অখণ্ড ভারত

অখণ্ড ভারত আমি একজন হিন্দু

02/10/2021

🙏🙏 Namo Again 🙏🙏

ইসকন......? হিন্দুই হিন্দুর বড় শত্রু। যেসব হিন্দু ইসকনকে সহ্য করতে পারে না তাদের উদ্দেশ্যে এই লেখা।১. আপনি পারবেন পাকিস্...
23/07/2021

ইসকন......? হিন্দুই হিন্দুর বড় শত্রু।
যেসব হিন্দু ইসকনকে সহ্য করতে পারে না তাদের উদ্দেশ্যে এই লেখা।
১. আপনি পারবেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে মিথি নগরীতে নগর কীর্তন করতে.?
২. পারবেন পাকিস্তানে ভক্তিবেদান্ত ট্রাস্ট, ইসকন মন্দির গড়তে.?
৩. ইরানে রথযাত্রা করতে পারবেন.?
৪. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে পারবেন রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী পালন করতে.?
৫. ইসলামী রাজতন্ত্র সৌদি আরবে পারবেন বাদশা আব্দুল্লাহ'কে বেদ উপহার দিতে.?
৬. অতীতের হিন্দু দেশ আজারবাইজানে পুনরায় বৈদিক সনাতন ধর্ম প্রচার করতে.?
৭. সাহস আছে ইসরাইলের তেল আবিবে নামহট্ট মন্দির ও নগর কীর্তন করতে.?
৮. হরিনাম ছড়াতে পারবেন বানিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে.?
৯. বাহরাইনে পারবেন মন্দির তৈরী ও রাজপথে কীর্তন করতে.?
১০. কুয়েতে পারবেন রথযাত্রা র‍্যালি করতে.?
১১. মিসরে পারবেন নামহট্ট মন্দির করার প্রস্তাব করতে.?
১২. সুদানে পারবেন জন্মাষ্টমী করতে.?
১৩. আরব জাহানে গীতার আলো ছড়িয়ে দিতে.?
১৪. কমিউনিস্ট রাশিয়ায় প্রচন্ড বরফ উপেক্ষা করে রথ যাত্রা করতে.?
১৫. ঘানার রাজপথে হরিনাম করতে.?
১৬. পারবেন সাদা-কালো -বাদামী-হলুদ বর্ণ বা জাতিভেদ ভুলে মানুষ হিসেবে সকলকে একই প্লাটফর্মে দাড় করাতে..? না , আপনি পারবেন না। এসব একমাত্র ইসকনই করতে পারে। ইসকনকে পছন্দ করেন না ঠিক আছে। কিন্তু দয়া করে তাঁদের নামে অপপ্রচার করবেন না। সারা পৃথিবীর মানুষের মাথায় গোবরে পুরা না। ইস্কনের অনেক বিদেশী গুরু উচ্চ শিক্ষিত, পিএইচডি ডিগ্রী ধারী। ইসকনের অনেক সদস্য আমেরিকা বা বৃটেনের সংসদে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রিত হন। পারলে যুক্তি দিয়ে তাদের মুখেমুখি হোন..!

-- নমঃ ভারত। 🙏

সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়✍️ দেবাশিস লাহা(বিঃদ্রঃ : একটি পুরনো লেখা প্রাসঙ্গিক কারণে পুণরায় পোস্ট কর...
26/06/2021

সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

✍️ দেবাশিস লাহা

(বিঃদ্রঃ : একটি পুরনো লেখা প্রাসঙ্গিক কারণে পুণরায় পোস্ট করা হইল।)

নেতাজী সুভাষ চন্দ্রকে কেন্দ্র করিয়া একটি অতীব সুস্বাদু পর্যবেক্ষণ এদেশীয় “বুদ্ধিজীবী” মহলে বিরাজ করিতেছে। “স্বাধীনতা” প্রাপ্তির কিঞ্চিৎ কাল পূর্ব হইতেই এই মুখরোচক “তথ্যটি” ঢাক ঢোল সহযোগে প্রচার করা হইতেছে এবং ফেসবুক নামক সামাজিক জনসংযোগ মাধ্যমটি অত্যধিক শক্তিশালী হইয়া ওঠায়, ইহা আরও বিপুল কলেবরে প্রচারিত হইতেছে ! কাহারা করিতেছেন ? কেন আপনার আমার পরিচিত বিশ্বনিন্দিত থুড়ি বিশ্ববন্দিত বামাবতারকুল ! কী সেই পর্যবেক্ষণ ? অদ্যাপি বুঝিতে পারেন নাই ? আচ্ছা তবে নিবেদন করা যাক। মহান নেতাজী “কুচক্রী, সাম্প্রদায়িক হিন্দু” শ্যামাপ্রসাদকে “উদোম কেলান” কেলাইয়াছিলেন ! অশুদ্ধ বাঙ্গালায় যাহাকে “ রাম প্যাঁদানি” বলা যাইতে পারে। যদিও শ্যামাপ্রসাদের সহিত আক্ষরিক অর্থে তাঁহার হাতাহাতি বা ঝাঁটা ঝাঁটি কোনোটিই ঘটেনি। শিক্ষিত মানুষ তাহা করিয়াও থাকেননা। তবে এব্যাপারে কোনোরূপ সন্দেহ নাই যে হিন্দু মহাসভার সহিত নেতাজীর আদৌ কোনো সুমধুর সম্পর্ক ছিলনা। প্রত্যক্ষ হাতাহাতি না ঘটিলেও নেতাজীর অনুগামীরা কয়েকটি ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভার মিটিং মিছিল ভণ্ডুল করিয়াছিল বা করবার প্রয়াস করিয়াছিল সে বিষয়েও অল্প স্বল্প হইলেও তথ্যের অভাব নাই। যদিও নেতাজী যে মুসলিম লিগের প্রতিও সমান বিরূপ ছিলেন সেই তথ্যটি সুকৌশলে ধামাচাপা দেওয়া হয়। কেবল তাহাই নহে মুসোলিনি এবং ফ্যাসিবাদের প্রতি আকর্ষিত এই “তোজোর কুকুরটি” [হ্যাঁ সমসাময়িক ভারতীয় মার্ক্সবাদীরা তাঁহাকে এই রূপেই চিত্রিত করিয়াছিলেন] যে মার্ক্সবাদী দর্শন হইতেও বহু দূরে গমন করিয়াছিলেন, ইহাও সযত্নে আড়াল করা হইয়া থাকে। কতিপয় বৃষ মস্তিষ্কের বামাবতার তো সোচ্চারে বলিয়া ফেলেন—নেতাজী মার্ক্সবাদী বামপন্থী ছিলেন ! হাসিলে কতটা হাসিব, কাঁদিলে কতটা কাঁদিব স্থির করিতে পারিনা। ইহাকেই তো রাজনীতি কহে ! নীতির রাজা হিসাবে যাহার জন্ম [মহান গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের “পলিটিক্স” গ্রন্থটি পাঠ করিলে তদ্রূপই প্রতীতি হয়।] তাহা কীরূপে রাজার নীতি হইয়া উঠিল ভাবিলে বিস্ময়ের অবধি থাকেনা। অ্যারিস্টটল হইতে মেকিয়াভেলির দূরত্ব যে এইরূপে বর্ধিত হইবে সত্যিই কল্পনাতীত ছিল।

