18/11/2025
দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভা ভবনে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোমা নিক্ষেপ করেন ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত। ট্রেড ডিসপিউট বিল এবং পাবলিক সেফটি বিলের মতো শ্রমিকবিরোধী ও দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে তাঁদের এই বিস্ফোরণ ছিল স্পষ্ট প্রতিবাদ। তাঁরা আগেই নিশ্চিত করেছিলেন, যাতে বিস্ফোরণে কারও কোনো ক্ষতি না হয়। তবুও এই ঘটনার পর সারা দেশে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ফরাসি বিপ্লবী বৈলেয়াঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত ভগৎ সিং বলেন, “বধিরকে শোনাতে উচ্চকণ্ঠ প্রয়োজন।” বিপ্লবের পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করতে তাঁরা লাল ইস্তেহার বিতরণ করেন এবং স্লোগান তোলেন ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
তাঁরা গ্রেফতার হন। ভগৎ সিংকে মিয়াওয়ালী জেলে এবং বটুকেশ্বর দত্তকে লাহোর জেলে রাখা হয়। পরে দুজনকেই লাহোর জেলে আনা হয়, যেখানে রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে তাঁরা দীর্ঘ অনশন শুরু করেন। এই অনশনের তেষট্টি দিনে শহীদ হন বিপ্লবী যতীন দাস। লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ভগৎ সিংকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে দত্তের সেই আকাঙ্ক্ষা, অর্থাৎ ভগৎ সিংয়ের পাশে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানো, আর পূর্ণ হয় না।
ভগৎ সিং বটুকেশ্বর দত্তকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন,
“আমার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, কিন্তু তোমার হয়েছে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর। তুমি বেঁচে থাকবে এবং যতদিন থাকবে, বিশ্বকে দেখাতে হবে যে বিপ্লবী শুধু প্রাণই দেয় না, সব কষ্টও সহ্য করতে পারে।”
দত্তকে প্রথমে মুলতান জেলে, পরে সালেম কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দুই বছর পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আন্দামানের সেলুলার জেলে, যা কালাপানী নামে পরিচিত। ১৯৩৩ সালে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। সেই অনশনে শহীদ হন বিপ্লবী মহাবীর সিং, শহীদ হন মোহিত মিত্র ও মোহন কিশোর। ছেচল্লিশ দিনের অনশনের পর প্রশাসন তাঁদের দাবি মানতে বাধ্য হয়। জেলেই সাম্যবাদী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ কয়েদিদের নিয়ে গড়ে ওঠে কমিউনিস্ট কনসোলিডেশন এবং দত্ত ছিলেন এর অন্যতম সংগঠক। ১৯৩৭ সালে আরও একটি অনশনের মাধ্যমে তিনি মূল ভূখণ্ডে ফেরার অধিকার আদায় করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি দিল্লি এবং বাঁকিপুর জেলে স্থানান্তরিত হন।
টিউবারকুলোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মুক্তি পেলেও বেশিদিন বাইরে থাকতে পারেননি। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে আবার আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন গণআন্দোলন, নৌবিদ্রোহ এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে দেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান।
দীর্ঘ কারাবাস, অসুস্থতা এবং নির্যাতন সত্ত্বেও বটুকেশ্বর দত্ত কখনও তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। স্বাধীনতার পর তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থেকে ন্যায়ভিত্তিক এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে নিজেকে নিবেদন করেন।
ভারতের ছাত্র ফেডারেশন চোপড়া লোকাল কমিটি কমরেড বটুকেশ্বর দত্তকে গভীর বিপ্লবী শ্রদ্ধা জানায়।