25/07/2025
আমরা বহুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি, আমাদের পেজের কনটেন্ট বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন মাধ্যমে অবলীলায় কপি করে নিজেদের লোগো বসিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এতদিন আমরা কখনও এইসব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও অভিযোগ করিনি। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই বিতর্ক নয়—বরং, আমরা বরাবরই বিশ্বাস করি, যদি আমাদের মাধ্যমে কালনার সুনাম ও ঐতিহ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তাহলে তাতে আপত্তির কিছু নেই।
আমরা এই পেজটি শুরু করি প্রায় ২০১৭-১৮ সালের দিকে। তখন কালনা কেন্দ্রিক কোনও ফেসবুক পেজ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অস্তিত্ব কার্যত ছিল না। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল, কালনার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিকে ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আমরা এই দীর্ঘ যাত্রাপথে পেজ থেকে কোনও রকম আর্থিক উপার্জন করিনি। আজও আমাদের পেজের মনিটাইজেশন অপশন বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, এই প্ল্যাটফর্ম কখনোই বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি—এটি একান্তই ভালোবাসার ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তৈরি।
তবে আজ একটি ঘটনায় আমরা গভীরভাবে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। আমাদের এক ফলোয়ার, যিনি বর্তমানে কলকাতায় থাকেন, তিনি আমাদের কাছে কিছু ছবি পাঠান। তাতে দেখা যায়, ২০২০ সালে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রবন্ধ—"মাতা মহিষমর্দিনী পূজার ইতিহাস" (লেখক: অমরেশ মজুমদার)—হুবহু কপি করে প্রকাশ করা হয়েছে একটি বইয়ে। বইটির নাম "বাংলার শক্তিকথা ও কালীকথা" এবং লেখক হিসেবে নাম রয়েছে সমুদ্র বসু এবং বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ডিসেম্বর, ২০২৩-এ। আরও দুঃখজনক বিষয়, এই গ্রন্থটি বানিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ লেখক সেই কনটেন্ট থেকে আর্থিক লাভ করছেন—যা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক এবং কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।
আমাদের ওয়েবসাইটে এই লেখা প্রকাশের সময়ও কোনো মনিটাইজেশন চালু ছিল না, এখনো নেই। তাই এই ধরনের কনটেন্ট চুরি শুধু আমাদের আবেগের অপমান নয়, একজন লেখকের মৌলিক শ্রমেরও অপমান।
আমরা মনে করি, এই ঘটনাটি নিছক একবারের না-দেখা-চলার মতো নয়। এটি একটি বৃহত্তর প্রশ্ন তোলে—সংস্কৃতির চর্চা কি চুরির মাধ্যমে হতে পারে? যারা নিজেদেরকে সংস্কৃতির ধারক-বাহক বলে দাবি করেন, তাঁদের থেকে এরকম অনৈতিক কাজ আমাদের যথেষ্ট ব্যথিত করেছে।
আমরা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছি, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এভাবে কোনও মেধাসত্ত্ব লঙ্ঘন করে উপকৃত না হতে পারে। আমরা আইনি পদক্ষেপে না গিয়ে এখনও শুধুমাত্র নৈতিকতার জায়গা থেকেই বিষয়টি তুলে ধরছি। তবে প্রয়োজনে আমরা পরবর্তী স্তরের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।
আমাদের অনুরোধ, যারা সত্যিকারের সংস্কৃতিপ্রেমী, ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী, তাঁরা যেন মৌলিক লেখকদের সম্মান করেন এবং উৎসের যথাযথ স্বীকৃতি দেন।
সত্য, স্বচ্ছতা এবং সম্মান—এই তিনটিই হোক আমাদের সকল প্রচেষ্টার মূলমন্ত্র।