যাহাই হউক, মূল বিষয়ে আলোকপাত করি। শ্যামাপ্রসাদ তথা হিন্দু মহাসভার প্রতি নেতাজীর মনোভাবটি ঠিক কীরূপ ছিল ? কী কারণে এবং কোন প্রেক্ষিতে তিনি এই অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন ? হিন্দুত্বের প্রতি তাঁহার দৃষ্টিভঙ্গিটি কেমন ছিল ? আসুন সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক।
হিন্দু মহাসভায় যোগদানের অব্যবহিত পরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নেতাজীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেন। নেতাজী তাঁকে জানান—হিন্দু মহাসভা যদি রাজনৈতিক দলের রূপ গ্রহণ করে এবং শ্যামাপ্রসাদ স্বয়ং এব্যাপারে উদ্যোগী হন, তিনি তা হতে দেবেন না। দরকার পড়লে বলপ্রয়োগ করবেন। জন্মানোর পূর্বেই এই জাতীয় উদ্যোগ বানচাল করে দেবেন। হাঁ, তিনি মুসলিম লিগ এবং হিন্দু মহাসভার প্রতি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই পোষণ করিতেন। আর এস এস সম্পর্কে সরাসরি কোনো বক্তব্য না থাকিলেও হিন্দু মহাসভার প্রতি বিরূপতা একাধিক ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে আসিয়াছে। বিবিধ রচনা, বক্তব্য, বক্তৃতা ইত্যাদিতে তাহার উল্লেখও আছে। তাঁর গড়া দলটির মুখপত্র ফরওয়ার্ড ব্লক উইকলির সম্পাদকীয়তে [ ৪ই মে, ১৯৪০] তিনি লিখছেন—

‘That was a long time ago when prominent leaders of the congress could be members of the communal organisations like Hindu Mahasabha and Muslim League. But in recent times, the circumstances have changed. These communal organisations have become more communal than before. As a reaction to this, the Indian National Congress has put into its constitution a clause to the effect that no member of a communal organisation like Hindu Mahasabha and Muslim League can be a member of an elective committee of Congress.’

বাংলা তর্জমায়—দীর্ঘকাল পূর্বে কংগ্রেস দলটির উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন যেমন হিন্দু মহাসভা অথবা মুসলিম লিগের সদস্য হইতে পারিতেন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে পরিস্থিতির বদল ঘটিয়াছে। এই সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলি বর্তমানে আরও অধিক পরিমাণে সাম্প্রদায়িক হইয়া উঠিয়াছে। ইহারই প্রতিক্রিয়া হিসাবে কংগ্রেস একটি নূতন বিধি প্রণয়ন করিয়াছে—হিন্দু মহাসভা অথবা মুসলিম লিগের কোনো সদস্যই কংগ্রেসের মনোনয়ন যোগ্য সমিতিতে স্থান পাইবেন না।”

কী বুঝিলেন ? হাঁ, মুসলিম লিগ এবং হিন্দু মহাসভাকে তিনি একটি অভিন্ন বন্ধনীর অভ্যন্তরেই স্থাপন করিতেন। সাম্প্রদায়িক সংগঠনের প্রসঙ্গ উঠিলেই তিনি এই দুটি নাম সম গুরুত্বে উচ্চারণ করিতেন। সংক্ষেপে হইলেও আমরা অতি সহজেই এই সিদ্ধান্তে আসিতে পারি।
কিন্তু এই পর্যবেক্ষণটির অন্তর্নহিত সত্য কি এইরূপ সংকীর্ণ ? ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারতবর্ষে দণ্ডায়মান থাকিয়া যদি নেতাজীর এই পর্যবেক্ষণটিকে আমরা আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করি তাহা কি বিবেচকের কর্ম হইবে ? প্রতিটি পর্যবেক্ষণই সমসাময়িক সামাজিক, অর্থনৈতিক তথা সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করিয়াই জন্মগ্রহন করে। তাহার সহিত যুক্ত হয় পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তিটির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, কর্মকাণ্ডের রূপরেখা। সেই অভিমুখটি অজ্ঞাত থাকিলে নেতাজীর উপরিউক্ত পর্যবেক্ষণ সম্যক রূপে উপলব্ধি করা অসম্ভব। আসুন তাহার উপর কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা যাক।

