10/12/2020
নয়া কৃষি আইন(২০২০)
সাম্প্রতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়টি হলো মোদি সরকারের নয়া কৃষি আইন। বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে প্রথমে দেখে নেওয়া যেতে পারে নয়া আইনে ঠিক কি বলা হয়েছে?
নয়া কৃষি আইনের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
প্রথম আইনঃ Farmer's produce trade and commerce (promotion and facilitation) bill 2020
দ্বিতীয় আইনঃ Farmers (empowerment and protection) agreement on price assurance and farm service bill, 2020.
তৃতীয় আইনঃ কৃষি পরিষেবা আইন ২০২০ এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ২০২০।
প্রথম আইনঃ Farmer's produce trade and commerce (promotion and facilitation) bill 2020 (সারসংক্ষেপ)-
যে কোনো ব্যবসায়ী ভারতের যে কোনো প্রান্তের কৃষক বা ব্যবসায়ীর সাথে অবাধে বাণিজ্য করতে পারবেন। শর্ত হলো কৃষক কোঅপারেটিভ বা কৃষক উদ্যোগ সংস্থা ছাড়া কোনো ব্যবসায়ীই কৃষি উৎপাদন বিক্রয় করতে পারবে না। সব ব্যবসায়ী যারাই কৃষকদের সাথে বাণিজ্যে সংযুক্ত হবেন,তাদেরকে নির্বাচিত কৃষি উৎপাদনের দাম সেইদিনই দিতে হবে বা তিন দিনের মধ্যেই দিতে হবে।
অর্থাৎ এখন থেকে কৃষকরা রাজ্য সরকারের নির্বাচিত ও নিয়ন্ত্রিত মান্ডি বা বাজারের বাইরেও তাদের কৃষিপণ্য বিক্রয় করতে পারবে। এ জন্য কোনো প্রকার কর বা ফি-র বোঝা থাকবে না। এতদিন এপিএমসি তথা কৃষিপণ্যের বিপণন কমিটি আইন অনুসারে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাজারেই কৃষিপণ্য বিক্রয় করতে হতো কৃষকদের।
দ্বিতীয় আইনঃ Farmers (empowerment and protection) agreement on price assurance and farm service bill,2020 (সারসংক্ষেপ) -
যে কোনো কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে চাষীরা লিখিত চুক্তি করতে পারবে। তবে কোনও ভাগচাষীর অধিকার লংঘন করার জন্য চাষী বা কৃষক কোনো প্রকারের চুক্তি করতে পারবেন না।
অর্থাৎ এই আইনের ফলে কৃষকরা এখন থেকে সরাসরি সরকারি এবং বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। ফসল উৎপাদনের পরে বা আগে তাহারা এই চুক্তি সম্পাদন করতে পারবেন।
তৃতীয় আইনঃ কৃষি পরিষেবা আইন ২০২০ এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন,২০২০(সারসংক্ষেপ)-
প্রধান কৃষি পণ্যগুলির মজুত ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ন্ত্রণ আর থাকবে না। তবে সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে মজুত নিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকবে। যেমন বন্যা,খরা,বাজারে কৃষিপণ্য হঠাৎ অপ্রতুল হয়ে পড়া বা তার দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
বিলটি কি কৃষক স্বার্থের পরিপন্থী?????
এখন দেখে নেওয়া যাক নয়া কৃষি বিলটি কৃষক স্বার্থ রক্ষা করবে না লংঘন করবে??
১) পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশের বড় অংশের কৃষকরা বিলটির বিরোধিতা করছেন, কারণ তাদের ধারণা এখন থেকে চাষবাস corporate সেক্টরের হাতে চলে যাবে, তারা সরকারের থেকে কৃষিপণ্যের যে সহায়ক মূল্য (MSP) পেতেন তাহার অবসান ঘটবে।
কিন্তু আইনের কোথাও উল্লেখ নেই MSP উঠে যাচ্ছে। উপরন্তু এটা উল্লেখ রয়েছে যে চাষীরা যে সমস্ত স্পন্সরের সাথে চুক্তি করবে সেই সমস্ত স্পন্সর চাষীকে একটা নিশ্চিত মূল্য দিতে বাধ্য থাকবে। বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছে MSP কোনও ভাবে প্রত্যাহার করা হবে না।বিজেপি সরকার উদাহরণ দিয়েছে বাম জমানায় ত্রিপুরার চাষীরা MSP পেতেন না। সম্প্রতি বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় MSP চালু হয়েছে।
২)চাষীদের পণ্য বিক্রয় এবং নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী দাম ঠিক করার পরিপূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।
৩)ভাগচাষীদের এখন থেকে আর যখন তখন জমি থেকে উৎখাত করা যাবে না।
৪)দেশে ১০ হাজার Farmer-producer organisation গড়ে তোলা হবে। ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষীদের এই সংস্থা সাহায্য করবে corporate সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপনে।
৫) চাষী এবং ভাগচাষীরা সরাসরি ক্রেতাকে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেলে কোনও ফড়েকে কাটমানি দিতে হবে না। সরকার বা অন্য কোনও সংস্থাকে কোনও লেভি বা ফি-ও দিতে হবে না।
৬) corporate সংস্থা যদি নির্ধারিত সময়ের আগে চাষীর সাথে চুক্তিভঙ্গ করে তাহলে সেই সংস্থাকে জরিমানা দিতে হবে, উপরন্তু চাষীদের নির্ধারিত দাম মিটিয়েও দিতে হবে।
সুতরাং প্রশ্ন উঠতেই পারে, নয়া আইনটির বিরুদ্ধে এত প্রতিবাদ কিসের তাহলে? এর উত্তর খুঁজে পেতে হলে বিষয়টি গভীরে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার চাষ আবাদের বিস্তর তফাৎ রয়েছে। এখানে চাষবাসের সাথে যুক্ত ৪০ শতাংশই হল প্রান্তিক বা ভাগচাষী, যাদের নিজেদের জমি নেই,জমি ভাড়া বা লিজ নিয়ে তাহারা চাষ করে থাকেন। ফলে পাঞ্জাব বা হরিয়ানায় জোতদারদের দাপট সবচেয়ে বেশি,এদের স্থানীয় নাম কুলক। অজয় দান্ডেকর এবং শ্রীদীপ ভট্টাচার্য তাদের গবেষণায় পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর বিবরণ দিয়েছেন, যেখান থেকে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার চাষবাসের উপর ধারণা গঠন করা যেতে পারে।
অজয় দান্ডেকর এবং শ্রীদীপ ভট্টাচার্য তাহাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন সাঙ্গরুর জেলায় ১৯৯৫-২০১৫ পর্যন্ত ২,২১৩ জন চাষী আত্মহত্যা করেছেন, এদের মধ্যে বেশিরভাগ ভাগচাষী।পট্টনায়ক এট অল ২০০৮ এ গোটা পাঞ্জাবের ৬০ টি ব্লকের ৪২০ টি গ্রাম জুড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল সমস্ত জেলার তুলনায় সাঙ্গরুরে একর পিছু জমি লিজের রেট সবচেয়ে বেশি। ২০০৬-এ বছরে এক একর ১৫,০০০ টাকা দরে লিজ নেওয়া জমির পরিমাণ সাঙ্গরুরে মোট আবাদী জমির প্রায় ৭০ শতাংশ। ২০১৫ এ জমির ভাড়া বেড়ে বছরে একরপিছু ৪৫,০০০-৫২,০০০ টাকা।
পাঞ্জাবে জমি লিজের এত চড়া দর হওয়ার কারণে জমির মালিকরা চাষবাসের ঝক্কি না উঠিয়ে আয় করার করার উদ্দেশ্যে তাদের জমি ভাড়া দিতে বেশি উৎসাহ বোধ করেন। জমির ভাড়া নিয়ে একটা সাক্ষাৎকারে গবেষক শেরগিল বলেছিলেন,""যারা জমি ভাড়া দেয় তাদের ৫০ শতাংশই অনুপস্থিত জমিদার, যারা হয় আর চাষবাস করেন না, নয় শহরাঞ্চলে থাকেন। যেহেতু বেশিরভাগ চুক্তিই মৌখিক হয়, ফলে ফসল মার খেলে ভাড়া পুনর্বিবেচিত হয়।ফসল না হলে যারা জমি ভাড়ায় নিয়েছিল, তাদেরকেই ক্ষতির বোঝা বইতে হয়....."
পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় প্রায় সমস্ত ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষীদের জমি থেকে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। লিজে চাষ করা চাষীরা ব্যাংক ঋণ থেকেও বঞ্চিত হন। সাঙ্গরুরের একজন প্রান্তিক চাষীর সাক্ষাৎকারের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন দান্ডেকর এবং ভট্টাচার্য তাহাদের গবেষণায়। প্রান্তিক চাষী বলেছিলেন,"আড়তিরা সাধারণভাবে চাষীদের অবস্থা জানে এবং তার ঘরে কতটা ফসল মজুত আছে সেটাও জানে। যতক্ষণ না চাষীদের মজুত ফুরাচ্ছে, ততক্ষণ তারা দাম বাড়তে দেন না। বিক্রেতারা তার পর দাম বাড়াতে শুরু করে। আড়তিরা মিল মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে দাম ঠিক করে দেয়,ফলে সেই দামে বিক্রি করা ছাড়া চাষীদের উপায় থাকে না। চাষীরা তিন মাসের বেশি ফসল রাখতে পারে না,কারণ তার পর তা নষ্ট হতে শুরু করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় মধ্যস্বত্বভোগীদের একটা বিশাল মুনাফা কাজ করছে। জোতদার বা কুলকদের এবং ফড়েদের স্বার্থ বিরোধী বিল এই নয়া কৃষি আইন। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার বিশাল সংখ্যক প্রান্তিক চাষীদের কাছে আশীর্বাদ এই নয়া বিল। এই বন্দোবস্ত প্রান্তিক চাষীদের ধনী কৃষক শ্রেণীতে পরিণত করতে পারে।
বিরোধী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিলটির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে, বিলটির প্রতিবাদ করা হচ্ছে খালিস্তান আন্দোলন সমর্থন করে। রাজ্যসরকারগুলি এপিএমসি মান্ডিগুলো থেকে কর বা ফি নেয়। চাষীরা মান্ডির বাইরে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পেলে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি অনিবার্য। তাই কিছু কিছু রাজ্য বিলটির বিরোধিতা করছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে মদত দিচ্ছে নকশালপন্থীরা। দিল্লীতে কৃষি বিলের বিরূদ্ধে তথাকথিত কৃষকদের স্লোগান :-
1) মোদী তেরি কবর খুদেগী , আজ নেহি তো কাল!
2) ইন্দিরাকো ঠোক দিয়া , মোদী কেয়া হে !
3) পাকিস্থান হামারা দুশমন নেহি হে , দিল্লী হামারা দুশমন হে !
4) কৃষি বিল ইজ এন্টি শিখ!
তাহলে কি বুঝলেন?????*এটা আপনার পড়া প্রয়োজন।*
_*○○কৃষক_আন্দোলন○○*_
কোনো আন্দোলনকে বুঝতে হলে চারটি বিষয় বুঝতে হয় প্রাথমিকভাবে। *(১)* আন্দোলন কারা করছে? *(২)* মূল দাবী কী? *(৩)* রণকৌশশ কী? *(৪)* আন্দোলনের কোনো বৈশিষ্ট্য আছে?
