31/05/2025
একটি গল্প বলা যাক। ম্যাক্সিম গোর্কি একবার প্যারিস গেছেন। পৃথিবীর সাংস্কৃতিক রাজধানী। লেখক মানুষ। আলাপ করছেন। জানতে চাইছেন। বুঝতে চাইছেন মানুষ ও সমাজকে। এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হল। জানতে চাইলেন, পেশা কী? লোকটি জানাল, তার পেশা বাসে ট্রামে ওঠা লোকজনকে বিরক্ত করা বিশেষত, মেয়েদের বিরক্ত করা। পারলে অস্থানে কুস্থানে হাত দেওয়া। বিস্মিত গোর্কি বললেন, এতে তো লোকে আপনাকে মারবে!
লোকটি বলল, মারে মানে ভালই মারে। আর মার খেলেই তো লাভ!
লাভ? গোর্কি তো হতবাক। লাভ, কীসের লাভ? গোর্কির বিস্ময়ের তোয়াক্কা না করে লোকটি জানাল, যদি সে শুধু মার খায় তাহলে সাত দিনের পয়সা ‘এক্সট্রা’ পায়। আর রক্ত-টক্ত বের হলে এক মাসের বাড়তি মাইনে ঠেকায় কে? আর হাত পা ভাঙলে তিন মাসের সবেতন ছুটি আর ছেলে বা বউয়ের চাকরির বন্দোবস্ত। আর এর বেশি দিন হাসপাতালে থাকতে হলে ডাবল ইনক্রিমেণ্ট বাঁধা।
গোর্কি শুনে ভাবলেন, লোকটির মাথায় নির্ঘাত গন্ডগোল।
এরপর লোকটি নিজের আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে বলল, এমন মানুষ প্যারিসে আরো তিন হাজার আছে।
গোর্কি জানতে চাইলেন, আপনার না হয় টাকা পেলে লাভ, কিন্তু যারা দেয়, তাদের কী লাভ?
- কমিশন?
- কারা দেয়? গোর্কির জিজ্ঞাসা।
- বড় শিল্পপতি আর রাজনীতিকরা।
- কেন? তাদের কী স্বার্থ?
- আমরা রাস্তায় বাসে ট্রেনে ট্রামে যে সব ছোটখাট কেচ্ছা ঘটাই তা দেখে লোকে উত্তেজিত হয় আর সারাদিন তা নিয়ে আলোচনা করে। অফিসে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দেয়, বাড়িতে বউকে গিয়ে বলে, সমাজটা কী খারাপ হয়ে গেছে? দেশে আর থাকা চলে না। আর এই সময় শিল্পপতিরা যে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয় না, কর ফাঁকি দেয়, পুকুর নয় নদী চুরি করে, লোকের জমি ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেয়, জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়—সে নিয়ে কোন আলোচনাই হয় না। আমাদের ছোটখাট কেচ্ছা ওদের বড় বড় কেচ্ছাগুলোকে নিপুণভাবে চাপা দিয়ে দেয়। রাজনীতিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেউ টুঁ শব্দটি করে না।
গল্পটি বলে গোর্কি পুঁজিবাদী সমাজে গণতন্ত্রের নাম করে ধনী আর ক্ষমতা ব্যবসায়ী রাজনীতিকদের আঁতাতের স্বরূপটি উদ্ঘাটন করেন।
রাজনৈতিক পরিকাঠামো টাই যুগ যুগ ধরে এভাবেই সাধারণ মানুষ কে বোকা বানিয়ে রাখছে, তা আপনি মানুন আর নাই মানুন।
সংগৃহীত।
゚followers