14/03/2022
"তোমার নাম আমার নাম
ভূমি আন্দোলনে নন্দীগ্রাম”
২০০৭ সালের ১৪ই মার্চ, এই দিনটা রাজ্য, তথা ভারতবর্ষ মনে রাখবে ভূমি আন্দোলনে শহীদ হওয়া মানুষদের জন্য, বাম সরকারের পরিকল্পিত সাধারণ মানুষের ওপর নরকীয় অত্যাচার ও গণহত্যার জন্য।
সেই দিনের সকাল ছিল আর পাঁচটা দিনেরই মত। গ্রামের সাধারণ মানুষ শুধুই চেয়েছিল বেঁচে থাকার অধিকার, চেয়েছিল নিজ জমিকে রক্ষা করা সালেম গোষ্ঠীর হাত থেকে, চেয়ে ছিল তৎকালীন বামফ্রন্টের স্বৈরাচারী সরকারের সেচ নীতির ও জমি অধিগ্রণের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়তে।
যখন দাম্ভিক সরকার সাধারণ মানুষের হিতের কথা না ভেবে, যখন তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, তখন তখনই খেটে খাওয়া মানুষেরা সঙ্গবদ্ধ হয়, অনৈতিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে, তার প্রমাণ এই গণআন্দোলন। রুখে দাঁড়ান প্রশাসনিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এই লড়াই কোনো দিন ভুলবে না বাংলার সাধারণ মানুষ, এই আন্দোলন অনুপ্রেরণা যোগায় সকল কৃষক শ্রমিক ভাইদের, নিজের হকের জমি ছিনিয়ে নেওয়া সহজ নয়, সে যতই মৃত্যুর ভয় থাক, এ মাটির সাথে জড়িয়ে আছে তাদের সম্মান, বাপঠাকুরদার বহুকালের স্মৃতি, নূন্যতম চাহিদার যোগান, আর তাদের মা স্বরূপ মাটি।
২০০৭ সালের ১৪ মার্চ কমপক্ষে তিন হাজার সশস্ত্র পুলিশ ও সিপিআই(এম)-এর ক্যাডারবাহিনী এক সম্মিলিত অপারেশন চালায় নন্দীগ্রামে। এই অভিযানের খবর কোনোভাবে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি (বিইউপিসি) কর্ণগোচর হয় এবং তারা প্রায় ২০০০ গ্রামবাসীকে নিয়ে একটি পাল্টা প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গ্রামের সঙ্গে প্রশাসনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং গ্রামে প্রবেশের সব রাস্তা কেটে দেওয়া হয়। এই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন মহিলা ও শিশুরা। এই সংঘাতে প্রাণ হারান নিরীহ চোদ্দোজন গ্রামবাসী। বলা বাহুল্য আন্দোলনে শহীদ হন।
এই রক্তক্ষয়ী হিংসাত্মক ঘটনার পরে জমি অধিগ্রহণ বিতর্ক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল তৎকালীন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, বাধ্য করায় কেমিক্যাল হাবের স্থান পরিবর্তনের জন্য।
বাম শরিক দলগুলির ক্রমাগত চাপে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী , ৩ সেপ্টেম্বর কেমিক্যাল হাবের স্থান হিসেবে সরকারের নতুন পছন্দের জায়গার কথা ঘোষণা করেন।
এখানেই নন্দীগ্রামের সাধারণ দরিদ্র মানুষদের নৈতিক জয়, তাই এই লড়াই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে।
সেই সময় নন্দীগ্রামের মানুষের লড়াইয়ের শক্তি যোগায়, কোনো অশুভ শক্তির কাছে মাথা নত না করতে শেখায়, লড়াই করতে শেখায়, আমাদের সকলের প্রিয় লড়াকু মাতৃতুল্য #মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই দিন থেকেই শুরু হয় "পরিবর্তন", ৩৪ বছরের সরকার ধূলিসাৎ হয়ে যায়, #মা_মাটি_মানুষের সরকারের শুভ সূচনা হয়.... উন্নয়নের লক্ষ্যে,শান্তি শৃঙ্খলার লক্ষ্যে, প্রগতির লক্ষ্যে, বাঙালি জাতির বেঁচে থাকার তাগিদে।
অমর শহীদদের শত কোটি প্রণাম 🙏🙏🙏