এবার বিশ্লেষণ করা যাক বর্তমান কৃষক বিক্ষোভ আন্দোলনকে।
*(১) আন্দোলনকারী মূলত পাঞ্জাব ও হরিয়ানার এবং সাথে পশ্চিম উঃপ্রদেশের কিছু গোষ্ঠী।* দেশে অন্য কোথাও এই আন্দোলন নেই। কাশ্মীর থেকে তেলেঙ্গানা, আসাম থেকে গুজরাট, কোনো রাজ্যের কৃষক প্রতীকী আন্দোলনও করেনি।
*(২) দাবী কেন্দ্রে নতুন কৃষি বিল প্রত্যাহার করতে হবে।* কিন্তু ঐ বিলের কোন্ অংশে তাদের আপত্তি এটা নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন না। সদস্যরা বলছেন, ফসলের সর্বনিম্ন সংগ্রহ মূল্য এবং মণ্ডিতে ফসল বিক্রি করতে দিতে হবে। কিন্তু এই দুটি তো দেওয়া আছে নতুন বিলে। বরং অতিরিক্ত এক অধিকার দেওয়া হয়েছে যে কৃষকেরা ইচ্ছা করলে ফসল মণ্ডির বাইরে যে-কাউকে বিক্রি করতে পারে।
*(৩) বিক্ষোভের রণকৌশল* কৃষকেরা দিল্লিতে এসে রাজধানীকে ঘেরাও করছে ৫দিক থেকে। শহরে ঢোকা ও বাইরে যাওয়া থেকে বিরত করতে চাইছে মানুষদের। সরকারের সাথে আলোচনা চললেও কৃষকদের দাবী ঐ বিল ফেরত নিতে হবে।
*(৪)বৈশিষ্ট্যঃ* >>●এই আন্দোলনকে অরাজনৈতিক বলে কৃষকেরা দাবী করলেও মঞ্চে কম্যুনিস্ট নেতাদের দেখা গেছে।
>>●খালিস্তানবাদী, নকশালবাদী, উগ্র কাশ্মীরি নেতা, শাহীনবাগ নেতা ও কর্মী, এদের দেখা গেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সাথে। তাছাড়া কংগ্রেস সহ কয়েকটি রাজনৈতিক পার্টির সমর্থন ও সাহায্য রয়েছে এতে। কিছু মুসলিম গ্রুপও সাহায্য করছে খেতে দিয়ে।
>>●শাহীনবাগ ধরণে এই আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে আরো বড় আকারে।
কতগুলি বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে আন্দোলন নিয়ে।
●নতুন বিলে এমন কিছু নেই যা কৃষক-বিরোধী।
●সারা দেশের কৃষকেরা এই আন্দোলনে নেই কেন?
●বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কি আন্দোলনকে হাইজ্যাক করে নিয়েছে ?
●এই সময়ে কৃষকেরা ফসলের ব্যাপারে ব্যস্ত থাকেন। রবি শস্য কাটা ও বিক্রি করা, জমি তৈরি করে শীতকালীন সবজি রোপন। অথচ আন্দোলনে আসা কৃষকেরা বলছেন যে চার মাসের খাওয়া নিয়ে তারা দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে এসেছেন। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে শীতকালীন চাষ কি তারা করবেন না?
●এই আন্দোলন কী মণ্ডিগুলির মালিকদের স্বার্থে? এতদিন তারা ফসল কেনার ব্যাপারে যে একচেটিয়া সুবিধে পেতেন, নতুন বিলে তা থাকছে না, কৃষকদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে ফসল বিক্রিতে। এজন্য কী সাধারণ কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে তাদেরকে সামনে রেখে ধনী ব্যবসায়ীরা পেছন থেকে আন্দোলন চালাচ্ছে?
●আর্থিক অবস্থা যখন করোনার পর ভাল হতে শুরু করেছে, GDP -23.9 থেকে -2 হয়েছে, রাজস্ব ইত্যাদির নিম্নমুখী গতি বন্ধ করা গেছে, বিদেশী নিবেশ বাড়ছে, বিদেশী কোম্পানিগুলি ভারতে আসছে, এবং বিশ্ব আর্থিক সংস্থাগুলি যখন ভারত সম্বন্ধে আশাবাদী হয়ে উঠছে, তখন এমন আন্দোলনের পেছনে কোনো বহিঃশক্তি ও আভ্যন্তরীণ কোনো লবী কাজ করছে না তো?
●শাহীনবাগ ও পরবর্তী দাঙ্গা কি হিন্দু মুসলমান বিভেদের জন্য এবং এই কৃষক আন্দোলন হিন্দু শিখের মধ্যে বিভেদের জন্য করার চেষ্টা করছে দেশের চীন লবী? এই লবী কিভাবে দেশে অস্থিরতা আনার চেষ্টা করে সে-বিষয়ে আমরা আগের এক লেখায় আলোচনা করেছি।
●নির্বাচনী ফলাফল, বিশেষত বিভিন্ন রাজ্যে উপনির্বাচনের রেজাল্ট, কী বিরোধী কিছু পার্টিকে হতাশ করেছে? তারা বুঝতে পারছে যে বিজেপি ও মোদীকে বাধা দেওয়া যাবেনা! এজন্যই কী কৃষকদের সামনে রেখে তারা খেলছে?
:- সংগৃহীত