স্বাধীন ভারতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী যদি একটিমাত্র মনুষ্যকে খুঁজিয়া পাওয়া যায়, তিনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করিয়াছিলেন সুদীর্ঘ দাসত্বের অধীনে থাকা ভারতবাসীকে গণতন্ত্রের উপযুক্ত করিয়া তুলিতে হইলে অন্তত কুড়ি বছর একটি টোটালাটেরিয়ান স্টেট অর্থাৎ কঠোর একনায়কত্বের অধীনে রাখিতে হইবে। স্বরচিত The Indian Struggle গ্রন্থটিতে তিনি ইহা বারংবার উল্লেখ করিয়াছেন। [সদ্য প্রকাশিত “অমৃতস্য পুত্রাঃ” শীর্ষক পুস্তকটিতে এবিষয়ে বিশদ আলোচনা রাখিয়াছি] তাঁর পরিকল্পিত ব্যবস্থায় হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লিগ তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বই থাকিত না। ডিক্টেটরশিপ চলিলে নির্বাচন ব্যবস্থাটিই হরিবোল হইয়া যায়। রাজনৈতিক দল কি ভ্যারেণ্ডা ভাজিবে ? না গাবে জ্বাল প্রদান করিবে ? আধুনিক ভারতের স্বপ্ন রচনাকারী এই নেতাটি যে কোনরূপ ধর্মীয় বাতাবরণের ধুম্রজালে আগ্রহী হইবেননা তাহা বলাই বাহুল্য। স্বাধীন ভারতের কাণ্ডারী রূপে অবতীর্ণ হইলে নেতাজীর এই পর্যবেক্ষণটিই পরিপূর্ণিভাবে প্রতিষ্ঠিত হইত এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই।

কিন্তু তাহা কি ঘটিয়াছে ? নেতাজী কি ভাবিয়াছিলেন কংগ্রেস দলটিই তাঁহার সহিত এরূপ বিশ্বাসঘাতকতা করিবে ? আজাদ হিন্দ বাহিনী লইয়া তিনি যখন ভারত অভিমুখে অগ্রসর হইয়াছিলেন, দৃঢ় বিশ্বাস ছিল গান্ধী তথা কংগ্রেসের আহ্বানে দেশে একটি গণ অভ্যুত্থান ঘটিবে এবং দলে দলে ভারতবাসী তাঁহার পাশে দাঁড়াইয়া ব্রিটিশরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবে। বাস্তবে কি ঘটিল ? ব্রিটিশ শক্তির ধামাধরা জহরলাল তাঁহাকে War criminal অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধী বলিয়া ঘোষণা করিল। নেতাজী দেশে ফিরিলে তাঁহাকে ব্রিটিশের হাতে সমর্পণ করা হইবে এই মর্মে একাধিক ঘোষণাপত্রও তাঁহার স্বাক্ষরে উজ্জ্বল হইয়া উঠিল। এইরূপ বহুবিধ কারণেই নেতাজী সম্পর্কীত classified file গুলিকে জন সমক্ষে আনয়ন করা হইতেছেনা। এব্যাপারে কোন সন্দেহই নাই নেতাজী এদেশের কর্ণধার হইলে কংগ্রস সহ সবকটি রাজনৈতিক দলই বিপন্ন হইয়া পড়িত। কামাল পাশা তুর্কিতে যে অসাধ্য সাধন করিয়াছিলেন, নেতাজীও তাহা করিয়া দেখাইতেন—সমগ্র দেশবাসীকে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ করিয়া গড়িয়া তোলা। ইহা কি বাস্তবায়িত হইয়াছে ? পাগলেও জানে ।
আসুন এই বার দেখিয়া লই আমরা যাহা যাহা দেখিয়াছি বা দেখিবার “সৌভাগ্য” অর্জন করিয়াছি, সেই মধুর দৃশ্যপটের কোন কোন অংশ নেতাজী দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।
১] রক্তক্ষয়ী দেশভাগ। ধর্মের ভিত্তিতে এই দেশভাগে কত জন মনুষ্য প্রাণ হারাইয়াছিল তাহার সঠিক পরিসংখ্যান অদ্যাবধি নাই। তবে বিবিধ ঐতিহাসিক তথা সমসাময়িক পর্যবেক্ষকদিগের মতে প্রায় দশ লক্ষ। কত নারী যে ধর্ষিতা হইয়াছিল তাহারও কোনো হিসাব নাই। হিন্দু মুসলমান উভয়েই ইহার বলি হইলেও হিন্দু হত্যার সংখ্যাটিই যে বেশি তাহা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ডেমোগ্রাফি দেখিলেই বুঝিয়া লইয়া যায়। তথ্যও তাহাই বলে। কাহাদের ইচ্ছায় এই দেশভাগ ? উত্তর অজানা নয়। মুসলিম লিগ এবং এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান। হাঁ, তাঁহারা এই দেশটিকে নিরাপদ মনে করেন নাই। নিরাপত্তার কারণেই ভিন্ন ভূখণ্ডের দাবি তুলিয়াছিল। না, ইসলাম ধর্মের এই রূপটি নেতাজী দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

২] ইউরোপে মুসলিম শরণার্থীর প্রবেশ এবং সেই সকল দেশেও শরিয়া শাসনের দাবি। না, মহান নেতাজী এই দৃশ্যপটও দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

৩] স্বাধীনতার অব্যবহিত পূর্বে এদেশে মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৮ টি। ২০০৬ সালের একটি সমীক্ষায় উহা আট লক্ষ অতিক্রম করিয়াছে। না, ইহাও নেতাজী দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

৪] স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে ধার্মিক যাত্রার নিমিত্ত লক্ষ কোটির হজ সাবসিডি। না, নেতাজীও ইহাও দেখিয়া যাইতে পারেননাই।

৫] পেট্রো ডলার পিপাসু মিডিয়া তথা “বুদ্ধিজীবীর” পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। হিন্দু নিপীড়নে নীরবতা, মুসলমান নিপীড়নে উচ্চ নিনাদ। ধর্ষিতার নিমিত্ত মোমবাতি প্রজ্বলনেও যাহা প্রতিভাত। না, এই বিমল, নান্দনিক দৃশ্যপটও তিনি দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

৬] দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, নিরীহ মানুষের হত্যাকারী সন্ত্রাসবাদীকে বাঁচাইবার নিমিত্ত “বুদ্ধিজীবীদিগের” স্বাক্ষর সংগ্রহ।না, এই অপরূপ দৃশ্যটিও নেতাজী দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

৭] ভোট সর্বস্ব রাজনীতির সংখ্যালঘু তোষণ, উগ্র ইসলামে মার্ক্সবাদী বামপন্থীকুলের নির্লজ্জ মদত—না, ইহাও তিনি দেখিয়া যাইতে পারেন নাই।

