03/06/2026
📢 ভারতে আজ প্রশ্নপত্র ফাঁস আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি—
🔴 NEET-UG 2024 – দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেঁপে ওঠে। সিবিআই তদন্ত, গ্রেফতার, কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ—সবকিছু প্রকাশ্যে আসে।
🔴 NEET-UG 2026 – আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে পুনরায় পরীক্ষার অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। একাধিক গ্রেফতার এবং বহু-রাজ্য জুড়ে নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়।
🔴 UGC-NET 2024 – পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র একদিন পর বাতিল করতে হয়।
🔴 UP Police Constable Exam 2024 – ৪৮ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল। তদন্তে সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়।
🔴 RO/ARO Exam, R**T, BPSC এবং বিভিন্ন রাজ্যের নিয়োগ পরীক্ষা – বারবার একই গল্প, বারবার একই লজ্জা।
প্রশ্ন হলো—
একজন ছাত্র যখন ২ বছর, ৩ বছর, কখনও ৫ বছর ধরে প্রস্তুতি নেয়, তখন তার জীবনের মূল্য কত?
যে বাবা জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন, কোচিং ফি দেন—তার ক্ষতির হিসাব কে রাখে?
যে মেয়ে বা ছেলে চাকরির বয়সসীমার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, পরীক্ষা বাতিল হলে তার হারানো বছর কে ফিরিয়ে দেবে?
একটি প্রশ্নপত্র ফাঁস মানে শুধু একটি পরীক্ষা নষ্ট হওয়া নয়।
এটি একজন ছাত্রের স্বপ্ন হত্যা।
এটি মেধার বিরুদ্ধে টাকার বিজয়।
এটি পরিশ্রমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিজয়।
এটি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের বিশ্বাস ধ্বংস।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিবার কেলেঙ্কারির পরে তদন্ত, কমিটি, আশ্বাস ও নতুন প্রতিশ্রুতি আসে; কিন্তু কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর আবার নতুন একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর শোনা যায়। তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—সমস্যা কি শুধু অপরাধীদের, নাকি পুরো পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামোতেই গুরুতর ব্যর্থতা রয়েছে?
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শ্রেণিকক্ষে, পরীক্ষার হলে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায়।
যদি মেধার পরিবর্তে দালাল, মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজরা ফল নির্ধারণ করে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী নয়—ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো দেশ।