লালবাগের একটি ৯ বছরের বাচ্চা মেয়ের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। এবার আমরা আমাদের টিমের মধ্যে আলাদা আলাদা করে দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকেই একজন বা দুজন করে পেশেন্টের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন। যদিও তাকে আমরা সবাই মিলেই সাপোর্ট করছি।
তবে আমরা আগে যেমন রক্ত নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলাম সেখানে কোন ঘাটতি থাকবে না। আমাদের রক্তদাতা সংঠনগুলো যেমন স্বাধীনভাবে বা যৌথভাবে কাজ করছিল, তেমনই করতে থাকবে। তার পাশাপাশি এবার মেধার মতো অন্যদেরও পাশে থাকার অঙ্গীকার নিলাম। তাদের জীবন মৃত্যুর লড়াতে এবার আমরাও তাদের পাশে দাঁড়াবো।
আমরা আমাদের নিজস্ব কোন ফান্ড করছি না। যখন যেমন পেশেন্ট আমাদের কাছে আসবে তখন সেই পেশেন্টের জন্য পেশেন্টের পরিবারের কোন সদস্যের একাউন্ট দিয়ে ফান্ড তৈরি করা হবে। অর্থাৎ আপনারা সরাসরি সেই পেশেন্টের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। পেশেন্টের পরিবারের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারবেন। তাদের কষ্টটা ভাগ করে নিতে পারবেন, যেমন মেধার ক্ষেত্রে নিয়েছিলেন।
এবং এসব আমরা করছি সেভ মেধা ফাউণ্ডেশনের ছত্রছায়ায়। যেখানে আমাদের দুই দেশের বন্ধুরা আছেন। আছেন আরো প্রচুর সমাজসেবী বন্ধুরা। প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে একজন করে নিয়ে আমরা আমাদের পরিচালন সমিতি গড়ে তুলছি। এবং ভারত ও বাংলাদেশের সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।
সেভ মেধা ফাউণ্ডেশন - মৈত্রী ও ভালোবাসার বন্ধন