বলাই বাহুল্য তালিকাটি বড়ই দীর্ঘ। স্বাধীন ভারতের এই মহান ধর্মনিরপেক্ষতা যে কীরূপ ভয়ংকর হইয়া উঠিয়াছে তাহা আমাদিগের অবিদিত নহে। কুড়িটির বেশি ইসলামিক রাষ্ট্র তিন তালাক বিধি নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলেও এদেশে তাহার রূপায়ণ অদ্যাপি অধরা। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অর্থাৎ সকল নাগরিকের নিমিত্ত সম আইন যাহা প্রতিটি সভ্য দেশে অনুসৃত হয়, এদেশে স্বপ্ন মাত্র।

এই সকল দৃশ্যপট যদি তাঁহার সম্মুখে ফুটিয়া উঠিত, এই একুশ শতকের ভারতে দাঁড়াইয়া নেতাজী কি উপরিউক্ত পর্যবেক্ষণটিতে অনড় থাকিতেন ? প্রশ্ন জাগিবেনা ? প্রতিটি পর্যবেক্ষণই পরিস্থিতির গর্ভজাত। নেতাজীর ক্ষেত্রেও ইহা প্রযোজ্য। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের পটভূমিকায় নেতাজী যাহা বলিয়া গিয়েছেন, তাহা কেবল সেই সময়েই প্রযোজ্য। উহাকে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত ভূমিতে তোতা পক্ষীর ন্যায় আওড়াইলেই ধ্রুব সত্যে পরিণত করা যাইবেনা। পৃথিবীর তাবড় তাবড় জননেতা তিনি লেনিনই হোন আর মুসোলিনি, পরিস্থিতি অনুযায়ী পূর্ব সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত এবং সংশোধিত করিয়াছেন ।

হে সুপ্রিয় পাঠক ! এই অধমের বক্তব্যটি নিশ্চয় অনুধাবন করিয়াছেন। যদু এবং মধুকে আপনি গুণ্ডা জ্ঞান করেন এবং উভয়ের সহিত সমান দূরত্ব রাখেন। কারণ আপনি নিপাট ভদ্রলোক। এইরূপেই কিছুদিন চলিল। কিন্তু কপালে সুখ সহিলনা। একদিন দেখিলেন যদু গুণ্ডা তাহার সাঙ্গ পাঙ্গ লইয়া আপনার ভিটে মাটি দখল করিয়া লহিতেছে, প্রিয় জনের প্রান সংহারও ঘটিতেছে। ঘটি বাটি লইয়া কোন মতে পলায়ণ করিতেছেন। এমন সময়ে মধু গুণ্ডার সহিত সাক্ষাৎ। এমতাবস্থায় আপনি কি পূর্বের সিদ্ধান্তটিই বহাল রাখিবেন ? উভয়ের সহিত সম দূরত্ব রাখিবার আদর্শ পন্থা ! বোধগম্য হইলনা বুঝি ? হা হা হা ! ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন !

24/06/2021

ভারতের আরেক বীর সন্তান।

অপরাজিত বঙ্গাধিপতি মহারাজ নরেন্দ্রাদিত্য শশাঙ্ক— বাঙ্গালীর ইতিহাসের এক গৌরবজনক অধ্যায়✍️ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী🎨শীর্ষ আচার্যস...
18/06/2021

অপরাজিত বঙ্গাধিপতি মহারাজ নরেন্দ্রাদিত্য শশাঙ্ক— বাঙ্গালীর ইতিহাসের এক গৌরবজনক অধ্যায়
✍️ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী
🎨শীর্ষ আচার্য

স্বতন্ত্র, সার্বভৌম বাঙালি-হিন্দু সাম্রাজ্যের অধীশ্বর গৌড়াধিপতি শশাঙ্ক ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক বিস্মৃতপ্রায় নাম। প্রায় সোওয়া চৌদ্দশো বছর আগে ভারতবর্ষের পূর্বাংশে শুরু হয়েছিল তাঁর বিজয়যাত্রা। তিনি বর্তমান মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে (বর্তমান বহরমপুরের কাছে রাঙ্গামাটিতে) তাঁর রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি গুপ্ত বংশীয় এক নরপতি, ‘নরেন্দ্রগুপ্ত’ বা ‘নরেন্দ্রাদিত্য’ তাঁর প্রকৃত নাম। বাণভট্ট রচিত ‘হর্ষচরিত’-এ ‘নরেন্দ্রগুপ্ত’ নামটি পাওয়া যায়। কোনো কোনো ঐতিহাসিক সূত্রে ‘শ্রীনরেন্দ্র বিনত’ — এমন কথা পাওয়া গেছে। হতে পারে তিনি মগধের গুপ্তবংশজাত মহাসেনগুপ্তের পুত্র বা ভ্রাতুষ্পুত্র। কারও মতে এই মহাসেনগুপ্ত ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কনিষ্ঠপুত্র গোবিন্দগুপ্তের বংশ-শাখা। গুপ্তসম্রাটগণ যেখানে ভাগবত-মতাবলম্বী বৈষ্ণব, শশাঙ্ক ছিলেন শৈবপন্থী সম্রাট। শশাঙ্কের আমলের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার একপিঠে রয়েছে নন্দীর পৃষ্ঠে উপবিষ্ট মহাদেবের মূর্তি, অন্য পৃষ্ঠে দেখা যায় কমলাত্মিকা অর্থাৎ পদ্মাসনে সমাসীনা লক্ষ্মীমূর্তি।

