08/06/2026
প্রেস বিবৃতি
বিজেপির বুলডোজার রাজকে ধিক্কার!
যাদবপুরে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সাথীদের সংগ্রামী অভিনন্দন।
ডবল ইঞ্জিনের বুলডোজারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে।
৭ জুন গভীর রাতে সন্ত্রাস চালিয়ে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন বস্তি ও বাজার গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি সরকার। প্রতিবাদী জমায়েতে লাঠি চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া তো বটেই, এমনকি রাস্তার অন্য ধারের অলিগলিতে ঢুকে সেখানকার সাধারণ মানুষকেও ভীতসন্ত্রস্ত করে বিজেপি সরকারের যৌথ বাহিনী। পালবাজার সংলগ্ন বস্তি গুড়িয়ে দেওয়ার আগে সেখানে ঢুকে পুলিশ অনেককে লাঠিপেটা করে।
বিজেপি সরকার পরিচালিত এই বুলডোজার অভিযান গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবিক ন্যায়বোধ এবং আইনের শাসনের উপর এক নির্মম আঘাত।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হকার, বস্তিবাসী, ছোট দোকানদার ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার উপর ধারাবাহিক আক্রমণ নেমে এসেছে। হাওড়া, দমদম, সোদপুর, পান্ডুয়া, বারুইপুর, নৈহাটি, কাটোয়া, পুরুলিয়া, কোন্নগর, বারাসাত, অশোকনগর-সহ নানা জায়গায় উচ্ছেদ ও বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিরোধ ক্রমশ বাড়ছে। সিপিআইএমএল সহ বামদলগুলি এই প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছে।
রেল ও পথ-হকার উচ্ছেদ বাস্তবে নিছক 'আইন প্রয়োগ' বা 'অবৈধ দখলমুক্তকরণ' নয়। এই উচ্ছেদ নীতির পিছনে রয়েছে শহরের মূল্যবান জমি, পরিবহণ করিডর এবং খুচরো বাজারকে বৃহৎ কর্পোরেট ব্যবসা, শপিং মল, ই-কমার্স ও বড় বাণিজ্যিক স্বার্থে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য যা শোষণকে আরো তীব্র করে তুলবে। যে হকাররা দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সস্তায় পণ্য ও পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁদের সরিয়ে বাজারকে ক্রমশ বড় পুঁজি ও কর্পোরেট বাণিজ্যের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াই আজ উচ্ছেদের আড়ালে চলেছে।
উল্লেখযোগ্য যে যাদবপুর রেল সাইডিং এলাকার বসতি ও ব্যবসা কয়েক দশকের পুরনো। অতীতে ১৯৮৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। মাত্র কয়েকদিন আগেই এলাকার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হয়েছিল এবং আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে আদালত খোলার আগের রাতেই বুলডোজার নামানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ নয় শুধু, এটা আইনি প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিও প্রকাশ্য অবমাননা।
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা আটকানোর কথা বলে এরাজ্যে বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই বাহিনী একদিকে বিজেপি-বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর অসভ্য হেনস্থা ও হিংসার ঘটনাকে শক্তি দিচ্ছে। বিচার বহির্ভৃত এই হেনস্থা-শাস্তি ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে ধিক্কৃত হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে ঘরবাড়ি দোকানপাট উচ্ছেদের কাজে নিযুক্ত আছে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী।
আজ সারা দেশে বিজেপি এক বিপজ্জনক প্রবণতা চালু করতে চাইছে; বিচারের আগে শাস্তি, তদন্তের আগে দণ্ড, পুনর্বাসনের বদলে উচ্ছেদ। 'অবৈধ' তকমা লাগিয়ে গরিব মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা ধ্বংস করে দেওয়াকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা চলছে।
আমরা বাংলার মানুষের কাছে আবেদন করব এর বিরুদ্ধে সর্বত্র সক্রিয় হতে।
আমরা বাংলার সমস্ত গণতান্ত্রিক, শ্রমজীবী, মানবাধিকারপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তির কাছে আহ্বান জানাই এই বুলডোজার রাজের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন হকার, বস্তিবাসী, ছোট ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকের জীবন-জীবিকার অধিকারের প্রশ্নে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
অভিনন্দনসহ
সিপিআইএমএল লিবারেশন
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৮ জুন ২০২৬