07/05/2024
কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে ছিল অধুনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার একটি ২ ফুট ৬ ইঞ্চি (৭৬২ মিলিমিটার) ন্যারোগেজ রেল। ১৮৯৪ সালে পূর্ব হিমালয় পাদদেশে এই রেল চালু হয়েছিল। ১৯১০ সালে এটি ১,০০০ মিলিমিটার (৩ ফুট ৩ ৩⁄৮ ইঞ্চি) মিটারগেজে রূপান্তরিত হয়।
তখন এই রেল পথের অন্তর্গত স্টেশন গুলো ছিল
কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে❤️
জয়ন্তী
বক্সা
রাজাভাতখাওয়া
দমনপুর
আলিপুরদুয়ার
কালজানি নদী
বানেস্বর
কোচবিহার
তোর্সা নদী
তোর্সা
দেওয়ানহাট
ভেটাগুরি
দিনহাটা
চওড়াহাট
ফলিমারি
বামনহাট / গোলকগঞ্জ পর্যন্ত (আসামের মধ্যে অবস্থিত)
গীতলদহ
গীতলদহ ঘাট
ধরলা নদী
লালমনিরহাট পর্যন্ত (বর্তমান বাংলাদেশ)
ইতিহাস❤️
১৮৯৩-৯৮ সালে কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে চালু করেন।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ১৮৯১-৯২ সালে স্থির হয়েছিল যে কোচবিহার শহরের বিপরীত দিকে তোর্সা নদীর দক্ষিণ তীর থেকে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের গীতলদহ পর্যন্ত একটি ২ ফুট ৬ ইঞ্চি (৭৬২ মিলিমিটার) দীর্ঘ ন্যারোগেজ রেলপথ নির্মিত হবে যা ধুবড়ি (অধুনা অসম রাজ্যে) স্টেশনকে লালমনিরহাট (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে) স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করবে। এই লাইন নির্মিত হওয়ার সময় এর স্টেশনগুলি ছিল: তোর্সা, দেওয়ানহাট, চওড়াহাট, গীতলদহ ও গীতলদহ ঘাট। ১৮৯৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই লাইন মালপত্র পরিবহন এবং ১৮৯৪ সালের ১ মার্চ এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
তোর্সা নদীর উপর একটি সেতু নির্মিত হলে এই রেলপথের সঙ্গে কোচবিহার শহরটি যুক্ত হয়। পরে এই লাইনটি ভারত-ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী আলিপুরদুয়ার, বক্সা ও জয়ন্তীর সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯০১ সালে মোট ৫৩.৫ মাইল দীর্ঘ রেলপথটি চালু হয়। ১৯১০ সালে এটিকে ১,০০০ মিলিমিটার (৩ ফুট ৩ ৩⁄৮ ইঞ্চি) দীর্ঘ মিটারগেজ লাইনে রূপান্তরিত করা হয়। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে এই রেলপথটি পরিচালনা করত।১৯৩২ সালের হিসেব অনুসারে, এই রেলপথে সকালে ও সন্ধ্যায় মোট দুটি ট্রেন চলত।১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে এই রেলপথটিকে ভারতীয় রেলের উত্তরপূর্ব রেল ক্ষেত্রের (অধুনা উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল) অধিভুক্ত করে নেওয়া হয়।
দেশ বিভাজনের আগে কোচবিহার থেকে ধূবরি পর্যন্ত গিলতডহ এবং গোলকগঞ্জের মধ্যে দিয়ে একটি রেল সংযোগ ছিল। এই রেলপথটির কিছু অংশ বাংলাদেশের বামনহাট ও গোলকগঞ্জের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল। এই পথের দুটি স্টেশন হল পেতস্বরী ও সোনাহাট, যা বাংলাদেশে ছিল, এইগুলি দেশ বিভক্ত হওয়ার পরেও কার্যকর ছিল।
কোচবিহারের প্রথম রেলপথ ছিল যখন কোচবিহার রাজ্য রেলপথ ১৯০১ সালে গিতালদহ- জয়ন্তী পর্যন্ত ন্যারোগেজ গেজ লাইনের নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মিটার গেজ আলিপুরদুয়ার-বামনহাট-গোলকগঞ্জ রেলপথটি নির্মিত হয়ে ছিল। যখন আসাম সংযোগ প্রকল্পটি উত্তরবঙ্গের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়, তখন রেলওয়ে স্টেশনটি আরও নতুন জলপাইগুড়ি-আলিপদদুয়ার-শামুকতলা রোড লাইন ব্যবহার করে।
১৯৬৬ সালে বরৌনি-গুয়াহাটি রেলপথের নিউ জলপাইগুড়ি-নিউ বঙ্গাইগাঁও অংশটি চলু হলে নিউ কোচবিহার স্টেশনটি আবির্ভূত হয়।
কোচবিহার স্টেট রেলওয়ে (CBSR) ❤️:- সারা
ভারতের সঙ্গে কোচবিহার রাজ্যের সংযোগ বাড়ানো
ও ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধির লক্ষ্যে, কোচবিহারের
তৎকালীন রাজা, EBR এর গীতলদহ জংশন থেকে
কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার হয়ে ভূটান পাহাড়ের গায়ে
অবস্থিত, জয়ন্তী ও তার সংলগ্ন পাথরের খনি অঞ্চল
পর্যন্ত ন্যারো গেজ লাইন পাতার বন্দোবস্ত করেন।
গীতলদহ জংশন থেকে কোচবিহার সদর, খোলতা
হয়ে কালজানি নদীর দক্ষিণ পাড় পর্যন্ত এই রেলপথ
পড়তো, কোচবিহার রাজার এক্তিয়ারের মধ্যে,
কালজানি নদীর উত্তর পাড় থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত
রেলপথের অংশ ছিল ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত।
১৮৯৩ সাল থেকে ১৯০১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে,
এই ন্যারোগেজ রেলপথের নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী
কালে, ১৯১০ সালের মধ্যে এই লাইনকে মিটার
গেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯১২ থেকে ১৯১৪
সালের মধ্যে, রাজাভাতখাওয়া থেকে পশ্চিমে,
কালচিনি, হাসিমারা হয়ে দলসিংপাড়া পর্যন্ত রেল পথ সম্প্রসারণ করা হয়। কোচবিহার রাজ্যের সম্পত্তি এই CBSR-এর পরিচালনা করতো EBR।