শশাঙ্ক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পুষ্যভূতি বংশের সম্রাট হর্ষবর্ধনের সমসাময়িক ছিলেন। চীনদেশীয় শ্রমণ ও পর্যটক হিউয়েন সাং-এর ‘সি-ইউ-কি’ গ্রন্থে এবং হর্ষবর্ধনের অনুগামী বাণভট্ট রচিত ‘হর্ষচরিত’-এ যে সমস্ত বিবরণ আছে, তা শশাঙ্ক সম্পর্কে সঠিক নাও হতে পারে। বহু ঐতিহাসিক মনে করেন, বৌদ্ধধর্মের সামীপ্যে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি আপন ধর্মাবলম্বী রাজার শত্রুরাজা সম্পর্কে সুবিচার নাও করতে পারেন। শশাঙ্ক সম্পর্কে প্রচার আছে, তিনি সন্ধির নিমিত্তে আগত নিরস্ত্র রাজা রাজ্যবর্ধন (হর্ষবর্ধনের জ্যেষ্ঠভ্রাতা)-কে হত্যা করেছিলেন এবং রাজ্যবর্ধনের ভগ্নীপতি মৌখরীরাজ গ্রহবর্মাকে হত্যার নিমিত্তে মালবরাজ দেবগুপ্তের সঙ্গে সন্ধিবদ্ধ হন এবং ভগিনী রাজ্যশ্রীকে জঙ্গলে কারারুদ্ধ করার আদেশ দেন। শশাঙ্ক সম্পর্কে এও প্রচলিত আছে, তিনি নাকি বহু বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। তবে বহু ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করে বলেছেন, শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের কাছেই বহু বৌদ্ধ মন্দির অক্ষত ছিল, এটা সম্ভব হল কীভাবে? আরও তথ্য এই, তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি শিক্ষার প্রসারে রাজ-সহযোগিতা বজায় রেখেছিলেন।

জানা যায়, বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধনের পূর্বাপর রাজত্বকালে উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণেরা অসম্মনিত হলে, সরযূ তীরবর্তী অঞ্চলের গ্রহবিপ্রদের গৌড় অভিমুখী অভিবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন শশাঙ্ক। তিনি সুশাসক ছিলেন এমন পরিচয় পাওয়া যায়। প্রজাবর্গকে জলকষ্ট থেকে রেহাই দিতে মেদিনীপুরের কাছে দাঁতনে দেড়শো একর জমির উপর ‘শরশঙ্ক’ নামক বৃহৎ দিঘী খনন করিয়েছিলেন। তাঁর আমলে গৌড় সাম্রাজ্য কৃষি-শিল্প-বাণিজ্য-শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করে।
জানা যায়, রাজা শশাঙ্ক কালগণনার ক্ষেত্রে সূর্য সিদ্ধান্ত পদ্ধতি ‘বঙ্গাব্দ’ চালু করেন। ৫৯২/৫৯৩ খ্রীস্টাব্দে এই সৌরভিত্তিক কালগণনার শুরু। সম্ভবত এই বঙ্গাব্দ চালুর প্রথম বৈশাখের প্রথম দিনে তাঁর রাজ্যাভিষেক। আনুমানিক ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রীস্টাব্দ ছিল তাঁর শাসনকাল। তাঁর রাজকার্যের প্রচলিত ভাষা ছিল বাংলা এবং রাজধর্ম ছিল হিন্দু। তিনিই প্রথম অপরাজিত এবং বিস্তৃত বঙ্গের একচ্ছত্র শাসক। ছিলেন ধর্মসংরক্ষক এবং পরধর্মসহিষ্ণু। বাঙালি কৃতবিদ্যদের মধ্যে তিনি এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, কিন্তু কালের গর্ভে তাঁর সমস্ত ইতিহাস হারিয়ে গেছে, যা আছে তাও পক্ষপাতদুষ্ট বলে ঐতিহাসিকদের মতামত।

--- সংগৃহীত

ভারত বর্ষের রূপ পরিবর্তন হতে হতে আজকরে ভারতবর্ষ । ।।।।এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আজ মনে হয় মানুষ এক জন কেই দোষ দেবে।
14/06/2021

ভারত বর্ষের রূপ পরিবর্তন হতে হতে আজকরে ভারতবর্ষ । ।।।।
এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আজ মনে হয় মানুষ এক জন কেই দোষ দেবে।

কাপড় খুলে শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাঁটা ঢোকানো হয়েছিল, না না নেহেরু -গান্ধী মোটেই নয়, ওনারা তো ব্রিটিশ পরিবারের অনুগত।ইনি ননীব...
06/06/2021

কাপড় খুলে শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাঁটা ঢোকানো হয়েছিল, না না নেহেরু -গান্ধী মোটেই নয়, ওনারা তো ব্রিটিশ পরিবারের অনুগত।ইনি ননীবালা দেবী।। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে। বাবা সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা গিরিবালা দেবী। সেই সময়ের সামাজিক রীতি মেনে ১৮৯৯ সালে মাত্র এগার বছর বয়সে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর বয়স তখন মাত্র ষোল। এরপর তিনি তাঁর বাবার কাছেই ফিরে আসেন।

১৯১৪ সালে বেধেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময় ভারতে যুগান্তর দলের বিপ্লবীরা জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভারতব্যাপী একটা বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে, স্বাধীনতা আনবার রাস্তা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করেছিলেন। বাঘা যতীন ও রাসবিহারী বসুর মিলিত চেষ্টায় দ্বিতীয় সিপাহি বিদ্রোহের (২১ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫) পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, রাসবিহারী বসু ভারত ত্যাগ করেন। ইংরেজ সরকার ভারত-জার্মান যোগাযোগের খবর জেনে যায়। বাঘা যতীন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বালেশ্বরের যুদ্ধে শহীদ হন (১০ই সেপ্টেম্বর ১৯১৫)। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার বিপ্লবী কাজে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তবুও ইংরেজের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে পূর্ব-ভারতের পথ ধরে চীন ও আসামের মধ্য দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র আনিয়ে ভারতে বিদ্রোহ ঘটাবার জন্য বিপ্লবীরা আবার চেষ্টা করেছিলেন যাদুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে।

