03/07/2026
পার্টি অফিসে তালা মারা যায়, কিন্তু লক্ষ-কোটি কর্মীর বুকে থাকা 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়' নামটিকে স্তব্ধ করা যায় না!💚
বাংলার মা-মাটি-মানুষের প্রিয় সহযোদ্ধারা,
মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয়ের এই চিত্রটি আজ আমাদের প্রত্যেকটি নিষ্ঠাবান কর্মীর বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যায় যে দলীয় পার্টি অফিস বন্ধ হয়, রাতের অন্ধকারে একদল স্বার্থান্বেষী, নীতিহীন মানুষ বাড়ির মালিককে প্রভাবিত করে সেই দলীয় কার্যালয় জবরদখল করার চক্রান্ত করল! শুধু তাই নয়, যাওয়ার সময় আমাদের আবেগের ঠিকানায় বাইরের একটা তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গেল!
কারা এরা?
এরা তারাই—যাদের আমাদের জননেত্রী নিজের হাতে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছিলেন, মানুষের দরবারে তুলে ধরেছিলেন। আজ দলের দুর্দিনে, কর্মীদের কঠিন সময়ে নিজেদের এলাকার মানুষের কথা চিন্তা না করে তারা ক্ষমতার লোভের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। গত ২ মাস ধরে দিল্লির ইশারায় তারা তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম,দলীয় প্রতীক আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসার দলীয় তহবিল কেড়ে নেওয়ার এক মরিয়া ও ন্যাক্কারজনক চেষ্টা চালাচ্ছে।
তাদের তৃণমূলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, তা তখনই প্রমাণিত হয়েছিল যখন তারা কর্মীদের সাথে মাঠে না বসে নিউটাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে গোপন বৈঠক করেছিল। সেখানে সাধারণ কোনো কর্মী ছিল না, ছিল শুধু ক্ষমতার লোভে অন্ধ হওয়া কিছু বেইমান মুখ। আজ তারা এতটাই ভীত যে নিজেদের নির্বাচিত এলাকায় যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না, ঘরছাড়া সাধারণ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বা তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এমনকি দিল্লির নির্বাচন কমিশনে গিয়েও এক অদ্ভুত নজিরবিহীন ঘটনার মাধ্যমে তারা দলের প্রতীক দাবি করার নাটক করে এসেছে।
আমাদের প্রশ্ন ও আমাদের অবস্থান:
আজকের এই অন্যায়ের খবর পেয়ে আমাদের দলীয় নেতৃত্ব—কুণাল ঘোষ, বৈশান্বর চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র সহ অগুনতি সাধারণ কর্মী সেখানে ছুটে যান। আমাদের কাছে চাবি থাকা সত্ত্বেও, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোনো জোরজুলুম বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করিনি। সেখানে মোতায়েন থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল এবং দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন ওই বেইমানদের দেওয়া বেআইনি তালাটিকেই পাহারা দিচ্ছে!
বাংলার প্রকৃত সৈনিকদের প্রতি আমাদের আহ্বান:
প্রিয় সহযোদ্ধারা, আজ আমাদের নেত্রীর লড়াই একার নয়। আজ আমাদের দলের ও নেত্রীর প্রতি যে অন্যায় চলছে, তা দেখে কি আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি? যে মানুষটি সারাজীবন নিজের রক্ত জল করে এই দলটা তৈরি করেছেন, আজ কিছু স্বার্থপর মানুষ তাঁর সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করতে চাইছে। নেতারা বিক্রি হতে পারে, কিন্তু মাঠের কর্মীরা কোনোদিন বিক্রি হয় না!
এই দলীয় পার্টি অফিসের তালা আমাদের আটকে রাখতে পারবে না। আমাদের আসল পার্টি অফিস তো কোনো চার দেওয়ালে নয়, আমাদের পার্টি অফিস হলো বাংলার কোটি কোটি মানুষের মনে, যা কোনো এজেন্সি বা চক্রান্তকারী কেড়ে নিতে পারবে না।
আসুন, সমস্ত অভিমান ভুলে, সমস্ত জড়তা ঝেড়ে ফেলে আজ আমরা আবার রাজপথে নামি। আমাদের জননেত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, নিজেদের জান-প্রাণ সঁপে দিয়ে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেওয়ালে পিঠ ঠেকানো লড়াই শুরু করুন। বেইমানদের ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের আছে সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ আর জননেত্রীর সততা।
লড়াইয়ের ময়দানে আজ কর্মীরাই শেষ কথা বলবে!
জয় হিন্দ, জয় বাংলা 💚
Mamata Banerjee
Abhishek Banerjee
All India Trinamool Congress