01/08/2021
মানুষকে যাচাই করার সহজ পদ্ধতি :-
একবার হঠাৎ আমার ফোন নাম্বারের বিকাশে ১০২০'টাকা ক্যাশ মানি আসলো।আমি তখন নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলেছি,তেমন কেউ নাই আমাকে টাকা পাঠানোর।মুহুর্তেই বুঝে ফেললাম কেউ ভূল করে টাকা'টা পাঠিয়েছে।
এটা ভাবতে ভাবতেই আমার ফোন বেজে উঠলো আর ওপাশ থেকে কাঁপা কন্ঠে আকুতির স্বরে একজন বলতে লাগলো,ভাই আপনার নাম্বারে ভূল করে একহাজার টাকা চলে গেছে! যদি একটু দেখতেন,আর টাকাটা ফেরত দিতেন।
আমি বললাম,ভাই কোনো অসুবিধা নাই।আপনি টেনশন কইরেন না। আমি এক্ষুনি টাকা'টা ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি,আপনি পাইসেন কিনা এটা শুধু আমাকে একটু জানায়েন।
পাঁচমিনিট পর কৃতজ্ঞতা ভেসে আসলো ফোনে।ভাই টাকা'টা পেয়েছি।আমি ভাই রিক্সা চালাই,টাকাটা গ্রামে বউয়ের নাম্বারে দিতে গিয়ে,আপনার নাম্বারে চলে গেছিলো।আপনি ফেরত দিসেন,অনেক উপকার হইসে।
অন্যকেউ হইলে হয়ত ফেরত দিতোনা।
সেদিন তার টাকাই তাকে ফেরত দেয়ার পর,কেন জানি নিজের কাছেই খুব ভালো লাগছিলো এই ভেবে যে,একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের বিশ্বাস হয়ত টিকে গেলো এই কাজ'টার জন্য।
তবে,অন্যকেউ হইলে হয়ত ফেরত দিতোনা এই কথা'টা তখনো আমার মাথায় ঘুরছিলো।আমি করলাম কি, এলাকায় এসে আমার পরিচিত এক ছোটভাইয়ের ফ্লেক্সি'র দোকান থেকে ৫'টা নাম্বারে ৫০ টাকা করে মোট আড়াইশো'টাকা ফ্লেক্সি করলাম।
নাম্বার'গুলো আমার পরিচিত মানুষের।যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপদেশ,উদাহরন দেয় আর নিজেদের খুবই আদর্শবান মনে করে।এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ,দুইজন নারী।
টাকা পাঠানোর পর পাচঁজনকেই ফোনের দোকান'দার ফোন করে বলেন যে,ভূল করে তাদের মোবাইলে ৫০'টাকার ফ্লেক্সি চলে গেছে।এই পাচজনের মধ্যে একজন দোকানী'র সাথে কথা বলার পর তার ফোন অফ করে দেন, তিনজন সরাসরি অস্বীকার করেন যে কোনো টাকাই আসে নাই তাদের ফোনে আর একজন কেবল স্বীকার করেন যে তিনি টাকা পাইসেন।
আমার ২৫০ টাকার এই এক্সপেরিমেন্ট দিয়ে আমি এমন চারজন মানুষকে চিনতে পেরেছিলাম যারা কেবল ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে আছে সুযোগের অভাবে।এরাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের দূর্নীতি আর সরকারী কর্মকর্তাদের অনিয়ম নিয়ে এলাকা গরম করে ফেলে।নিজের ছেলে মেয়েদের সততার বানী শোনান।
এরা নিজেরা যে কতবড় খাদক সেটা হয়ত দেখলে বুঝা যায়না।কিন্তু সুযোগ পাইলে বড় বড় দূর্নীতিবাজদেরকেও এরা ঢেকুড় ছাড়া গিলে ফেলতে পারে এটা সেদিন বুঝে ফেলছিলাম।যারা সামান্য ৫০' টাকার লোভ সামলাতে পারে নাই,তারা ৫০ লাখ দেখলে কি করবে সেটা আর বুঝার বাকী নাই আমার।
কোরিয়াতে প্রতিমাসে দেড়-দুইলাখ টাকা বেতন পেয়েও মাত্র ২৪০ টাকা পাওয়ার আশায় কয়েকজন দেখলাম আমাকে টিকটকের ম্যাসেজ শেয়ার করেছেন!আমি খুব অবাক হয়েছি তাদের এই কান্ড দেখে। মাত্র ২৪০ টাকা পাওয়ার আশায় যে মানুষ উদ্ভট তামাশা দেখার এপস শেয়ার করতে পারে, তাকে আরো টাকার লোভ দেখাইলে কি করবে কে জানে!
পেটভরা খাবার থাকলেও দেখবেন কিছুমানুষ অলটাইম অন্যদের খাবারের দিকে চেয়ে থাকবে।তার পেটে তিল ধারনের জায়গা না থাকলেও সে চেয়েই থাকবে,হা-পিত্যেশ করবে।তার এই চেয়ে থাকাকে ক্ষুধা বলে না ভাই,এটাকে বলে চোখের ক্ষুধা।এটাই তার অভ্যাস।
অহংকার,লোভ আর হিংসা এই তিনটা জিনিস একটা মানুষ'কে, মানুষ হতে দেয়না।
শাদ্দাদ'কে বলা হয়েছিলো তুমি ঈমান আনো।বিনিময়ে আল্লাহ তোমাকে চিরস্থায়ী জান্নাত দিবেন।শাদ্দাদ অহংকার করে এই দাওয়াত ফিরিয়ে দিয়েছিলো এই বলে যে, এমন জান্নাত আমি দুনিয়াতেই তৈরি করে নিবো। (নাউযুবিল্লাহ)
শাদ্দাদ তার বানানো জান্নাতে আর প্রবেশ করতে পারে নাই।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তার আগেই।
কারুন'কে বলা হয়েছিলো সম্পদের যাকাত দাও,আরো বাড়িয়ে দেয়া হবে তোমার সম্পদ।সে সম্পদের লোভ ছাড়তে না পেরে যাকাতের হুকুম অস্বীকার করেছিলো।তাকে তার সমস্তসম্পদ'সহ মাটির নীচে দাবীয়ে দেয়া হয়েছিলো।
ইবলিশ'কে বলা হয়েছিলো আদম'কে (আঃ) সেজদা করো।আগুনের তৈরি ইবলিশ,মাটির তৈরি আদমকে সেজদা করতে পারে নাই শুধু হিংসার কারনে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাকে অভিশপ্ত করে দিয়েছেন কেয়ামত পর্যন্ত।
বলছিলাম আমার ২৫০ টাকার এক্সপেরিমেন্টের কথা।
প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ'কে ঠকানো খুব সহজ।কিন্তু,মানুষের ভালোবাসা আর বিশ্বাস অর্জন করা খুব কঠীন।
এই কঠীনতম সময়েও কেউ যদি আপনাকে ভালোবাসে বা বিশ্বাস করে, তাহলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করুন।
চারপাশে মানুষের অভাব নাই তারপরেও সে আপনাকে ভালোবেসেছে,আপনাকে বিশ্বাস করেছে।
তার বিশ্বাস'টা নষ্ট করবেন না,তাকে কখনো ঠকাবেন না।দেখবেন নিজের ভেতর অন্যরকম একটা তৃপ্তি পাবেন। সেই তৃপ্তি টাকার মূল্যে পরিশোধ হয়না কখনো।
ধন্যবাদ,ধন্যবাদ সবাই'কে।
লিখেছেন Rony Zaman