চারদিকে চলছে তখন আহত ব্রিটিশ-সিংহের প্রচণ্ড আক্রমণ ও নির্মম অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ধরন ছিল- ফাঁসি, দ্বীপান্তর, পুলিসের নির্যাতনে পাগল হয়ে যাওয়া এবং চার্লস টেগার্টের তদারকে নিত্য নতুন বীভৎস অত্যাচার। মলদ্বারে রুল ঢোকানো, কমোড থেকে মলমূত্র এনে মাথায় ঢেলে দেওয়া, চোখের মণিতে সুঁচ ফোটানো, গরম লোহা হাতের তালু বা পায়ে চেপে ধরা, কয়েকদিন উপোস করিয়ে পিছনে হাতকড়া অবস্থায় ঠা ঠা রোদে বন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখে লাথি ও রুলের মার - এই ছিল টেগার্টের অত্যাচারের রীতি। এইরকম অসহায় বিপদভরা দিনে, সম্পর্কে ভাইয়ের ছেলে বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন বাল্যবিধবা ননীবালা দেবী। দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতেন ও নিপুণ দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্ন করতেন। অনেক কাছের মানুষও টের পেত না যে তিনি বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য। তিনি বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, এক জায়গার নেতাদের নির্দেশ ও নানা দরকারি খবর অন্য জায়গার বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। অস্ত্রশস্ত্র নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন আবার গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছেও দিতেন।

১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
ভারত-জার্মান যোগাযোগ এবং তার পরের পর বিভিন্ন ঘটনার খবর পেয়ে, সেই সম্পর্কে পুলিস কলকাতার ‘শ্রমজীবী সমবায়’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী করতে যায়। তল্লাশীর সময় অমর চ্যাটার্জী পলাতক হন এবং এক সঙ্গী রামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হন।

পলাতক অমর চ্যাটার্জী এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে প্রায় দুই মাস আশ্রয় দিয়ে রাখলেন ননীবালা দেবী রিষড়াতে। এদিকে গ্রেপ্তারের সময় রামচন্দ্র মজুমদার একটা ‘মাউজার’ (Ma**er) পিস্তল কোথায় রেখে গেছেন সে-কথা দল কে জানিয়ে যেতে পারেননি। বিপ্লবীদের দরকার ছিল সেটির, কিন্তু কীভাবে সন্ধান জানা যাবে?
অতএব জেলে ঢুকে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের খোঁজ আনতে চললেন দুঃসাহসী ননীবালা দেবী। সেদিনের সমাজে যা কেউ কল্পনা করতেও পারত না তাই করলেন তিনি। বিধবা ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে দেখা করতে এলেন। ১৯১৫-১৬ সালে যে যুগ ছিল তখন বাঙালী বিধবাদের পক্ষে সিঁদুর মাথায় এরকম পরের স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে পুলিসের কড়া দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। পুলিস তো নয়ই, কোনো সাধারণ মেয়েও নয়। আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ - মধ্যে আছে বিরাট সাগরের ব্যবধান। বিধবা ননীবালা সধবার সাজে সিঁদুর পরে একগলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন জেলে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পিস্তলের সন্ধান জেনে বেড়িয়ে এলেন প্রেসিডেন্সি জেল থেকে।

পুলিস অনেক পরে জানাত পারল যে, ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী নন। কিন্তু এটা জানতে পারেননি যে, তিনিই রিষড়াতে ছিলেন আশ্রয়দাত্রী।

পুলিশ নজর এড়াতে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে রিষড়ার মতো এখানেও মেয়েরা না থাকলে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত না। তখন আবার এলেন ননীবালা দেবী, গৃহকর্ত্রীর বেশে। এখানে এইসময়ে আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে তাঁর বড়পিসিকেও এনেছিলেন বিপ্লবী ভোলানাথ চ্যাটার্জী। এই বড়পিসি ও ননীবালা দেবী দুটো আলাদা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলেন পলাতক বিপ্লবীদের। পলাতক হয়ে আছেন সেখানে বিপ্লবী নেতা যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জী, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী। এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল। এই নিশাচরেরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরে কাটিয়ে দিতেন। শুধু রাতে সুবিধা মতো বেড়িয়ে পড়তেন। পুলিস এসে পড়লেই এই পলাতক বিপ্লবীরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন।

এইভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায়ে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশী ও বিপ্লবীদের নিমেষে পলাবার পর ননীবালা দেবীকে আর চন্দননগরে রাখা নিরাপদ হলো না। কারণ পুলিস তৎপর হয়ে উঠেছিল ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে। তাঁর বাবা সূর্যকান্ত ব্যানার্জীকে পুলিস বালি থানাতে নিয়ে গিয়ে দশটা থেকে পাঁচটা অবধি বসিয়ে রেখে জেরা করত - ননীবালা দেবীর কোথায় আছেন জানতে।

ননীবালা দেবী পলাতক হলেন। তাঁর এক বাল্যবন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কাজের জন্য যাচ্ছিলেন পেশোয়ার। বাল্যবন্ধু তার দাদাকে অনেক অনুনয় করে রাজী করালেন ননীবালাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে পেশোয়ার গেলেন। এও এক অনন্য কাজ, এক বাঙালী বিধবা অচেনা এক পুরুষের সাথে কয়েক হাজার কিমি দূরে সম্পূর্ণ অন্য এক জায়গায়ে চলে গেলেন লুকিয়ে থাকতে! প্রায় ষোলো-সতের দিন পরে পুলিস সন্ধান পেয়ে যখন ননীবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করতে পেশোয়ার গেছে, তখন ননীবালা দেবীর কলেরা চলছে তিনদিন ধরে। প্রথমদিন বাড়ি ঘিরে রেখে তার পরদিনই নিয়ে গেল তাঁকে পুলিস-হাজতে স্ট্রেচারে করে। কয়েকদিন পেশোয়ার হাজতে রাখার পর একটু সুস্থ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় কাশীর জেলে, তখন তিনি প্রায় সেরে উঠেছেন।

