04/03/2026
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠাতা ডঃ হেডগেওয়ারের অবদান ।
স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস-এর প্রধান ভূমিকা:
বিপ্লবী শিকড়: সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ হেডগেওয়ার শুরুর জীবনে অনুশীলন সমিতি এবং যুগান্তর-এর মতো বিপ্লবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অপরাধে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন।
১৯৩০-এর সত্যাগ্রহ: মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে ডঃ হেডগেওয়ার ব্যক্তিগতভাবে জঙ্গল সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করেন এবং ৯ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেন।
১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন: এই আন্দোলনে সংঘের কর্মীরা অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, বিদর্ভ অঞ্চলের চিমুর গ্রামে সংঘ কর্মীরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করেছিলেন।
বিপ্লবীদের সুরক্ষা: ১৯৩০-এর দশকে যখন অনেক বিপ্লবী ব্রিটিশদের ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন, তখন সংঘের প্রচারকরা তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করেন।
ভগত সিং-এর সহযোগী রাজগুরু পুণেতে সংঘের মাধ্যমেই আশ্রয় পেয়েছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার চাওয়া অরিজিনাল তথ্যসূত্র ও ঐতিহাসিক প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো:
১. বিপ্লবী শিকড় (অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর)
তথ্য: ডঃ হেডগেওয়ার কলকাতায় চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার সময় (১৯১০-১৯১৫) বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতি এবং যুগান্তর-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি 'কোকেন' ছদ্মনামে বিপ্লবীদের কাছে অস্ত্র ও বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করতেন [১.২.২, ১.২.৮]।
অরিজিনাল উৎস: ঐতিহাসিক রাকেশ সিনহা তাঁর গ্রন্থ "Dr. Keshav Baliram Hedgewar" (প্রকাশক: পাবলিকেশন বিভাগ, ভারত সরকার)-এ ডঃ হেডগেওয়ারের এই বিপ্লবী জীবনের বিস্তারিত নথিবদ্ধ করেছেন [১.৩.১]।
২. ১৯৩০-এর জঙ্গল সত্যাগ্রহ ও কারাবরণ
তথ্য: মহাত্মা গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলনের সমর্থনে ডঃ হেডগেওয়ার ১৯৩০ সালের ২১ জুলাই ইয়াভাতমাল (মহারাষ্ট্র)-এ জঙ্গল সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্রিটিশদের বনজ আইন লঙ্ঘন করেন [১.৩.৬, ১.৬.১]।
অরিজিনাল উৎস: এর ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি ৯ মাস আকোলা জেলে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেন। এই কারাবাসের সরকারি নথিপত্র এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা রিপোর্ট আজও বিদ্যমান [১.২.৬, ১.৬.২]।
৩. ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও চিমুর বিদ্রোহ
তথ্য: ১৯৪২ সালের আন্দোলনে সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন স্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলের চিমুর গ্রামে সংঘের প্রচারক দাদা নায়েক-এর নেতৃত্বে এক গণবিক্ষোভ হয়, যা ব্রিটিশ শাসনের সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করেছিল [১.৪.১, ১.৪.৫]।
অরিজিনাল উৎস: তৎকালীন ব্রিটিশ গোয়েন্দা রিপোর্ট (Intelligence Bureau Report, 1942) অনুসারে, চিমুর ও আশতি অঞ্চলে সংঘের কর্মীরা পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ ও ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। এই বিদ্রোহে বালাজি রাজাপুরকর নামক একজন স্বয়ংসেবক ব্রিটিশের গুলিতে শহীদ হন [১.৪.৪, ১.৪.৮]।
৪. বিপ্লবীদের সুরক্ষা ও রাজগুরুর আশ্রয়
তথ্য: ব্রিটিশদের হাত থেকে বাঁচতে বিপ্লবীদের গোপন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে সংঘের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাণ্ডার্স হত্যার পর বিপ্লবী রাজগুরু যখন পুণেতে আত্মগোপন করেছিলেন, তখন সংঘের প্রচারক ভাইয়াজী দানি তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন [১.৫.১, ১.৫.৪]।
অরিজিনাল উৎস: রাজগুরুর পরিবারের সদস্যরা এবং পরবর্তীকালে সংঘের প্রবীণ নেতা এম.জি. বৈদ্য বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, ডঃ হেডগেওয়ারের নির্দেশেই এই গোপন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল [১.৫.২]।
৫. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র
এইচ.ভি. শেষাদ্রি: তাঁর লিখিত "A Vision in Action" (১৯৮৮) বইটিতে স্বাধীনতা আন্দোলনে স্বয়ংসেবকদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত অবদানের কথা উল্লেখ আছে [১.২.১]।
অরগানাইজার (Organiser): এই পত্রিকার বিভিন্ন বিশেষ সংখ্যায় (যেমন ১৫ আগস্ট, ২০২৫) স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই 'অপ্রকাশিত' অধ্যায়গুলোর নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে [১.৪.৮]।
Rajan Debnath
4.3.26
Ai