কাশীতে আসার কয়েকদিন পরে, প্রতিদিন তাঁকে জেলগেটের অফিসে এনে কাশীর ডেপুটি পুলিস-সুপারিনটেন্ডেন্ট জিতেন ব্যানার্জী জেরা করত। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন - বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না। তারপর জিতেন ব্যানাজীর তুই-তুকারির অসভ্য ভাষা। ননীবালা দেবী তখনও চুপচাপ থাকতেন।
একদিন দুইজন জমাদারনী (Wardress) ননীবালা দেবীকে একটা আলাদা সেলে (cell) নিয়ে গেল। দুজনে মিলে তাকে জোর করে ধরে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর সমস্ত কাপড় খুলে নিয়ে দু-বাটি লঙ্কাবাটা ওঁর শরীরের ভেতরে দিয়ে দিতে লাগল। ননীবালা দেবী চীৎকার করে লাথি মারতে লাগলেন সমস্ত শক্তি দিয়ে। অসহ্য অসম্ভব অসহনীয় এক বীভৎস জ্বালা, যার বর্ণনা করার ভাষা নেই। এভাবেই অত্যাচার চলত, তার পর আবার তাঁকে নিয়ে আসা হত সেই জেল-গেটের অফিসে জিতেন ব্যানার্জীর কাছে। আবার জেরা। এত অত্যাচার, শরীরের ভেতরে লঙ্কার জ্বালা, তবু তাঁকে ভাঙা সম্ভব হ'ল না।
কাশীর জেলে - সেখানে মাটির নীচে একটা খুবই ছোট ‘পানিশমেন্ট সেল’ অর্থাৎ শাস্তি কুঠুরী ছিল। তাতে দরজা ছিল একটাই, কিন্তু আলো বাতাস প্রবেশ করবার জন্য কোনো জানালা বা সমান্য ঘুলঘুলিও ছিল না। জিতেন ব্যানার্জী তিন দিন প্রায় আধঘণ্টা সময় ধরে ননীবালা দেবীকে ঐ আলো-বাতাসহীন অন্ধকার সেলে তালাবন্ধ করে আটকে রাখত। কবরের মতো সেলে আধঘণ্টা পরে দেখা যেতো ননীবালা দেবীর অর্ধমৃত অবস্থা, তবু মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারল না। তৃতীয় দিনে বন্ধ রাখল আধঘণ্টারও বেশি, প্রায় ৪৫ মিনিট। স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। সেদিন তালা খুলে দেখা গেল ননীবালা দেবী পড়ে আছেন মাটিতে, জ্ঞানশূন্য।

হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিস ননীবালা দেবীকে কাশী থেকে নিয়ে এল কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলে। ১৮১৮ সালের তিন নম্বর রেগুলেশনের ধারা প্রয়োগ হল তাঁর বিরুদ্ধে, প্রথম মহিলা রাজবন্দি হিসাবে প্রেসিডেন্সি জেলে এলেন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। জেল-কর্তৃপক্ষ, এমনকি জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটও তাঁকে অনুরোধ করে খাওয়াতে পারলেন না। ননীবালা দেবী বললেন, বাইরে গেলে খাবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টায় নিয়ে যেত তাঁকে গোয়েন্দা-আফিসে, সেখানে আই.বি. পুলিসের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) তাঁকে জেরা করত।

-আপনাকে এখানেই থাকতে হবে, তাই বলুন কী করলে খাবেন?
-যা চাইব তাই করবেন?
-করব।
-আমাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদা মা'য়ের কাছে রেখে দিন, তাহলে খাব।
গোল্ডি শয়তানি হাসি লুকিয়ে বলে-আপনি দরখাস্ত লিখে দিন।

ননীবালা দেবী তখুনি দরখাস্ত লিখে দিলেন।

গোল্ডি সেটা নিয়ে ছিড়ে দলা পাকিয়ে ছেড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দিল। এবারে সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আহত বাঘের মতো লাফিয়ে উঠে ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে।
-ছিড়ে ফেলবে তো, আমায় দরখাস্ত লিখতে বলেছিলে কেন? আমাদের দেশের মানুষের কোনো মান সম্মান থাকতে নেই? দ্বিতীয় চড় মারবার আগেই অন্য সি.আই.ডি'রা তাঁকে ধরে ফেলে। - একশো বছরেরও আগে এক বাল্য বিধবা মেয়ের কি আশ্চর্য সাহস !

জেলের মধ্যে একদিন সিউড়ির দুকড়িবালা দেবীর (১৮৮৭-১৯৭০) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সকলের কাছে তিনি 'মাসিমা' নামে পরিচিতি ছিলেন। দুকড়িবালা দেবী ছিলেন ভারতে 'অস্ত্র আইনে সাজা প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বন্দি'। জানতে পারলেন, সিউড়িতে দুকড়িবালা দেবীর বাড়িতে সাতটা ‘মাউসার’ (Ma**er) পিস্তল পাবার অপরাধে দুকড়িবালা দেবীর হয়েছে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড। রাখা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী করে (মানে চোর-ডাকাত'দের সাথে একই সেলে। রাজবন্দী হলে আলাদা সেলে আলাদা ভাবে রাখা হয়)। অসম্ভব খাটাচ্ছে, ডাল ভাঙতে দিচ্ছে প্রতিদিন আধমণ।

মতলব স্থির করে ফেললেন ননীবালা দেবী। উপবাসের ১৯ থেকে ২০ দিন চলছে তখন। আবার এলেন ম্যাজিস্ট্রেট অনুরোধ করতে।

-আপনাকে তো এখানেই থাকতে হবে। কী করলে খাবেন বলুন?
-আমার ইচ্ছামতো হবে?
-হ্যাঁ, হবে।
-তাহলে আমার রান্না করবার জন্য একজন ব্রাহ্মণ-কন্যা চাই, দুজন ঝি চাই।
-ব্রাহ্মণ-কন্যা কেউ আছেন এখানে?
-আছেন, দুকড়িবালা দেবী।
-আচ্ছা, তাই হবে।

এরপরে এলো সমস্ত নতুন বাসন-কোসন, হাঁড়িকুড়ি। ২১ দিনের পরে ভাত খেলেন সেই অসামান্য দৃঢ়চেতা বন্দিনী। সেইসাথে দুকড়িবালা দেবী'কেও বাঁচালেন পরিশ্রম থেকে।

দুই বছর এইভাবে বন্দীজীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। ১৯১৯ সালের এক দিন ননীবালা দেবীর মুক্তির আদেশ এলো।

জেল থেকে ফিরে এসে বালিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে তিনি ঠাই পেলেন না। প্রথমত সকলেই পুলিসকে ভয় পায়। এছাড়া বিধবা হয়েও পরস্ত্রী সাজা, পরপুরুষের সাথে একঘরে থাকা বা পেশোয়ার যাওয়া - এইসব কারনে সেই সময়ের অদ্ভুত সমাজের এক পক্ষ তাঁকে মেনে নেয়নি, মেনে নেয়নি তাঁর নিজের বাড়ীর লোকেরা। অন্যদিকে তাঁর নিজস্ব বিপ্লবী সংগঠন বা চেনাজানা সবটাই ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থায় তখন উত্তর কলকাতার এক বস্তিতে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়। (অন্য মতে, কোনও পূর্বপরিচিতের অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া করেছিলেন হুগলিতে)। সুতো কেটে, রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে তাঁর দিন কাটতে থাকে। সমাজ এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর রাগে, দু:খে, অপমানে তিনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন .. নিজেকে একপ্রকার লুকিয়ে রাখলেন .. এমনকি পরবর্তীকালের কোনও দেশনেতাদের কাছেও গেলেন না। যিনি সমাজকে উপেক্ষা করে দেশের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, তিনি কোথায় গেলেন সে ব্যাপারে কেউ জানতেও পারল না, খোঁজও করলো না।

দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় কুড়ি বছর পরে ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। না, ইতিহাস তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিনের তারিখ মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। একটা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, পুরনো কোনও বিপ্লবী সাথীর চেষ্টায় অথবা পরাধীন জেলের খাতায় নাম থাকায়, বেঁচে থাকা অবস্থায় পঞ্চাশের দশকে ৫০ টাকা পেনশন পেয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে - যদিও তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। কেউ মনে রাখেনি যাঁদের আত্মত্যাগের কথা তাঁদের দলেই ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। তবে স্বদেশীদের নিয়ে তৈরি একটি বাংলা সিনেমায় (সিনেমার নাম 'বিয়াল্লিশ') তাঁকে নিয়ে কিছু দৃশ্য ছিল, এইটুকুই। শুধু দেশের জন্য বিধবা হয়েও সধবা সেজেছিলেন, খুবই ছোট কুঠুরী ‘পানিশমেন্ট সেলে’ শ্বাস নিতে না পেরে কতবার অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন। সামান্য একটা গোটা কাঁচালঙ্কা শুধু খেতে বললেই আমরা ভয় পাবো। এইরকম দু-বাটি লঙ্কাবাটা তাঁর শরীরের গোপন জায়গায়ে ভেতরে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কি অপরিশীম যন্ত্রণা তিনি সহ্য করেছিলেন - আমরা সুস্থ অবস্থায় কেউই তা অনুভব করতে পরবো না। উনিশ শতকের গোড়ার বিধবা মহিলা হওয়া সত্বেও নিজ চেষ্টায় তিনি সামান্য লেখাপড়া শিখেছিলেন। নিজে সুতো কেটে পৈতে তৈরি করে তা বিক্রি করে নিজের খরচ চালাতেন। তবু সেই সময়ের বাংলার কোথাও তিনি সম্মানের সাথে থাকার জায়গা পেলেন না। স্বাধীন ভারতেই তাঁকে অনাহারে কাটাতে হোলো। একবুক অভিমান নিয়ে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন - যা তাঁর মৃত্যুর পরেও শেষ হয়নি।
তাঁর কিছু মহিলা সহযোদ্ধাদের টুকরো টুকরো নানা লেখা থেকে যেটুকু জানা গেছে তাঁর বিষয়ে সেটুকু পুঁজি করেই তাঁকে এই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন।
জয় হিন্দ্

তথ্য: @স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী: কমলা দাশগুপ্ত; @স্বাধীনতার সংগ্রামের মঞ্চে ভারতের নারী: কৃষ্ণকলি বিশ্বাস।
সংগৃহীত।

25/05/2021
25/05/2021

Secular KERALA

*एक यात्रा :- आरएसएस की*(कोरोना काल का सदुपयोग करें संघ सम्बन्धी बेहतरीन वीडियो की प्लेलिस्ट)चेनल को सब्सक्राइब करें व ब...
25/05/2021

*एक यात्रा :- आरएसएस की*
(कोरोना काल का सदुपयोग करें
संघ सम्बन्धी बेहतरीन वीडियो की प्लेलिस्ट)
चेनल को सब्सक्राइब करें व बेल आइकॉन पर प्रेस करें।)

*1.संघ का "गुरू दक्षिणा" उत्सव*
https://www.youtube.com/watch?v=T2-KjBsruxs

*2.RSS ने देश व समाज पर आए संकट के समय प्रथम पंक्ति में रहकर सेवाकार्य किया है।*
https://www.youtube.com/watch?v=sh2vywbhsDs&t=11s

*3.विजय दिवस (कारगिल युद्ध)*
https://www.youtube.com/watch?v=XworBBihiiI&t=16s

*4.Relief Work by RSS During Corona Pandemic 2020*
https://www.youtube.com/watch?v=DjpFyHVEZo8&t=2s

*5.अखंड भारत संकल्प दिवस (भाग -1)*
https://www.youtube.com/watch?v=s_x08CRmHS8&t=51s

*6.अखंड भारत संकल्प दिवस (भाग -2)*
https://www.youtube.com/watch?v=7mT8E7-kLIU&t=261s

*7.अखंड भारत संकल्प दिवस (भाग -3)*
https://www.youtube.com/watch?v=ex8fP_QyIGM

*8.अखंड भारत संकल्प दिवस (भाग -4)*
https://www.youtube.com/watch?v=oXe9k1KaBTo&t=35s

*9. एकात्मतास्तोत्रं (Ekatmak Shlok) || भारत माता की जय ||*
https://www.youtube.com/watch?v=XBGgS9Wz_3s

*10. Veer Savarakar: a courageous revolutionary and sensitive poet*
https://www.youtube.com/watch?v=D-Dkj-er3BI&t=6s

#गुरू_दक्षिणा ंघ के बारे में वीडियो के जरिये जानकारी और क्या क्या अच्छे काम किये हैं तो आप हमारे चैनल को स....

Address

Howrah
711206

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অখণ্ড ভারত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to অখণ্ড ভারত:

Share